বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখাঃ অপু তালুকদার
সন্ধ্যা নেমেছে পাহাড়ঘেরা একটি নিস্তব্ধ গ্রামে। ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ বাতাসে ভাসছে। দূরে জমে থাকা কালো মেঘ জানান দিচ্ছে আসন্ন ঝড়।
এই নীরবতার মাঝখান দিয়ে গ্রামের দিকে হেঁটে আসছে একজন কিশোর – তার পরনে সাদা পোশাক, মুখে অদ্ভুত এক শীতলতা, চোখে প্রাচীন এক অভিজ্ঞতার ছাপ।
তার নাম শিয়ু।
এই শান্ত ছেলেটিকে দেখে কেউ বুঝবে না – সে একজন পাঁচশো বছরের পুরনো আত্মা, যে তার অতীত জীবনের মৃত্যুর পরে Reverse Autmn শীন নামক এক রহস্যময় জৈবিক জিনিসের মাধ্যমে ফিরে এসেছে ঠিক এই কৈশোরের দিনগুলোতে।
পূর্বজন্মে সে ছিল এক প্রতিভাবান শীন মাস্টার – কিন্তু ভুলের কারণে হারিয়েছিল সব। এখন আবার সুযোগ এসেছে সব শুরু করার।
এবার সে কাউকে বিশ্বাস করবে না, কাউকে ছাড় দেবে না।
গ্রামে ঢোকার সময় শিয়ু দেখে, কিছু শিক্ষার্থী মাঠে শীন অনুভবে ব্যস্ত।
একজন প্রশিক্ষক উচ্চস্বরে বলছেন:
“প্রতিটি শীন হলো একটি জীবন্ত অস্ত্র। যদি তা তোমার মনের ভাষা না বোঝে, তবে সেটিই তোমার ধ্বংসের কারণ হবে!”
শিয়ু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। তার চোখে বিদ্রূপের ছায়া।
"ওরা এখনো জানে না — এই দুনিয়ায় শক্তির বাইরে আর কিছুই সত্য নয়।"
শিয়ু পৌঁছায় তার পরিবারের প্রাসাদে — শিয়ু পরিবার। এখানে তিনটি প্রধান বংশের একটি তাদের, কিন্তু সে জানে — তার পরিবারের ভিতরের রাজনীতি এবং কৌশল।
তার ভাই শিয়ু আন্ পরিবারপ্রধানদের প্রিয়, শিক্ষায় উজ্জ্বল, আচরণে বিনীত। সবাই ভাবে সে-ই হবে তাদের পরবর্তী বংশপরিচালক।
শিয়ু জানে, এসব কিছুই বাহ্যিক মুখোশ।
ভবিষ্যতে এই ভাই-ই হবে তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
পরের দিন,
অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রদের প্রাথমিক শীন জাগরণের পরীক্ষা।
আগের জীবনে এখানেই প্রথম সে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু এবার তার ভেতরে পাঁচশো বছরের অভিজ্ঞতা।
সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে, চোখ বন্ধ করে নিজের মনসংযোগ কেন্দ্রীভূত করল।
একটি হালকা সাদা আলো ফুটে উঠল তার হাতে। সে সফলভাবে শীন জাগরীত করতে পেরেছে।
"শীন" হলো একটি বিশেষ শক্তি যা পরিবেশের সকল উপাদানের মধ্যে মিলিত থাকে। সফলভাবে পরিবেশ থেকে এটি অনুভব করা হলো এই পৃথিবীতে নিজের শক্তি জাগরণের প্রথম ধাপ।
সবাই স্তব্ধ।
“শিয়ু এটা করল কীভাবে?”
“সে তো সাধারণ ছাত্র ছিল!”
শিয়ু কিছু না বলে কেবল হালকা হাসল। । তার চোখে ছিল একটা বার্তা।
পরীক্ষা শেষ। শিয়ু উত্তীর্ণ হয়েছে—সবার বিস্ময়ের কেন্দ্রে।
তবে সে জানে, শীন মাস্টার হওয়া মানে কেবল জাগরণ নয়—এটা এক সহিংস প্রতিযোগিতার শুরু।
তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হলো কিছু "প্রাইমাল পাথর", যা শীন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তির ভাণ্ডার।
- প্রাইমাল পাথর হলো এক ধরণের প্রাচীন পাথর। যা অনেক বছর ধরে পরিবেশ থেকে শীন শোষণ করে প্রাইমাল পাথরে পরিণত হয়েছে। এটির ভিতরে অনেক মাত্রায় শীন থাকে যা যারা নতুন শীন জাগরণ করেছে তাদের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে ৫টা পাথর? শিয়ুর মতে, এটা হাস্যকর।
"আমার সামনে যদি ১০০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীও দাঁড়ায়, তবে তাদের চেয়ে বেশি দরকার হবে বুদ্ধি, ধৈর্য, আর প্রাচীন অভিজ্ঞতা।"
রাতে সে চুপিচুপি বের হয়। পাহাড়ের পাথুরে গুহায় খোঁজে এক পুরনো শীন —
- Moonlight প্রাইমাল শীন – হালকা স্তরের হলেও অত্যন্ত কার্যকর। এটি চাদের আলো থেকে শীন শোষণ করে প্রাইমাল পাথরে রুপান্তরিত হয়। আগের জীবনে এখানেই সে ফাঁদে পড়ে জখম হয়েছিল। এবার সে সাবধান।
যদিও ৫০০বছর আগের, জায়গাটা ভালো মনে নেই তার। তবে দেখামাত্রই চিনতে পারে সে জায়গাটি। ভীষণ অন্ধকার, শীন করে তার শরিরের ভেতর থেকে চোখের দিকে আস্তে আস্তে নিয়ে আসতেই তার চোখের ক্ষমতা বেড়ে যায় কিছু। অন্ধকার হালকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও তার শরীরে শীন এর পরিমান কম, তাই দ্রুত খুজতে হবে তাকে। কিছুক্ষন খোজার খুঁজে পায় শীনটিকে।
হাত বাড়িয়ে নেয় — এবং সফলভাবে শীন তুলে নেয়।
এই Moonlight শীন দিয়ে তার শক্তি কিছুটা হলেও বাড়াতে পারবে।
পরের দিন সকালে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় শীন এবং পরিবেশ।
“শীন মাস্টারদের জন্য পরিবেশের সাথে এক হওয়া মানেই শক্তি।" যে যত ভালো করে পরিবেশের সাথে এক হতে পারবে, সে শীনকে তত ভালে করে বুঝতে পারবে।
শিয়ু ভাবে:
তার প্রাথমিক শক্তি বাড়াতে হলে প্রচুর পরিমানে প্রাইমাল শীন প্রয়োজন। তার পরিবার থেকে প্রচুর অর্থ চাইলে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে। তাকে শুরু করতে হবে ব্যবসা দিয়ে।
"আমি জানি কোথা থেকে শুরু করতে হয়।"
সেই রাতেই সে পরিকল্পনা করে, তার পূর্বজন্মের জ্ঞান ব্যাবহার করে — কোন উপাদান বিক্রি করলে লাভ বেশি, কারা প্রতারক, কারা আসল।
বাজার বসেছে। সবাই তাদের শীন, উপাদান বা পণ্য নিয়ে হাজির। কেউ বিক্রি করছে "রেয়ার শীন" বলে আসলে সস্তা ফাঁদ। শিয়ু হাসে।
"এটাও এক যুদ্ধ। আমি জানি কোনটা সোনা, কোনটা বালি।"
সে বিক্রি করতে শুরু করে Moonlight Sand — যা Moonlight শীন-কে উন্নত করতে সাহায্য করে। কিন্তু তার দিকে কেউ তাকায় না।
তার ভাই শিয়ু আন এসে উপহাস করে:
“গ্রেট শীয়ূ পরিবারের ছেলে রাস্তায় বসে Moonlight Sand বিক্রি করছে” শীন ভ্রুক্ষেপ না করে শুধু চোখ বাকা করে তাকায়। আবার মনযোগ দেয় তার বিক্রিতে।
শিয়ূ'র ভাই ভরকে যায়, একটু জোরে বলো, নকল জিনিস বিক্রি করছো৷ কেন তুমি?
তার কথায় আশেপাশের লোকজন তাকায় তাদের দিকে।
এই সুযোগের ফায়দা নেয় শিয়ূ,
নিজের শীনে Moonlight Sand প্রয়োগ করে শীনকে জ্বলে উঠতে।
সবাই চমকে উঠে। ক্রেতারা ভিড় করে। এক ঘণ্টায় সে বিক্রি করে ৭ প্রাইমাল পাথর। শেষে এক প্রবীণ শীন মাস্টার তার দিকে তাকিয়ে বলেন:
“তুমি কেমন ছাত্র, তা বুঝলাম। কাল আমাকে খুঁজে নিও।”
শিয়ু জানে —
এই একটা সুযোগ হয়তো আগামী শত অধ্যায়ের ভিত গড়ে দেবে। রাতে সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল:
"জগতটা এখনো বদলায়নি। কিন্তু আমি বদলেছি। এইবার আমি হারা ছেলেটা নই — আমি শিয়ু, ফিরে আসা যোদ্ধা।"
???? শিয়ু
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now