বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অন্যান্য বাড়িওয়ালী হলে ঘাড় ধরে বের করে দিত।কিন্তু এ নাছোড়বান্দা।সময়ও দেবে না আবার টাকা না নিয়েও ছাড়বে না।আজ ৯ তারিখ।বাড়ীয়ালী সত্যি সত্যি পুলিশ ডেকে আনলো।
অসীম নিরবে ঘুমাচ্ছিল।পুলিশের গাড়ির আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে তার।আওয়াজটা অপালাদের বাড়ি থেকেই আসছে।সে সেখানে যায়।বাড়ীওয়ালী ভাড়া চায়।তাই সে বাড়িওয়ালীর কাছে একদিন সময় চায়।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও সময় দেয়।অসীমের কাছে স্বর্নের কংকন ছিল তা বিক্রি করে দেয়।সে যে টাকা পায় তা দিয়ে ভাড়া শোধ করে।সেদিন বাড়ীওয়ালী আন্টিও অবাক হয়েছিল।নিজের শত্রুকে কেউ এভাবে বাচাঁতে পারে অসীমকে না দেখলে হয়ত জানতো না।আবীর আর অপালা দুজনেই একঘরে।এই মানুষটার উপর অপালা অনেক অন্যায় করেছে।এমনকি তাকে মেরেও ফেলতে চেয়েছে।সেই অসীমই তাকে বাচাঁল।অসীমের দিকে তাকাতেও তার লজ্জা করছে।অসীম নিম্নস্বরে জিজ্ঞাসা করল
=কি হয়েছিল?
=>কিছুদিন ধরে আমার কর্মচারী যারা আমাকে সাহায্য করে তারা আসছিল না,আমার অর্থসংকট দেখা দিলে আমি ঢাকা যাই।
তারপর অপালা সব কথা খুলে বলে।বাবার কথা বলতে গিয়ে সে কেঁদেই ফেলে।
বাবাকে খুব ভালোবাসত অপালা।কিন্তু ঐ খারাপ মানুষগুলো তার বাবা মায়ের একটা ছবিও আনতে দেয়নি।অপালা এখনও কাদঁছে।অসীম ঘরের কোণা থেকে উঠে দাঁড়াল।কোনো কথা না বলে চলে যেতে লাগল।একবার পিছনে তাকাল।কিন্তু কিছু বলল না।অসীম রাস্তা দিয়ে হাটছে।পকেটে হাত দিল কিন্তু কিছু নেই।কাল বেতনের দিন।তাই মাসের শেষ দিনে তার কাছে কিছুই নেই।নয়নের বাড়ি চলে গেল।নয়ন ১০০ টাকা ধার দিল।তা থেকে সে ১০ টাকার ভাত আর ৪০ টাকার মাছ কিনে বাড়ি আসল।আর বাকি টাকাটা পকেটেই রয়ে গেল।বাসায় ফিরে অপালাকে খাবারগুলো খেয়ে নিতে বলল।এবার অপালা কেঁদে দিয়ে বলল
=>আমি জানি আমি যা করেছি তার কোনো ক্ষমা নেই।তবু আপনি আমায় ক্ষমা না করলে আমিও মরেও শান্তি পাব না।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
=আপনি ক্ষমা চাচ্ছেন কেন।আপনি ঠিকই করেছেন।আর তাছাড়া আমার জীবনই এমন।
অপালা খুব ক্ষুধার্ত ছিল তাই সে খাবারগুলো খেয়ে ফেলল।
দুজনেই চুপ করে আছে ।সরি,দুজন না।অপালাই শুধু চুপ করে আছে।কারণ অসীম সবসময় নিরবই থাকে।এভাবেই রাত পার হয়ে গেল।অপালা কখন যে ঘুমিয়েছে সে নিজেই জানে না।সকালে উঠে দেখে তার পাশে কালকের মতো ভাত আর ছোট মাছ রাখা আছে।পাশে একটা চিঠিতে অসীম তাকে এগুলো খেতে বলেছে।এগুলো খাবার অভ্যাস অপালার নেই।কিন্তু গত সাতদিনে যে ধকল গেছে অপালার উপর দিয়ে তাতে এই সামান্য খাবারগুলই তার কাছে মাংস-বিরানির মতো মনে হচ্ছে।সে খাবারগুলো খেয়ে ফেলল।তারপর অসীমকে খুজল কিন্ত অসীমকে পাওয়া যাচ্ছে না।
রাতে-
অসীম তার কাজ থেকে ফিরছে।আজ বেতন দিয়েছে।বড়লোকের মেয়ে অপালা।তাই অসীম ভালো খাবার কিনে নিয়ে গেল।নিজেও খেতে পারবে।খাওয়া দাওয়া শেষে অসীম অপালাকে জিজ্ঞাসা করল,
=আপনার ভবিষৎ চিন্তা কি?
=>আবির!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now