বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চোখ-পর্ব ৩
আমি বললাম, এইভাবে তো বাস করা সম্ভব না। তুমি
বরং আলাদা থাক।
খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার, জুডি তাতে রাজি হলো না।
অতি তুচ্ছ কারণে আমেরিকানদের বিয়ে ভাঙে।
স্বামীর পছন্দ হলুদ রঙের বিছানার চাদর, স্ত্রীর
পছন্দ নীল রঙ। ভেঙে গেল বিয়ে। আমাদের
এত বড় সমস্যা কিন্তু বিয়ে ভাঙল না। আমি বেশ
কয়েকবার তাকে বললাম, জুডি, তুমি আলাদা হয়ে
যাও। ভালো দেখে একটা ছেলেকে বিয়ে
করো। সারা জীবন তোমার সামনে পড়ে
আছে। তুমি এইভাবে জীবনটা নষ্ট করতে পার না।
জুডি প্রতিবারই বলে, যা-ই হোক, যত সমস্যাই
হোক আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না, I love
you, I love you.
আমি গল্পের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি।
শেষ অংশটি বলার আগে আমি আপনাকে আমার
চোখের দিকে তাকাতে অনুরোধ করব। দয়া
করে আমার চোখের দিকে তাকান।
রাশেদুল করিম সানগ্লাস খুলে ফেললেন। মিসির
আলি তৎক্ষণাৎ বললেন, আপনার চোখ সুন্দর।
সত্যি সুন্দর। আপনার মা যে বলতেন—চোখে
জন্ম-কাজল, ঠিকই বলতেন।
রাশেদুল করিম বললেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে
সুন্দর চোখ কার ছিল জানেন?
‘ক্লিওপেট্রার’।
‘অধিকাংশ মানুষের তাই ধারণা। এ ধারণা সত্যি নয়।
পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর চোখ ছিল
বুদ্ধদেবের পুত্র কুনালের। ইংরেজ কবি
শেলীর চোখও খুব সুন্দর ছিল। আমার স্ত্রীর
ধারণা, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর চোখ
আমার। জুডি বলত এই চোখের কারণেই সে
কোনোদিন আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে
না।
রাশেদুল করিম সানগ্লাস চোখে দিয়ে বললেন,
গল্পের শেষ অংশ বলার আগে আপনাকে ক্ষুদ্র
ধন্যবাদ দিতে চাচ্ছি।
মিসির আলি বিস্মিত হয়ে বললেন, কী জন্যে
বলুন তো?
‘কাউকে যখন আমি আমার চোখের দিকে
তাকাতে বলি, সে আমার পাথরের চোখের দিকে
তাকিয়ে থাকে। আপনি প্রথম ব্যক্তি যিনি একবারও
আমার পাথরের চোখের দিকে তাকাননি। আমার
আসল চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ঝড়
হরপব ড়ভ ুড়ঁ, ঝরৎ.’
রাশেদুল করিমের গলা মুহূর্তের জন্যে হলেও
ভারী হয়ে গেল। তিনি অবশ্যি চট করে
নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, আটটা প্রায়
বাজতে চলল, গল্পের শেষটা বলি—
‘জুডির অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে লাগল। কড়া
ডোজের ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমুতে যায়, দু-
এক ঘণ্টা ঘুম হয়, বাকি রাত জেগে বসে থাকে।
মাঝে মাঝে চিৎকার করে ছুটে ঘর থেকে বের
হয়ে যায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে।
এমনি এক রাতের ঘটনা। জুলাই মাস। রাত সাড়ে তিনটার
মতো হবে। জুড়ির মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে
গেল—সে আমার বাঁ চোখটা গেলে দিল।
আমি ঘুমুচ্ছিলাম, নারকীয় যন্ত্রণায় চিৎকার করে
উঠলাম। সেই ভয়াবহ কষ্টের কোনো সীমা-
পরিসীমা নেই।’
রাশেদুল করিম চুপ করলেন। তার কপালে বিন্দু বিন্দু
ঘাম জমতে লাগল।
মিসির আলি বললেন, কী দিয়ে চোখ গেলে
দিলেন?
‘সুঁচালো পেনসিল দিয়ে। আমার মাথার বালিশের
নিচে প্যাড এবং পেনসিল থাকে। তখন গ্রুপ থিওরি
নিয়ে গভীর চিন্তায় ছিলাম। মাথায় যদি হঠাৎ কিছু
আসে, তা লিখে ফেলার জন্যে বালিশের নিচে
প্যাড এবং পেনসিল রাখতাম।’
‘আপনার স্ত্রী এ ঘটনা প্রসঙ্গে কী বক্তব্য
দিয়েছেন।’
‘তার মাথা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সে কিছুই
বলেনি, শুধু চিৎকার করেছে। তার একটিই বক্তব্য—
এই লোকটা পিশাচ। আমি প্রমাণ পেয়েছি। কেউ
বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমার কাছে প্রমাণ
আছে।’
‘কী প্রমাণ আছে তা কি কখনো জিজ্ঞেস করা
হয়েছে?’
‘না। একজন উন্মাদকে প্রশ্ন করে বিপর্যস্ত করার
কোনো মানে হয় না। তা ছাড়া আমি তখন ছিলাম
হাসপাতালে। আমি হাসপাতালে থাকতে থাকতেই জুডির
মৃত্যু হয়।’
‘স্বাভাবিক মৃত্যু?’
‘না। স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। সে মারা যায় ঘুমের ওষুধ
খেয়ে। এইটুকুই আমার গল্প। আমি আপনার কাছে
একটাই অনুরোধ নিয়ে এসেছি, আপনি সমস্যাটা কি
বের করবেন। আমাকে সাহায্য করবেন। আমি যদি
পিশাচ হই তাও আমাকে বলবেন। এই ফাইলের
ভেতর জুডির একটা স্কেচ বুক আছে। স্কেচ
বুকে নানান ধরনের কমেন্টস লেখা আছে। এই
কমেন্টসগুলি পড়লে জুডির মানসিক অবস্থা আঁচ
করতে আপনার সুবিধা হতে পারে। আটটা বাজে,
আমি তাহলে উঠি?’
‘আবার কবে আসবেন?’
‘আগামীকাল ভোর ছয়টায়। ভালো কথা, আমার এই
গল্পে কোথাও কি প্রকাশ পেয়েছে জুডিকে
আমি কতটা ভালোবাসতাম?’
‘না, প্রকাশ পায়নি।’
‘জুডির প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল সীমাহীন। আমি
এখন উঠছি।’
‘ছিল বলছেন কেন? এখন কি নেই?’
ভদ্রলোক জবাব দিলেন না।
রাশেদুল করিম চলে যাবার পর মিসির আলি ফাইল
খুললেন। ফাইলের শুরুতেই একটা খাম। খামের
ওপর মিসির আলির নাম লেখা।
মিসির আলি খাম খুললেন। খামের ভেতর
ইংরেজিতে একটা চিঠি লেখা। সঙ্গে চারটি এক শ
ডলারের নোট। চিঠি খুবই সংক্ষিপ্ত।
প্রিয় মহোদয়,
আপনার সার্ভিসের জন্য সম্মানী বাবদ সামান্য কিছু
দেয়া হলো। গ্রহণ করলে খুশি হব।
(চলবে..)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now