বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিডিয়া জিজ্ঞেস কলল, “কতোক্ষণ লাগবে?”
স্কুলমাস্টার বলল, “খুব বেশী হলে দশ মিনিট ।”
লিডিয়া তখন ডাক্তারের মতো মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলল,“তোমার?”
মানুষটি বলল, “আমি রেডি ।”
লিডিয়া তখন তিষা আর জনের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমাদেরআয়ু আর দশ মিনিট । যা কিছু দেখার আছে দেখে নাও।”
কথা শেষ করেলিডিয়া আবার হাসার চেষ্টা করল, হাসতে অনভ্যস্ত তার মুখের মাংশপেশীআবার বিকৃত একটা ভঙ্গীতে কুঞ্চিত হয়ে ওঠে ।
ভিডিও ক্যামেরা হাতে মানুষগুলো খুবই দক্ষ, তারা দশ মিনিটেরবলল, “আমরা রেডি।”
লিডিয়া তখন তিষা আর জনের দিকে তাকিয়ে জিব দিয়ে সমবেদনারভঙ্গীতে চুক ঢুক শব্দ করে বলল, “আমি খুবই দুঃখিত, বেঁচে থাকার জন্যেতোমাদের দশ মিনিট সময়ও দেওয়া গেল না। বুঝতেই পারছ আমাদেরতাড়াহুড়ো আছে।” তারপর সিকিউরিটি গার্ডদের বলল, “এদের স্টেজেনিয়ে এস |”
সিকিউরিটি গার্ড ওদেরকে টেনে নিয়ে আসতে থাকে | লিডিয়া স্কুল মাস্টারকে বলল, “মনে রেখো, তোমাদের কিন্তু দ্বিতীয়বার শুট করার সুযোগনেই।”
স্কুল মাস্টার বলল, “আমি জানি । দ্বিতীয়বারের প্রয়োজন হবে না।মৃত্যু দৃশ্যে অভিনয় সব সময় খুবই খাঁটি হয়।”
কথাটাকে একটা উচু দরের রসিকতা বিবেচনা করে ঘরের সবাই শব্দকরে হেসে উঠল ।
তিষা আর জনকে যখন স্টুডিও লাইটগুলোর কাছাকাছি নিয়ে আসাহয়েছে তখন হঠাৎ ঝটকা মেরে নিজেকে মুক্ত করে জন তাকে ধরে রাখাতারপর কেউ কিছু বোঝার আগে সে একটা হিংস্র স্বাপদের মতো লিডিয়ারউপর ঝাপিয়ে পড়ল | লিডিয়া কিংবা ঘরের কেউ এর জন্যে প্রস্তুত ছিলনা- লিডিয়া প্রচণ্ড ধাক্কায় হুড়মুড় করে পিছনে পড়ে গেল । টেবিলটা ধরে সে
কোনোমতে নিজেকে রক্ষা করতে চাইল কিন্ত পারল না, তার মাথা শব্দ করেমেঝেতে আঘাত করে এবং মুহূর্তের জন্যে তার সামনে সবকিছু অন্ধকারহয়ে যায় । জন তার বুকের উপর বসে দুই হাতে লিভিয়ার মুখে আঘাতেরপর আঘাত করতে থাকে মুহূর্তের মাঝে লিডিয়ার নাক মুখ রক্তাক্ত হয়েযায় ।
সবাই ছুটে এসে জনকে পিছন থেকে ধরে টেনে সোজা করে-লিডিয়াকোনোমতে উঠে বসে বিড় বিড করে বলল, “খবরদার ওর গায়ে হাত দিওনা। ওর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন থাকতে পারবে না।”
সবাই মিলে জনকে ধরে টেনে সরিয়ে নিয়ে যায়, তার সিকিউরিটিগার্ডটি তখনো দুই পায়ের মাঝখানে ধরে বাঁকা হয়ে শুয়ে কোকাচ্ছিল, চোখেআগুন ঝরিয়ে সে জনের দিকে তাকিয়ে একটা কুৎসিত গালি দিল ।
লিডিয়া হাত দিয়ে তার নাক মুখ থেকে রক্ত মুছে তার হাতের দিকেতাকিয়ে রইল । তাকে দেখে মনে হতে থাকে সে বুঝি নিজের চোখকেবিশ্বাস করতে পারছে না।
“কাজ শেষ করো । এই দুই নর্দমার কীটকে তাদের সত্যিকার জায়গায়পাঠাও | এই মুহুর্তে।”
বেশ কয়েকজন তখন শক্ত করে দুইজনকে ধরে রাখে, ডাক্তারেরমতো দেখতে বয়স্ক মানুষটা সিরিজটা নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যায় । যারাজন আর তিষাকে ধরে রেখেছে তাদেরকে বলল, “ইঞ্জেকশান পুশ করার
সময় ধরে রেখ । যখন আমি বলব তখন ছেড়ে দিও।”
তিষা জনের দিকে তাকিয়ে বলল, “গুড বাই জন । আমি তোমাকেভালোবাসি ।”
জন ফিসফিস করে বলল, “আমিও তোমাকে ভালোবাসি তিষা।সবসময়।
ডাক্তারের মতো মানুষটা সিরিঞ্জ হাতে প্রথমে জনের দিকে এগিয়েগেল ।
হঠাৎ করে ঘরের সবাই এক সাথে স্থির হয়ে গেল । তারা বহুদূর থেকেসমুদ্রের ঢেউয়ের মতো এক ধরনের শব্দ শুনতে পায় । ঘরের মেঝেতে মৃদুএক ধরনের কাপন অনুভব করে । সবাই বিস্মিত হয়ে একে অন্যের দিকেমতো শোনাতে থাকে আর মৃদু কম্পনটা অসংখ্য ছোটছোট পায়ের শব্দেরমতো শোনাতে থাকে । সবাই বুঝতে না পারলেও তিষা সাথে সাথে বুঝেগেল কী ঘটেছে । তার মিশকা এনিম্যান শিশুদের বুঝিয়ে এখানে নিয়েআসছে তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য ৷
সবাই এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে দরজার দিকে তাকালো এবং হঠাৎকরে দরজাটা ধড়াম করে খুলে যায় এবং বন্যার পানির মতো অসংখ্যএনিম্যান ঘরের ভেতরে এসে ঢুকে আর মুহূর্তে সারা ঘরে তারা ছড়িয়েপরে । সংখ্যায় তারা একজন দু'জন নয়, অসংখ্য । তারা একে অনের উপরদিয়ে ছুটে যেতে থাকে । দেখতে দেখতে হাজার হাজার এনিম্যান শিশু আরতাদের হাসির শব্দে পুরো ঘরটা ভরে যায় । এনিম্যান শিশুগুলো খালি হাতে
আসেনি | তাদের হাতে ছোট পাথর, কাঠি, কাচের টুকরো, কীটা, চামুচ বাকিছু একটা আছে । তারা শুধু আসিনি তাদের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে।থাকে । তারা খিল খিল করে হাসির শব্দ করতে করতে মানুষগুলোকেআঘাত করতে থাকে । জন আর তিষা অবাক হয়ে দেখল ঘর বোঝাই হবার পরও তাদের আসা বন্ধ হল না । তারা আসতেই থাকল, একে অন্যের উপরদিয়ে ছুটতে লাগল।
অন্যদের আঘাত করলেও জন আর তিষাকে কিছু করল না । মাঝেচুমু খেয়ে আবার নিচে নেমে অন্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকে ।দিয়ে নিজেদের বাচানোর চেষ্টা করে-একটি এনিম্যান শিশু একেবারেইদুর্বল, তাদের হাতের আঘাতে কারো ব্যথা পাওয়ার কথা নয় । কিন্তু যখনএকসাথে হাজার হাজার এনিম্যান শিশু এসে একজনকে জাপটে ধরে তাকেটেনে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে তখন তারা অসহায়! এনিম্যানশিশুরা যখন তাদের ছোট ছোট হাত দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করতেথাকে তখন সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয় ।
জন লক্ষ্য করল সিকিউরিটি গার্ডগুলো তাদের হাতের অস্ত্রগুলো দিয়েএনিম্যান শিশুগুলোকে গুলি করার চেষ্টা করছে, হাজার হাজার এনিম্যানতাদের ধরে রেখেছে বলে তারা অস্ত্রগুলো ঠিক করে ধরতে পারছে না । জনতখন এগিয়ে গিয়ে একজন সিকিউরিটি গার্ডের হাত থেকে তার অস্ত্রটিকেড়ে নিল । তিষার হাতে সেটি দিয়ে সে তখন দ্বিতীয় গার্ডের অস্ত্রটিও
কেড়ে নেয় ৷ এনিম্যান শিশুগ্তলো মানুষগুলোকে টেনে নিচে ফেলে দেওয়ারচেষ্টা করতে থাকে । তাদের পা ধরে টানতে থাকে, কামড় দিতে থাকে, ধাক্কাদিতে থাকে, লাথি দিতে থাকে।
দেখতে দেখতে মানুষগুলো ঘরের মেঝেতে পড়ে যেতে থাকে তখনএনিম্যানগুলো তাদের হাত পা ধরে রাখে যেন তারা নড়তে না পারে, অন্যঅনেকগুলো এনিম্যান তাদের উপর লাফাতে থাকে। লাথি মারতে থাকে,
তাদের হাতে কাটা চামুচ কাঠি যা কিছু আছে সেটা দিয়ে খোচাতে থাকে।তিষা আর জন বিস্ফারিত চোখে দেখল লিডিয়া মেঝেতে পড়ে কোনোমতেনিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, পারছে না । অসংখ্য এনিম্যান শিশু তাকেনিয়ে টানা হ্যাচড়া করছে, তার মাথার চুল টেনে ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করছে।যন্ত্রণায় চিৎকার করছে কিন্তু এনিম্যান শিশুর হাসির শব্দে সব কিছু চাপাপড়ে গেছে। তিষা জনকে আকড়ে ধরে ভয় পাওয়া গলায় বলল, “এরা সবাই মেরে
ফেলবে ।”
জন বলল, “হ্যা।”
তিষা বলল, “আমি সহ্য করতে পারছি না জন। কিছু একটা কর ।'
“কী করব? এদেরকে কেমন করে থামাই?"
“মিশকা! মিশকাকে বলে দেখি।"
জন বলল, “এর মাঝে খুঁজে পাবে?”
“দেখি চেষ্টা করে।”
তখন তিষা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ডাকল,
“মিশকা! মি-শ-কা! তুমি কোথায়?”
আর্তনাদের মাঝে তিষার গলা চাপা পড়ে গেল | তিষা আবার গলা ফাটিয়েডাকল, “মি-শ-কা! মি-শ-কা!”
এবারে হঠাৎ করে মিশকাকে দেখা গেল । স্কুল মাস্টারের মতোদেখতে মানুষটির উপর অসংখ্য এনিম্যান শিশুদের একটা টিবি । তার উপর
মিশকা দীড়িয়ে দুই হাত তুলে তিষার ডাকের সাড়া দিল। তিষা সাইনল্যাংগুয়েজে তাকে বলল, “এদেরকে মেরে ফেলো না।”
মিশকা মেরে ফেলা শব্দটির সাথে পরিচিত না। তাকে সাইনল্যাংগুয়েজে অনেক কিছু শেখানো হয়েছে কিন্তু মেরে ফেলা শব্দটি কখনোশেখানো হয়নি । মিশকা হাত নেড়ে সাইন ল্যাংগুয়েজে জিজ্ঞেস করল, “তার
মানে কী?”
“এখন থামাও।”
“কেন? এরা খারাপ । এরা দুষ্টু । এদেরকে কষ্ট দিতে হবে।”
“কষ্ট দেওয়া হয়েছে । এখন থামাও |”
মিশকাকে এই প্রস্তাবে রাজী হতে দেখা গেল না, হাত নেড়ে বলল,“থামালে এরা আমাদের কষ্ট দিবে ।"
“কষ্ট দিতে পারবে না । আমরা এদেরকে বেঁধে রাখব |”
“বেধে রাখবে?”
“হ্যা”
“কেমন করে?”
“তোমরা থাম, তখন আমি তোমাকে দেখাব |”
মিশকাকে আরো খানিকক্ষণ বোঝাতে হল তখন তারা থামতে রাজীহল | তিষা আর জন তাদেরকে বোঝাল যে তারা ইচ্ছে করলে শক্ত করেমেঝেতে চেপে ধরে রাখতে পারে কিন্তু তাদেরকে আর কিছু করার প্রয়োজননেই।
মানুষগুলোকে বাধার জন্যে দড়ি পাওয়া সহজ হল না, তাই প্যান্টেরবেল্ট, কম্পিউটারের পাওয়ার কর্ড, স্টুডিও লাইটের তার এরকম জিনিসদিয়ে তাদের একজন একজন করে বেধে রাখা হল | কয়েকজন মানুষের সার্টখুলে সেটাকে পাকিয়ে দড়ির মতো করে সেগুলোও বাধার জন্যে ব্যবহারকরা হল । এনিম্যান শিশুগুলো পুরো প্রক্রিয়াটা খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষকরল তারপর সন্তুষ্টির মতো মাথা নাড়ল ।
লিডিয়াকে ঠেলে সোজা করে বসিয়ে দেয়া হল । তার মাথার চুল টেনেছিড়ে ফেলেছে, এখন পুরো মাথায় কোনো চুল নেই, তাকে দেখে চেনা যায়না। মুখ ক্ষতবিক্ষত উপরের ঠোটটা দুইভাগ হয়ে রক্ত পড়ছে । শরীরেরকাপড়ও ছিন্ন ভিন্ন, তিষা ভেবেছিল তার জ্ঞান নেই, কিন্তু দেখা গেল জ্ঞানআছে ।
তিষা ফিস ফিস করে বলল, “আমার আয়ু তাহলে মাত্র দশ মিনিটছিল না! মনে হয় ভালোই আছে । তোমার আয়ু নিয়েই মনে হচ্ছে সমস্যা।”
লিডিয়া কোনো কথা বলল না । তিষা বলল, “আরেকটা জিনিস জেনেরাখো, আমার গরীব দেশটা কিন্তু খুব সুন্দর সেই দেশে কিন্তু তোমার মতোএকটাও অসুন্দর মানুষ নেই! তোমার দেশটাও খুব সুন্দর কেন জানো?
কারণ এখানে জনের মতো ছেলেরা আছে!”
লিডিয়া এবারেও কোনো কথা বলল না । তিষা বলল, “একটু আগেআমি তোমার মুখে থুতু দিয়েছিলাম, তুমি খুব রাগ করেছিলে । এখন যতইচ্ছে তত থুতু দিতে পারব, কিন্তু আমি দেব না । কেন দেব না জান?”
লিডিয়া কোনো কথা বলল না, তিষা বলল, “তার কারণ একজনমানুষের মুখে থুতু দিয়ে তার যেটুকু সম্মান নষ্ট করা যায় তোমার সেইসম্মানটুকুও আর নেই । তুমি এখন আর নর্দমার কীটও নও।”
লিডিয়া কোনো কথা না বলে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। তিষা আর জন পুরো বিল্ডিংয়ের সবগুলো মানুষকে দড়ি দিয়ে বেধে ফেলারপর বাইরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে আবিষ্কার করল এই পুরোএলাকাটুকু বাইরের পুরো জগতের সাথে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন । কোনোভাবেই
যোগাযোগ করা সম্ভব নয়। টেলিফোন কাজ করে না, নেটওয়ার্ক কাজ করেনা, আশে পাশে কোনো জনমানব নেই । বাইরের জগতের সাথেযোগাযোগের কোনো উপায় না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত একটা বিল্ডিংয়েআগুন ধরিয়ে দিল | আগুনের শিখাটা এনিম্যান শিশুরা খুবই উপভোগ করলবলে মনে হল!
আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমে ফায়ার ব্রিগেড তারপর পুলিশের গাড়িএসে এলাকাটা ঘিরে ফেলল । পুলিশের একটা দল ভিতরে ঢুকে তিষা আরজনকে দেখে খুব অবাক হয়ে বলল, “ তোমরা কারা? এখানে কী হচ্ছে?”
তিষা বলল, “সেটি বোঝাতে অনেক সময় লাগবে । কিন্তু তার আগেআমি কী আমার মায়ের সাথে একটু কথা বলতে পারি? মা কে শুধু জানাব
আমি ভালো আছি?”
ঘণ্টাখানেক পর পুরো এলাকার দৃশ্যটি পাল্টে গেল । শত শত পুলিশেরগাড়ি, অসংখ্য এন্বুলেস, টেলিভিশনের গাড়ি, সাংবাদিক, আকাশেহেলিকপ্টার। এনিম্যান শিশুদের দায়িত্ব নেবার জন্য ডাক্তার নার্স ।সামাজিক কর্মী তাদের কীভাবে শান্ত রাখা যায় জিজ্ঞেস করার পর তিষাবলেছে আইসক্রিম খেতে দিতে, সে জন্যে বেশ কয়েকটা আইসক্রীমেরট্রেইলার ট্রাক । দেখা গেছে তিষার কথা সত্যি । এনিম্যান শিশুগুলোআইসক্রিম পেয়ে মহাখুশী।
অনেক রাতে যখন পুরো এলাকাটা নিয়ন্ত্রণের মাঝে এসেছে তখনএকটা সিঁড়িতে নক্ষত্রের আলোতে জন আর তিষা বসে আছে । তিষা তখনজনকে সাইন ল্যাংগুয়েজে বলল, “ঠিক যখন আমাদের ড্রাগ ওভারভেজকরতে যাচ্ছিল তখন আমি তোমাকে কী বলেছিলাম, তুমি খেয়ালকরেছিলে?”
জন মাথা নাড়ল | তিষা বলল, “আমি বলেছিলাম, আমি তোমাকেভালোবাসি । তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ ওটা কিন্তু খুবই মানবিক একটাভালোবাসা | ওর মাঝে কিন্তু কোনো রোমান্স ছিল না।”
জন হাসল, বলল, “হ্যা । আমি বুঝতে পেরেছিলাম 1” তারপর দুজনইহি হি করে হাসতে লাগল ।
তাদের গায়ে হেলান দিয়ে মিশকা বসেছিল, সেও তাদের হাসিতেযোগ দিল- সে কী বুঝেছে কে জানে!
-------------------------------
শেষকথা.
লিডিয়াকে জীবন্ত এরেস্ট করা যায়নি । কীভাবে কীভাবে জানি সে তারহাতের বাধন খুলে তার ডেস্কের ড্রয়ার খুলে একটা রিভলবার বের করেনিজের মাথায় গুলি করেছে। ক্র্যাগনন সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণীসঠিক ছিল, যে মানুষটি লিডিয়ার মাথায় গুলি করেছে তার পরিচয়টি জানাছিল না, শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মানুষটি সে নিজে ।
এনিম্যান তৈরী বন্ধ হয়ে গেল। যে এনিম্যান শিশুগুলি পাওয়াগিয়েছিল তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়েছিল।
সবাই তাদেরকে আদর যত্ন করে রেখেছে । এরা আসলে মানব শিশু, তাইচেষ্টা করা হয়েছে মানব শিশু হিসেবে বড় করার ।
এনিম্যান নিয়ে যেরকম আলোড়ন হওয়ার কথা ছিল সেরকমআলোড়ন হল না, পুরো বিষয়টি কেমন যেন চাপা দিয়ে দেওয়া হল । কারাএটি করেছে কীভাবে করেছে পুরো বিষয়টিই সাধারণ মানুষের কাছে অজ্ঞাতথেকে গেল । সঠিকভাবে জানাজানি হলে এশিয়া আফ্রিকার অসংখ্য দরিদ্রমহিলাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতো, সম্ভব সে জন্যেই বিষয়টা নিয়ে কোনো হই
চই হল না। উইলিয়াম ম্যাকেঞ্জী হইচই হতে দেয়নি। সরকারের উচ্চমহলে তার অনেক বন্ধু ।
মিশকা এর পর আট বছর বেঁচেছিল। এই আট বছরে মিশকা একটু একটুলিখতে পড়তে শিখেছিল । আম্মুর রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে সে খুব পছন্দকরত । তিষার হেভি মেটাল একেবারে সহ্য করতে পারত না।
মিশকা মৃত্যুর ঠিক আগে আগে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল । একরাতেতিষা মিশকাকে কোলে নিয়ে বাসার ছাদে বসে আছে । মিশকা দুর্বল হাতেসাইন ল্যাংগুয়েজে তিষাকে জিজ্ঞেস করল, “কেউ যখন মারা যায় তখন কী হয়?
তিষা বলল, “তখন সে আকাশের তারা হয়ে যায় |”
“আমি যখন মারা যাব আমিও কি আকাশের একটা তারা হব?”
“হ্যা সোনা । তুমিও নিশ্চয়ই একটা তারা হবে ।”
“আমি কোথায় তারা হব তিষা?”
“সেটা তুমি ঠিক কর ।”
মিশকা খুব মনোযোগ দিয়ে আকাশের নক্ষত্রগুলো পরীক্ষা করেকালপুরুষকে দেখিয়ে বলল, “আমি ওখানে একটা তারা হতে চাই।”
“ঠিক আছে মিশকা।”
এর দুদিন পর তিষা ঘুম থেকে উঠে দেখে মিশকা তার ছোট বিছানায়গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে । হাত দিয়ে ছুয়ে দেখে তার শরীর শীতল,জীবনের স্পন্দন নেই ।
রাত্রি বেলা যখন সবাই ঘুমিয়ে গেছে তখন বাসায় ছাদে উঠে তিষামাঝে একটা নিশ্চয়ই মিশকা | তিষা ফিসফিস করে বলল, “ভালো থেকোমিশকা।”
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now