বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"অপূর্ণতা অভিমানী"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)



X >>নিধি.... এই নিধি। >হুম.... কিছু বলবে ইভান? >>কি ব্যাপার। এখানে একা বসে আছ যে? ওখানে নিলা,আবির, রিয়ানা,সিমরান বাকিরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে আর তুমি এখানে একা একা আনমনে বসে আকাশ দেখছো? >হুম।আমার একা থাকতেই বেশ ভালো লাগছে।দিকনা ওরা সবাই ওখানে আড্ডা।আমি এখানেই ঠিকাছি।কি সুন্দর নিরিবিলি বসে আকাশ দেখছি।আমার কোলাহল একদম ভালো লাগে না।(বলেই মেয়েটা আবার আনমনে আকাশের পানে চেয়ে আছে।) >>আচ্ছা নিধি একটা বলবো? >একটা মায়া হাসি দিয়ে বল্লো- সেটা আবার অনুমতি নিয়ে বলতে হবে বুঝি? বলো কি বলতে চাও। >>না মানে আমি আসলে...তোমাকে ঠিক বুঝতে পারি না। >কথাটা শুনে মেয়েটা নিদারুন এক ছলনার হাসি হেসে উঠলো আর বল্লো- অযথা বুঝতে যাও ইবা কেনো? (বলেই নিজেকে আড়াল করার বৃথা চেষ্টা শুরু করলো) >>আচ্ছা.. তোমার মনে কিসের এত কষ্ট।আমি প্রতিনিয়ত তোমার চোখে মুখে অনেক না পাবার যন্ত্রণা দেখতে পাই। যা তোমার মায়া ভরা চাহনিটাকেও ঢেকে দিতে পারে অনেকটা।তুমি কেনো সব সময় এভাবে একা বসে থাকো?সবার থেকে অনেকটা দূরে অনেকটা আলাদা হয়ে? (হঠাৎ নিধি কথা গুলা শুনে আমার দিকে তাকালো।একি কিছু একটা চিকচিক করছিলো মনে হচ্ছে।তাহলে কি আমি নিধিকে অজান্তে কষ্ট দিয়ে ফেললাম? ওকি কাঁদছে?) >কিছুক্ষন নিরব থাকার পর নিধি বল্লো- আমি একা থাকি কারন আমি একা থাকতে ভালোবাসি।আমি তোমাদের মাঝে যাই না কারন আমার মনে হয় তোমাদের মাঝে আমি বড্ড বেশি বেমানান।খুব অপ্রস্তুত লাগে নিজেকে তখন।তোমরা সুখের রাজ্যের বাসিন্দা।তোমাদের মাঝে আমাকে মানায় না।আমার আকাশ জুড়ে দুঃখরা খেলা করে।তোমরা শতরুপা.... তোমারা পুর্ণ।আমি যে বড্ড বেশি অভিমানি।আমি অপূর্ণ। আমি অপূর্ণতা অভিমানী।(বলেই তার নিশ্বপ্রাণ চোখ জোড়া আবার তাকালো ঈশান কোনে।যেন তার মুখ জুড়ে বিষন্ন মেঘ খেলা করছে।কি মায়া কি যন্ত্রণা সে চোখে যেন মেয়েটাকে গিলে খাচ্ছে।) . ____ইভান ঐ দেখো দূর সে দূরে আকাশটা কত বিশাল।কত কষ্ট যেন সে বয়ে বেড়ায়।কত দুঃখ নিয়ে মেঘ গুলা তার বুকে মনের সুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে।কতো অজানা অচেনা পাখি ডানা ঝাপ্টায়।সত্যি আকাশের বড্ড সুখ তাইনা? তার বিশাল বুক জুড়ে সে কতো অসহায় মানুষের হাহাকার করা কষ্টকে আশ্রয় দেয়।জানো আমার না মাঝে মাঝে আকাশ হতে খুব ইচ্ছে করে।ইচ্ছে করে সু-বিশাল সে বুকে অনেক কষ্টদের পোষ মানাতে।সত্যি বিকেলের আকাশটা খুব সুন্দর তাই না ইভান? যেন খুব বেশি কাছে টানে একলা একা মন খারাপের দিন গুলোতে।বড্ড বেশি ভালো লাগে আমার বিকেলের আকাশটার সাথে সময় কাটাতে।তাই একা একা এখানেই বসে আছি।তুমি যাও ইভান ওরা তোমার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।তুমিও ওদের সাথে আনন্দ করো। . (এতক্ষন ধরে নির্বাক হয়ে ইভান নিধির কথা শুনছিলো।টু-শব্দটিও কাটেনি মুখে।অপলকে চেয়ে চেয়ে নিধির কথা গুলোকে আত্বস্থ করছিলো।বুঝার চেষ্টা করছিলো প্রাণ পনে যে মেয়েটার মাঝে কি এত কষ্ট কেনো এত আড়াল তার দু'চোখ জুড়ে? কিন্তু যাই বলো মেয়েটা চোখে একটা মায়া আছে যা সত্যি যে কোন নিশ্বঃপাপ মনকে কাছে টানতে যথেষ্ট।ভাবতে ভাবতেই কেমন যেন অন্য মনষ্ক হয়ে পড়ে ইভান। কিছুতেই নিধির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না সে।খুব গভিরতা নিধির চোখে।মনের কোথাও একটা আত্ব দহন যেন উঠে আসে মেয়েটার চোখে মুখে।খুব কষ্ট সে চোখে চাপা আর্তনাদ।না পাবার হাহাকার।যা ইভান নিমিষেই আত্বস্থ করতে পারে।এসব ভাবতে ভাবতেই ইভান ডুবে গেলো নিধির সাথে দেখা হবার দিন গুলোতে। . ____এবার তাহলে আসা যাক আসল গল্পে।এতক্ষন কথা হচ্ছিলো নিধি আর ইভানের মাঝে।ওরা একি ভার্সিটিতে একি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট।দুজনেই ইংরেজিতে গ্রেজুয়েশান করছে। . ইভান নিধির প্রথম পরিচয় ভার্সিটির প্রথম অরিয়েন্টেশন ক্লাস থেকে।সেদিনি তাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো।অনেকটা কাকতালিয় ভাবেই। . ___আসলে নিধি বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে।ছোটবেলা।থেকেই নিধি সোনার চামচ মুখে নিয়েই বড় হয়েছে টাকা পয়শার কোন অভাব নিধির কখনোই ছিলো না।অভাব ছিলো শুধু ভালবাসার।নিধি তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে।নিধির বাবা একজন বড় শিল্প পতি।নিধির মা সমাজের নারী অধিকার সংস্থার সভাপতি।বেশ অর্থ বিওের মাঝেই বড় হয়েছে নিধি। . এদিকে ইভানও মায়ের একমাত্র ছেলে।ইভান ছোট বেলা থেকেই মধ্যবিও পরিবারে বড় হয়েছে।অভাব আর অনটনের সাথেই বেড়ে ওঠা তার।ছোট বেলায় ই বাবা মারা যায় ইভানের।অভাব থাকলেও সুখের অভব ছিলো না ইভানের পরিবারে। . . কিন্তু বড় লোক বাবা হলেও তাতে নিধির কখনোই কোন অহংকার ছিলো না বা মোহ ছিলো না।নিধি কখনোই ভার্সিটিতে গাড়ি নিয়ে আসতে পছন্দ করতো না।তাই সে আর ৫জন সাধারন মানুষের মতোই জীবন যাপন করতো বাসে ট্রামে চড়ে। . ভার্সিটির প্রথম দিন অরিন্টেশান ক্লাসে সবাইকে বাধ্যততামুলক ভাবে আসতে বলা হয়েছিলো।নিধিও এসেছিলো সেদিন।কিন্তু সেদিন সকালে নিধির ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেড়ি হয়ে গেলো। নিধির তৈরি হয়ে ক্লাসে যেতেও তাই অনেকটা দেড়ি হয়ে গেলো তার।এতটা দেড়ি হয়ে যাওয়াতে বেশ তাড়াহুড়ার মাঝেই ছিলো নিধি।বাসা থেকে বেড়িয়ে বাসের জন্যে ছুটতে শুরু করলো মেয়েটা।অনেকটা কষ্ট করেই একটা লোকাল বাস পেলো সে ভার্সিটি পৌছাবার জন্যে। . ___নিধি বেশ সাবধানের সাথেই বাসে উঠে বসে পড়লো।কিন্তু সমস্যার শুরু সেখানেই যখনি বাসের কন্টেক্টার ভাড়া নিতে এলো।নিধি ব্যাগ হাতিয়ে দেখে তার পার্সটা নেই।সারা ব্যাগ তন্ন তন্ন করেও টাকার ব্যাগটা নিধি খুঁজে পেলো না।কিন্তু এখন কি হবে?কি করবে নিধি? . >>আপামনি ভাড়াটা দেন। >নিধি মাথা নিচু করে আছে। >>আপামনি ভাড়াটা তাড়াতাড়ি দেন।আমার দাড়াই থাহনের সময় নাই। >নিধি চাপা গলায় বলতে শুরু করলো। আমি ভুল করে বাসায় টাকার ব্যাগটা ফেলে এসেছি। (লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে।আসে পাসে সবাই তাকিয়ে তামাশা দেখছে) >>ফালাইয়া আইছেন মানে।এটাকি মগের মুল্লুক পাইছেন নি।টাকা নাই তো বাসে উঠছেন কেরে।টাকা ছাড়া বাস আপনেরে কোথাও নিতে পারবো না।এহনি নামেন বাসের থাইক্কা। . ____নিধি কি বলবে বড্ড লজ্জিত আর ভীত হয়ে মাথা নিচু করে আছে।কখনো এমন বিপদে পড়েনি মেয়েটা। কি করবে এখন।ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেছে তার।কেঁদেই ফেলবে হয়তো এবার।) . >>পাশ থেকে ইভান এসে বল্লো- এই ছেলে এভাবে কথা বলছো কেনো? একটা মেয়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটাও জানো না।দেখছো না উনি ভয় পাচ্ছে।মিথ্যে বললে কি উনি এমন মাথা নিচু করে থাকতো।কি হয় একদিন একজনের ভাড়া না নিলে? অতঃপর নিধিকে জিজ্ঞেস করলো কোথায় যাবেন আপনি? . >নিধি বলে আমি সাভার যাবো। জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটিতে। >>সেকি ওখানে কেনো যাবেন?আপনি কি ওই ভার্সিটির স্টুডেন্ট? >জ্বি। ইংরেজি বিভাগের। >>ইভান বল্লো-আমিও তো ওখানেই যাবো।ঠিকাছে আমি আপনার ভাড়াটা মিঠিয়ে দিচ্ছি।ইতস্থ হবার কোন প্রয়োজন নেই। >কিন্তু, আমার কাছে তো আজ টাকা নেই।আপনাকে কিভাবে দিব? >>সে আপনি পরে আপনার সুবিধামত দিয়ে দিবেন।একি যায়গাতেই তো পড়ি। . ___সেদিন এক সাথেই ওদের ক্লাসে যাওয়া।ক্লাস করা।সেখান থেকেই ওদের পরিচয়।নিধি পরদিন ইভানকে ভাড়ার টাকাটা মিঠিয়ে দিয়েছিলো।ইভান টাকাটা কিছুতেই নিতে চায়নি।নিধি এক প্রকার জোর করেই দিয়েছিলো।দরকার পড়লে আবার হেল্প লাগলে নেবে বলে। তার পর থেকে নিধি আর ইভানের পথ চলা শুরু হয়। . ইভান ছিলো ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ।এবং সে খুব ভালো ছাত্র ও বটে।নিধিও কম যায় না।সব সময়ই ইভান নিধির মাঝে ২,১ মার্ক এর ব্যবধান থাকে।নিধি ভীষন ভালো ছাত্রী।কিন্তু এই নিয়ে ইভান নিধির মাঝে কখনোই হাট্টা হাট্টি লড়াই চলতো না।ইভান নিধি প্রায়তই এক সাথে লেখা পড়া করতো।নিধি বেশি মার্কস পেলেও ইভান কখনো মন খারাপ করতো না।কারন নিধির মুখের হাসিটা দেখতে ইভানের খুব ভালো লাগতো।আসলে নিধিকে ইভান সচরাচর খুব বেশি হাসতে দেখতো না।সব সময়ই আনমনে অন্যমনষ্ক থাকে নিধি।কেমন যেন মন খারাপ করেই বসে থাকে।নিধি আর ইভান খুব কাছের বন্ধু ছিলো।দুইজন দুইজনকে প্রায়তই নোট দিয়ে সাহায্য করতো। . ___নিধি খুব সাধারন আর শান্ত স্বভাবের মেয়ে।সব সময় ক্লাসে সবার থেকে একটু আলাদা একটু আড়াল থাকতো।কখনোই আড্ডা হোই হুল্লোড় এসবে নিধিকে দেখা যেত না।কোন ঝামেলায় নিধি কখনোই থাকতো না।ওর এই ব্যাপার গুলো ইভানের খুব ভালো লাগতো। কাছে টানতো।তাই বলে এমন না নিধির কোন বন্ধু ছিলো না।ক্লসের সবাই নিধির ভালো বন্ধু।সবাই নিধিকে ভালবাসতো। . নিধির ক্লাসের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তাকে লাইব্রেরিতে পড়তে দেখা যেত। নয়তো সবার থেকে আড়ালে গিয়ে আনমনে বসে আকাশ দেখতো।কি যে দেখতো কে জানে।সব সময় নিধির নিজেকে আড়াল করার একটা ব্যাপার থাকতো।যা ইভান প্রায়তই লক্ষ করতো।কিন্তু কখনো এই ব্যাপারে নিধিকে কোন প্রশ্ন করতো না ইভান।ইভান চাইতো নিধি নিজে থেকে তার কষ্ট তাকে বলুক শেয়ার করুক।ইভানকে নিধি কাছের বন্ধু ভাবুক।ভরষা করুক। . ___যদিওবা ইভান যে নিধির মন খারাপ বা এমন নিজেকে আড়াল করে রাখার কারন টা খুব একটা অজানা তাও কিন্তু না।ইভান কিছুটা জানতো বুঝতো নিধির কষ্ট। . কিন্তু নিধি ওর কষ্ট গুলা কখনোই কাউকে বলতো চাইতো না।অনেক চাপা স্বভাবের মেয়ে সে।শুধু একা থাকলে মাঝে মাঝে নিধি ডায়েরি লিখতো।নিধির একটা ডায়েরি ছিলো যেটা সব সময় সাথে তাকতো। তার কষ্টের বন্ধু বলা যায় সেটা।সব সময় নিজের কষ্ট বুকের যন্ত্রণা না পাওয়া ভালো লাগা খারাপ লাগা ওই ডায়েরির সাথেই শেয়ার করতো নিধি। . সেদিন ক্লাস শেষে যখন লাইব্রেরিতে গেলো নিধি। নিধি আর ইভান গ্রুপ স্টাডি করছে।হঠাৎ আকাশে মেঘের গর্জন।বাধ ভেঙে যেন বৃষ্টি নামবে।বলতে না বলতেই মুশুল ধারে বৃষ্টি নামলো বাহিরে।সে কি বৃষ্টি।নিধি হঠাৎ ইভানের হাত ধরে টানতে টানতে বাহিরে নিয়ে এলো।হুম তখনিতো ভুল করে তার ডায়েরিটা লাইব্রেরিতেই ফেলে এসেছিলো। . ____খুব সুন্দর লাগছিলো সেদিন নিধিকে।কি বাচ্চামো তার দু'চোখ জুড়ে বৃষ্টিকে ঘিরে।মায়া ভরা মুখটা যেন স্পষ্ট থেকে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো ইভানের কাছে।নিধির সব দুঃখ যেনো ধুয়ে মুছে নিচ্ছিলো বৃষ্টির জল।তার আগুন ঝরা চোখে এক নিমিষে মায়ার আবেশ ছোড়িয়ে পড়েছিলো।খুব আনন্দ করেছিলো সেদিন মেয়েটা।যা ইভানের অবচেতন মনকে অনেকটা নাড়া দিয়েছিলো ভালবাসার শীতল স্পর্শে। . অতঃপর বৃষ্টি শেষে নিধি বাড়ি ফিরে যায়। ইভান জোড় করেই তাকে বাড়ি পাঠায় ভেজা শরীরে জ্বর এসে যাবে বলে।ততক্ষনে অবশ্য নিধির সর্দিটা লেগেই গেছিলো।সেই নিয়ে বকা দিতেও ছাড়েনি ইভান। . নিধি চলে যাবার পর লাইব্রেরির স্যার ইভানকে ডাইরিটা ফেরত দেয়।ইভান সেদিনের মতো বাসায় চলে যায়। ডায়েরিটাও নিয়ে যায় সাথে করে।সেদিন রাতে ইভান বার বার নিধির মায়া ভরা হাসি গুলো নিয়ে ভাবছিলো।নিধিকে তার একটু একটু করে ভালো লাগছে।ও বুঝতে পারে নিধিকে সে ভালবেসে ফেলছে। . হঠাত ইভানের নিধির ডায়েরির কথাটা মনে পড়লো।ভীষন কৌতহল জাগে ডায়েরিটা নিয়ে।কেনো নিধি এত কষ্ট পায়।কি এত দুঃখ তার।কেনো নিজেকে আড়াল করার সবসময় এত চেষ্টা।পড়তে বিবেক বাধা দিলেও তার মনের জানার আগ্রহ টা বাড়তেই থাকে। . ___অতঃপর আর কোন দোটানায় নিজেকে আটকে না রেখে ইভান অবশেষে ডাইরিটা খুলে পড়তে শুরু করে- . ডারেরির প্রথম পাতায়-- ২০.০৮.২০১০ আজ আমার জন্মদিন। মায়ের কাছে শুনেছিলাম ঠিক এমন একটা দিনে আমি প্রথম এই পৃথিবীর আলো দেখতে পাই।অথছ,দেখো কত দুর্ভাগ্য আমার।এখন আমার পাশে কেউ নাই।মামুনি বাপি কোথায় তোমরা।তোমরা এত টাই নিজেদের নিয়ে ব্যাস্ত যে নিজের মেয়ের জন্মদিনের কথাটাও ভুলে গেলে।আমাকে উইশ করার সময় টুকুও তোমাদের হলো না তাই না। সেই কখন থেকে তোমাদের জন্য কেক নিয়ে বসে আছি।অপেক্ষা করতে করতে সন্ধ্যা পেরিয়ে এখন মাঝ রাত আমার তোমাদের সাথে আর কেক কাটা হলো না।আমার এবারের জন্মদিনটাও প্রতি বছরের মত মাটি করে দিলে তোমরা? . ০৩.০৯.২০১১ জানো মা,, আজ আমার বড্ড বেশি কষ্ট হয় ভাবতে।মাঝে মাঝে নিজের মনকে প্রশ্ন করি আমি কি তোমাদের সন্তান? তবে কেনো এত অবহেলা।কেন এত যন্ত্রণা। খুব কষ্ট হয় আমার জানো যখন দেখি আমার বন্ধুদের মা বাবা তাদের স্কুল নিয়ে যায়। ঘুরতে যায়। আমার সত্যি খুব ইচ্ছে করে তখন আমাকেও তোমরা এভাবে এসে নিয়ে যাও আদর করো ভালবাসো।আমার বন্ধুদের দেখাতে যে আমার মামুনি বাপি আমাকে খুব ভালবাসে।কিন্তু কখনোই পারিনি আমি।রোজ ড্রাইভার কাকার সাথেই আমাকে স্কুলে যেতে হয়।আমার ইচ্ছে গুলো অপুর্ণই থেকে গেলো। . ১২.০৪.২০১২ এখন অনেক রাত।বাহিরে খুব অন্ধকার।সারা পৃথিবী হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে।শুধু ঘুম নেই আমার চোখে।খুব ভয় করছে আমার।পুরো বাড়ি আজ শুন্য।আমি বাড়িতে একা।মামুনি কোথায় তোমরা?আমার কাছে একটু এসো।আমাকে একটু শুধু একটা বার গল্প বলে ঘুম পারিয়ে দাও তোমার কোলে। . ০১.০২.২০১৩ ইশ!আজ এটা কি হলো।এত বড় ভুল করে ফেললাম?বড্ড বেশি লজ্জায় পড়ে গেছিলাম আজ।যদি ইভান ভাড়া না মিঠাতো আজ মনে হয় আমাকে রাস্তার মাঝে বাস থেকে নামিয়ে দিত বাসের ছেলেটা।ভার্সিটির প্রথম দিনটাই আজ এত বড় ব্লান্ডার করে ফেল্লাম? . ০৯.১০.২০১৪ আচ্ছা ইভানকে কেনো আমার এত ভালো লাগে।কেনো ইভান পাশে থাকলে আমার কষ্ট গুলা কমে যায়। ভয় গুলো দুরে সরে রয়? কেনো ইভানের সঙ্ঘ আমার এত বেশি ভালা লাগে এত আনন্দ দেয়।এত কাছে টানে।তাহলে কি আমি ইভানকে ভালবেসে ফেলেছি? ইশ! কি লজ্জা। . ____পুরো ডায়েরিটা এক এক পাতা করে পড়ে নিলো ইভান।যেনো নিধি পুরোটা পরিষ্কার হহচ্ছে তার চোখের সামনে।খুব খারাপ লাগছিলো তার।কোথাও যেন অনেক কষ্টেরা ভীর জমাচ্ছিলো ইভানের আকাশ জুড়ে নিধিকে ঘিরে।পড়তে পড়তে দু'এক ফোটা জলও গড়িয়ে পড়ে ডায়েরির পাতায়।কিন্তু চোখ আটকে গেলো ডায়েরির শেষ পৃষ্ঠাতে- . ০৫.১২.২০১৫ উফফ! এত খারাপ কেনো লাগছে আজ।মাথার বাম পাশটা যেনো প্রচন্ড যন্ত্রণা। সারা পৃথিবী জেনো আজ আমার অন্ধকার হয়ে আসছে।কেউ যেন আমাকে কাছে ডাকছে।যেন আমাকে নিতে এসেছে অচিনপুরের দেশে।মামুনি বাপি কোথায় তোমরা।আমি কি সত্যি আজ মরে যাবো? তোমাদের দেখতে পাবো না একবার?একবার আসো আমাকে একটু বুকে জড়িয়ে নাও।একটু শুদু একটু ভালোবাসো। উহ,, প্রচন্ড ব্যাথা করছে।আর পারছিনা লিখতে.... তবেকি ডাক্তারের কথাই সত্যি আমি কি...? . . শেষ পাতায় এতটাই লেখা ছিলো নিধির।নিধি যেনো কিছু একটা লিখতে চেয়েছিলো।কিসের ব্যাথা তার...ডাক্তার কি বলেছে?কথাটা শেষ করেনি কেনো মেয়েটা।শেষের কথা গুলো আর জানা হয়নি ইভানের। . আজ ইভান বুঝছে নিধির মনে জমে থাকা চাপা কষ্ট আর্তনাদ টাকে।আজ ইভান বুঝছে নিধি কেনো এত আড়াল করে নিজেকে। কেনো চলে গেছে সবার থেকে অনেকটা দূরে।ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের কাছে আদর ভালবাসা না পেতে পেতে মেয়েটার মনে এক চাপা যন্ত্রণা জন্ম নিয়েছে।সারাটাক্ষন একা থাকতে থাকতে নিধি এখন নিজেকে দূরে সরাতেই শিখে গেছে।নিজেকে বেমানান ভাবে সবার মাঝে।ইভানের খুব কষ্ট হচ্ছে।সারা রাত এসসব ভেবে আর ঘুমাতে পারেনি ইভান।মেয়েটার এত কষ্ট।আজ থেকে সারাজীবন নিধির পাশে থাকবে বলেই ঠিক করে ইভান। . . ____পরদিন ইভান নিধিকে তার ডায়েরিটা ফেরত দেয়।নিধি বুঝতেই পারেনি সে ভুল করে ফেলে গেছিলো সেটা।ডায়েরিটা নিয়ে নিধি ক্লাসে চলে যায়। ইভানো আর বলেনি সে ডায়েরিটা পড়ে নিয়েছে।সব সময় নিধির মুখ থেকেই ইভান কষ্ট গুলা শুনার অপেক্ষায় ছিলো।কিন্তু নিধি কখনোই তা বলে উঠতে পারেনি।ইভানও জোড় করে নি। . ____এতক্ষন ইভান নিধির পাশে বসে মায়া ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে ওদের প্রথম দিনের আলাপনের কথাগুলো ওদের কাছে আসা গুলোই ভাবছিলো।ইভানের ঘোর কাটলো নিধির ডাকে- . >ইভান এই ইভান। >>হুম নিধি..বলো। >কি ভাবছো?কখন থেকে তোমাকে ডেকে চলেছি তুমি শুনছোই না। >>নাহ.. তেমন কিছু না।আচ্ছা নিধি আমার সাথে একটা যায়গায় যাবে? >কোথায়? >>আরে চলোই না।গেলেই দেখতে পাবে। . (বলে নিধির হাত ধরলো ইভান।অতঃপর টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে।আর নিধিও পিছন পিছন লক্ষি মেয়ে বনে ইভানের সাথে হাটতে শুরু করলো।নিধি যেন বুঝতেই পারছে না কি হচ্ছে।কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ইভান তাকে।কিন্তু নিধির খারাপও লাগছে না।নিধির যেন অন্য রকম ভালো লাগছে ব্যপারটা।চুপ করে আছে মেয়েটা।পুরা বিষয়টা আত্বস্থ করার বৃথা চেষ্টা চলছে তার মন জুড়ে। . এ কি হচ্ছে নিধির।কেমন জানি একটা অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে তার।সারা শরীর যেন শিহরন শুরু হয়েছে।এ এক অন্যরকম ভালো লাগা।বাতাশ যেন হিমেল হয়ে এলো।মানুষগুলো যেন থমকে গেলো।প্রকৃতি নিস্তব্ধ। শুধু যেন এ পথে একা হেটে চলেছে এই দুই প্রেমিক যুগল বন্ধি মানব মানবি।যেন অনন্তকাল ধরে এই পথেই হাটছে তারা একে অপরের হাত ধরে।কেউ যেন কানের কাছে এসে প্রেমের সুরে বায়োলিন বাজাচ্ছে তার।এ কমন অনুভুতি? তাহলে কি নিধি সত্যি ইভানকে ভালোবেসে ফেলেছে।সত্যি কি এসব তাকে ভালবাসারি কোন বহিঃপ্রকাশ। ভেবেই আনমনে হেসে উঠলো নিধি। . ____ইভান নিধিকে হাত ধরে টানতে টানতে এক নদীর ধারে নিয়ে দাড় করালো।খুব সুন্দর শান্ত মনোরম একটা পরিবেশ।চারপাশে ঘাস ফুল,কাশ ফুল।নদীর খরশ্রোতা ঢেউ।নদীর পানি গুলো যেন বাহমান হয়ে আপন গতিতে বয়ে চলেছে।নিধির খুব ভালো লাগছে এমন মন ভুলানো পরিবেশ দেখে। নিধি বল্লো- . >>ইভান...আমাকে তুমি এখানে কেনো নিয়ে এলে? >এমনি আমার খুব পছন্দের যায়গা এটা।মন খারাও থাকলে বা ভালো থাকলে প্রায় আমি এখানে আসি।আজ খুব ইচ্ছে করছিলো তোমাকে নিয়ে আসতে তাই এলাম।যায়গাটা খুব সুন্দর তাই না? (আসলে ইভান নিধিকে আজ তার মনের কথা জানান দিতে চায়।বলতে চায় সে নিধিকে কতটা ভালোবাসে যা নিধিকে তার কখনো বলা হয়ে উঠেনি।ইভান নিধিকে ভীষন ভালবাসে) . >হু...খুব সুন্দর যায়গা।বলেই দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকালো। >>এই প্রথম ইভান নিধির চোখে চোখ রাখলো।নিধি বুঝতে পারলো ইভানের চোখ তাকে কিছু বলতে চায়।ইভান অপলক নিধির মায়া ভরা চোখের দিকে চেয়ে থাকলো যেন সে মায়ার ধারায় বন্ধি হতে চলেছে। . নিধি যেন ইভানের চোখের কথা আপন মনে পড়ে নিল।মেয়ে তো মেয়েরা মনে হয় বুঝতে পারে অনেক কিছু।নিধির মন খুশিতে তাল হারাচ্ছে।হঠাৎ কেউ যেন নিধির কানে কানে বল্লো-- ভুল করছিস তুই।ভুলে গেলি তুই আর কিছুদিনের অতিথি মাত্র?তুই ইভানকে তোর কষ্টের সাথে জড়াতে পারিস না।তুই তো ভালবাসি ওকে।তুই ভালবাসার মানুষের কষ্ট কি করে সইবি।এসব কথাগুলো যেন কেউ ওকে ফিশ ফিশ করে বলেই দিলো।অবচেতন মনে নিধির জীবনের কষ্ট গুলো আবার মনে পড়ে গেলো।চোখ সরিয়ে নিলো নিধি।তারপর বল্ল- আমার খুব মাথা ধরেছে আমি বাড়ি যাবো। বলেই নিধির বাড়ির পথে পা বাড়ালো। . নিধির শরীর খারাপ লাগছে শুনে ইভান আর জোড় করেনি।সেদিনও বলা হলো না ইভানের তার মনের না বলা কথাগুলো।নিধিরও শুনা হলো না যা সে শুনার অপেক্ষায় ছিলো।হয়তো ইচ্ছে করেই শুনতে চায়নি নিধি।দুর্বল হয়ে পরবে বলে। . _____বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ৯টা।এসে ফ্রেশ হয়ে নিলো।আজ নিধির মামুনি সন্ধ্যা থেকেই বাসায়।বাপিও আজ জলদি বাড়ি ফিরলো।তিনজন মিলে আজ একসাথে রাতের খাবার খেলো।অনেকদিন পর নিধি বাপি মামুনিকে কাছে পেলো।খাবার টেবিলে আজ ওদের বেশ জমিয়ে আড্ডা হলো।অনেক ভালো লাগছে নিধির।বেশ খুশি মনেই আছে মেয়েটা।আজ নিধির নিজেকে বড্ড সুখি মনে হচ্ছে।খাবার সেরে বাপি মামুনিকে শুভ রাত্রি বলে ঘুমোতে চলে গেলো। . কিন্তু নিধির কিছুতেই ঘুম আসছে না আজ।কি করে আসবে বার বার বিকেলে ইভানের ছুয়ে দেখা আর চোখের ভাষার কথা মনে পড়ছিলো।অন্য রকম এক অনুভুতিতে ডুবে গেছে মেয়েটা।মাঝে মাঝে আনমনেই হেসে উঠছে।আজ হয়তো নিধির মন অনেক ভালো অনেক দিন পর নিধি এত খুশি সব কষ্ট ভুলে।নিধির আজ ঘুম আসবেই না।মাঝে মাঝেই ফোন হাতে নিয়ে ইভানের ছবি দেখছে।ফোন দিবে ভেবেও কি যেন ভেবে আর দেয়া হয়ে উঠছে না তার।কিউ একজন বাধা দেয় তাকে।হয়তো তার বিবেক। . ___এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ পাশের ঘর থেকে চেচামেচির শব্দ শুনতে পায় নিধি।শব্দ টা ধীরে ধীরে বাড়ছে। নিধির খুশি মনের ঈষান কোনে আবারও মেঘ জমেছে।ওর কষ্ট গুলা আবার ওকে ধাওয়া করছে।রোজকার মত আবার নিধির মামুনি বাপি এই মাঝ রাতেই ঝগড়া শুরু করেছে।এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায় দেখ।রোজ দু'জন দু'জনের দোষ দেখাতেই ব্যস্ত। কেউ নিধির কথা একবারো ভাবে না।খেয়ালই নেই নিধির দিকে তাদের।মেয়েটা যে বড় হয়েছে।ওদের ঝগড়া দেখে কষ্ট পায় সেদিকে নজর নেই তাদের। . প্রতিনিয়ত নিধির সেই কষ্টেরা হানা দিচ্ছে।সে আর নিতে পারছে না।জ্ঞান হবার পর থেকেই নিধি এভাবেই তার বাবা মাকে রোজ ঝগড়া করতে দেখে নিধির আর এসব ভালো লাগে না।ওরা কেনো রোজ ঝগড়া করে একটু ভালোবাসতে পারে না? নিজেদের মাঝে ঝগড়া করতে করতে একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে একটু একটু করে ।মাঝে নিধিকেও তারা ঠিক মত সময় দিতে পারেনি।একটুও ভালবাসতে পারেনি।একা একাই বেড়ে উঠেছে মেয়েটা।তাই নিধির মন জুড়ে অনেক ঘৃনা তার বাবা মাকে নিয়ে। . একজন একজনকে দোষী সাবস্ত করতে পারলেই তাদের শান্তি।নিধির কথা কখনোই ভাবে নি।এভাবেই নিধির থেকে দূরে সরে গেছে নিধির বাবা মা দিনের পর দিন।নিধি এসব একদম নিতে পারতো না।মামুনি বাপি ঝগড়া করলেই নিধি কেমন জানি অদ্ভুত ব্যবহার করতো। ভয়ে কুকরে যেত।ঘাম ছুটতো নিধির কপাল জুরে।যেন বিছানার এক কোনে ষেটে যেত মেয়েটা।কখনো আবার মা বাবার ঝগড়ার এক মুহুর্তে ভাঙচুরও করতো।এভাবে দিনের পর দিন অশান্তি মা বাবাকে হারানোর ভয় নিধিকে কুড়ে কুড়ে খায়।নিধি একটু একটু করে মানসিক শারীরিক অশান্তিতে একটা সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে।একা একা থাকে মেয়েটা।তার কষ্ট হলেও আর কাউকে বলে না। . ___সেদিন রাতে মা বাবার ঝগড়ায় ভয়ে কুকরে যেতে যেতে হঠাত নিধি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পরে।নিধির সেই আসহ্য রকম মাথার ব্যথাটা শুরু হয়েছে।যা নিধির প্রায়তই হতো।অসহ্য ব্যথা।নিধির সহ্য হয় না এ ব্যথা।নিধি পারে না সইতে।কিন্তু নিধিকে দেখার কেউ নাই।নিধির কষ্ট বুঝার কেউ নাই।ব্যথায় নিধির নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।ওর একটু পানির খুব দরকার।একটু পানি কে দিবে ওকে।ওর কষ্টে গলাটা শুকিয়ে আসছে। তৃষ্টায় চিড়ে যাচ্ছে ও গলাটা। . নিধি বিছানা থেকে উঠে আস্তে আস্তে মাথায় হাত দিয়ে খাবার ঘরের দিকে ছুটতে গেলেই নিধি মাথা ঘুরে পরে যায়।নিধি মাটিতে পরে যাবার বিকট একটা শব্দ হয়।মাথা ফেটে যায় নিধির।জ্ঞান শুন্য হয় সে। . নিধির বাবা মা ঝগড়া করতে করতে হঠাৎ বিকট শব্দে তারা চমকে উঠে।কিসের শব্দ হলো।দুজন দুজনকে জিজ্ঞেস করতে করতেই হঠাৎ নিধির কথা মনে পড়ে।দৌড়ে নিধির রুমে গিয়ে দেখে নিধি মাটিতে পরে আছে।মাথা ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে।নিধির মা নিধি বলে চিৎকার করে উঠেছে।নিধি নিধি বলে কাঁদছে। কিন্তু নিধির কোন সাড়া নেই কারন নিধির তো জ্ঞানই নেই। . ____দ্রুত আম্বুলেন্স ডেকে নিধিকে বাড়ির কাছেই সিটি হস্পিটালে ভর্তি করা হয়।ডাক্তার ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট শুরু করে।নিধি এখন আই সি ওতে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।খুব সিরিয়াস অবস্থা মেয়েটার।অনেক রক্ত গিয়ে সে এখন সম্পুর্ন জ্ঞান শুন্য। নিধিকে হস্পিটালে ভর্তি করেই নিধির মা ইভানকে খবর দেয়।নিধির বাবা মা ইভানকে চিনতো।ইভান জএ নিধিরর ভালো বন্ধু।বেশ কয়েকবার নিধির বাসায় গেছে সে।তখন থেকেই চেনে ইভানকে তারা।ইভান খবর পেয়েই হস্পিটালে ছুটে আসে। . ডাক্তার এসে বলে- নিধির বাবা মাকে যে নিধির অবস্থা খুব খারাপ।নিধির বাবা মা কাঁদছে।হঠাৎ ডাক্টার বলে নিধির বেশ কিছু টেস্ট করা হয়ছে।নিধির ব্রেইন কেন্সার।আর সেটা এখন লাস্ট স্টেজে আছে।যেখান থেকে নিধিকে বাচিয়ে ফেরা আর সম্ভব না।নিধির বাবা মা অবাক হয়।এমন কথা শুনার জন্য তারা প্রস্তুত ছিলো না।তারা নিধির ক্যান্সারের ব্যাপারে কিছুই জানতো না।কি করে জানবে নিধিতো তাদের কখনো তার কষ্টের কথা বলেই নি। . নিধির এমন পরিনতি মানতে কিছুতেই রাজি না নিধির মা বাবা।তাই তাৎক্ষনিক বাড়ি গিয়ে নিধির পুরো ঘর তল্লাসি করে নিধির মেডিকেল রিপোর্ট আর ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপ্সন পায়।নিধির মা থমকে জায়।নিধি গত ৬মাস সিটি হস্পিটালের ডক্তার কামরুরজামানের চিকিৎসা ধীন ছিলেন।নিধির মা বাবা তাৎক্ষনিক ডাক্তার কামরুর জামানের শরণাপন্ন হলেন।এবং নিধির অসুস্থতার ব্যপারে কথা বলেন। . ডাক্তার কামরুর জামান জানান নিধি গত ৬মাস ধরে ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রন্ত।এবং আমার কাছেই চিকিৎসাধীন ছিলো।আজ থেকে ৬মাস আগে একদিন নিধি মাথার ব্যাথায় জ্ঞান শুন্য হলে সাধারন জনতা তাকে এই হস্পিটালে নিয়ে আসে।নিধির চিকিৎসা চলা কালিন তার কিছু টেস্ট করানো হয়েচিলো।সেখানে নিধির ক্যান্সার ধরা পরলে হস্পিটাল কতৃপক্ষ নিধিকে আমার কাছে পাঠায়।আমি ডাক্তার কামরুর জামান ক্যান্সাররের উপর উচ্চপদস্ত সহ-বিভাগীয় ডাক্তার এই হস্পিটালের।তার পর থেকে আমি নিধির চিকিৎসায় নিয়োজিত।রিপোর্টে নিধির ব্রেইন ক্যান্সার ধরা পড়লেও যেই মুহুর্তে তা ধরা পড়ে তখন সেটা লাস্ট স্টেজে চলে গেছে।যেখান থেকে নিধিকে বাঁচিয়ে ফেরা কোন ভাবেই আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। . ____সব থেকে অদ্ভুত ব্যাপার ছিলো এই নিধি সেটা জানার পর আমি তার মুখে অদ্ভুব এক তাচ্ছিলের হাসি দেখেছিলাম।যেন নিধির এই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া টা তার কাছে খুব আনন্দের সংবাদ ছিল।আমি সত্যি ভীষন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...