বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মনিটাইজেশনের মায়াজাল

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X মনিটাইজেশনের মায়াজাল তিতাস উপজেলার এক ছোট্ট গ্রামে থাকে মজনু। নামটা শুনে কেউ ভাবতে পারে—ও নিশ্চয়ই কোনো প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া মানুষ। কিন্তু না, মজনুর প্রেম প্রেম ভাবনা খুব একটা ছিল না; তার আসল প্রেম ছিল ফেসবুকের মনিটাইজেশন। মোবাইল হাতে পেলেই সে যেন একেকটা সিনেমার নায়ক, হাতে নেই কেবল আলোর রশ্মি, আরেকটু হলে মনে হতো এ যেন “সুপারহিরো মজনু”। শুরুতে সবকিছু ছিল বেশ নির্দোষ। গ্রামের বউঝিরা যখন আচার বানাচ্ছিল, মজনু সেটার ভিডিও করত—“আম্মু, দেখেন, আচার হচ্ছে লাইভে!” ভিডিওতে লাইক পড়ত তিনটে—একটা নিজের, একটা পাশের বাড়ির ছোট্ট রাসেলের, আরেকটা মামাতো ভাই দেলোয়ারের। তবুও মজনু খুশি, কারণ সে বিশ্বাস করত, আজ তিনটা, কাল ত্রিশটা, পরশু তিন হাজার! কিন্তু আসল খেলা শুরু হলো যখন সে ইউটিউব থেকে শিখল—"ট্রেন্ডি কনটেন্ট করো, তাহলেই টাকা আসবে"। এখন সে বাজারে গেলে চাল-ডাল কেনার আগে দেখে, কোনটা নিয়ে ভিডিও বানানো যায়। একদিন মুদি দোকানে গিয়ে ক্যামেরা চালু করে বলল, —“দেখুন, ভাইসব, এ যে ডালের বস্তা, ডালের ভেতরে আসলে কী আছে জানেন? আমি এখন খুলে দেখাচ্ছি!” দোকানদার ক্ষেপে উঠে বলল, “মজনু, ডালের ভেতর ডাল ছাড়া তুই কী আশা করছিস?!” কিন্তু মজনু তাতে কর্ণপাত করল না। কারণ, ভিডিওটা ত্রিশ সেকেন্ডেই একশো ভিউ কেটে ফেলেছিল। এভাবেই দিনে দিনে মজনু ফেসবুকের আসক্তিতে ডুবে গেল। একসময় গ্রামের বাচ্চারা তাকে ডাকতে শুরু করল “টিকটিকি ভাই”—কারণ সে সর্বক্ষণ দেয়ালে টিকটিকির মতো মোবাইল নিয়ে লেগে থাকে। তারপর একদিন, মজনু সিদ্ধান্ত নিল একটা বড়সড় লাইভ করবে। বিষয়: “গ্রামের ভূতের আসল রহস্য”। রাত বারোটায় সে কবরস্থানের পাশেই বসে গেল। হাতে লাইট, মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে গম্ভীর গলায় বলছে, —“দর্শকবৃন্দ, এখানেই নাকি রাতে ভূত আসে। এখন ভূত যদি আসে, আমি ধরব লাইভে।” ঠিক তখনই পাশের গরুটা হেঁক্কা দিল, মজনু ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠল—“আরে ভূত! ভূত!” ভিডিওতে দর্শকের হাসির বন্যা বয়ে গেল। পরদিন গ্রামে তার নাম হলো—“ভূত শিকারি মজনু”। গ্রামের লোকজন হাসি-তামাশা করলেও, মজনুর ভেতরে এক অদ্ভুত চাপ কাজ করছিল। সে ভাবত, “আরো ভিউ চাই, না হলে তো টাকা আসবে না।” ফলে সে নিজের পড়াশোনা, কাজকর্ম সব ফেলে দিল। এমনকি তার মা বলল, “বাপ, ধান কেটে আন।” মজনু উত্তর দিল, “মা, আমি তো এখন ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ধান কাটা আমার ব্র্যান্ড ইমেজের সাথে যায় না!” এত কাণ্ড দেখে গ্রামে এক মজার সভা বসলো। সভাপতিত্ব করলেন হাফিজ মিয়া, যিনি একসময় গ্রামে কবিতা আবৃত্তি করতেন। তিনি ঘোষণা করলেন, —“আজ আমরা মজনুর ফেসবুক আসক্তি নিয়ে আলোচনা করব।” মজনু তৎক্ষণাৎ মোবাইল চালু করে বলল, “ভাইসব, এই সভার লাইভ এখন দেখুন, এটা ট্রেন্ডিং হবে।” সেখানে অধ্যাপক সেলিম স্যার মজার ভঙ্গিতে বললেন, —“মজনু ভাই, দেখো, ফেসবুক খারাপ নয়। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব হারালে পরে বুঝতে পারবা, মানুষ হাসবে তোকে দেখে, কিন্তু সম্মান দেবে না।” মজনু তখনো মুচকি হেসে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল, “দর্শকবৃন্দ, এই বক্তব্যও রেকর্ড হলো।” এমন অবস্থায় গ্রামের ছোট্ট এক বালক রাসেল তাকে টেক্কা দিল। রাসেল শুরু করল কৃষি নিয়ে ভিডিও বানাতে—কিভাবে মাটিতে বীজ ফেলা হয়, গরুকে কীভাবে খাওয়ানো হয়, গ্রামীণ খেলাধুলা কেমন হয়। আশ্চর্যের ব্যাপার, রাসেলের ভিডিওতে সত্যিকারের তথ্য ছিল, ফলে ভিউ আসতে লাগল হুহু করে। মজনু দেখল, রাসেল তার চেয়ে অনেক জনপ্রিয়। হঠাৎই মজনুর মাথায় ঝলক এল। সে ভাবল, “আরে, আমি তো আসল আমি হারাচ্ছিলাম। কিন্তু রাসেল তার সহজ সরল কনটেন্ট দিয়েই সবাইকে টানছে।” এরপর মজনুর ভিডিওতে পরিবর্তন এলো। সে আর ভূত ধরতে গেল না, কিংবা চাল-ডালের ভেতরে রহস্য খুঁজল না। বরং সে মাকে নিয়ে রান্নাঘরে বসে রান্নার গল্প করল, বাবাকে নিয়ে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে কৃষিকাজ নিয়ে কথা বলল, স্কুলের স্যারকে নিয়ে পড়াশোনার ভিডিও বানাল। মজার বিষয়, এগুলো মানুষ খুব পছন্দ করল। মন্তব্য আসতে লাগল, “মজনু ভাই, এবার তো আসল মজনু বের হলো!” একদিন গ্রামে অনুষ্ঠান হলো—“ডিজিটাল গ্রাম মেলা।” সেখানে মজনু ও রাসেল দুজনকেই ডাকা হলো। মঞ্চে উঠে তারা বলল, —“আমরা শিখেছি, ফেসবুক টাকা আয়ের একটা পথ হতে পারে। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা আর সমাজের উপকার না হলে সেই আয় কোনোদিন সুখ দেয় না। ট্রেন্ডি না হয়ে ট্রু কনটেন্টই আসল।” শ্রোতারা হাততালি দিল, আর মজনুর মা গর্বে বলল, “আমার ছেলে আবার মানুষ হইছে!” শেষমেশ মজনু বুঝল, জনপ্রিয়তার নেশা আসলে একটা ফাঁদ। আসল সাফল্য হলো, এমন কিছু করা যাতে সমাজের মানুষ উপকৃত হয় আর নিজের সম্মানও অটুট থাকে। আর গ্রামের সবাই মিলে তাকে নতুন নামে ডাকতে শুরু করল—“মজনু ভাই, আসল আমি!”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now