বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপরূপ সৌন্দর্য্যের শহর দার্জিলিং ছেড়ে রওনা দিলাম বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে। প্রথমে আমরা শিলিগুড়িতে আসি। ফেরার পথে কলকাতাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি। এখন চলছি শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা। আগেই দেখেছি শিলিগুড়ির আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। নিউ জলপাইগুড়িতে আসি আমরা সকাল ৭ঃ০০ টায়। জলপাইগুড়ি থেকে শিয়ালদাহ পর্যন্ত আমরা ট্রেনের টিকিট কেটে নিই। শুরু হয় কলকাতায় আসার এক চরম অভিজ্ঞতা।
আর আমাদের নায়ক-নায়িকাদের মিষ্টি দুষ্টুমিতে জিজের ভ্রমণটুকু আরো প্রাণবন্ত হচ্ছে।
সুস্মিতাঃ মফি, আমরা ফিরে চলছি, কেমন লাগছে তোর?
মফিঃ কি আর বলব? আমার মনে হচ্ছি দার্জিলিং এই তোকে নিয়ে সংসার শুরু করি। তুই যে গাউড়া, তুই তো বুঝলি না।
সুস্মিতাঃ কি বললি? আবার বল্।
মফিঃ যা দুষ্টামি করলাম আর কি?
**************************************
ইসরাতঃ যেতে নাহি দেব হায়! তবু ফিরে যাই, বসে বসে তোমায় দেখে যাই।
ইমরানঃ দেখে দেখে আমি হয়ে গেছি ক্লান্ত, আমাকে করে দাও একেবারে শান্ত।
ইসরাতঃ যা দুষ্টু!!!!
**************************************
আমিঃ হৃদয়ের মাঝে তুমি আছো তবু, এ বুকের মাঝে কেন পাই না?
অপরাজিতাঃ ও আমার ভালবাসা বুকে এসো, তুমি ছাড়া আর কিছু চাই না।
আমিঃ জীবনে তুমি, মরণে তুমি, তুমি যে আমার প্রাণে।
অপরাজিতাঃ হৃদয়ে তুমি, অন্তরে তুমি, তুমি যে আছো আমার গানে। গানে গানে তোমাকে খোঁজে ফিরি, আর কোন গান আমি গাই না।
আমিঃ ও আমার ভালবাসা বুকে এসো, তুমি ছাড়া আর কিছু চাই না।
************************************
সাইম আরাফাতঃ আনিছ ভাই, কেমন লাগছে কলকাতা আসা?
আমিঃ হুম, দারুণ একটা অনুভূতি!
সাইমঃ আমারও একই!
আমিঃ তুমি কোন কোন জায়গার ভ্রমণটুকু বেশি পছন্দ করবে।
সাইমঃ প্রথমে বলি, সৌদি আরব। কারণ উমরাহ করার সাথে সাথে ভ্রমণের মজাটুকু অনুভব করা যায়। আপনার কোনটা?
আমিঃ আমি তাই! আমার ভাল লাগবে আরো মিশরে জ্বীনের শহর ভ্রমণ করতে। ওখানে নাকি এন্টি- গ্র্যাবেটেশনাল ফোর্স কাজ করে। সবকিছু নিচের দিকেই প্রবাহিত হয়। ওখানে নাকি সবকিছু উপরের দিকে যায়? এমনকি গাড়ি নিউট্রাল এ ৬০ কি.মি বেগে চলে। আল্লাহর অশেষ মহিমা।
সাইমঃ আমার মিশরের ভ্রমণ ভালো লাগে। পিরামিডের শহর মিশর এক রহস্যময়ী জায়গা বলে।
আমিঃ হ্যা, ডেড সিও একটি রহস্যময় সাগর, যেখানে কেউ ডুবে না।
আমি ও সাইম কথা বলতে বলতে কলকাতায় আসতে লাগলাম। শিয়াদহ স্টেশনে এসে পৌঁছালাম। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে আমরা যাব ধর্মতলায়। তাই সবাই একটি বাসে উঠলাম। বাসটি চলতে শুরু করল।
সাইমঃ আনিছ ভাই, আরো কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে?
আমিঃ সে তো অনেক জায়গায়। এর মধ্যে নায়াগ্রা জলপ্রপাত, চীনের মহাপ্রাচীর, মিশরের নীল নদ, মক্কা এবং মদিনায়।
সাইমঃ বেশ ভালো ভ্রমণ রুটিন। বেশ রুচি আপনার।
আমিঃ তুমি কোথায় যেতে চাও?
সাইমঃ আমি মূলত ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় আর গ্রীসকে ভ্রমণের আওতায় ফেলেছি।
আমিঃ দারুণ। তোমাকে দেখছি তুমি অজানাকে জানার জন্য বেশ আগ্রহী। ভাল লাগল।
সাইমঃ ভাই, আমি ছোট বেলা থেকেই এ রকম। আমি রহস্য উদঘাটন ও অনুসন্ধান প্রিয়।
আমিঃ হু, তাই তো! জিজেতে তোমার লেখা পড়ে তাই জেনেছি।
কথা খৈই ফুটতে না ফুটতেই আমরা ধর্মতলায় এসে হাজির। ধর্মতলার পাশেই কলকাতার নিউ মার্কেট। আমরা সবাই নিউ মার্কেটে নামি। মনে হয় বাংলাদেশের কোন স্থানে আছি। কলকাতার বিভিন্ন স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী কিছু নিদর্শন ও কিছু রেস্তোরাঁয় আমরা খাই এবং সর্বশেষে কলকাতা একটি মিউজিয়ামে গিয়ে অবাক হই। এখানে মুক্তিযুদ্ধের কিছু নিদর্শন আছে।
সাইমঃ আনিছ ভাই, এখানে কি বুঝলেন?
আমিঃ বুঝলাম যে, দেশ স্বাধীন এর আগে কলকাতা ছিল অফিস আদালতের শহর।
সাইমঃ ভালই ধরেছেন। আমরা তো শান্তি নিকেতন ঘুরে এলাম। এখানে তার অনেক নিদর্শন আছে।
আমিঃ হ্যা, তাই। জিজের এই উদ্যোগকে আমি প্রশংসা করছি। দার্জিলিং ভ্রমণে এসে কলকাতাও ঘুরা হলো।
সাইমঃ এরপর কি করবেন?
আমিঃ তাহিরা ও সাইমন জাফরি ভাইয়ার মতামতের ভিত্তিতে আমরা কাজ করব।
অবশেষে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত আসার কথা বলা হলো। আমরা সবাই বাসে উঠলাম। কারণ পাসপোর্টে যে রোড নির্ধারণ করা হয় সে রোডেই ফেরত আসতে হয়। তাই আমাদের সময় লাগবে বেশি। আমাদের বাসটি চলতে শুরু করল। আমরা বিকেল চারটায় যশোরের বেনাপোল সীমান্তের কাছে আসলাম। এরপর ফেরীতে আসি বাংলাদেশে। এখানে সোহাগ ট্রান্সপোর্টের একটি বাসে উঠি। বাসটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেয়ারি ফার্মের সামনে আমাদেরকে নামিয়ে দেয়। তখন সময় ছিল সকাল ৬ঃ৫০ মিনিট।
দার্জিলিং এর অপরূপ ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের হাতছানি থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসি। এভাবে জিজের নায়ক-নায়িকার দার্জিলিং ভ্রমণের পরিসমাপ্তি হয়। সাইমন জাফরি ভাইয়া ও তাহিরা আপুকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবাই চলে যায় সবার গন্তব্যস্থানে। তবে সবার মনে বয়ে চলে এক অন্য রকম অনুভূতি!!!
ধন্যবাদ জিজেবাসী, ধন্যবাদ।
★★★সমাপ্ত★★★
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now