বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--
-------""দ্যা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড"""-----
পর্ব-১
এক
বসন্তের সকাল।চারদিকে পাখিদের কোলাহল।দূরে একটা কোকিল বসে বসে এক নাগাড়ে ডেকেই যাচ্ছে।কোকিলের সাথে পাল্লা দিতে অন্যান্য পাখিরাও ডাকছে।একটা গাছের ডালে একটা দোয়েল বসে বসে আপন মনে গান গাচ্ছিলো।হঠাৎ একটা কাক তার কাণের পাশ দিয়ে কা, কা, কা
করতে করতে শা করে উড়ে চলে গেল।দোয়েলটা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে কাকটাকে বলল,"বেটা, কতবার বলেছি তোকে মধু খেতে।দিন দিন গলটা শুধু ফাটা বাশের মত বানাচ্ছিস।একটু মনের সুখে গান গাচ্ছিলাম, দিল বেটা কাক সব ভন্ড করে।"
আরেকটা গাছে বসে থাকা বাজ পাখি কর্কশ কণ্ঠে দোয়েলকে বলল," আহা দোয়েল ভাইয়া তুমি কাকের কথায় মন দিও না।বেশতো লাগছিলো তোমার গান।আবারর গাওনা দোয়েল ভাইয়া"
বাজ পাখির কথায় দোয়েল আবার মনের সুখে গান গাইতে লাগলো।
এদিকে যাহিদ তার বাবা বাবা মি.আনিসুল হকের সাথে বসে খবর দেখছে।মি.আনিসুল একজন সরকারি চাকুরিজিবী।বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা ডিপার্টমেনের হেড তিনি।এমনিতে খুব ভালো তিনি।ব্যাংকার হলেও এডভেঞ্চারের প্রতি প্রবল টান।তাইতো সময় পেলেই বেড়িয়ে পরেন ্বিভিন্ন জায়গা ঘুরতে।
ক্রিং,ক্রিং,ক্রিং............
যাহিদদের টেলিফোনটা বেজে উঠলো হঠাৎ।টেবিলের উপরে থাকা টেলিফোনের দিকে এগিয়ে গেলেন মিসেস আনিসুল অর্থ্যাৎ যাহিদের মা।রিসিবারটা তুলে কানে দিলেন।নিরবে ওপাশের কথা শুনলেন।তারপর মুখ তুলে ছেলেকে ডাক দিলেন,"যা-হি-দ, তোর ফোন"
বাবার পাশ থেকে উঠে টেলিফোনের সামনে এসে দাড়ালো গোয়েন্দা প্রধান।মায়ের হাত থেকে রিসিবারটা নিয়ে কানে ঠেকালো।
-হ্যালো
-যাহিদ আমি ইনস্পেক্টর সাইফুল বলছি
-ও হ্যা স্যার বলুন
-তুমি আর রিনক ২০ মিনিটের মধ্যে থানায় চলে এসো
-কিন্তু কেন স্যার? কিছু হয়েছে?
-থানায় আসলেই জানতে পারবে।ওকে এখন রাখি
টুট,টুট,টুট।টেলিফোনের লাইন কেটে গেল।
একটা মূহুর্ত স্থির হয়ে দাড়িয়ে রইলো যাহিদ।হাত গড়িটার দিকে একবার তাকালো। সকাল ৭ টা বাজে।এত সকালে সাইফুল স্যার থানায় যেতে বলেছেন বলে বেশ অবাক লাগছে তারর।রিসিবারটা আবার কানে ঠেকালো যাহিদ।তারপর ডায়াল ঘুরিয়ে ফোন দিল রিনকের বাড়ীতে।রিনকের সাথে কথা শেষ করে রিসিবারটা আগের জায়গায় নামিয়ে রাখলো।তারপর হাঁটা শুরু করলো দরজার দিকে।পেছন থেকে মা ডাক দিলেন, "যাহিদ কোথায় যাচ্ছিস এত সকালে?"
যাহিদ কোনো উত্তর দিল না।দরজার ওপাশে অদৃশ্য হয়ে গেল।ছেলের স্ভাবের কথা জানা আছে মি.আনিসুলের।তাই আর ছেলেকে কিছু বললেন না তিনি।শুধু একবার মুচকি হাসলেন তারপর আবার টিভি দেখায় মন দিলেন।আর এদিকে যাহিদের মা এখনো হা করে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে।
সকাল হওয়ায় রাস্তায় তেমন একটা গাড়ী নেই।মানুষও কম।যারা রয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই জগিং করছে।হালকা ধুলো উড়িয়ে রাস্তা দিয়ে পাশাপাশি চলছে দুইগোয়েন্দা যাহিদ এবং রিনক।কারও মুখে কোন কথা নেই।যাহিদের ধারণা নিশ্চই কিছু ঘটেছে।তা না হলে এত সকালে সাইফুল স্যার ডেকে পাঠাতেন না।কিন্তু রিনককে ওর ধারণার বেপারে কিছুই বলল না।একমনে সাইকেল চালিয়ে চলল।সবার আগে রিনক মুখ খুলল।বড় একটা হাই তুলে যাহিদকে জিজ্ঞাসা করলো,"আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি?।দিব্রি ঘুমাচ্ছিলাম।মাঝখান দিয়ে তুই ডেকে আনলি।আবার বলছিসও না কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস"
যাহিদ ইচ্ছে করেই রিনককে বলেনি থানায় যাওয়ার কথা।যদি বলতো তাহলে কোনো এক অজুহাতে বাড়ীতেই পরে থাকতো।
"চিন্তা কর",যাহিদ বলল।"তুইওতো গোয়েন্দা।দেখি তোর বুদ্ধিটা কেমন।"
যাহিদের কথাটা শুনে ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেল রিনক।তা দেখে পেট ফেটে হাসি আসলো যাহিদের কিন্তু অনেক কষ্টে তা ধরে রাখলো।
"ইউরেকা,বুঝে গেছি" চেচিয়ে উঠলো রিনক
-"কি বুঝেছিস?"
"আমরা থানায় যাচ্ছি সাইফুল স্যারের কাছে,রাইট?"
'বাহ চমৎকার', যাহিদ বলল। 'কিভাবে বুঝলি?'
'এতো পানির মত সোজা', রিনক বলল।'আমরা এখন যে রাস্তা ধরে যাচ্ছি অর্থ্যাৎ বেকার স্ট্রিট, এ বেকার স্ট্রিট একমাত্র থানায় যাওয়ার পথ।আর ্থানা মানেই সাইফুল স্যারের কাছে যাওয়া'
"এইতো তোর বুদ্ধি খুলছে দিন দিন" রিনকের প্রশংসা করলো গোয়েন্দা প্রধানের।
এরপর ওদের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না।নিরবে দুজনে সাইকেল চালিয়ে থানায় চলে আসলো।থানায় এসে সাইফুল স্যারের কেবিনে প্রবেশ করলো দুইগোয়েন্দা।ইন্সপেক্টর ডেস্কের ওপাশে গম্ভির হয়ে বসে রয়েছেন আর তার সামনে বসে রয়েছে ওদের বয়সের থেকে একটু বড় একটা ছেলে আর তার সাথে মধ্যবয়স্ক একটা ভদ্র লোক।ছেলেটার মাথা ভর্তি হালকা বাদামি চুল।ঘায়ের রং ফরসা।উচ্তায় ওদের থেকে একটু বেশি।দুইগোয়েন্দাকে দেখে সাইফুল স্যার উঠে দাড়ালেন।এরপর আন্তরিকতার সাথে বললেন,"তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।তোমাদের কারণে আজ আমি কুমিল্লার পুলিশের চীফ"
"মা-মা-মানে স্যার? আমাদের কারণে?" মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না রিনকের।
"আপনি সত্যিই কুমিল্লার পুলিশ চীফ হয়েছেন? " যাহিদও অবাক হয়ে গেল।
"হ্যা।আরে ঐ যে তোমাদের গত কেস,কি যেন নাম দিয়েছিলে তোমরা,,,ওহ হ্যা ভূতের ভয়।ঐ কেসে তোমরা যাদের ধরতে সাহায্য করেছিলে ঐ দুইবেটার মধ্যে ফাহিমের কাকাকে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার পর, ওখানকার পুলিশ বাংলাদেশের পুলিশের প্রশংসা করেছে।আর তাতে খুশি হয়ে আইজি স্যার আমাকে এখানকার চীফ বানিয়েছেন।আর এসবই তোমাদের জন্য হয়েছে।"
"ঐ সব কথা থাক স্যার" লজ্জায় যাহিদের মুখ লাল হয়ে গেল।ওর নামে কেউ প্রশংসা করলে ওর এমন হয়।এদিকে রিনকেরও একি অবস্থা।সেও লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখলো।
"তোমরা বসো"
দুটো চেয়ার টেনে ডেস্কের এপাশে বসলো দুইগোয়েন্দা।
এরপর সাইফুল স্যার বললেন,"যাহিদ,রিনক, ও হচ্ছে সাইম।" চেয়ারে বসে থাকা ছেলেটাকে দেখালেন সাইফুল স্যার।
"আর সাইম",আবার বলতে লাগলেন চীফ। "ওরা হচ্্ছে যাহিদ এবং রিনক,দুইগোয়েন্দা।তুমি ওদের কাছে সব বলো,ওরা তোমাকে নিশ্চই সাহায্য করবে"
"তোমাদের যা ইচ্ছে তা করোগে" কথাটা বলেই সাইমের পাশে থাকা লোকটা উঠে চলে গেল।
রিনক অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, "সাইম ভাই ওনি কে? আর এমন করলো কেন?"
"ওনি আমার সৎ বাবা,ছাড়ো ওনার কথা।আরেকটা কথা আমাকে ভাই ডেকো না।আমাকে সাইম বলেই ডেকো।আমিতো তোমাদের বয়সেরই তাইনা।"
"ঠিক আছে সাইম", যাহিদ বলল। "কিন্তু তুমি থানায় কি করছো?"
"আমি বলছি",বললেন নতুন চীফ সাইফুল। "ও একটা স্যাটেলাইট ফ্যাসেলিটিতে তালা ভেঙে চুরি করে ঢুকেছিল।ছোট বলে আর কিছু বলিনী।না হলে এতক্ষণে জেলে থাকতে হত।"
সব শুনে যাহিদ বলল, "কেন ঢুকেছিলে সাইম স্যাটেলাইট ফ্যাসেলিটিতে?"
'বলছি' পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে যাহিদের দিকে এগিয়ে দিল সাইম। 'কিছু দিন ধরে একটা রেডিও সিগন্যালে এ শব্দগুলো বার বার আসছিলো।আমার রেডিও রিকুবমেন্ট এ সিগন্যাল পুরোপুরি ধরতে পারেনী।আর তাই.........."
"আর তাই তুমি স্যাটেলাইট ফ্যাসেলিটিতে ঢুকেছিলে" সাইমের অসমাপ্ত কথাটা শেষ করলো রিনক।
"এগুলোতো ডেশ কোড", এতক্ষণ ধরে কাগজের লেখাগুলো দেখছিলো গোয়েন্দা প্রধান। "ঠিক যেমন নেভির লোকেরা এমএসএম কোড পাঠায়"
"কিন্তু এগুলোতো বেশ জটিল" বললেন চীফ।
"জটিল হলেও আমি পারবো" দৃঢ় কণ্ঠে বলল যাহিদ। "আমি একজন নেভির লোকের কাছ থেকে শিখেছিলাম"
"বেশ তাহলে আমার বাড়ীতে চলো তোমরা", বলল সাইম।'ওখানে বসেই এটা সমাধান করবো আমরা'
সান্নদে রাজি হলো দুইগোয়েন্দা।
'স্যার,' রিনক বলল। 'আপনি কিন্তু এখনো আমাদের ডেকে পাঠানোর কারণটা বললেন না'
'আরে তাইতো', বললেন চীফ। 'তোমরা একটু বসো' এরপর পুলিশের নতুন চীফ টেলিফোনটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললেন তারপর ফোনটা আগের জায়গায় রেখে দিলেন।একটু পর একজন পুলিশ হাতে করে দুটো আইডি কার্ডের মত দেখতে কার্ড এনে দিলেন চীফকে।কার্ড দুটো সাইফুল স্যার এগিয়ে দিলেন দুইগোয়েন্দার দিকে। "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের দুজনের জন্য ছোট্ট একটা উপহার"
কার্ড দুটো রিনক আর যাহিদ হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো।কার্ডগুলোতে লেখা রয়েছে,
[বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক স্বীকৃত গোয়েন্দা সংস্থা]
দুইগোয়েন্দা
প্রধানঃ যাহিদ হাসান
সহকারিঃ রিনক হোসেন
আর কার্ডের একেবারে নিচে বাংলাদেশ পুলিশের সিল এবং তাতে পুলিশ আইজির সিগনেচার।
কার্ড দুটো দেখে খুশিতে আত্ন হারা হয়ে গেল দুইগোয়েন্দা।
"আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেব স্যার" বিনয়ের সাথে বলল যাহিদ। "এখন থেকে গোয়েন্দাগিরিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।আর কেউ আমাদের ছোটো বলে তাড়াতে পারবে না"
"আজ থেকে নো স্যার," চীফ বললেন। "আজ থেকে তোমরা আমাকে আঙকেল বলে ডাকবে"
"ওকে আঙকেল" হাসি মুখে বলল রিনক। "আমরা তাহলে এখন আসি"
কার্ডগুলো পকেটে পুরে থানা থেকে সাইমকে নিয়ে বেড়িয়ে এল দুইগোয়েন্দা।
দুই
২০ মিনিটের মাথায় সাইমদের বাড়ীতে পৌছে গেল সবাই।বেশ খোলামেলা বাড়ী।দুতালা এ বাড়ীর ভেতর অনেকগুলো রুম রয়েছে।তারই মধ্যে একটা রুমের দরজায় লেখা রয়েছে "প্রাইভেট রুম"।রুমটা দোতালার একেবারে উত্তর কোণে।সাইম দুইগোয়েন্দাকে নিয়ে রুমটাতে প্রবেশ করলো।রুমের ভেতর শুধু একটা ডেস্ক আর তার সামনে একটা চেয়ার এবং একটা বুকশেল্ফ রয়েছে।বুকশেল্ফ এ বইয়ে ভর্তি।দেখে বোঝা যায় ছেলেটা বইপোকা।
"এটা হলো আমার স্টাডি রুম" গর্বের সঙ্গে বলল সাইম। "এখকানে আমাদের কেউ ডিস্টাব করবে না।"
ডেস্কের সামনে রাখা তিনটে চেয়ার টেনে তাতে বসলো তিন কিশোর।যাহিদ সাইমকে জিজ্ঞাসা করলো "আচ্ছা সাইম তুমি জানো কোড গুলো কোথা থেকে এসেছে?"
"কোডগুলো যেকোনো জায়গা থেকে আসতে পারে" বলল সাইম।
"ওকে আমরা তাহলে এবার আসল কাজ শুরু করি।" পকেট থেকে কাগজটা বের করে ডেস্কের উপড় মেলে ধরলো যাহিদ।তারপর এককবার চোখ বুলিয়ে বলল," মেসেজের প্রথম অংশে লেখা আছে, পিপ,সন,স্ট্রাকস।"
"আরে এগুলোতো বার্ণিয়ান লেখক জুল বার্ণ এর বইয়ে ব্যবহৃত চরিত্র।তারপর কি লেখা আছে?" সাইম বলল।
"এরপর লেখা আছে," আবার বলতে লাগলো যাহিদ। "আইল্যান্ডটা আসলেই রয়েছে"
"কি!", চেচিয়ে উঠল সাইম। "তুমি ঠিক বলছো তো যাহিদ?"
'হ্যা অবশ্যই,এখানেতো এটাই লেখা আছে'।বলল যাহিদ।
"আমার বিশ্বাস হচ্ছে না', সাইম বলল। "সত্যিই কেউ আইল্যান্ডটা খুজে পেয়েছে"
"কি বলছো এসব?" জিজ্ঞাসা করলো রিনক। "কোন আইল্যান্ডের কথা বলছো?"
"দাড়াও দেখাচ্ছি।" চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো সাইম।বুক শেল্ফের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটা বই বের করে আনলো।ডেস্কের উপর রেখে বলল, "জুল বার্ণের লেখা বই 'দ্যা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড'। এ আইল্যান্ডটা বার্ণিয়ানরা বহু বছর ধরে খুজছে।"
'ওকে', যাহিদ বলল। 'এর পরে লেখা আছে,স্টিভেনের সন্তান,জন্ম ১৮৮৩ সালে'
'স্টিভেনের সন্তান? এটা আবার কে?' বলল রিনক।
'স্টিভেন জবস', চেচিয়ে উঠলো সাইম। 'আরেকজন লেখক। কিন্তু তার জন্মতো ১৮৮৩ এর আগে'
'তাহলে এখানে অন্যকিছুর কথা বলা হয়েছে',যাহিদ বলল। 'হয়তো কোনো মানুষ নয়,অন্য কিছু'
'দাড়াও' বুকশেল্ফের দিকে আবার এগিয়ে গেল সাইম।আরেকটা বই বের করে এনে ডেস্কের উপর রাখলো।এরপর বলল,'রবার্ট ব্রুস স্টিভেনসন এর বই "ট্রেজার আইল্যান্ড"।লেখা ১৮৮৩ সালে।'
'বাহ চমৎকার' বলল রিনক। 'এর পরে কি লেখা আছেরে যাহিদ?'
'মেসেজের শেষ অংশে লেখা রয়েছে, নামের শেষটা খুব দ্রুত যাচ্ছে আর তার গল্প শুনছে লিঙুয়েল মার্চ'
'নামের শেষটা দ্রুত যাচ্ছে এর দ্বারা হয়তো রানার বোযাচ্ছে,' রিনক বলল।
'রাইট' বলল সাইম
"কিংবা,"যাহিদ বলল।"স্পিড বা সুইফ্ট। "
"জেনাতুল সুইফ্ট,আরেকজন লেখক" চেচিয়ে উঠলো সাইম।বুুক শেল্ফ থেকে আরেকটা বই এনে ডেস্কের উপর রাখলো। "আরেকটা আইল্যান্ড সম্পর্কে লিখেছে।"
'কিন্তু লিঙুয়েল মার্চ দ্বারা কি বোঝানো হল?'বলল রিনক।
"ওটা এমনি ছন্দ মেলাতে ব্যবহৃত হয়েছে" বলল যাহিদ।
"তুমি এত শিউর হচ্ছো কি করে?" জিজ্ঞাসা করলো সাইম।
"কারণ", যাহিদ বলল। "আমরা আমাদের আসল জিনিসগুলোই পেয়ে গেছি"
"ওকে তাহলে ফলাফলটা কি দাড়ালো?" রিনক বলল।
"ফলাফল,আমরা তিনটে বই পেয়েছি" বলল যাহিদ।
"তিনটি আলাদা আলাদা দ্বীপের সম্পর্কে লেখা" মধ্য কথা শেষ করলো সাইম।
"তিনজন আলাদা লেখকের" কথার শেষ অংশটা বলল রিনক।
"কিন্তু আইল্যান্ডটা আমরা পাব কি করে?"হতাশা দেখালো সাইমকে।
'আমার কি মনে হয় জানো?' যাহিদ বলল।
'কি?' একসাথে চেচিয়ে উঠলো রিনক আর সাইম।
'এ তিনটি বই একটি আইল্যান্ডকে নিয়ে লেখা।তিনটি মিলিয়ে কেউ খুজেনি বলে আজ পর্যন্ত কেউ এ আইল্যান্ডের খোজ পায়নি।'
'এতটা জোর দিয়ে কি করে বলছিস তুই?'রিনক বলল।
'হ্যা তাইতো' রিনকের সাথে সুর মেলালো সাইম
'কারণ', যাহিদ বলল। "মেসেজে এ তিনটি বইয়ের কথা বলা হয়েছে।আর আমার যদাি ভূল না হয় তাহলে তিনটি বইয়ে আইল্যান্ডগুলোর ম্যাপ আছে।"
ওকে দেখা যাক।
তিনজন তিনটি বই টেনে নিল।দেখা গেল যাহিদের কথাই ঠিক।তিনটি বইয়েই ম্যাপ রয়েছে।প্রথম বই "মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড" এ সপ্ষ্ট ম্যাপ।দ্বিতীয় বই অর্থ্যাৎ "ট্রেজার আইল্যান্ড" এ কিছুটা ঝাপসা এবং তৃত্বীয় বইয়ে পুরো ঝাপসা।
"এগুলোর মধ্যে কোনোটাই মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ডের ম্যাপ না"। বলল সাইম।
"দাড়াও,আমাকে বইগুলো দাও"
তিনটে বই থেকে ম্যাপগুলো ছিড়ে নিল যাহিদ।তারপর একটা বোর্ড টেনে তার নিচে টেবিল ল্যাম্পটা দিল।
"তুই কি করতে চাচ্ছিস?" জিজ্ঞাসা করলো রিনক।
"নেভির লোকটা,যে আমাকে কোড ট্রেকিং শিখিয়েছিল,তার কাছ থেকেই এ নেভিগ্রেশান শিখেছি" যাহিদ বলল।
এরপর সে বোর্ডের উপর তিনটে ম্যাপ আড়াআড়ি করে একটার উপর আরেকটা রাখলো।সাথে সাথে বোর্ডের উপড় ফুটে উঠলো একটা ম্যাপ।আর তার নিচে ইংরেজিতে লেখা "দ্যা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড"
"ইয়াহু", চেচিয়ে উঠলো রিনক।"আমরা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ডের ম্যাপ পেয়ে গেছি"
"তো তোমররা যাচ্ছোতো আমার সাথে?" জিজ্ঞাসা করলো সাইম
"কোথায়?"
"মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড এ"
"সাইম আরেকবার ভেবে দেখ।এ আইল্যান্ডটা কোথায় তা কিন্তু আমরা জানি না।
"কে বলল জানিনা? দাড়াও দেখাচ্ছি" পকেট থেকে একটা জিপিএস ট্রেকার বের করে ম্যাপের নির্দেশনা তাতে উঠালো সাইম।এরপর প্রায় চেচিয়ে বলল,'এটা পোলাও থেকে ১০০ কি.মি. দূরে।আটলান্টিক মহাসাগড়ের সাউথ প্যাসেটিকের মাঝখানে"
"একটা রেডিও নিয়ে খেলা পাগলের কথা ধরে আমাদের যাওয়াটা কি ঠিক হবে?"। বলল রিনক।
"এইযে রিনক," সাইম বলল। 'ওনি পাগল নন।ওনি আমার দাদা আলেকজ্যান্ডার।'
'কি! তোমার দাদা? কি করে বুঝলে?' যাহিদ বলল।
'কারণ তিনিই আসল বার্ণিয়াণ যে কিনা তার জীবণের অর্ধেকটা সময় ধরে এ মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড খুজে বেরাচ্ছেন।আর গত দুবছর ধরে তিনি উদাও।এেখন তোমরা আমার সাথে যাবে কিনা বল?'
'কিন্তু পাসপোর্ট আর ভিসা?' রিনক বলল।
'ওটা নিয়ে তোমমরা চিন্তা কর না।ট্রিপের খরচ পুরোটাই আমার।'
'ওকে আমরা বাড়ীতে বলে দেখি'
সাইমের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সোজা থাননায় চলে আসলো ওরা।চীপ সাইফুলকে সব খুলে বলল এবং অনুরোধ করলো যে করেই হোক ওদের বাবা মাকে রাজি করাতে।কারণ এমন একটা এডভেঞ্চার মিস করতে চায়না ওরা।সাইফুল আঙকেল ওদের মা-বাবাকে ফোনে জানালো সব।প্রথম প্রথম রিনকের মা রাজি হল না কিন্তু পরবর্তিতে রাজি হলেন।রিনকের বাবাকে প্রথমবার বলতেই রাজি হয়ে গেলেন।আর এদিকে যাহিদের বাবা আর মাকে বলতেই সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন।এ খুশির সংবাদ যাহিদ সাইমকে ফোন করে জানালো।
"তো অবশেষে আমরা যাচ্ছি একটা এডভেঞ্চারে" হেসে উঠলো রিনক............
চলবে.............
(কেমন লাগলো পর্বটা আপনাদের কাছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানান।ধন্যবাদ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now