বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপূর্ণতা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ তাসিম ইসলাম ইমতি (guest) (২২৯২ পয়েন্ট)



X " এই রাফসান, জলদি ঘুম থেকে উঠ বাবা, স্কুলের জন্য তৈরি হও।" "না বাবা আজকে খুব পেটে ব্যাথা, আজকে আর স্কুলে যাওয়া সম্ভব না।" " প্রতিদিন প্রতিদিন একই তামাশা ভালো লাগে না বাবা" আমি জোরে বললাম।আরো বললাম, "আমদের সময় আমরা একদিনও স্কুল মিস দিতাম না। যতই ঝড় বৃষ্ঠি আসোক স্কুলে যাবো মানে যাবো।" এই শুনে আমার রাফসান বলে উঠল, " হে! হে! বাবা সব মিথ্যে দাদি আমায় বলেছে তোমার নাকি সপ্তাহে দুই তিন দিন ডায়রিয়া থাকত আর তুমি স্কুল মিস দিতে। আর তোমাদের সে সময়ের ডাক্তার মশাই নাকি এখনো তোমার ডায়রিয়ার মেডিসিন খুঁজে পাই নি।" এই বলে তার অট্টহাসি। একদম সঠিক জায়গায় লেগেছে। "তোমার দাদি বুড়া হয় গেছে ঐ আগের কথা মনে আছে নাকি বলে কথা এড়াতে চাইলেও",একাদশ বছরে পা রাখা রাফসানের কাছে আমি ব্যর্থ। "এখন পেট ব্যাথা করছে না" ওর খিলখিল হাসি টা বন্ধ করে বললাম। সামান্য মিথ্যা বলার লজ্জা, ঠোঁটের এক কোণায় মিথ্যে ভয়ের অন্তরালে হাসিতে রাফসানের মুখটায় অন্যরকম সুখ খুঁজে পাচ্ছিলাম। যাক তার মাকে গলা জড়িয়ে ধরে বিদায় জানিয়ে নিজের গাড়িতে করে ওকে স্কুল নামিয়ে দিয়ে অফিসের পথে রওনা দিলাম। আজ অদ্ভুত এক অনূভুতি হৃদয়ে সাড়া জাগাচ্ছে। একে একে শৈশবের স্মৃতি গুলো ভেসে আসছে। এক মিশ্র সুখ আর ব্যাথার যখন মিলন হবে। ঠিক তখন কে যেন ডাকছে এই উঠ, স্কুল ছুটি হয় গেছে প্রায় আধাঘণ্টা আগে তুই এখানে বসে আছিস কেন? হঠাৎ তীব্র হৃদয় দাহে বাস্তবে ফিরে এলাম, আর যা কল্পনা করলাম তা ক্ষণিকের জন্য মনে করে হাসতে থাকলাম। দেখি সামনে দাঁড়িয়ে আছে বন্ধু তানিম। যাক ওকে আর কিছু বললাম না। স্কুল হতে বিদায় নিয়ে প্রতিদিনের মতই চুয়েটের শর্টকাট রাস্তা দিয়ে তানিম সহ যাচ্ছিলাম, ও অনেক কিছু বলছে কিন্তু আজ সেগুলো কানে নিচ্ছি না। কারণ কল্পনাটাকে বাস্তবের সাথে সন্নিহিত করছিলাম। মায়ের কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ। প্রতিদিন স্কুলের জন্য রওনা দিলে বলে উঠে, "সাবধানে যাস, দিন কাল খারাপ, একদম সোজা ঘরে।" দেখতে দেখতে দেখি গেট একদম সামনে আমি, পাশে তানিম ও নেই দেখি সামনে একটা গাড়িতে বসা আর আমাকে বিদায় জানিয়ে চলে যাচ্ছে। তীব্র ব্যাথা অনুভব হলো। কারণ ছেড়ে যাওয়া টা অনেক কঠিন আর অশ্রু ধাঁধানো। ভাবলাম আজ ঘরে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরব এবং বলব মা তোমায় ভালোবাসি, বড্ড ভালোবাসি। কথা টা বলার পর উদ্ভট এক চিন্তা মাথায় সাওয়ার করেছে।কারণ মায়ের সাথে অনেক অভিমান। মা হয়ত এখন চিন্তায় আছি দেরি হচ্ছে কেন? মুচকি হাসি ঠোঁটের দু কোণায় স্বাচ্ছন্দ্য করে নিয়েছে। অনুভূতি গুলো যেন আহত, স্বপ্নটা যেন অবাস্তব, কল্পনার তীব্রতায় যেন মিশে যাচ্ছি, সব আবার প্রথম থেকে শুরু হচ্ছে, আর ঠিক সে সময় যেন হৃদপিন্ডের নোট গুলো বন্ধ হয়ে আসছে, শ্বসনতন্ত্রে সৃষ্টি হচ্ছে শূন্যতা, চোখের পাতাগুলো নুইয়ে পড়ছে আর কিছুক্ষন পর আর্তনাদের চিৎকার মায়ের আওয়াজ, মাকে বলার চেষ্টা করছিলাম মা তোমায়...................... অপূর্ণতা... ... ..... অনুভূতিতে বাস্তব আর কল্পনাগুলো আজ শূণ্যতায়, তীব্র যন্ত্রণা আজি মাকে না বলা কথাগুলোর অপূর্ণতায়..... (একটা ট্রাকের ধাক্কায় সব শেষ).....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "অপূর্ণতা"
→ ভালোবাসায় কেন অপূর্ণতা?
→ "অপূর্ণতা অভিমানী"
→ অপূর্ণতা
→ অপূর্ণতার বাসরঘর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...