বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"অপূর্ণতা"

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)



X -- চোখে কাজল দিস কেনো?(আমি) -- তোর ভালো লাগে তাই। ( ইরা) -- কেনো? আমার ভালো লাগলেই কি তোকে সব করতে হবে। -- প্রিয় মানুষটার জন্য এতটুকু করতে পারবো না? -- তা চোখে কাজল দিস ভালোকথা। কাঁদিস কেনো তাহলে? লেপ্টে গেলে তো তোকে খুব বিশ্রি লাগে। -- তুই কাঁদাস তাইতো কাদি। -- এমন আবদার করিস কেনো যাতে আমি রাজি না হই।। আর আমি রাজি না হলে তো তুই কেঁদেদিস। -- ঠিক আছে আর কাদবো না। চল কোথাও ঘুড়ে আসি। ক্লাস করবো না। -- যাবি? চল তাহলে! -- হুম। . আমি শুভ।বৃন্দাবন কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ি। বাবা নেই আমার। পরিবারের আপন বলতে মা আর আমিই। তিনটা টিউশনির মাধ্যমে জীবন চলে । আর এ আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড ইরা। আমাকে খুব ভালোবাসে। হয়তো আমিও ভালোবাসি। কারন ওর ছোট ছোট আবদার গুলো কখনো ফেলে দিতে পারিনা। তারপরেও বাস্তবতার টানে একটা কথা সত্যি। গরিবদের ভালবাসতে নেই। তাই ওর চোখের মায়াজাল থেকে বারবার বেরিয়ে আসতে চাই। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। কোনো এক বিচিত্র কারনে তিন বছর আগে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ হয়েছিলো। এখনো টিকে আছে আমাদের বন্ধুত্ব। আর ও আমাকে নাকি ভালোবাসে। প্রতিদিন ওর মুখে কথাটা শুনতে শুনতে আমি অভ্যস্ত। আর কিছু উনিশ-বিশ হলেই কেদেঁ দিবে। এতো জল কোথা থেকে যে আসে জানি না। . পরের দিন..! -- শুভ বাসায় অনেক মেহমান আসবে আজ। যাবি আমাদের বাসায়? (ইরা) -- কেনো? -- আরে চল। একা যেতে ভালো লাগছে না । -- নাহ অন্যদিন। -- আরে চলতো। (এই বলে টানতে টানতে নিয়ে চললো একটা রিকশার দিকে..!) . -- আম্মু শুভ কে আজ নিয়ে আসছি। (ইরাদের বাসায় যাবার পর) -- আস্ সালামু আলাইকুম আন্টি(আমি) -- বাবা কেমন আছো? -- জ্বি আন্টি ভালো! আপনি কেমন আছেন? -- ভালো। আমাদের তো ভুলেই যাও। মাঝে মাঝে তো আমাদের বাসায় আসতে পারো? -- আন্টি ব্যস্ত থাকি তো তাই। -- আম্মু ওকে নাস্তা দাও। আমি ফ্রেস হচ্ছি।(ইরা) -- আচ্ছা যা ।(ইরা চলে গেলো) বাবা বসো। -- আচ্ছা . একটু পর আন্টি নাস্তা নিয়ে এলো! -- বাবা জানো আজকে তোমাকে একটা কারনে ডেকেছি। -- মানে? -- আজ ইরাকে দেখার জন্য ছেলেপক্ষ আসবে। ইরার আব্বুর বন্ধুর ছেলে! আমারতো কোনো ছেলে নেই তাই সবকিছু তোমাকেই দেখতে হবে। -- (বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো! হয়তো কোনো কিছু হারানোর অনুভুতি! যা নিয়ে আমি কোনোদিনও ভাবিনি) আচ্ছা আন্টি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি আছি তো। -- ধন্যবাদ বাবা। . একমাসের মাথায় বিয়েটা হয়ে গেলো। ছেলেটা আমার চাইতেও অনেক সুদর্শন। টাকা পয়সারও অভাব নেই। আর আমি কিনা এমন একটা ছেলের সাথে তুলনার যোগ্য? কখনোই না। বিয়ের তিনদিন আগে ইরা আমাকে জোড় দিয়ে বলেছিলো...! -- আমাকে ভালোবাসিস? -- হয়তো! -- পালাতে পারবি? -- না। -- কেনো? আমি মাত্র লেখাপড়া করি। তারপর অনার্স মাষ্টার্স শেষ হবে তার পর চাকরি নামক সোনার হরিন। পালালে কি খাওয়াবো? আর নিজেইবা কি খাবো? -- তোর এসব চিন্তা করতে হবে না। -- দেখ ইরা ভালবাসা আবেগ মিশ্রিত হলেও, নির্মম বাস্তবতার কাছে সেই ভালবাসা অতি বিরক্তিকর। আমাকে বিয়ে করলে তকে সারাজীবন ই পস্তাতে হবে। আমাকে ভুলে যা ইরা, নতুন করে স্বপ্ন দেখ। নতুন করে জীবণটা গুছিয়ে নে। -- যাকে ঘিরে গত তিন বছর স্বপ্নের জাল বুনেছি, যাকে নিয়ে সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছি, আজ সেই মানুষটাকেই ভুলে যেতে বলছিস? -- আমি নিরুপায়। -- তুই পারবি আমায় ভুলে যেতে? আমাকে ছেড়ে থাকতে? তুই পারলে আমিও পারবো। পারবি? -- হয়তোবা না -- তাহলে? -- বাস্তবতা যে অনেক কঠিন। চাকরি না পেলে ছেলেদের কোনো মূল্য নেই। -- ফিরিয়ে দিচ্ছিস? বাচতে পারবি আমায় ছাড়া?(ইরা) -- কষ্ট হবে। তবুও পারবো। -- প্রতিষ্টিত হবি একদিন। কিন্তু আমাকে ঐদিন আর পাবি না। . পাঁচ বছর পর..! (বসে আছি অতি পরিচিত সেই বেন্চ টায়। যেখানে তিনটা বছর গল্প করে কাটিয়েছি। ইরাও পাশে আছে। তবে দুই জন দুই মাথায়। মাঝখানে অনেকটা ফাকা। যেটা কোনোদিনও ছিলো না। আজ মাঝখানে একটা ২বছরের পিচ্চি বসে আছে। যে আমায় মামা বলে সম্বোধন করছে) -- কাজল দিয়েছিস কেনো আজ? -- তোর সাথে দেখা করলে আমি কি কখনো কাজল ছাড়া যেতাম? -- না। কিন্তু তুই কি আর আমার আছিস? -- না। ভাগ্যের পরিহাসটা দেখ। আমার বাবুটা তোকে মামা বলে ডাকলো! এটা কিন্তু অন্য কোনো ডাকও হতে পারতো। -- বাদ দে এসব। -- পাচ বছর কই ছিলি? -- টিসি নিয়ে চলে গেছিলাম। -- ওওও। আমাকে ভুলে থাকার জন্য? -- হয়তো। -- আবার ফিরে এলি কেনো? -- একটা কথা বলতে। -- বল? -- আমি একটা সোনার হরিণ পেয়েছি। আজ খুব করে বলতে ইচ্ছা করছেছে একটি কথা। -- কি কথা? -- আমিও তোকে ভালোবাসতাম। তুর চাইতেও বেশি। যেটা তর কল্পনাতীত ছিল। -- আজ বলে কি লাভ? -- হুম। বাস্তবতার কাছে সব কিছু হেরে যায়। একসময় তোকে পাওয়ার জন্য একটা চাকরির দরকার ছিলো কিন্তু সেটা পাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু আজ দেখ! চাকরি পেয়েছি ঠিকই! কিন্তু তোকে হারিয়ে ফেলছি।বুকের বা পাশের শূন্যতা টা আজও তোকেই খুজে........। লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...