বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১.
মধুপুরের বিখ্যাত ডাকাত ইদ্রিস আলি কে খুন করা হয়েছিল সন্ধাবেলা । মাথার পেছনে প্রথমে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে অজ্ঞান করা হয় , তারপর গলায় রশি পেচিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয় মধুপুর মসজিদের পাশের আম গাছটায় । ফজরের নামাজ পড়তে এসে গ্রামের সব চেয়ে বৃদ্ধ লালু শেখ যখন আমগাছ তলায় কিছু একটা দেখে অজ্ঞান হয়ে যায় , খবরটা তখনও কেউ জানেনি । বোবা জামাল শীতে কাপতে কাপতে খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়িটা নিয়ে যখন নামছিল , হঠাৎ করেই তার চোখ গেল আমগাছটার দিকে , আধহাত লম্বা জিহ্বা বের করে ইদ্রিস আলি তখন তার দিকেই চেয়ে আছে । বোবা জ়ামালের হাত থেকে রসের হাড়িটা পড়ে গেল , গাছ থেকে এলোপাথাড়ি নামতে গিয়ে দুই পা কেটে গেল , সেখান থেকে দরদর করে রক্ত বেরুতে লাগল । গাছ থেকে নেমেই সে বিকট চিৎকার করতে করতে গ্রামের দিকে ছুটল । যে খবর সারারাতে কেউ জানেনি , পরবর্তী আধ ঘন্টায় গ্রামের সকল মানুষ তা জেনে গেল । বোবা জামাল তাদের মুখে কিছুই বলতে পারে নি, কিন্তু বারবার আমগাছ তলার দিকে আঙ্গুল উচিয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করছিল , লোকজন কিছু একটা আন্দাজ করে আমগাছতলায় এসে থমকে যায় । ইদ্রিস আলীর বের করা জিভে তখন মাছি ভন ভন করছে ,সারা মুখ কালো হয়ে আছে রক্তে , কোটর থেকে চোখটা যেন বের হয়ে আসতে চাচ্ছে । জীবিত ইদ্রিস আলীর সাথে এ মৃত ইদ্রিস আলীর কোনই মিল নেই । এ ভয়ংকর মৃত্যু অনেকেই সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যায় আমগাছতলা থেকে । লাশের নিচে তখনো লালু শেখ পড়ে আছে , বিড়বিড় করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে ।কেউ তাকে তুলতে যাচ্ছেনা , সবাই তাকিয়ে আছে লাশের দিকে , এ যেন এক মায়া ! কুহক ! । ক্রমে মানুষ ভীড় করতে লাগল এ আমগাছতলায় । যে আমগাছতলা এতকাল ছিল নিরব নির্জন , সকাল দশটার মাঝেই সে আমগাছতলা হয়ে গেল লোকে লোকারণ্য । দশটার কিছু পরে সাবইন্সপেকটর কাওসার আহমেদ গ্রামের চেয়ারম্যান জলিল হোসেনের বাড়িতে এসে হাক ছাড়ল,
--জলিল সাব বাড়িতে আছেন নি?
জলিল হোসেন তখন উঠোনে পিড়িতে বসে নাপিত দিয়ে চুল কাটাচ্ছিলেন । বিরক্ত স্বরে বললেন
--আছি । কেডা?
--আমি কাওসার ।
--ও , সাবইন্সপেকটর সাব । আসেন ভিতরে আসেন ।
কাওসার বাড়ির ভিতরে ঢুকেই চেয়্যারম্যানকে বলল,
--তা , লাশের কি করবেন ,কিছু ঠিক করলেন ?
--না , এহনো ঠিক করি নাই ।আপনে কি কন , কি করা যায় ?
--আমি কই ,লাশ কবর দিয়া ফালান । এইটা নিয়া ঝামেলা করার ইচ্ছা করতাছেনা ।
--ঠিক আছে , ইস্নপেকটর সাব । তাই করতাছি। আপনে কিন্তু চা খাইয়া যাইয়েন ।
সাবইন্সপেকটর কাওসার চা খেয়ে চলে গেলেন ।
লাশটা তখনো গাছে ঝুলছে । কেউ লাশ নামাতে যাচ্ছে না । এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয় । মানুষ সকল অস্বাভাবিকতাকে ভয় পায় । এটা মানুষের এক সহজাত ধর্ম । এখানে কোন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা ঘটেনি , কিন্তু ইদ্রিস আলীর মৃত্যু সব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে । এখানে সবাই মৌন । কিছু একটা দেখার প্রতীক্ষায় তাকিয়ে আছে সবাই ।
হঠাৎ মসজিদের ইমাম সিরাজ মিয়া কোথা হতে উদয় হয়ে চেচিয়ে উঠল ,
--ওই মিয়ারা লাশ কি গাছেই পচব নাকি ? আসেন , লাশ নামাইতে অইব ।
বলেই সিরাজ মিয়া লুঙ্গি মালকোচা মেরে তরতরিয়ে গাছে উঠে গেল । লাশের নিচে দুইজন চট বিছিয়ে ধরল । সিরাজ মিয়া উপর থেকে রশি কেটে দিতেই ধপ করে লাশটা পড়ল চটে । তীব্র মানুষ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল এলাকাজুড়ে ।
বিকেল হওয়ার আগেই, জানাজা না পড়িয়েই ইদ্রিস আলীকে পুঁতে ফেলা হল গ্রামের দক্ষিণ দিকের পোড়াবাড়ির পাশের জমিতে । অপঘাতে মরা লাশ । কি না কি হয়, এই ভয়ে গ্রামের সকল ছেলেবুড়োকে নিষেধ করা হল আগামী সাতদিন যাতে এদিকে কেউ না আসে ।
পরদিন সকালে লাল্টুদের মুদি দোকানে বসে সিরাজ মিয়া চা খেতে খেতে আচমকা বলে উঠল
--ও লাল্টুর বাপ । কালকে রাইতে তো মনে হয় ইদ্রিসরে দেখলাম ।
--কি কন ইমাম সাব! ইদ্রিসরে ?
--হ, ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য ওজু করতাছিলাম । আন্ধাইর তহনো যায় নাই । হঠাৎ চোখ গেলগা আম গাছটার দিকে । আন্ধাইরে ঠিকমতো কিছু দেহা যায়না । তবুও ছায়ার মতো দেখলাম আমগাছতলায় আন্ধইরে কিছু একটা বইয়া আছে । আমি পাত্তা না দিয়া ওজু করতে লাগলাম । আন্ধাইরে কত কিছুই দেহা যায় । সবকিছুকে পাত্তা দিতে নাই । কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হুনলাম ,খুবই অদ্ভুত স্বরে কেডা জানি কানতাছে । আর কান্নার শব্দটা আইতাছিল ওই আমগাছের তল থেইকা । তহন পাইলাম ভয় । তাড়াতাড়ি ওজু শেষ কইরা মারলাম দৌড় ।
এ ঘটনা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে বেশী দেরি হলনা । আমগাছতলাটা সকলের কাছে হয়ে গেল ভীতিকর এক জায়গা ।
এর একমাস পর ফজরের নামাজ পড়তে এসে গ্রামের লোকজন, ইমাম সিরাজ মিয়াকে মসজিদে না পেয়ে খুজতে খুজতে যখন আমগাছতলায় আসল , তখন আমগাছের ডালে সিরাজ মিয়ার ফাসিতে ঝুলানো বিকৃত লাশটা দেখতে পায় ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now