বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আদরের মেয়ে

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মনির চৌধুরী (০ পয়েন্ট)

X দেখতে দেখতে দুষ্টু মেয়ে রাফিয়া অনেক বড় হয়ে গেছে। সে ভীষণ জেদি আর কথায় পটু। তার বয়স সবে মাত্র আট বছর। তারা শহরের কোলনীতে বসাবাস করে। তার বাবার নাম হাসমত আলী মায়ের নাম হালিমা বেগম। বাবা হাসমত আলী একজন ব্যাংকার। মা হালিমা বেগম একজন স্কুল শিক্ষিকা। সেই জন্য রাফিয়ার জীবনে কোন কিছুর অভাব ছিল না। সে জেদ করে যা চাইতো, সাথে সাথে তার বাবা হাসমত আলী বাজার থেকে কিনে এনে দিতেন। একমাত্র আদরের মেয়ের সব সময় হাসি খুশি থাকুক এটাই তিনি চাইতেন। কোন অভাব অনাটন বিন্দুমাত্র আঁচ লাগতে দিতেন না। একবার হাসমত আলী, রাফিয়ার জন্য গ্রামের বৈশাখী মেলা থেকে একটা মাটির পুতুল কিনে এনে দেন। মাটির পুতুল পেয়ে সেদিন রাফিয়া খুব খুশি হয়েছিল। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে এসে প্রতিদিন সে মাটির পুতুলটা নিয়ে খেলা করত। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন খেলা করার সময় রাফিয়ার হাত থেকে পুতুলটি মেঝেতে পড়ে সামান্য ভেঙে যায়। পুতুলটি ভেঙে যাওয়ার কারণে সেদিন রাফিয়া ভীষণ ব্যথা পায়। সারাটা দিন মন খারাপ করে রুমের ভিতরে বসে থাকে। অভিমান কারে সে কর সাথে কথা বলছিল না। সারাদিন খাবারও খাচ্ছিল না। অবুঝ মেয়ে রাফিয়ার কাণ্ড দেখে সেদিন তার মামা বিস্মিত হন। তিনি রাফিয়াকে বিভিন্ন ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাফিয়ার মামা, রাফিয়াকে বোঝাতে ব্যর্থ হন। অবশেষে তিনি কোন উপায় না পেয়ে রাফিয়ার অভিমান ভাঙ্গনো জন্য কোলনীর পাশের বস্তিতে নিয়ে যান এবং রাফিয়াকে বস্তিতে বেড়ে ওঠা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করার জন্য ছেড়ে দেন। রাফিয়া বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। কারণ সে কোনদিন একসাথে এতগুলো ছেলেমেয়েদের সাথে খেলাধুলা করার সুযোগ পাইনি। কোলনীর বন্দি কারাগারে দিনের পর দিন একা একা পুতুলের সাথে খেলা করেছে। এই জন্য রাফিয়া সেদিন মনে আনন্দে বস্তির ছেলেমেয়েদের সাথে খেলাধুলা করতে থাকে। খেলাধুলা করার এক পর্যায়ে রাফিয়া দেখতে পাই, বস্তির একটা মেয়ে ডাসবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া পুরাতন ভাঙাচুরা খেলনা নিয়ে খেলা করছে। আনন্দ-উল্লাসে সেই মেয়েটি মেতে উঠেছে। তখন সেই মুহূর্তে এই ধরনের দৃশ্য দেখে রাফিয়ার মামা রাফিয়াকে বলছে, “ দেখেছ রাফিয়া মামুনি, বস্তির ঐ ছোট্ট মেয়েটি কত সুন্দর করে পুরাতন খেলনা নিয়ে খেলাধুলা করছে। এই বস্তিতে ঐ ছোট্ট মেয়েটির মত কত অসহায় ছেলেমেয়ে আছে তা ঠিক নেই। এরা ঠিক মত খাবার খেতে পাইনা। এদের জীবনযাপন খুবই সাধারণ। তবু এরা অল্পতে খুশি। অভাব অনাটনের সময় এরা কার কাছে কোন অভিযোগ করে না। বাবা-মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে না। ডাসবিনে কুড়িয়ে পাওয়া পুরাতন খেলনা এদের কাছে অমূল্য রত্ন। অথচ আজকে তোমার মাটির পুতুলটি সামান্য ভেঙে গেছে বলে, বাবা-মায়ের উপর অভিমান করছো। তাদের সাথে ঠিক মতো কথা বলছো না। রীতিমত স্কুলে যাচ্ছো না। খাবার না খেয়ে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছো। সামান্য মাটির পুতুলের জন্য বাবা-মায়ের সাথে অভিমান করা তোমার উচিৎ হয়নি। এই বস্তির অসহায় ছেলেমেয়েদের দেখে তোমার শিক্ষা নেওয়া উচিৎ। কোন ঝামেলা ছাড়াই তারা একে অপরের সাথে মিলেমিশে খেলাধুলা করছে। আমাদের মত ওদের নেই অঢেল অর্থ সম্পদ, নেই কোন বাড়ি গাড়ি। কেবল মাত্র ওদের আছে সুন্দর একটা মন। সেই মুহূর্তে রাফিয়া তার মামার মুখে এই সব কথাবার্তা শুনে তার ভুল বুঝতে পারে এবং অতীতের সব অভিমান ভুলে মামার সাথে হাসি মুখে বাড়ি ফিরে আসে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now