বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জ্বিন কফিল
পর্ব ৩’
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম,জ্বিন কি সত্যি সত্যি
আছে ?
‘অবশ্যই আছে ।আল্লাহপাক কোরান মজিদে
বলেছেন ।একটা সুরা আছে-সূরায়ে জ্বিন ।’
‘’সেই কথা জিজ্ঞেস করছি না ।জানতে চাচ্ছি জ্বিন
গিয়ে বিরক্ত করে এটা সত্যি কি না ।‘
‘জ্বি জনাব সত্য ।তবে লোকজন জ্বিনের ভয়ে
মসজিদে আসেনা,এটা ঠিকনা ।আসলে সাপের ভয়ে
আসে না ।’
‘’একবার নামাজের সময় সাপ বের হয়ে গেল ।
দাড়াস সাপ ।অবশ্য কাউকে কামড়ায় নাই ।বাস্তু সাপ
কামড়ায় না ।মাঝে মধ্যে ভয় দেখায় ।
সফিক আতকে উঠে বলল,মাই গড ।যখন তখন সাপ
বের হলে এইখানে থাকব কিভাবে ?
‘ভয়ের কিছু নাই ।কার্বলিক এসিড ছড়ায়ে দিব্’
‘কার্বলিক এসিড আছে?’
‘জ্বি ।নেত্রকোনার ফার্মেসী থেকে ৩
বোতল নিয়ে আসছি ।আমার স্ত্রীরও খুব সাপের
ভয় ।এই অঞ্চলে সাপ খোপ একটু বেশী ।’
মসজিদের সামনে উচু চাতালমত জায়গায় বসে আছি ।
সাপের ভয়ে খানকটা আতংকগ্রস্থ ।আকাশে মেঘ
ডাকছে ।বড় দশরনের বর্শন মনে হচ্ছে আসন্ন
।ইমাম সাহেব বললেন,খাওয়া দিতে একটু দেরি
হবে ।আমার স্ত্রী সব একা করছে ।লোকজন
নাই।
‘ভাব দেখে মনে হচ্ছে বিরাট আয়োজন।’
‘জ্বিনা আয়োজন কিছ না।দরিদ্র মানুষ ।আপনারা
এসেছেন শুনে আমার স্ত্রী খুব খুশি ।কেউ
আসেনা । আমি বলতে গেলে একা থাকি । সবাই
আমাকে ভয় করে ।’
আমি বিস্মিত হয়ে বললেম,কেন?
‘সবার ধারনা হয়েছে আমি একটা জ্বিন পুষি ।
জ্বিনদের নিয়ে কাজ কর্ম করাই---’
‘বলেনকি ?’
‘সত্য না জনাব ।তবে মানুষ অসত্যকে সহজে
বিশ্বাস করে ।অসত্য বিশ্বাস করা সহজ,কারন শয়তান
অসত্য বিশ্বাসে সাহায্য করে ।’
ইমাম সাহেব বেশ মন খারাপ করে চুপ হয়ে
গেলেন ।প্রসংগ পাল্টাবার জন্য জিজ্ঞেস
করলাম,সাধু কালু খা সম্পর্কে কি জানেন?
ইমাম সাহেব বললেন।তেমন কিছু জানিনা ।তবে
আপনাদের মত দূর দূর থেকে উনার কাছে
লোকজন আসে এইটা দেখেছি ।বিশিষ্ট
ভদ্রলোকেরাই আসে বয়েসই ।ময়মনসিংহের ডিসি
সাহেব উনার পত্নীকে নিয়ে এসেছিলেন ।
‘উনার ক্ষমতা টমতা কিছু আছে ?’
‘মনে হয়না ।কুৎসিত গালাগালি করেন ।কামেল
মানুষের এই রকম গালিগালাজ করার কথানা ।তাছাড়া কালু
খার কারনে অনেক বেদাতী কান্ড-কারখানা
হয়,এইগুলাও ঠিক না।’
‘কি কান্ডকারখানা হয় ?’
‘উনি নগ্ন থাকেন এইজন্য অনেকেঢ় ধারনা নগ্ন
অবস্থায় তার কাছে গেলে তার মেজাজ ঠিক
থাকে ।অনেকেই নগ্ন অবস্থায় যান ।’
‘সেকি ।’
‘উনি পাগল মানুষ ।সমস্যার কারনে জারা তার কাছে
আসেন তারাও এক অর্থে পাগল ।পাগল মানুষের
কাজকর্মতো এই রকমই হয় ।সমস্যা হলে তার
পরিত্রানের জন্য আল্লাহপাকের দরবারে কান্নাকাটি
করতে হয় ।’মানুষ তা করে না,সাধু সন্যাসী পীর
ফকির খোজে ।
‘ইমাম সাহেবের কথাবাররাতায় আমি অবাক হলাম ।
পরিষ্কার চিন্তা ভাবনা । গ্রাম্য মসজিদের ইমামের কাছ
থেকে এমন যুক্তি নির্ভর কথা আশা করা যায়না ।
লোকটির প্রতি আমার এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ
তৈরি হল ।তাছাড়া ভদ্রলোকের আচার আচরনেও
সহজ সারল্য আছে যে সারল্যের দেখা সচরাচর
পাওয়া যায় না ।’
রাত ৯ টার দিকে ইমাম সাহেব বললেন।চলেন
যাই,খানা বোধহয় এর মধ্যে তৈএই হয়েছে ।ডাল
ভাত এর বয়েসই কিছু না ।নিজ গুনে ক্ষমা করা
চারটে মুখে দিবেন ।
ইমাম সাহেবের বাড়িটা ছোট্ট টিনের ২ কামরার বাড়ি
।একচিলতে উঠান ।বাড়ির চারদিকে দর্মার বেড়া ।
আমাদের ঘরে নিয়ে বসানো হল ।মেঝেতে
শতরঞ্জি বিছানো ।থালা বাসন সাজানো ।আমরা সংগে
সংগে খেতে বসে গেলাম ।খাবারের আয়োজন
অল্প হলেও ভাল ।সব্জি,ছোট মাছের তরকারি,ডাল
এবং টক জাতীয় একটা খাবার ।ইয়ামাম সাহেব
আমাদের সঙ্গে বসলেননা ।খাবার পরিবেশন
করতে ;এগলেন ।খাবারের শেষ পরযায়ে
আমাদের অবাক করে দিয়ে ইমাম সাহেবের
স্ত্রী ঘরে ঢুকলেন ।এবং শিশুর মত কৌতুহলী
চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন ।
ব্যাপারটা এত আচমকা ঘটলে যে আমি বেশ
হকচকিয়েই গেলাম ।অজ পাড়াগায়ে এটা অভাবনীয়
।কঠিন পর্দা প্রথাই আশা করেছিলাম ।আমি খানিকটা
সংকুচিত হএই রইলাম ।ইমাম সাহেবকেও দেখলাম খুব
অপ্রস্তুত বোধ করছেন ।
সফিক মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল,আপনি
কেমন আছেন?
ইমাম সাহেবের স্ত্রী সংগে সঙ্গে
বললেন,ভাল নেই ।আমার সঙ্গে একটা জ্বিন
থাকে ।জ্বিনটার নাম কফিল . জ্বিনটা আমারে খুব
ত্যাক্ত করে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now