বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেয়েদের জীবন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sahida Akter Sumi(guest) (০ পয়েন্ট)

X ঘটনা : ১ আপু : আম্মু হয়েছে।আমার ফোনলাগবে এখন। আম্মু: এইতো শেষ। আমি: হিজাব পরা দেখে একটা পিক সিলেক্ট করেন।আমি নাহয় পাঠাব না। নানু: হুম আপানাদের না দেখেই মনে হয় কেউ বিয়ে করে পেলবে।( রাগি মুডে নাতনিকে আপনি করেই বলছে) আমি: দেখার হলে বাসায় এসে দেখুক।এসব ছবি পাঠানোর কি দরকার। নানু: দরকার আছে অনেক।আপানাদের তো চিন্তা নাই।বাবা একটা অসুস্থ।দুইটা মেয়ে বড় হয়েছে।কিছু একটা হলে বুঝবেন জগত কত কঠিন।পরে ভাল পাত্র পাওয়াও যাবে। সুমি আর কিছু বলতে পারছে না বাবার কয়েকমাস আগে একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল।সেই থেকে অসুস্থতা লেগেই আছে।তাই বড় বোনের বিয়ের জন্য দেখছে।যেহেতু বোন রাজি নেই তাই চুরি করে ফোন থেকে ছবি নিতে হচ্ছে।আর কাজ টা সুমিকেই করতে হচ্ছে।বোনের চিভি লিখা,ছবি সেন্ড করা সব এখন তারউপর।যদি ও এইসব ব্যাপার সুমি একদম পছন্দ করে না।বাট এখন সুমির কিছুই করার নেই।তারবোনের অনেক সপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার কিন্তু সাপোর্ট,হেল্প এর জন্য কিছুই হয়নি।পরিবারের বড় মেয়ে।এখন ইচ্ছে অন্তত পড়ালিখাটা শেষ করুক।এখনতো অনার্স শেষ হয়নি।সুমির অনেক খারাপ লাগছে বোনের জন্য।আজ রাতে আর কথাই বলবে না।নানুর উপর অনেক রাগ হলেও কিছু বলা যাবে না। এই একটা নানুই আছে বেচে।উনি পারললে দুই নাতনিকেই একসাথে বিয়ে দিয়ে দেয়।তার একটাই কথা বাবা অসুস্থ তাই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। ঘটনা : ২ টুম্পা: এই এইটা কার বিয়ের ছবি।দেখে তোরি মনে হচ্ছে। মিমি: আরে না আমি কেন হব। আমি : এই তোমাকে আখি আপু দেখেই প্রথম দিন বলেছিল তোমার বিয়ে হয়ে গেছে।আমাদের বললে কি এমন হয়। মিম: না আপু।( এই কথা বলে টুম্পার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে গেল) টুম্পা: এই ফোন কেন নিলি। নিশ্চয় কিছু আছে মিমি : হুম ঠিক।ইন্টার এর প্রথম দিকে আমার বিয়ে হয়। আমি: মানে এক বছর আগে। মিমি: হুম। তাইতো একবছর যাওয়ার পর এখন আবার ভর্তি হলাম টুম্পা: তুই আমাদের বললে কি হত?তখনতো তোর ১৮ হয়নি।আর এখন তুই বাবার বাড়ি থাকিস কেন? মিমি:আব্বু অসুস্থ ছিল তাই পরিবারের চাপে ছিলাম।আর উনি বিদেশ থাকেন তাই আমি এখানে থাকি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আমরা সবাই মিমির গল্প শুনছি।বাবা অসুস্থ এই অজুহাতেই অল্প বয়সে তার বিয়ে হয়।বাবার একমাত্র মেয়ে।আর এখন বাবার কাছেই থাকে।বিয়েরকথা প্রকাশ করে না মেয়েটা। আচ্ছা মেয়েরা কি এখনোওও বোঝাই রয়ে গেল।একটা মেয়ে যখন থেকে বুঝতে শিখে পড়ালিখারা পাশাপাশি মায়ের সাথে পরিবারের কাজে হাত লাগায়।আর তা যদি হয় পরিবারের বড় মেয়ে তাহলেতো কথাই নেই।পরিবারের সবার কেয়ার করা,কার কি লাগবে,খোজ খবর নেওয়া,ছোট ভাই বোনদের কেয়ার করা।এক কথায় প্রতিটা সাধারণ মেয়ে নিজের সবটুকু চেষ্টা দিয়ে পরিবার কে ভাল রাখার চেষ্টা করে। এত ত্যাগ,পরিশ্রম, এর পরও যখন বাবার অসুস্থ এর দায়ভার মেয়েটার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় সত্যি তখন নিজেকে বোঝাই মনে হয়।তখন সবাই এইটাই বুঝিয়ে দেয় বাবার অসুস্থ এর জন্য মেয়েটা দায়ি।আর দায়ভার থেকে মুক্তির উপায় এখনই বিয়ে করা।তখন অসুস্থ বাবাকে সান্তনা দিতে,মনের বিরুদ্ধেই মেয়েটা পরিবারের কথা মেনে নেয়।জন্ম,মৃত্যু,বিয়ে আল্লাহ হাতে।তাহলে কেন বাবা অসুস্থ এই অজুহাত এ মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে এই সমাজ।সমাজ কি কখনোই মেয়েটার হয়ে ভেবে দেখে এই নিয়মের কারনে মেয়েটা মনের উপর কতটা প্রভাব পেলে।সমাজের এই নিয়ম গুলো কখনোই বদলাবে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হোস্টেলে মেয়েদের জীবন
→ "সকল মেয়েদের জীবন কাহিনী"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now