বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রহস্যময় বই
৪,(শেষ পর্ব)
>>>>>>>
তৌহির দম আটিকে আসছে। সে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই রুমি কে সরাতে পারছে না। রুমির হাতে এতো শক্তি কিভাবে এলো আর সে কেনো তৌহির গলা চিপে ধরে আছে কিছুই মাথায় আসছে না তৌহির। না হ কিছু একটা করতে না হয় সে মরতে যাচ্ছে রুমির হাতে।বিছানার পাশে থাকা ফুলের পাত্র টি দিয়ে সে সজোরে রুমির মাথায় আঘাত করে। সাথে সাথেই তার শাশুড়ি চলে আসে। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে তৌহির মিনিট খানেক সময় লাগলো। রুমি তার বুকে বেহুঁশ হয়ে শুয়ে আছে। মাথাটা কিছুটা কেটে গিয়েছে।রক্ত পড়ছে তার মাথা দিয়ে। শাশুড়ি কে দেখে তৌহি বেশ বিব্রত হলো।শাশুড়ি কে সে কি করে সব কিছু বলবে ভেবে পাচ্ছে না।
শাশুড়ি তার দিকে তাকিয়ে চলে গেলেন। না জানি শাশুড়ি এখন তৌহিকে নিয়ে কি ভাবছেন। নিশ্চয় ভুল কিছুই ভাববেন কারণ ফুলের পাত্রটির ভাঙা টুকরো গুলো তিনি দেখে গিয়েছেন। তিনি হয়তো এখন ভাবছেন তৌহি সব সময় তার মেয়েকে এমন মারধর করে।তোহি রুমিকে সরিয়ে বাথরুমে চলে যায়। বাথরুমে থেকে ফিরে দেখে তার শাশুড়ি রুমির পাশে বসে আছেন। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। হয়তো নিজের কপাল কেই দোষারোপ করছেন যে নিজ হাতে মেয়েকে এমন ঘরে তুলে দিলেন। তৌহি কিছু বললো না তার শাশুড়ি কে। কারণ উনাকে এখন কিছুই বুঝানো যাবে না। তিনি বোঝার চেষ্টাই করবেন না।
তৌহি পানি এনে রুমির চোখে মুখে মারলো। কেপে কেপে রুমির জেগে উঠলো।
তৌহির শাশুড়ি তৌহির দিকে তাকালেন কিন্তু কিছু বললেন না। কিন্তু তিনি কি বলতে চান সেটা তাকানো দেখেই বুঝে ফেলেছে তৌহি।
কিছু না বলে তৌহি বেড়িয়ে চলে গেলো বাহিরে। বাসার নিচের চায়ের দোকানে বসে আছে। এক হাতে কড়া এক কাপ চা আর অন্য হাতে আধ খাওয়া সিগারেট। সে সব সময় সিগারেট খায় না কিন্তু যখন মন খারাপ কিংবা টেনশন হয় তখনই খায়। চায়ের কাপে আরেক চুমুক দিতেই সামনে একজন বৃদ্ধকে দেখলো তৌহি। উনি চা ওয়ালাকে কিছু খেতে দেওয়ার জন্য বলছেন। চা ওয়ালা বিরক্তিকর সুরে তাকে না করে দিলো।
দেখে কেনো জানি তৌহির খুব দয়া হলো। বাবার বয়সী বৃদ্ধ লোকটা। পড়নের কাপড় দেখে বুঝা যাচ্ছে রাস্তায় কিংবা ফুটপাতে থাকে। সিগারেটে লম্বা এক চুমুক দিয়ে মাটিতে ফেলে পিষে দিলো সিগারেট টি।। বৃদ্ধ লোকটিকে উদ্দেশ্য করে,
-চাচা চলেন।
-কোথায় বাবা?
-আপনার ক্ষুধা লেগেছে খাবেন না।
পাশের ই এক নামীদামী রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে বৃদ্ধর পছন্দ মতো পেট ভরে খাওয়ালো তৌহি।
খাওয়া শেষে তৌহি পাঁচশত টাকার একটি নোট পরে কিছু খাওয়ার জন্য দিতে গেলে বৃদ্ধ তাকে ঘোর আপত্তি জানালেন।
-বাবা, অনেক দিন পর পেট ভরে খেলাম। টাকা লাগবে না আমার।
-তবুও রাখুন।
-তোমার জীবনে অনেক অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
-আপনি কিভাবে জানলেন?
-আমি আরো অনেক কিছুই জানি।
-কিন্তু কিভাবে?
-সেটা জেনে তোমার লাভ নেই।শুনো একটি খারাপ শক্তির নজর পড়েছে তোমার পরিবারের উপর।
-এখন আমায় কি করতে হবে?কিছু একটা উপায় বলুন।
-"রহস্যময় বই"মনে আছে। বইটি পুরোটা পড়বে। তার পর কোন পুরনো শশ্মানে নিয়ে মাগরিব এর আযান এর পর বইটি পুড়িয়ে ফেলবে।তাহলেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে না হয় তোমার স্ত্রী এবং বাচ্চার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
-এসব কেনো হচ্ছে আমার সাথে?
-একজনের অভিশাপ লেগেছে তোমার পরিবারের উপর।
-"রহস্যময় বই"টি কি তাহলে সব কিছুর মুলে।
-হ্যা
-ওই দিকে দেখো।
তৌহি অন্য দিকে তাকিয়ে দেখে কিছুই নেই আবার ঘুরলে দেখে সেই লোকটি ও নেই। তৌহি বুঝতে পারে লোকটি চলে গেছে। লোকটির কথাগুলো তৌহির বিশ্বাস করে মেনে নেওয়া উচিৎ কি না তৌহি ভাবতে লাগলো। কিন্তু লোকটির মিথ্যা বলার পেছনে ও কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছে না তৌহি। বাসায় ফিরে দেখে রুমি ঘুমিয়ে আছে আর রান্না ঘরে শাশুড়ি রান্না করছেন। তৌহি তার রুমে সেই বইটি খুঁজতে শুরু করলো। কিন্তু কোথাও বই টিকে খুঁজে পাচ্ছে না। হঠ্যাৎ তৌহি দেখে উঠে বসেছে।তৌহির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে,
-আমার বইটি খুঁজছিলে?
-হ্যা।কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে?
-কেনো?
-দেখো আমি ইচ্ছে করে তোমার মাথায় আঘাত করি নি। নিজেকে রক্ষার সার্থে আমি আঘাত করেছি।
-তুমি বই কেনো খুজছো?
-এমনি পড়ার জন্য।
-না একদম না তুমি মিথ্যা বলছো।
-আমি মিথ্যা বলছি না।
সাথেই রুমি এক প্রকার উড়ে এসে তৌহির গলা চেপে ধরলো। তৌহি কে সে উপরে তুলে গলা চেপে ধরে আছে। তৌহি দেয়ালে টানানো ছবির মতো ঝুলে আছে।
রুমি চিৎকার করে বলে,"মেরে ফেলবো বল সত্য বল,আমি সব পুরুষকে মেরে ফেলবো"
হঠ্যাৎ কাঁচ ভাঙার শব্দ হলো। তৌহি মাথা ঘুরিয়ে দেখে তার শাশুড়ির হাত থেকে গ্লাস পড়ে ভেঙে গিয়েছে। তিনি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন রুমির দিকে। তার চোখে মুখে ভয়,অজানা আশংকা, উত্তর না জানা কিছু প্রশ্ন।
রুমি তার মায়ের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথেই বেহুঁশ হয়ে যায়। তৌহি রুমি কে বিছানায় রেখে হাত পা দড়ি দিয়ে বেধে ফেলে। সাথে সাথে তৌহির শাশুড়ি এসে তৌহির কাছে ক্ষমা চাইতে শুরু করলেন,
-বাবা আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি আসলে বুঝতে পারি নি। আমাকে ক্ষমা করে দিও।
-আরে আরে মা কি বলছেন এসব। মায়েদের ক্ষমা চাইতে হয় না।
তৌহি তার শাশুড়ি কে সেই লোকটার কথা গুলো বললো। তারপর তারা বই খুঁজতে শুরু করলো। না পুরো ঘর চেক করলো কোথাও বই নেই। তৌহি স্মরণ করতে শুরু করলো শেষবার রুমির কাছে বই কোথায় ছিলো। হ্যা মনে পড়েছে শেষ বার রুমির হাতে সে বই ষ্টোর রুমে দেখে ছিলো। তৌহি ষ্টোর রুমে গিয়ে ঘন্টাখানেক খুঁজাখুঁজির পর বইটি পেলো। বইটি হাতে নেওয়া মাত্র নিজে নিজেই ষ্টোর রুমের দরজা বন্ধ হয়ে গেলো। নিভে গেলো বাতি। তৌহি এক হাতে বই রেখে অন্য হাত দিয়ে দরজার খুলার জন্য কিছু একটা খুঁজতে শুরু করে। তৌহির সকল সন্দেহ দূর হয়ে যায়। এই বইটির জন্য ই সব হয়েছে। তৌহি একটি লোহার রড পেলো সেটি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ঘন্টাখানেক পর দরজা খুললো। সাথে সাথেই গিয়ে তৌহি বইটি পড়তে শুরু করলো। এই প্রথম তৌহির কোন বই পড়তে অনীহা হচ্ছে।বইটিকে ছুড়ে মাটিতে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে। একে পড়তে শুরু করে পুরো বই।
বইটি পড়তে পড়তে কবে যে দুই দিন কেটে যায় বুঝতেই পারে না তৌহি। বইটি পড়ার পরে চোখে পানি চলে আসে তৌহির। বইটি একজন মায়ের লেখা। কোন এক গ্রামে বসবাস করতো এক মা ও তার সন্তান। সন্তান জন্মের পরেই নাকি ডিভোর্স হয়ে যায় সেই মায়ের।ডিভোর্সি মহিলা একা একা তার সন্তান কে নিয়ে বাচতে শুরু করেন। কিন্তু আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থা সেটাকে ভালো চোখে দেখে না। না না রকমের খারাপ মন্তব্য করতে শুরু করে মা ও সন্তানকে নিয়ে। এক পর্যায়ে এসব খুব বেশি বেড়ে যায়। ভদ্র মহিলা সেসব সহ্য করতে পারেন না।সন্তান কে নিয়ে তিনি আত্নহত্যা করেন। তিনি একটি বই লিখতে চেয়েছিলেন বইটির নাম দিয়েছিলেন "রহস্যময় বই"। কিন্তু তিনি সেটা সম্পূর্ণ করতে পারেন নি।তিনি প্রতিদিন তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো লিখতে শুরু করেন সেই বইটিতে। নিজের দুঃখের কথা লিখে পেলেন কালো কালির আচড় দিয়ে সাদা পৃষ্টায়।পরে কোন এক ছাপা খানায় বইটি প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরে বইটি পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। আর এটাই নাকি বইটির আসল কপি। ছাপাখনার একজন নাকি শখ করে বইটি বাড়িতে নিয়ে আসেন।আর সেই লোকটি হলো তৌহির দাদা। ষ্টোর রুমেই পড়ে ছিলো বই টি। তৌহির বই গুলো খুঁজতে গিয়ে রহস্যময় ভাবে বইটি হাতে লাগে রুমির। রুমি বইটি পড়তে পড়তে বইটির চরিত্রে চলে যায়। ওই মহিলাটির আত্না ফিরে আসে এবং ঝেকে বসে রুমির উপর। মহিলাটির সকল ঘৃণা পুরুষদের উপর। পুরুষরা কতো পাষাণ নিজের সার্থ এবং সুন্দরের পেছনে ছুটে সব সময়। যখন প্রয়োজন হয় তখন ই চিনে শুধু নারীদের না হয় নারীদের নিজের জুতার মতো রাখে।
তৌহি সেই মহিলাটির জন্য কষ্ট অনুভব করে। কিন্তু তার হাতে কিছু করার নেই। এবং সব পুরুষ সমান না সেটা সেই মহিলাকে বুঝানো যাবে না কারণ সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। তৌহি সেই বৃদ্ধ লোকটার কথা মতো বইটি নিয়ে শ্মশানে পুড়িয়ে আসে। কিন্ত ভাগ্য সব সময় সায় দেয় না। বাসায় ফিরে এসে রুমি কে সুস্থ পেলেও তার সন্তান কে আর জীবিত পায় না তৌহি। তবে এটা ভেবে খুশি হলো যে সে আর কারো ক্ষতি করতে পারবে না।
মানুষের জীবনে কখন কী ঘটে যায় কেউ কল্পনাও করতে পারে না। অতি ক্ষুদ্র জিনিস এ লুকিয়ে থাকতে পারে বিশাল রহস্য। আমাদের এ পৃথিবী টা রহস্যে ঘেরা।কখনো আমরা সেসব রহস্য ভেদ করে ফেলি কিন্তু কখনো সেগুলো ভেদ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
সমাপ্ত..।
(অনেক বন্ধুই চাচ্ছিলাম পরের পর্বটা দিতে তাই আপনাদের কথা ভেবে দিয়েই দিলাম)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now