বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সন্ধ্যার পর একটু টিভি দেখছি ঘরে বসে বসে।অনেকদিন থেকেই একটা খবর এ সারাবিশ্ব উত্তাল হয়ে রয়েছে।এমনি তে করোনার মহামারি চলতেছে তার মধ্যে আমেরিকার জর্জ ফ্লয়েড নামের একজন কৃষ্ণাঙ্গ কে হত্যা করার খবরে সারা বিশ্ব আজ উত্তাল।সে একজন প্রাক্তন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছিল।কয়েকদিন থেকেই এই নিউজ টা দেখছি।তোহ জর্জ ফ্লয়েড এর হত্যার কারণে পুরো আমেরিকায় বিক্ষোভ,লুটপাট চলছে তার সাথে পুরো বিশ্বও এখন এই হত্যার নিন্দা জানাচ্ছে।আমি নিজেও খুব মনে কষ্ট পেয়েছি যখন খবরটা প্রথম শুনি।আসলে এই সাদা কালোর বিভেদ টা কেনো এখনো আছে?গায়ের রং নিয়ে কেনো আমরা এত ভাবি?গায়ের রং নিয়ে ছোট থেকে অনেক কটু কথার মধ্যে দিয়ে আমি নিজেও বড় হয়েছি।কারণ আমি কালো।আমার গায়ের রং অনেক কালো।তাই এই ধরনের খবর অন্যদের থেকে আমায় বেশি ব্যাথিত করে।আমি যখন জন্মাই তখনই আমি অনেক কালো ছিলাম।মানুষজন বলতো আমার বাবা মাকে এই ছেলে তোমার পরিবারের জন্য কলঙ্ক।একে ফেলে দাও।একে বাসায় রেখো না।কিন্তু আমার বাবা তাদের কথা শুনে নি।আমি ছিলাম আমার বাবা মার প্রথম সন্তান।তারা আমার নাম রাখে সাইফুল।আমি কালো হলেও কি আমি তো তাদেরই সন্তান।তাই আমার বাবা আমায় ফেলে দেন নি। আমায় আদর যত্নে মানুষ করেছেন।যখন আমি বুঝার মতো বয়সে পৌছাই তখন থেকেই দেখতাম গ্রামের মানুষেরা আমাকে একটু এড়িয়ে চলতো।যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম তখন কেউ আমার পাশে বসতো না।আমি একেবারে পিছনে একা বসতাম।এমনকি সবাই আমায় কালু বলে খেপাতো।আমার সমবয়সী কোনো ছেলে আমার সাথে মিশতো না।আমার সাথে খেলতো না।আমি সবসময় একা থাকতাম।আমার কোনো বন্ধ ছিল না।এভাবেই একে একে কলেজ ইউনিভার্সিটি চলে যায়।ইউনিভার্সিটিতে কতজনকে প্রেম করতে দেখতাম।আমারো ইচ্ছা জাগতো প্রেম করার।কিন্তু আমার সাথে ছেলেরাই কথা বলতো না আর মেয়েরা কি কথা বলবে।প্রেমতো আরো দূরের বিষয়।আমার পরে আমার এক ভাই আর আরেকটা বোনও হয়।তারা আমার মতো কালো ছিল না।তার দেখতে ফর্সা আর সুন্দর ছিল।তাদের অনেক বন্ধু ছিল।মাঝে মাঝে মনে হতো এভাবে বেচে থাকার থেকে নিজেকে শেষ করে দেই।কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে সাহস পেতাম না কারণ আমার কিছু হলে আমার পরিবারকে কে দেখবে।আমি কালো হলেও কি আমি যে বাড়ির বড় ছেলে।আমার দায়িত্ব অনেক।তাছাড়া আমার ভাই বোন রা কিন্তু আমি কালো বলে কখনো দূরে ঠেলে দেয় নি।আমাক বড় ভাই হিসেবে যথেষ্ট সম্মান দেয় আর ভালোবাসে।আমিও তাদের অনেক ভালোবাসি।আমার একমাত্র বন্ধু ছিল আমার ভাই বোন আর আমার বাবা মা।আর এতেই আমি অনেক খুশি। আজ আমি সরকারি চাকরি করি।যারা আমার গায়ের রং নিয়ে খোঁটা দিতো তাদের আমি দেখিয়ে দিয়েছি গায়ের রং এ কিছু যায় আসে না।মানুষ তার পরিশ্রমের দ্বারাই জীবনে সফলতা পায়।যেমন আমি নিজ যৌগ্যতায় একটা ভালো চাকরি পেয়েছি।কর্মক্ষেত্রেও অনেকে আমায় কালো বলে একটু নিচু নজরে দেখতো।তারপরেও অনেক সহকর্মী ছিল যারা আমার সাথে মিশতো আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলতো।আজ আমি আমার পরিবার নিয়ে শহরে থাকি।বোনের একটা ভালো জায়গায় বিয়েও দিয়েছি।ভাইকেও বিয়ে দিবো কিছুদিন পর।কিন্তু নিজে এখনো বিয়ে করি নি।বাবা মা অনেক বলেছে বিয়ে করতে।কিন্তু আমি ইচ্ছা নাই।তাছাড়া আমার এই কালো চেহারা দেখে কোন বাবা চাইবে তার মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিতে।তাই ভাবছি সারাজীবন না হয় বিয়ে না করে একাই থেকে যাবো।
আজ কেনো সাদা কালোর মধ্যে এত ব্যাবধান?এই প্রশ্ন আমই নিজে নিজেকেই করি।কিন্তু সঠিক উত্তর যেন খুজে পাই না।আমি আমার জীবনে গায়ের রং এর জন্য যত বৈষম্যর স্বীকার হয়েছি আমার থেকে শতগুণে বেশি বৈষম্যর স্বীকার হয়েছে আরো অনেকে।এমনকি এখনো বিশ্বের কোথাও না কোথাও বৈষম্যর স্বীকার হচ্ছে কোনো কালো চামড়ার মানুষ।নেলসন ম্যান্ডেলার এত কষ্ট ত্যাগ পরিশ্রমের ফলে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ দূর করতে পেরেছেন।অনেক বছর তিনি জেলও খেটেছেন এই সাদা কালোর বৈষম্য দূর করার জন্য।নিজে একজন কালো হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।আজ তিনি বেঁচে নাই।কিন্তু তার দেওয়া শিক্ষা কি মানুষের মাঝে আছে?যেই কালোদের জন্য,তাদের অধিকারের জন্য তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।সেই কালো চামড়ার মানুষেরা আজও কি ভালো আছে?আজও কি পুরোপুরি তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে?পেরেছে কি শেতাঙ্গ দের সাথে স্বাধীন ভাবে চলাফেরার অধিকার?যদি পারতো তাহলে জর্জ ফ্লয়েড কে এই করুন ভাবে মৃত্যু বরণ করতে হতো না।জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাটু দিয়ে রেখেছিল এক শেতাঙ্গ পুলিশ।সে বার বার বলেছে "স্যার প্লিজ,স্যার প্লিজ,আমি শ্বাস নিতে পারছি না,আমি শ্বাস নিতে পারছি না।তার এই কথা তেও মন গলে নি সেই পাষাণ শেতাঙ্গ পুলিশের।আট মিনিট সে জর্জ ফ্লয়েডের ঘারে হাটু দিয়ে রেখেছিল।এতে শ্বাস নিতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢেলে পড়ে কালো চামড়ার জর্জ ফ্লয়েড।এই ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে তাই আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি।কিন্তু পুরো বিশ্বে এমন বর্বরতা আরো হচ্ছে সেসব ঘটনা অনেকটাই লোক চক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়।যুগে যুগে শেতাঙ্গদের কাছ থেকে কৃষ্ণাঙ্গরা অবহেলা আর নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।তাই এখনই এই বৈষম্য আমাদের দূর করা দরকার।দেহের রং এটা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত।সেট নিয়ে কেনো আমরা এত ভাবি।একজন মানুষের সফলতা বা অসফলতার পিছনে তার গায়ের রং কখনই জড়িত থাকতে পারে না।যারা এমনটা ভাবে তাহলে তারা কুসংষ্কার এ বিশ্বাসি তারা নির্বোধ।মানুষের সফলতা,অসফলতা নির্ভরে করে তার কাজে তার পরিশ্রমে কিন্তু তার গায়ের রং এ নয়।তাই আমরা এখনই আমাদের মাঝে যদি কারো গায়ের রং নিয়ে নিচু মানসিকতা থাকে সেটাকে মন থেকে দূর করে দেই।সাদা কালো সব মানুষ একসাথে চলি একসাথে মিলেমিশে বসবাস করি।কিন্তু যদি এমনটা না হয় তাইলে ধরে নেই দূর থেকে নেলসন ম্যান্ডেলা আক্ষেপ করেই বলে যাবেন.............
"যাদের জন্য যেই কালো চামড়ার মানুষের জন্য এত কষ্ট সহ্য করেছি,যাদের জন্য আন্দোলন করেছি,জেল খেটেছি তারা আজও নির্যাতনের স্বীকার সেই সাদা চামড়ার মানুষের কাছে।আমার পরিশ্রমের কতখানি মূল্য আছে আর?আমার কাজ কি তাইলে অস্পূর্ণই থেকে গেলো?আমি কি আমার কাজ পুরো শেষ করতে পারি নি?কালো চামড়ার মানুষকি তাদের পুরো অধিকার কি কখনো ফিরে পাবে?নাকি যুগে যুগে এভাবেই নির্যাতনের স্বীকার হয়ে যাবে?হে সাদা চামড়ার মানুষেরা তোমাদের কাছে থাকলো আমার এই প্রশ্নগুলো।যদি পারো উত্তরগুলো মুখে না দিয়ে কাজ করে দেখিয়ে দিও।আর সেই কাজে যেন কালো চামড়ার মানুষের অধিকার ফিরে আসে বৈষম্য নয়।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now