বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

​চিরায়ত চেতনা

"ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আরাফাত রহমান (০ পয়েন্ট)

X ⚪ মহাকালের স্রোতে অবিনশ্বর মনন ও প্রকৃতির রূপান্তরের আখ্যান। মহাবিশ্বের অনন্ত মহাকর্ষীয় টানে সময় যখন এক অবিচ্ছেদ্য রথচক্রে আবর্তিত হয়, তখন মানবচেতনার গহীনে এক অনির্বচনীয় আর্তি গুমরে মরে। আমরা যাকে আপাতদৃষ্টিতে জড়জগৎ বলে ভ্রম করি, তা আসলে এক পরম চৈতন্যেরই স্পন্দনশীল প্রকাশ। ঋতুর এই যে অবিশ্রান্ত আবর্তন—কখনো নিদারণ নিদাঘের রুক্ষতা, কখনো বা সজল শ্রাবণের মেঘমেদুর অন্ধকার—তা কেবল জলবায়ুর পরিবর্তন মাত্র নয়। তা যেন এক আদিম কবির খাতার পাতা, যেখানে প্রতিনিয়ত রচিত হচ্ছে জন্ম ও মৃত্যুর অলিখিত মহাকাব্য। ​এই পরিদৃশ্যমান জগতের অন্তরালে যে নিগূঢ় সত্য লুকিয়ে থাকে, তাকে স্পর্শ করতে হলে স্থূল দৃষ্টির সীমানা পেরিয়ে অন্তশ্চক্ষুর উন্মোচন প্রয়োজন। যখন হেমন্তের কুয়াশাচ্ছন্ন প্রত্যুষে শিউলি ঝরার শব্দ শোনায় এক বৈরাগ্যের সুর, তখন মানুষের অহংবোধ মুহূর্তেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। প্রকৃতির এই অমোঘ লীলাখেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা এই বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের এক অতি ক্ষুদ্র অথচ অবিচ্ছেদ্য অংশ। "মহাশূন্যের নীল ক্যানভাসে অশ্রু যখন জমে, নশ্বর এই মাটির কায়া মহাকালের দিকেই ভ্রমে। শব্দহীন সেই ক্রন্দনধ্বনি শুনিতে কি পাও কেউ? যেথায় আছড়ে পড়ে স্মৃতির অতলান্ত ঢেউ" ⚪ নিভৃত প্রাণের আকুতি ও নৈ নৈশব্দের কথকতা আধুনিকতার এই যান্ত্রিক কোলাহলে আমরা ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি আমাদের অন্তরের সেই আদিম ও খাঁটি সত্তাটিকে। চারিপাশে শুধু কৃত্রিমতার চাদর, যেখানে আবেগের চেয়ে হিসাব-নিকাশের মূল্য অনেক বেশি। কিন্তু মাঝরাতে যখন ঝিঁঝিঁ পোকার ঐকতান ছাপিয়ে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসে অবনীতে, তখন মন এক অতলান্ত শূন্যতায় নিমজ্জিত হয়। এই শূন্যতাই আসলে পূর্ণতার পূর্বশর্ত। মনের গহীনে জমে থাকা অব্যক্ত বেদনাগুলো তখন ভাষারূপ পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ​খাঁটি সাহিত্যের সার্থকতা তো এখানেই, যা মানুষের সুপ্ত চেতনাকে এক প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে তোলে। যে ভাষা সহজে বোধগম্য নয়, তা আসলে হৃদয়ের এমন এক স্তরের কথা বলে যা সাধারণ যুক্তির পেরিফেরি বা পরিধি দিয়ে মাপা অসম্ভব। শব্দ তখন কেবল বর্ণমালার সমষ্টি থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক একটি জীবন্ত অনুভূতি, যা পাঠকের মর্মমূল স্পর্শ করে এক অনাস্বাদিত আনন্দের সঞ্চার করে। ⚪ রূপালী জ্যোৎস্নার মায়াজাল ও চৈতন্যের মুক্তি শরতের কাশফুলের দোলা কিংবা কার্তিকের কুয়াশার চাদর—সবকিছুর মাঝেই এক প্রচ্ছন্ন দর্শন লুকিয়ে আছে। এক লহমায় যা সুন্দর, অন্য লহমায় তা-ই আবার বিলীন হয়ে যায় মহাকালের গর্ভে। এই যে ক্ষণস্থায়ী রূপ, একেই আঁকড়ে ধরে মানুষ বাঁচতে চায়। রূপালী জ্যোৎস্না যখন ধরণীকে স্নান করিয়ে দেয়, তখন মনে হয় যেন জগত সংসার এক মায়াবী কুহকের চাদরে ঢাকা পড়েছে। এই মায়া যেমন সত্য, এর পেছনের নশ্বরতাও ঠিক ততটাই ধ্রুব। "ছায়াঘন এই বনানী বক্ষে যে মায়াজাল বোনা, তাহার মর্ম বুঝিতে পারে না কোনো এক জহুরি সোনা। ক্ষণিক আলোয় উছলে ওঠে যে চপল স্মিত হাস, তাহার গভীরে লুকানো আছে এক মহাজাগতিক দীর্ঘশ্বাস" জীবনের এই পরম সত্যকে যারা উপলব্ধি করতে পারেন, তারাই প্রকৃত কবি, তারাই আসল রূপকার। তাদের সৃষ্টিতে কৃত্রিমতার কোনো স্থান থাকে না। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো নিখুঁত শব্দশৈলী উপহার দিতে পারে, কিন্তু তপ্ত দুপুরে রোদের তীব্রতা কিংবা প্রিয়জনের চোখের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা অশ্রুর যে আদিম ব্যাকুলতা, তা কি কখনো কোনো যন্ত্রের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব? মানুষের অক্ষিপটে যে স্বপ্নের জাল বোনা থাকে, তা একান্তই তার নিজস্ব, তার রক্ত-মাংসের অনুভূতির নির্যাস। উপসংহার: অন্তহীন পথের যাত্রী ​অবশেষে বলা যায়, সৃষ্টির এই অনন্ত যাত্রা কখনো শেষ হওয়ার নয়। মানুষের মন এক চিরন্তন পরিব্রাজক, যা প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছে এক শাশ্বত আশ্রয়। প্রকৃতির বুকে যখন কালবৈশাখীর তাণ্ডব নেমে আসে, তখন যেমন ধ্বংসের এক রুদ্ররূপ দেখা যায়, তেমনি তার পরেই জাগে এক নতুন সৃষ্টির উল্লাস। এই ভাঙা-গড়ার খেলাই হলো মহাবিশ্বের মূল সুর। ​আমরা যেন সেই সুরের সাথে নিজেদের মিলিয়ে দিতে পারি, যেন আমাদের যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে এক একটি জীবন্ত কবিতা। কঠিন শব্দের আবরণে যে গভীর সত্য লুকিয়ে থাকে, তা হয়তো সবার বোধগম্য নয়, কিন্তু যারা হৃদয়ের কান পেতে তা শুনতে পাবেন, তাদের কাছে এই পৃথিবী এক অন্য মাত্রায় ধরা দেবে। সেই অতিন্দ্রীয় জগতের সন্ধানেই মানবমন অনন্তকাল ধরে ছুটে চলেছে এবং চলতেই থাকবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now