বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জ্বিন কফিল—পর্ব ২— (রচনা হূমায়ূন আহমেদ)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জ্বিন কফিল পর্ব ২ (রচনা হূমায়ূন আহমেদ) মসজিদ খুজে বের করতেও অনেক সময় লাগল । অন্ধকার রাত । পথ আঘাট কিছুই চিনিনা । সঙ্গে টর্চ লাইট ছিল-বৃষ্টিতে ভিজে সেই টর্চলাইটও কাজ করছেনা ।অন্ধের মত এগুতে হচ্ছে ।যাকেই জিজ্ঞেস করি,সেই খানিকটা জেরা করে,জুম্মাঘরে যাইতে চান ক্যান ?কার কাছে যাইবেন? আপনের পরিচয়? শেষ পর্যন্ত মসজিদ পাওয়া গেল । গ্রামের একেবারে শেষ্প্রান্তে একটা খালের পাশে মসজিদ ।মসজিদের বয়স খুব কম হলেও ২০০ বছরের কম হবেনা ।বিশাল স্তুপের মত একটা ব্যাপার ।সেই স্তুপের সবটাই শ্যাওলায় ঢাকা ।গা বেয়ে উঠেছে বটগাছ ।সব মিলিয়ে কেমন গা ছমছমানি ব্যাপার আছে । আমাদের সাড়াশব্দ পেয়ে হারিকেন হাতে ইমাম সাহেব চলে এলেন । ছোট খাট মানুষ ।খালি গা । কাধে গামছা চাদরের মত জড়ানো ।বয়স চল্লিশের মত হবে ।দাড়িতে তাকে খানিকটা আর্নেস্ট হেমিং ওয়ের মত দেখাচ্ছে ।আমার ধারনা ছিল মসজিদে রাত্রি যাপন করব শুনে তিনি বিরক্ত হবেন ।হলো উল্টোটা ।তাকে আনন্দিত মনে হল ।তিনি নিজেই বালতি করে পানি এনে দিলেন ।গামছা আনলেন ।২ জোড়া খড়ম নিয়ে এলেন ।সফিক বললো,’ভাই আমাদের খাওয়া দাওয়া দড়কার ।সারাদিন উপোস ।টাকা পয়সা নিয়ে যদি খাওয়ার ব্যবস্থা করেন ।’ ইমাম বললেন,ব্যবস্থা হবে জনাব ।আমার বাড়িতেই গরীবী হালতে ডাল-ভাতের ব্যবস্থা । ‘নাম কি আপনার ?’ ‘মুনশী এরতাজ উদ্দিন ।’ ‘থাকেন কোথায়,আশে পাশেই ?’ ‘মসজিদের পেছনে ছোট একটা টিনের ঘর আছে ।’ ‘কে কে থাকেন?’ ‘আমার স্ত্রী,আর কেউনা ।’ ‘ছেলেমেয়ে?’ ‘ছেলেমেয়ে নাই জনাব ।আল্লাহপাক সন্তান দিয়েছিলেন তাদের হায়াত দেন নাই ।হায়াত মউত সবই আল্লাহ পাকের ইচ্ছা ।আপনারা হাত মুখ ধুয়ে বিশেয়াম করুন,আমি আসতেছি ।’ ভদ্রলোক ছোট ছোট পা ফেলে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেলেন ।সফিক বলল,ইমাম সাহেবকে নিতান্ত ভদ্রলোক বলে মনে হচ্ছে । মাই ডিয়ার টাইপ ।মনে হচ্ছে আমাদের দেখে খুশি হয়েছেন । আমি বললাম,ভদ্রলোক জঙ্গুলে জায়গায় একা পড়ে আছেন ।আমাদের দেখে সেই কারনেই খুশি ।এই মসজিদে নামাজ পড়তে কেউ আসে বলে মনে হয়না । ‘বুঝলি কি করে?’ ‘লোকজনের যাতায়াত থাকলে পায়ে চলার পথ থাকতো ।পথ দেখলাম না ।’ সফিক হাসতে হাসতে বলল,’মিসির আলির সাথে থেকে থেকে তোর অবজারভেশন পাওয়ার বেড়েছে বলে মনে হয় ।’ কিছুটাতো বেড়েছেই ।ইমাম সাহেব আমাদের বসিয়ে রেখে যে চলে গেলেন,কি নিয়ে ফিরবেন জানিস? কি নিয়ে?’ ‘২ হাতে ২ টা কাটা ডাব নিয়ে ।’ ‘এটা তোর অনুমান?’ ‘আমি হাসিমুখে বললাম,মিসির আলি থাকলে এই অনুমানই করতেন ।অনুমানের ভিত্তি হচ্ছে গ্রামে প্রচুর ডাব গাছ ।অতিথিদের ডাব দেয়া সনাতন রীতি ।’ ‘লজিকতো ভালই মনে হচ্ছে ।’ আমার লজিক ভুল প্রমান করে মুনশি এরতাজ উদ্দিন ট্রে হাতে উপস্থিত হলেন ।ট্রেতে ২ কাপ চা । একবাটি তেল মরিচ মাখা মুড়ি ।এই অতি অজ পাড়া গা জায়গায় অভাবনীয় ব্যাপার তো বটেই ।মফস্বলের চা অতিরিক্ত গরম,অতিরিক্ত মিষ্টি এবং অতিরিক্ত কড়া হয় ।তবু চা হচ্ছে চা .২৪ ঘন্টা পর প্রথম চায়ে চুমিক দিলাম মনটা ভাল হয়ে গেল ।চমৎকার চা ।বিস্মিত হয়ে বললাম,চা কে বানিয়েছে ?আপনার স্ত্রী ? ইমাম সাহেব লাজুক মুখে বললেন,জ্বি ।তার চায়ের অভ্যাস আছে ।শহরের মেয়ে ।আমার শ্বশুর হচ্ছেন নেত্রকোনার বিশিষ্ট মোক্তার মমতাজউদ্দীন । নাম শুনেছেন বোধহয় । আমরা এমন ভঙ্গি করলাম যে নামটা আমাদের কাছে অপরিচিত নয় ।আগে অনেকবার শুনেছি । ইমাম সাহেব বললেন,আমি চা খাই না ।আমার স্ত্রীর চায়ের অভ্যাস আছে ।শহর থেকে ভাল চায়ের পাতা এনে দিতে হয় ।বিরাট খরচান্ত ব্যাপার । ‘আপনি কি ইমামতি ছাড়া আত কিছু করেন ?’ ‘জ্বি না ।সামান্য জমিজমা আছে ।আধি দেই ।আমার শ্বশুর সাহেব তার মেয়ের নামে নেত্রকোনা শহরে একটা ফার্মেসী দিয়েছেন-সান রাইজ ফার্মেসী ।তার আয় আসে মাসে মাসে । রিজিকের মালিক আল্লাহ ।তার ইচ্ছা ইয় চলে যায় ।’ ‘ভাল চলে বলেই তো মনে হচ্ছে ।’ ‘জ্বি জনাব ভালই চলে ।সংসার ছোট ।ছেলেপুল্র নাই ।’ এশার নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল ।ইমাম সাহেব আজান দিয়ে নামাজ পড়তে গেলেন ।কোন দ্বিতীয় ব্যক্তিকে নামাজে আসতে দেখলাম না । ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করে জানলাম-লোক এমনিতেই হতো না .২ বছর ধরে একেবারেই হচ্ছে না ।শুধু জুম্মাবারে কিছু মুসুল্লি আসেন । লোকজন না হওয়ার কারনও বিচিত্র । মসজিদ সম্পর্কে গুজব রটে গেছে এখানে জ্বিন থাকে ।নাপাক অবস্থায় নামাজ পড়লে জ্বিন তার সঙ্গে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় ,নানান ধরনের যন্ত্রনা করে । আমি বিস্মিত হয়ে বললাম,জ্বিন কি সত্যি সত্যি আছে ? ‘অবশ্যই আছে ।আল্লাহপাক কোরান মজিদে বলেছেন ।একটা সুরা আছে-সূরায়ে জ্বিন ।’ ‘’সেই কথা জিজ্ঞেস করছি না ।জানতে চাচ্ছি জ্বিন গিয়ে বিরক্ত করে এটা সত্যি কি না ।‘ ‘জ্বি জনাব সত্য । (বাকি পর্ব দেয়া হবে আজ বিকাল ৪ টায়)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now