বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হৃদয়পুরের হাঁটা বিপ্লব

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। এক ছিল “হৃদয়পুর” নামে এক অতি কর্মচঞ্চল শহর। শহরটা দেখলে মনে হতো যেন জীবনের সব রঙ একসাথে মিশে গেছে—আনন্দ, দৌড়ঝাঁপ, দায়িত্ব, প্রেম আর একটু আলসেমিও। এই শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল হৃদয় চত্বর—যেখান দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ গাড়ি (রক্তকণিকা) যাতায়াত করত। শহরের মেয়র ছিলেন মি. লিভার রহমান, যিনি দিনে রাতে শুধু একটাই কাজ করতেন—শহরটা পরিষ্কার রাখা আর দুষ্কৃতীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে সমস্যা ছিল একটাই—এই শহরে “কোলেস্টেরল গ্যাং” নামে এক দুষ্টচক্র দিন দিন মাথা চাড়া দিচ্ছিল। গ্যাংয়ের প্রধান ছিল মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী মি. কোলেস্টেরল খান। সে দেখতে মোটা, তেলতেলে আর পকেটে সবসময় পিঠা-পরোটা লুকিয়ে রাখত। তার দুই সহযোগী ছিল ট্রাইগ্লিসারাইড ভাইয়া আর এলডিএল লালা। এদের কাজই ছিল রাস্তা জ্যাম করে দেওয়া, ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া আর মেয়রকে দুশ্চিন্তায় ফেলা। একদিন সকালে শহরের নাগরিকদের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে গেল। রাস্তায় যানজট, কেউ হর্ণ দিচ্ছে, কেউ চিৎকার করছে— “এই কোলেস্টেরল গ্যাং আবার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে!” হৃদয় চত্বরের চারপাশে যেন একদম শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। গরমে কনস্টেবল গ্লুকোজও অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম। তখনই হাজির হলেন “ভালো পুলিশ” এইচডিএল মিয়া। মাথায় হেলমেট, হাতে বাঁশি, মুখে হাসি। তিনি এ শহরের সুপারহিরো। তার উপস্থিতি মানেই বাতাসে এক ধরনের আশ্বাস। তিনি এসে চিৎকার করে বললেন, “কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল—তোদের জন্য জেল রেডি!” কিন্তু ওরা থোড়াই কেয়ার করে। কোলেস্টেরল খান হাসতে হাসতে বলল, “এইচডিএল ভাই, তোমার দিন শেষ! এখন আমাদের রাজত্ব! আজ সকালে মেয়র সাহেব ভাজাপোড়া খেয়ে চায়ের সঙ্গে মিষ্টি চুবিয়ে খেয়েছেন। এখন দেখো, আমরা কেমন শহরটা বন্ধ করে দিই!” এইচডিএল মিয়া মাথা চুলকে বললেন, “বাপরে, আজ তো মুষলধারে অপরাধ নামছে।” শহরের নাগরিকরা ভয় পেয়ে মেয়রের অফিসে ছুটল। মেয়র লিভার রহমান তখন চেয়ারটায় আধশোয়া অবস্থায়, হাতে ফাইল নয়—এক কাপ দুধের গ্লাস। শুনে মাথায় হাত! “দুধ? এখন? আপনি জানেন না কোলেস্টেরল গ্যাং ওতে লুকিয়ে থাকে?” মেয়র হকচকিয়ে গেলেন, “তাহলে চা খাই?” এইচডিএল মিয়া বললেন, “চিনি ছাড়া খাইলে খাই, নইলে তো শত্রুর হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন!” শহরের পত্রিকায় খবর ছাপা হলো— “হৃদয়পুরে কোলেস্টেরল গ্যাংয়ের দাপট, ভালো পুলিশের সংখ্যা কমছে!” এদিকে এলডিএল লালা একদম খলনায়কের মতো ঘোষণা দিল, “আমরা শহরের সমস্ত জেল ভেঙে ফেলব! যত অপরাধী আছে, সবাই বেরিয়ে আসুক!” বেরিয়ে এলো! তেলেভাজা, কাবাব, রিফাইন্ড ময়দার প্যারোটা, আইসক্রিম—সব দুষ্কৃতী একসাথে শহরের রাস্তায় নাচ শুরু করল। হৃদয় চত্বর যেন এখন এক সার্কাস! তখনই শহরে প্রবেশ করল এক নতুন নায়ক—হাঁটা ভাই। চেহারায় ধুলো, হাতে পানির বোতল, কিন্তু চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। তিনি বললেন, “আমি এসেছি হৃদয়পুর বাঁচাতে। প্রতিটি পদক্ষেপে এই শহরে প্রাণ ফেরাব।” তার পেছনে ভিড় জমাল এক দল তরুণ-তরুণী—সবাই হাতে ব্যানার: “চলো হাঁটি, ভালো পুলিশের পাশে দাঁড়াই!” হাঁটা ভাই প্রতিদিন সকালে শহরের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলেন। একেকটা পদক্ষেপে যেন জাদু ঘটতে লাগল— রাস্তার ধুলো উড়ে গেল, বাতাসে তাজা অক্সিজেনের গন্ধ, আর ভালো পুলিশ এইচডিএল মিয়া নতুন রিক্রুট পেতে লাগলেন। এখন শহরে “ওয়াকিং ক্লাব” খুলে গেল। বাচ্চারা হাঁটে, দাদারা হাঁটে, এমনকি মেয়র লিভার রহমানও হাঁটতে শুরু করলেন। কোলেস্টেরল খান হাপিয়ে উঠল। “এইসব লোকজন হাঁটছে কেন? আমাদের তো আর জায়গা থাকছে না!” ট্রাইগ্লিসারাইড ভাইয়া বিড়বিড় করে বলল, “আমাদের তো এখন রাস্তায় নামলেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। একদিন ভালোভাবে ভাজা খেতে চেয়েছিলাম—ওরাও বলল, 'না ভাই, বেক করো!' এটা কেমন শহর!” এলডিএল লালা মাথা কচলাতে কচলাতে বলল, “আমরা যদি এখনই কিছু না করি, আমাদের ‘ব্লকেজ পার্টি’ বন্ধ হয়ে যাবে।” কিন্তু কিছু করার আর সময় পেল না। এইচডিএল মিয়া আর হাঁটা ভাইয়ের যৌথ অভিযানে একের পর এক অপরাধী ধরা পড়ছে। শহরের রাস্তায় ঝকঝকে পরিষ্কার, সবাই হাসছে, দোকানে বিক্রি হচ্ছে—শাকসবজি, বাদাম, ফলমূল। একদিন শহরের বড় এক অনুষ্ঠান হলো—“হৃদয়পুর স্বাস্থ্য উৎসব।” মেয়র বক্তৃতা দিচ্ছেন, “আমাদের শহর এখন পরিচ্ছন্ন, প্রাণবন্ত, সুখী। হাঁটা ভাই ও এইচডিএল মিয়া আমাদের গর্ব। আজ থেকে হৃদয়পুরের মটো—‘হাঁটো, হাসো, বাঁচো!’” ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কোলেস্টেরল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, “আমরা কি তবে ইতিহাস হয়ে যাব?” এইচডিএল মিয়া হাসলেন, “না ভাই, পুরোপুরি না। তুমি থাকবে, কিন্তু সীমার মধ্যে। যেমন প্রতিটি শহরে একটু বিশ্রাম লাগে, তেমনি শরীরেও সামান্য কোলেস্টেরল দরকার। কিন্তু তুই যদি রাস্তার দখল নিতে চাস, তাহলে তো পুলিশ ধরবই।” সবাই হেসে উঠল। হাঁটা ভাই বললেন, “এই শহর এখন নতুন নিয়মে চলে— খাবার হবে পরিমিত, মন হবে ইতিবাচক, আর পা চলবে নিয়মিত।” সন্ধ্যায় শহরের আকাশে ফানুস উড়ছে, বাচ্চারা চিৎকার করছে— “এইচডিএল মিয়া জিন্দাবাদ! হাঁটা ভাই দীর্ঘজীবী হোন!” মেয়র মৃদু হেসে বললেন, “দেখো, হৃদয়পুর এখন কত সুন্দর। যখন হৃদয় হাসে, তখন মানুষও হাসে। তাই মন খারাপ কোরো না, দুঃখে বসে থেকো না—একটু হাঁটো, একটু হাসো, আর জীবনকে ভালোবাসো।” সেই থেকে হৃদয়পুরের নাগরিকরা প্রতিদিন সকালে রাস্তায় হাঁটে, সূর্যের সঙ্গে হাসে, আর মনে মনে বলে— “ভালো পুলিশকে শক্তিশালী করো, দুষ্কৃতীদের দূরে রাখো, তাহলেই জীবন হবে মধুর, হৃদয় হবে হাসিখুশি শহর।” শেষে হাঁটা ভাই একদিন লিখে রাখলেন হৃদয়পুরের দেয়ালে— “তোমার শরীরই তোমার শহর। শহরটাকে ভালো রাখো, হাঁটো, হাসো, ভালোবাসো— কারণ সুস্থ হৃদয়ই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।” আর সেই লেখা আজও হৃদয়পুরের প্রতিটি প্রভাতে সূর্যের আলোয় ঝলমল করে ওঠে— “চলো হাঁটি, হৃদয়কে হাসাই।” ????????♂️


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now