বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিভলভার রিলোডেডঃ একজন অন্ধকারের ছায়ামূর্তি-০১

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিভলভার রিলোডেডঃ একজন অন্ধকারের ছায়ামূর্তি -তাসমিনুল করিম ইমু একটা গুলির আওয়াজ হল। পর মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন কামালি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর মালিক ধনকুবের মোহাম্মাদ হোসেইন আহমাদ কামালি। তার দেহটা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে এক সময় স্থির হয়ে গেল। খুব সহজেই বিশালদেহী মানুষটাকে খুন করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল তপু। বাড়ির লোকজনকে আগেই অন্য ঘরে আটকে রেখেছে। হাতের চকচকে রিভলভারটা মুছে ব্যাগে রেখে বাইক নিয়ে চলে আসলো সে। এখন এই বিষয়টা ডালভাত হয়ে গেছে ওর কাছে। টাকার জন্য যে কারো বুকটা ফুটো করে দিতে পারে তপু। এইযে আজকের কাজটার জন্যেও পাবে ৩ লাখ টাকা। এতোক্ষন বাসায় পৌছে গেছে সেটা। মানুষ কত কষ্টই না করে টাকা কামানোর জন্য। তার চেয়ে এই কাজটা কত সোজা। জাস্ট ঠাস করে একটা বুলেট জায়গা মত লাগিয়ে দিতে পারলেই টাকা। তপুর তাই এই কাজটা খুব ভালো লাগে। তবে রিস্ক যে নেই তাও না। যেমন একবার এক শিল্পপতিকে মার্ডার করতে তার বাসায় ধুকে তপু। কাজও সেরে ফেলে। কিন্তু ঐ বাড়ির সব জায়গায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো ছিলসবটা রেকর্ড হয়ে গেছিল। সেদিন যদি তপু মাস্ক পরে না থাকত তাহলে সব শেষ হয়ে যেত। অবশেষে পুলিশও কিছু করতে পারলনা। তপু কখনই চাইনি এভাবে মানুষ খুন করতে। কিন্তু ওর মতই দুজন কিলার এসে যখন ওর পরিবারের সবাইকে খুন করেছিলো তখন সে প্রতিশোধ নেবার জন্য যোগ দেয় ওর বর্তমান বসের গ্যাং এ। বসের নাম কেউ জানেনা। সবাই বস নামেই চেনে। সেই বসের সুবাদে তপু ওর পরিবারের খুনিদের শেষ করে দেয়। এরপর ও আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনা। হয়ে যায় ওদের একজন। একজন অন্ধকারের ছায়ামুর্তি। বসের নির্দেশে এ পর্যন্ত অনেক জনকে তপু মার্ডার করেছে। এখন আর ওর হাত কাঁপেনা ট্রিগার চাপতে। প্রথমে নিয়তিকে মেনে নিয়ে তপু এটাকে পেশা হিসেবে নিলেও এখন এটা ওর নেশায় রূপ নিয়েছে। নিজেই বারবার বসকে বলে বলে কাজ নেয় আর বসও প্রচন্ড বিশ্বাসে ওকে সেই কাজ দেয়। তপু নির্বিকার ভাবে খুন করে আসে। এখন ওর শরীরে শুধু খুনে রক্ত। সেই রক্তের রং লাল নয়। তপুর এই অন্ধকার জগতে সামান্য যেটুকু আলো আছে তার নাম মুমু। এই মেয়েটাকে তপু নিষ্ঠুরভাবে ভালবাসে। যদিও ওর মত একজন মার্ডারারের মধ্যে ভালোবাসার যায়গাটা খুব কম, তবে যতটুকু আছে তার সবটাই মুমু। মুমুকে ও এতটাই ভালোবাসে যে একদিন মুমুকে রাস্তায় একটা ছেলে কটুক্তি করে। এতে মুমু অনেক কান্নাকাটি করে তপুকে বলে ব্যাপারটা। তপুর খুনি রক্ত জেগে ওঠে। ঐ ছেলের খোঁজ নিয়ে তার বাসায় গিয়ে সবার সামনে ছেলেটার বুক ঝাঝরা করে দেয় তপু। এতটাই নিষ্ঠুর আর দুঃসাহসী সে যে তার ভালবাসার মানুষকে ব্যাঙ্গ করায় একটা মায়ের বুকও খালি করে দিতে পারে। মুমু এসব কিচ্ছু জানেনা। তপু দিনের বেলা সাধারণ মানুষ দের মাঝে তাদের মতই হাঁটে। কিন্তু রাত নামলেই হয়ে যায় একটা দুর্দান্ত ছায়া। যাকে ধরা ছোঁয়া সাধ্যের বাইরে। মুমু তপুকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। তাদের সুন্দর একটা সংসার হবে। ছোট্ট একটা বাড়ি হবে। খুব বেশি বিলাসিতা করবেনা। মুমু মেয়েটাই এরকম। কখনো কোন বিলাসী মনোভাব নেই ওর মধ্যে। কিন্তু ওর বাবার টাকার পরিমান হয়ত ওর বাবাও জানেনা। সেদিক থেকে মুমু একদম উল্টো। মুমু তার স্বপ্নের কথা তপুকে বলে। তপু শোনে আর চুপ করে থাকে। সে জানে এইসব স্বপ্ন মুমুর কখনোই পূরণ হবেনা। কারণটা তপু নিজেই। ও যে কাজে জড়িত আছে সেখানে জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই। তপু চায় যে ও মুমুকে সব বলে দিবে, কারণ ওর সাথে থাকলে মুমুর জীবনটাও ধংস হয়ে যাবে। আবার ওকে দূরে ঠেলে দিতেও মন সায় দেয়না। মুমু বারবার জিজ্ঞেস করে "তপু তুমি কোথায় জব করো?" তপু একটা বিশাল কোম্পানীর কথা শুনিয়ে দেয়। হ্যাঁ ও যেখানে কাজ করে সেটা বিশাল কোম্পানিই বটে। যেখানে মানুশের জীবন নিয়ে ব্যাবসা হয়, যেখানে লাভ লোকসানের মধ্যে দুরত্ব শুধু আঙ্গুল আর ট্রিগারের মধ্যের দুরত্বের সমান। সেই বিশাল কোম্পানির একনিষ্ঠ কর্মী সে। এসব কথা মুমুকে বলা যায়না। তবে মাঝে মাঝে মুমুর সাথে বসে থাকা অবস্থায় বসের ফনে আসে, মেসেজে ঠিকানা আসে কাকে মার তে হবে। তপু পরে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় সেটা করে ফেলে। নাহ মাথা ঠান্ডা বা গরম দিয়ে নয়। মানুষের যখন একটা কাজ নখদর্পনের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে যায় তখন সেটা করতে ঠান্ডা মাথার দরকার না হলেও চলে। তপুর ক্ষেত্রেও তাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now