বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুষ্টুমি নয় ...সত্তি অনেক ভালোবাসি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sakib khan(guest) (০ পয়েন্ট)

X প্রিয়ন্তী কখনো এরকম ভাবে অপমানিত হয়নি। আলভি ও তার ফ্রেন্ড গুলো আজ যেভাবে ঠাট্টা করলো সেটা হয়ত একটু বেশিই হয়ে গেঠে। প্রিয়ন্তীর খুব কান্না পেয়ে . ক্যাম্পােস অনেকেই ভাবে প্রিয়ন্তী একটু অহংকারী টাইপের মেয়ে। কারো সাথে বেশি কথা বলেনা। নিজের মত থাকতেই ভালবাসে। প্রিয়ন্তীর ক্লাসের মাঝে একটি দুষ্টু ছেলে আলভি। যাকে প্রিয়ন্তী মোটেও সহ্য করতে পারেনা। কারন এত দেখেনি। আলভি প্রিয়ন্তীর সাথে কথা বলতে যায় কারন এরকম মেয়ের সাথে দুষ্টুমি করতে ভালোই লাগে তার। মেয়েরা যদি একটু রাগী না হয় তাহলে তার সাথে দুষ্টুমি করতে মজা লাগেনা। . তাই একদিন প্রিয়ন্তী যখন ক্লাসে ঢুকতে যাবে তখন একটা কলার খোসা ফেলে রাখে আলভি। যার ফলে স্লিপ করে পড়ে যায় প্রিয়ন্তী। এবং আলভি ও তার ফ্রেন্ড গুলো হাসতে থাকে। তখন প্রিয়ন্তীর মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে। আলভির শার্টের কর্লার চেপে ধরে, ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় দু গালে। . সারা ক্লাস চুপ হয়ে যায়। প্রিয়ন্তী তার ব্যাগ টা কাধে নিয়ে ক্লাস থেকে বেড়িয়ে যায়। সেদিনের পর থেকে দুষ্টুমির পরিমান টা কমিয়ে দেয় আলভি। হয়ত এমন করাটা তার উচিত হয়নি এমন টা ভাবতে থাকে সে। চড় টা মেইন বিষয় না। প্রিয়ন্তী খুব অপমানিত হয়েছিলো। মেয়েটার চোখ দুটো লাল হয়ে ছিলো। . প্রিয়ন্তী কিছুদিন ক্লাসে আসেনি। তাই প্রিয়ন্তির কাছের বান্ধবী নেহা হয়ত মেয়েটার খবর বলতে পারে। এই ভেবে নেহার সাথে কথা বলতে যায় আএভি। . > নেহা? প্রিয়ন্তি ক্লাসে আসে না কেন? > কেন আসবে? ভালই তো অপমান করলে তাকে। > আসলে আমি কাজ টা ঠিক করিনি। > এখন আর কি করার ও বলছিলো এখান থেকে চলে যাবে। > আমি ওর থেকে ক্ষমা চাইবো। > সেটা চাইতে পারো, কিন্তু ও খুব রাগী একবার যখন বলেছে, হয়ত সেটাই করবে। > তুমি একটু হেল্প করতে পারবে? > ওকে দেখি। . . "তারপর কি করবি বল? মেয়েটার সাথে যা করলি ঠিক করিস নি। ক্ষমা চাইতে পারিস। আসলে দোষ টা তো শুধু তোর না আমাদেরও। ও তো বাজে মেয়ে নয়, শুধু সবার সাথে কথা বলেনা, অনেক কম কথা বলে আর সে জন্যই আমরা এমন করলাম। কিন্তু সেটা একটু বেশিই হয়ে গেলো, ও যদি ভার্সিটি ছেড়ে চলে যায় তবে সেটার জন্য দ্বায়ী থাকবো আমরা, এখন তুই এক মাত্র কিছু করতে পারিস" কথা গুলো অালভির বন্ধু রবিন বলছিলো। . "হুম ঠিক বলেছিস" অন্য বন্ধুরা সায় দিলো। . রবিন আবার বলল "দোস্ত এটা তো স্বীকার করিস, ও কিন্তু খুব ভালো মেয়ে, আর যতই রাগী হউক না কেন, ও কিন্তু অনেক কিউট, আর রাগী মেয়েরা কিন্তু অনেক ভালবাসতে জানে তার ভালবাসার মানুৃষটাকে, তাই তুই ভেবে দেখ। তুই ওকে বলে দে তুই ওকে ভালবাসিস, দেখবি অনেক ভালবাসা পাবি, আর ও তোকে ছেড়ে এই ক্যাম্পাস থেকে কখনোই যাবেনা" . ____নেহা বলল "তার মানে আলভি কি প্রিয়ন্তীর সাথে প্রেমের অভিনয় করবে?? কিন্তু সেটা ঠিক হবেনা, আমি তো জানি প্রিয়ন্তী কেমন মেয়ে ও জানতে পারলে খুব খারাপ হয়ে যাবে" . ____এবার আলভি নিচের দিকে চেয়ে বলল "আমি প্রিয়ন্তী কে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করি, শুধু ও একটু বেশি রাগী তাই ওর সাথে দুষ্টুমি করতে গিয়েই সেদিন অমন করে ফেলেছিলাম। আমি কি একবার চেষ্টা করে দেখবো? আমার ভালবাসা ওকে আটকাতে পারে কি না??" . বন্ধুরা সবাই ওর কথায় সায় দিলো। সবাই বলল একবার চেষ্টা করে দেখতে। প্রিয়ন্তী যদি মেনে নেয় তাহলে হয়ত নিজেদের অপরাধ বোধ টা একটু কমবে। . নেহা কে দিয়ে অনেক প্লান করিয়ে অবশেষে প্রিয়ন্তীকে একটা জায়গায় আনা গেলো যেখানে সবাই একটু দুরে লুকিয়ে ছিলো। শুধু আলভি ছাড়া। . "নেহা তুই আমাকে কেন এখানে নিয়ে এসেছিস এই বদ ছেলেটার সামনে? তুই জানিস নাহ আমি ওকে সহ্য করতে পারিনা? আর ওর তো খুশি হওয়া উচিত যে আমি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছি" কথা গুলো অন্য দিকে তাকিয়ে বলছিলো প্রিয়ন্তী। . আলভি নেহা কে ইশারায় চলে যেতে বলল। নেহা বলল, "তোরা কথা বল আমি আসতেছি"। প্রিয়ন্তীও নেহার সাথে চলে আসতে গিয়েছিলো, আলভি প্রিয়ন্তীর হাত টা ধরে আটকালো তাকে। প্রিয়ন্তী হাতটা ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করলো, অপর হাতে আলভিকে আঘাত করতে চাইলো, সেই হাতটাও আলভি ধরে ফেলে, প্রিয়ন্তী কে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো। . "আলভি ছাড়ো আমার এসব দুৃুষ্টুমি মোটেও ভাল লাগেনা, আমি কিন্তু চিৎকার করবো" জোরা জোরি করে নিজেকে ছাড়াতে চাইছে আর বলছে প্রিয়ন্তী। . আলভি প্রিয়ন্তীকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার কানে ফিস ফিস করে বলে "আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি প্রিয়ন্তী, তুমি আমাকে প্লিজ শাস্তি দাও কিন্তু তুমি চলে যেওনা"। . এবার খানিক শান্ত হয়ে যায় প্রিয়ন্তী একটু নরম গলায় বলে, "কিহ বললে? তুমি আবার দুষ্টুমি করছো তাইনা??" . _"তোমার সাথে দুষ্টুমি করবোনা তো কার সাথে করবো বলো?? কিন্তু এটা সত্যি আমি তোমাকে অনেক টা ভালবাসি, তুমি প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেওনা??" . _"কখন ভালবাসলে আমায়? সব সময় তো দুষ্টুমি করতে, রাগাতে শুধু আমাকে" . _"তোমাকে রাগাতাম কারন তুমি রাগলে আরো বেশি কিউট লাগতে, তোমাকে তো আমি সেদিন থেকেই পছন্দ করতাম যেদিন তুমি একটা নেভি ব্লু ড্রেস পড়ে, চুলগুলো খুলে এসেছিলে, বিশ্বাস করো সেদিন থেকে আমি শুধু তোমাকে নিজের করেই ভেবেছি, তবুও তুমি যদি চলে যেতে চাও আমি তোমাকে আটকাবনা, আর পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও" বাধন মুক্ত করে দিয়ে, অন্যদিকে ফিরে দাড়ালো অালভি। . . প্রিয়ন্তী, আলভির কাধে হাত দিয়ে নিজের দিকে ফিরালো "এমন ভাবেই বুঝি ভালবাসো আমাকে? এক মুহুর্তে ভালবাসি বললে, আবার চলেও যেতে বলছো??" . ---> তারমানে?? ---> আমিও তোমাকে ভালবাসি, হ্যা এটা সত্যি তুমি অনেক দুষ্টু কিন্তু আমি তোমার দুষ্টুমি গুলো কেই ভালবাসি। আর তুমি শুধু আমার সাথে দুষ্টুমি করবা, খবরদার অন্য মেয়ের দিকে তাকাবানা নয়ত তোমার চোখ তুলে ফেলবো। ---> ওকে রাজকুমারী যেমন আপনার মর্জি। কিন্তু তুমি কাদছো কেন? ---> বোকা কুমার, এটা খুশির কান্না বুঝলে। . . অতঃপর চশমাটা খুলে, রাজকুমারীর চোখ দুটো মুছে দিয়ে, চোখের পাতায় চুমু দিয়ে, কপালে ওপরে ঢেকে আসা চুল গুলো একটু ফু দিয়ে সরিয়ে দিলো। আর রাজকুমারী টাও রাজকুমারকে জড়িয়ে ধরলো। লুকায়িত বন্ধু বান্ধবী গুলোর হাত তালির শব্দ শুনতে পাওয়া গেলো, সকলে বৃত্তের মত হয়ে ঘিরে আছে ওদের। কিন্তু তখনও প্রিয়ন্তী লজ্জা পেয়ে আলভি কেরছেড়ে দেয়নি, বরং আলভির বুকে মুখ লুকিয়ে রইলো। কারন এই একটি জায়গা যেখানে লুকিয়ে থাকলে কেউ তাকে দেখতে পাবেনা, আর ছিনিয়েও নিয়ে যেতে পারবেনা, কারন ভালবাসায় একটুকু বিশ্বাস তো থাকেই তাইনা???


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now