বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ৫
সকাল সকাল অরিক হাতে ঘড়ি কিভাবে আসলো সেটার চিন্তায় আছে।হঠাৎ দরজার ধাক্কায় হাত থেকে ঘড়িটা পড়ে গেলো।
অরিক-কে আসলো আবার এতো সকালে।দরজা খুলতে হাত এগুতে অবাক হয়ে গেলাম।ঘড়িটা আবারও হাতে।এটা কি করে সম্ভব মাত্রই তো হাত থেকে পড়লো।আবার হাতে আসলো কি করে??
এইদিকে রাব্বি অরিকের কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখে অরিক দরজা থেকে একটু দুরে অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।
একটু আগে হাতে ঘড়ি দেখে অরিক ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে.....
রাব্বি-অরিক অরিক...
কি হলো তোর। উঠ।অরিককে খাটে নিয়ে শুয়ালাম।পানি মেরে জ্ঞান ফিরালাম।
রাব্বি-কিরে তোর কি হলো?
অরিক-আমি..আ...মি
শান্ত হ। নে পানি খা.........
রাব্বি--এবার বল কি হইছে।
অরিক-শুরু থেকে হওয়া সব কিছু রাব্বিকে বলে দিলাম।এমনকি রায়হান, হ্যারির খুনের কথাও বলেছি।
রাব্বি-তার মানে তোর কথা মতো অন্য কেউ করছে এসব।ভৌতিক কিছু।আমার বিশ্বাস হয় না।
অরিক-একটু আগের ঘড়ির ঘটনাটাও খুলে বললাম।
রাব্বি-আমার মনে হয় তোর মানসিক কোনো রোগ হয়েছে।
অরিক-তোর বিশ্বাস হচ্ছে না।দাড়া তৃষাকে আসতে বলি।তৃষা নিজ চোখে সব দেখেছে।
কল করে তৃষাকে আসতে বললাম।একটু পর তৃষা আসলো।এরপর তৃষা যা যা সেদিন রাতে দেথেছে সব বললো।
তৃষা-আর সবচেয়ে আজব বিষয় সে অাত্মাটা আমাকে আগে থেকে চিনে।আমাকে তৃষ বলে ডেকেছে।কিন্তু আজব বিষয় আমি মনে করতে পারছি না কে তৃষ বলে ডাকতো।জেনো মনে হয় কেউ ব্রেইন থেকে সেই নামটা মুছে দিয়েছে।
রাব্বি-যদি তাই হয় তাহলে আত্মাটাকে কিভাবে অরিকের দেহ থেকে বের করবো?
তৃষা-সব ঝামেলার মূল এই ঘড়িটা। এটা পড়ার পর থেকেই এমনটা হচ্ছে।যা বার খুলা হয় ততবার আপনা আপনি হাতে আসে।
অরিক-ঘড়িটাকে ফেলে দিই।এরপর আমি ঘর থেকে বের হয়ে দুরে এসে।ঘড়িটা খুলে ফেলে দিয়া আবার বাসায় আসলাম।ঘড়ি ফেলার সময় তৃষা রাব্বিও সাথে ছিলো।বাসায় এসে দরজা খুলতেই দরজার বরাবর সামনে রাখা ছোট্ট টেবিলটায় ঘড়িটা দেখালাম।আমি কিছু না বলে ভয়ে কাপতে লাগলাম
রাব্বি-কিরে কি হলো তোর।
অরিক-সা..সা...সামনে দেখ
এরপর তৃষা আর রাব্বি সামনে তাকিয়ে ঘড়িটা দেখে তারাও ভয় পেয়ে যায়।
তৃষা-আজ এই ঘড়িটাকে আমি ভেঙ্গেই ফেলবো।
তৃষা ঘরের ভিতর থেকে খুজে হাতুড়ি এনে ঘড়িটাতে জোরে জোরে আঘাত করলো।কিন্তু ঘড়ির একটা ফোঁটা কিচ্ছু হয় নি।
হঠাৎ ঘড়ি বাতাসে ভেসে দ্রুত আমার হাতে লেগে গেলো।
রাব্বি-অরিক এটা কি হলো মাত্র?
অরিক-ঘড়িটা আমার পিছু কিছুতেই ছাড়বে নারে
তৃষা-আমি একজন নামকরা তান্ত্রিক চিনি।উনি সাহায্যে করতে পারে।
দেরি না করে সবাই বের হলাম।শহর থেকে অনেক দুরে গ্রাম জায়গায় ছোট্ট একটা টিনের ঘরে সামনে তৃষা গাড়ি থামাতে বললো।
রাব্বি-কিরে এ কোথায় নিয়ে আসলি তুই
তৃষা-চুপচাপ ভিতরে আয়।
ততক্ষণে প্রায় দুপুর হয়ে গেছে।সূর্য মাথার উপরে।
ভিতরে ঢুকতেই চোখ বন্ধ করা একটা লোক দেখলাম।ঘায়ে কিছু নেই।খালি ঘায়ে বসে আছে।হাতের ইশারায় মাটিতে বসতে বললো।ঘর থেকে কেমন পচা পচা গন্ধ আসছে।হঠাৎ লোকটা চোখ খুললো।তৃষা কিছু বলার আগেই উনি থামিয়ে বলতে শুরু করলো
তান্ত্রিক-ওটা যেমন তেমন অাত্মা নয়।ওর ভিতর অনেক বছরের জমানো ঘৃণা, রাগ আর প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে।এতো সহজে পিছু ছাড়বে না
অরিক-কিন্তু আমাকেই কেনো?
তান্ত্রিক-অাত্মাটা তোমার অতি পরিচিত কেউ একজন।যার অতীত তুমি জানো না।
রাব্বি-কিছু একটা করেন দয়া করে।যেভাবেই পারেন অাত্মাটা থেকে অরিকের পিছু সরিয়ে ফেলেন।
এরপর তান্ত্রিকটা তৃষা আর রাব্বিকে এক পাশে যেতে বললো।আমার চারদিকে সাদা কিছু গোল করে ছড়িয়ে দিলো।জোরে জোরে মন্ত্র পড়তে লাগলো।হঠাৎ আমার হাত মনে হলো আগুনে পুড়ছে।আমি চিৎকার করতে লাগলাম।বাহিরে জোরে জোরে বাতাস বইতে লাগলো। তৃষা বাহিরে তাকিয়ে দেখে পুরো আকাশ কালো মনে ঝড় আসবে এমন অবস্থা।হঠাৎ মনে হলো আমার ভিতর কিছু প্রবেশ করেছে। আর কিছু মনে নেই।
তান্ত্রিক-কে তুমি?কি চাও?
অরিকের উপর ভর করা অাত্মা নীল-এতো প্রশ্ন এক সাথে।
তৃষা-নিজের আসল কন্ঠে কথা বলো সাহস থাকলে।
অরিকের উপর ভর করা অাত্মা নীল-কন্ঠ দিয়ে কি কাজ দিয়ে সব।
তান্ত্রিক -আমি চাইলে এখনেই তোমাকে শেষ করতে পারি।
-পারবেন না।
এরপর ধিরে ধিরে অরিকে দেহের ভিতর থেকে কিছু একটা বের হয়।চেহারাটা বিকৃত বুঝা যায় না কে সে।
তান্ত্রিক-অরিককে দ্রুত গোল জায়গাটা থেকে বের করো।
এরপর তৃষা অরিককে বের করলো।
তান্ত্রিক-দেহ ছাড়া তুমি কিছুই না।এই দাগের ভিতর থেকে কখনো বের হতে পারবে না।দেহটা থেকে বের হয়ে ভুল করেছো।
-মনে তো হয় না।
এক পা এক পা করে ধিরে ধিরে দাগটা থেকে বের হয়ে তান্ত্রিকের চোখে চোখে রেখে বললো-
-এসবে কিচ্ছু হবে না।
তান্ত্রিক-অসম্ভব কিভাবে বের হলে।কোনো অাত্মার পক্ষে সম্ভব না বের হওয়া।
অাসল কণ্ঠে-আমাকে আটকানোর মতো কোনো কিছুই নেই।
এই ধিরে ধিরে অরিকের জ্ঞান ফিরলো।অাত্মাটার আসল কণ্ঠ শুনে বললো
-নীল
নীল-তো শেষ পর্যন্ত চিনলে বন্ধু
অরিক-তোর এ অবস্থা কিভাবে হলো।
নীল আর অরিক কথা বলছে আর তান্ত্রিক টা বের হয়ে কি জানি করতে শুরু করলো।নীলের সে নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই।
নীল-খুব লম্বা ঘটনা।দুইবার মরেছি।তৃতীয়বার মরার জন্য আবার এসেছি।
অরিক-মানে কি?
নীল-আমাকে যারা মেরেছে তাদের মারতে এসেছি।আর একজন বাকি মাত্র।তারপর আমি ফিরতে পারবো যেখানে আমার থাকা উচিত।ঘদিটা খুলে ফেল হাত থেকে না হলে আবার তোকে ঝামেলায় ফেলবো।
অরিক-ঘড়িটা খুলে সোজা নীলের দিকে মারলাম।
নীল-ধন্যবাদ ঘড়িটা ফিরত দেবার জন্য।জানিস এই ঘড়িটা অনেক মূল্যবান।আর জীবন দিয়েছিলো আমায়।
অরিক-তোর এ অবস্থা হলো কি করে?আর তোকে মারলই বা কে?
নীল-অনেক বড় ঘটনা।আগে শেষ জনকে মেরে আসি।
নীল-বের হতে নিলাম। প্রচন্ড জোরে ধাক্কা খেলাম।
এসব কি হচ্ছে?
তান্ত্রিক-তুমি চাইলেও বের হতে পারবে না।আমি বন্ধ করে দিয়েছি সব পথ।তোমার শক্তি নেই ওটা পার করার।
নীল-এখন কি করি।সালা চাইছিলাম শেষ মূল্যবান শিকারটা নিজ হাতে করতে। সালা তোর জন্য পারলাম না।থাক ততক্ষণে আমি একটু গল্প করি অরিকের সাথে।
অরিক-ধিরে ধিরে নূলের মুখটা ঠিক হয়ে গেলো।দেখে এখন মনে হচ্ছে জীবিত মানুষ।
নীল-ঘটনার শুরু কয়েক বছর আগে।তখন ছোট্ট একটা হাসি খুশি পরিবারে ছোট্ট একটা নীল বড় হচ্ছিলো.........
চলবে.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now