বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিবন্ধী ব্যাঙটি মাঝে মাঝে আকাশের
দিকে তাকিয়ে দেখত প্রকাণ্ড শকুনটি
বিশাল ডানা মেলে আকাশে উড়ছে আবার ছোঁ
মেরে তার শিকার ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝে
মাঝে ব্যাঙটি জলের ওপর এসে শকুনের বাসার
দিকেও নজর রাখত। ব্যাঙটি শুনতে পেত
একটি ছোট্ট মেয়ের কান্না ভেসে আসছে
শকুনের বাসা থেকে। এই কান্নায় ব্যাঙটি
ভীষণ কষ্ট পেত।
একদিন বিষয়টি ভালভাবে বোঝার জন্য
দয়ালু ব্যাঙটি ঘুরতে ঘুরতে চলে আসল শকুনের
বাসার কাছে। দেখত পেল দুষ্ট শকুন বন্দি করে
রেখেছে একটি ফুটফুটে মেয়েকে। বুঝতে পারল এ
মেয়েটির কান্নাই সে সব সময় শুনতে পেত।
ব্যাঙটি আড়ি পেতে শকুন আর মেয়েটির
কথা শোনার চেষ্টা করল। শুনতে পেল-
-এই, আমার দুপুরের খাবার কই !
-জ্বি মনিব, এটা প্রস্তুত আছে, আপনি যখন
চাইবেন খেতে পারবেন।
-মনিব, আমাকে কিছুক্ষণের জন্য ঝর্ণার
ধারে যাওয়ার অনুমতি দিন। আমি আমার
কাপড় চোপড়গুলো একটু ধোব।
- না দুষ্ট মেয়ে, মোটেই না, আমার সঙ্গে
চালাকি করো না, তুমি ঠিক পালিয়ে
যাওয়ার ফন্দি আঁটছ।
-না মনিব, আমি পালাব না, আমি কাপড়
ধুয়েই চলে আসব। আপনি যতক্ষণ আমার কাপড়
পেটানোর শব্দ শুনবেন, বুঝবেন আমি কাপড়
কাচছি।
-ঠিক আছে যাও, তোমার কাপড় কাচার শব্দ
যদি শুনতে না পাই আমি তক্ষণি তোমাকে ছোঁ
মেরে নিয়ে আসব।
তারপর কলিউর তার কাপড় চোপড় একটি
গাঁটে বেঁধে ঝর্ণার ধারে গেলে। একটি পাথরের
ওপর বসে কলিউর কাপড় আছড়ে ধুতে লাগল
ঝর্ণার জলে। প্রতিটি আছাড়ের সঙ্গে সঙ্গে
তার কান্নার শব্দ মিশে যাচ্ছিল পাহাড়ের
বাতাসে। এমন সময় একটি ছোট আওয়াজ কানে
আসলো কলিউরের। কলিউর দেখতে পেল
একটি কিম্ভুতকিমাকার ব্যাঙ বসে আছে
তার পাশেই একটি পাথরের ওপর। ব্যাঙটির
একটি পা বিদখুটে রকমের লম্বা। এমন ব্যাঙ
কলিউর কখনো আগে দেখেনি।
ব্যাঙটি অত্যন্ত সহানভূতির সঙ্গে
কলিউরকে বলল, আমি তোমাকে এখান থেকে
পালাতে সাহায্য করব। কলিউর ঘুরে গিয়ে
আবার কাপড় আছড়াতে আছড়াতে বলল, এ
পৃথিবীতে আমাকে সাহায্য করারমতো কেউ
নেই। ব্যাঙটি আবার বলল-
-কিন্তু আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।
আমি দেখতে কদাকার হলেও আমি একটি
যাদু জানি। আমি ইচ্ছে করলেই যে কারও রূপ
ধারণ করতে পারি। আমি তোমার রূপ ধারণ
করে তোমার মতো কাপড় আছড়াতে থাকব সেই
ফাঁকে তুমি পালিয়ে যাবে। আর এভাবে দুষ্ট
শকুনটিকে আমরা বোকা বানাব।
কলিউর বলল, এভাবে কী কাজ হবে? তার
চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, ব্যাঙটির দিকে
তাকিয়ে দেখল সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর
প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। আনন্দে সে
ব্যাঙটিকে হাতে তুলে নিয়ে তার কপালে
একটি চুমু খেল। মুহূর্তেই ব্যাঙটি অবিকল
কলিউরের মতো হয়ে গেল এবং কলিউরের হাত
থেকে কাপড় নিয়ে কলিউরের মতো আছড়াতে
লাগল। কলিউরকে বলল আর একটুও দেরি নয়,
তুমি তোমার বাড়িতে ফিরে যাও, আমি
তোমার কাজ করতে থাকি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now