বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাসন্তী শাড়ী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আছি রাখী রবি ছোটন আর আমি। রোজ ক্লাশ শেষে এখানে বসে আমরা চারজন বেস্ট ফ্রেন্ড ঝাক্কাছ আড্ডা দিই। হঠাৎ একটা ছেলে এসে একটা গিফট প্যাকেট আমার হাতে দিয়ে গেলো। জিজ্ঞেস করলাম কে দিছে সে বললো চেনে না। বুঝলাম বলবে না। সবাই প্যাকেটের দিকে হা করে চেয়ে রইল। গিফট প্যাকেট দেখে যতোটা না অবাক হলাম তার চেয়ে ডাবল অবাক হলাম ওদের তিন জনের কৌতুহলী চোখ গুলো দেখে। আমার মত প্রেমে উদাস রমনীর জন্য কেউ প্রেম বিষয়ক গিফট পাঠাবে না সেটা আমি এবং ওরা তিন জনই শিওর। আমার তো মনে হচ্ছে কেউ দুষ্টুমী করে ছেড়া সু প্যাক করে দিছে তাই সবার সামনে খুলতে মন চাই ছিল না। তবুও অনেক ইতস্ততার সাথে প্যাকেট খুলে দেখলাম একটা সুন্দর পেন আর কিছু হলুদ গোলাপ। পেন আর ফুল গুলো বের করে আরো কিছু খুঁজলাম, ভেবে ছিলাম ভেতরে কোনো চিরকুট থাকবে কিন্তু নেই। ওরা তিন জন এই গিফট নিয়ে নানান মন্তব্য করল কিন্তু আমি গা লাগালাম না। দুই দিন পর আবার সেই ক্যাফেটেরিয়া আর আমরা চার জন বসে আর সেই ছেলে এসে আবার একটা গিফট প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে গেলো। জিজ্ঞেস করলাম কে দিছে? আবার সেই উত্তর "চিনি না" আবার সবার সেই অবাক দৃষ্টি। আমি প্যাকেট খুললাম, ভেতরে একটা শো-পিস, প্রিন্স ঘোড়ার লাগাম ধরে দাড়িয়ে আর প্রিন্সেস ঘোড়ার গাড়িতে ফুলের তোড়া হাতে বসে আছে। শো-পিসটা দারুণ। সবাই ওটার খুব প্রশংসা করলো কিন্তু আমি ভেবে ভেবে কুল পেলাম না যে, এটা কে পাঠালো। প্রতি সপ্তাহেই দু' তিনটা গিফট আসে। প্রথমে আমি গা না লাগালেও পরে এটা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ি। পহেলা ফাল্গুনের এক সপ্তাহ আগে আবার গিফট এলো। এবারের প্যাকেটটা বেশ বড়। সবার কৌতুহলের দৃষ্টিটাও বেশ গভীর। খুলে দেখলাম ভেতরে একটা বাসন্তী রঙের শাড়ী। শাড়ীটা খুবই সুন্দর। শাড়ী দেখে বেশ ইতস্ত বোধ করলাম। এত দিন ছোট খাটো যে গিফট গুলো পেয়েছি তার একটাও ইউজ করিনি। তাই বলে অচেনা কারো দেয়া শাড়ী নেবো? এটা পসিবল নয়। রাখীকে বললাম- --আমি তো কখনো শাড়ী পরিনি আর পরতেও পারি না। তাই এই শাড়ীটা তুই রেখে দে। রাখি কিছু বলার আগেই রবি বললো- --একজনের দেয়া গিফট আরেক জনকে দিতে নেই। --জানি কিন্তু সে তো আর দেখছে না। --তাই বলে তুই বেঈমানী করবি? --এতে বেঈমানীর কি আছে? --কি বলিস নয়ন? একটা ছেলে তোকে ভালোবেসে একটা শাড়ী গিফট দিয়েছে আর সেই শাড়ী তুই অন্য একজনকে দিয়ে দিবি সেটা কি ঐ ছেলেটার সাথে বেঈমানী নয়? -- ভালোবেসে দিচ্ছে মানে? এই রুবি তুই এসব জানলি কি করে আর তোর এত গায়ে লাগছে কেনো? নাকি শাড়ীটা তুই পাঠিয়েছিস? --এমা আমি পাঠাতে যাবো কেনো? আমার কি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই যে, তোর মত একটা ডাকুরানীকে শাড়ী কিনে দেবো? রবির কথা বার্তা রহস্য জনক মনে হলো। আমার বিশ্বাস সে-ই আমাকে গিফট গুলো পাঠাচ্ছে। কিন্তু এটা না স্বীকার করবে রবি, না স্বীকার করবে ঐ পিয়ন ছেলে। কিন্তু এটা বের করতেই হবে। পরের দিন রবিকে বললাম- --রুবি একটা চিঠি লিখে দে তো। --চিঠি লিখব আমি? কিসের চিঠি? কাকে দিবি? --আরে আমাদের পাড়ার একটা ছেলেকে দেবো। --কিহ? তুই মেয়ে হয়ে চিঠি দিবি? লাজ লজ্জা কি দুনিয়াত্তে উইঠ্যা গেছে নাকি? --এতে লজ্জার কি আছে রুবি? --ছেলেরা আগে মেয়েদের চিঠি দেয় শুনেছি আর মেয়েরা রাজী থাকলে সেই চিঠির উত্তর দেয়। আর তুই চিঠি দিয়া প্রোপজ করবি ছ্যাঃ --চুপ কর ছাগল, আমি তো উত্তরই দেবো। --তো কবে থাইকা এই চক্কর চলতাছে ডাকুরানী? --মাস খানেক হবে --কিহ এক মাস? আর আমাকে একটা বারও বলিস নাই? এই তুই দোস্ত নাকি দুশমন? --এখানে দুশমনির কি আছে রুবি? --এস এস সি এর আগে থাইকা তরে আই লাভ ইউ কইয়া রাখছি, তুই জবাব দেস নাই আর এখন পাড়াত ভাইয়ের লগে ইন্টু মিন্টু করস তোর তো দেখি ধর্ম বিবেক বিবেচনা বইলা কিচ্ছু নাই ডাকুরানী। --এই তুই চুপ করবি নাকি থাব্রানি খাবি? --জানি তো, আমি কিছু কইলেই থাব্রাবি আর অন্য ছেলে কিছু কইলেই গলা ধইরা আই লাভ ইউ টু কইবি তাই না? --খালি টু কমু ক্যা? থ্রী ফোর ফাইভ থাইকা এক'শ পর্যন্ত কমু। --যাহ মাইক নিয়া সারা দেশে জানান দে। --চিঠি লিখবি কি না সেইটা বল --তর তো সাহস কম না রে ডাকুরানী? --আমি তো বরাবরই সাহসী রুবি। আমি তোর মত ভীতুর ডীম নাকি? তুই তো নিক নেইম দিছস 'ভীতু একটা' হাহা ফেবুকেই এক মাত্র এমন আজব আজব নিক নেইম থাকে। --সাহস কইরা নিজের চিঠি নিজেই লেখ। --আমি চিঠি লিখতে পারি না, পারলে তোকে সাধতাম না রাম ছাগল। --পারুম না, পারুম না, পারুম না। --আসলে পাড়ার ঐ ছেলেটা এক মাস ধরে খুব জ্বালাচ্ছে তাই ভাবছিলাম একটা চিঠিতে গালি গালাজ করে তাকে দেবো। --কিহ? তাইলে চিঠিটা প্রেম পত্র না? --নাহ --আগে কস নাই ক্যা ডাকুরানী? --সুযোগ আর কই দিলি? --কোন ছেলে আমার নয়নরে জ্বালায় নাম ক অহনই পিডামু -- রুবি তুই তো ভীতু একটা --আর ছাড় তোর ভীতু, যে তর দিকে তাকাইব তারই চোখ তুইলা নিমু। --হইছে চোখ তুইলা আর কেস খাইতে হইব না, আপাতত চিঠি লেখ তারপর যদি কাজ না হয় তবে গুন্ডামী করিস। --ঠিক আছে কি কি লিখব বল --পৃথিবীতে দেশী বিদেশী গালি আছে তার সব লিখ --বিদেশী গালি তো আমি জানি না। --গুগলে সার্চ দিয়ে বের কর। --গুগলে গালি সার্চ দেবো? কিয়া জামানা হ্য! প্রিয় হারামী তোর ঘরে কি মা, বোন, খালা, ফুপি, মামী, চাচী, নানী, দাদী নাই হ্রামী? ------------------ ------------------- ------------------- ------------------- ইতি নয়না পাঠক দুঃখিত চিঠিটা এখানে প্রকাশ করতে পারলাম না। এত গালি গালাজ লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়???????? পরের দিন রবির অগচরে চিঠিটা ঐ ক্যাফেটেরিয়ার সেই ছেলে মানে পিয়নটাকে দিয়ে বললাম- "যে ছেলেটা আমাকে গিফট পাঠায় নেক্সট টাইম যখন সে গিফট পাঠাবে তখন তাকে এই চিঠিটা দেবেন।" ছেলেটা হাসি মুখে চিঠিটা নিলো। দু' দিন পর ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আছি আমি রাখী আর ছোটন, কিছুক্ষণ পর রবি মুখ ভার করে এসে বসলো। সবাই জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে কিন্তু নো রিপ্লাই। কেউ না বুঝলেও আমি বুঝলাম রাম ছাগলটা চিঠিটা পেয়ে মুখ ভার করে আছে। মনে মনে হাসিই পেলো, নিজের লেখা গালি গালাজ নিজের ঠিকানায়, এমন ঘটনা বিরল! অনেক কষ্টে হাসিটা চেপে রাখলাম। এত গালি গালাজ সমেত চিঠি পেয়েও রবি কিছুতেই গিফটের কথা স্বীকার করল না। পরের দিন আবার তাকে চিঠি লিখে দিতে বললাম কিন্তু সে ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে গেলো। বাধ্য হয়ে নিজেই একটা চিঠি লিখলাম। সেই চিঠি পাবার পরে গিফট আসা বন্ধ হয়ে গেলো। পহেলা ফাল্গুনে অনেক প্ল্যান করলাম কিন্তু আগের দিন থেকেই রবির কোনো পাত্তা নেই। তাই আমি রাখী আর ছোটন প্ল্যান উল্টে দিলাম। পহেলা ফাল্গুনে আমরা তিন জন সকাল সকাল রবিদের বাসায় হাজির হলাম। আমাদের ড্রয়িং রুমে বসা দেখে রবির চোখ তো কপালে উঠলো। এমন সময় রবির বড় বোন খাবারের ট্রে হাতে ড্রয়িং রুমে আসলো। উনি আমাকে দেখে হতভম্বের মত চেয়ে রইলেন। উনার এমন চেয়ে থাকা দেখে আমার খুব ইতস্ত লাগছিল। উনি রাখী আর ছোটনকে রেখে আমার দিকেই কেনো তাকিয়ে আছেন? ওদিকে রবির মুখটা শুকিয়ে গেছে। রবির বোন বেশ বিস্ময়ের স্বরে বললেন- --এই শাড়ীটা কোথায় থেকে কিনেছো? আমি উনার কথায় স্তব্ধ হয়ে গেলাম। কি বলবো সেই ভাষা আমার নেই। আমার নাম পরিচয় এসব জিজ্ঞেস না করে উনি আমার শাড়ীর কথা জিজ্ঞেস করছেন অদ্ভুত! অবশ্য শাড়ীটা চোখ ধাঁধানোর মতই। বললাম- --একজন গিফট করেছে। কিন্তু কেনো আপু? --শাড়ীটা খুব সুন্দর তাই জিজ্ঞেস করছি। তো কে গিফট করেছে? এই রে কার কথা বলবো? রবি গিফট করেছে সেটা তো এখনো আমি শিওর না তাহলে কি বলবো? ফ্রেন্ড দিয়েছে বললে হয়ত উনি বিশ্বাস করবেন না। হয়ত জিজ্ঞেস করবেন কোন্ ফ্রেন্ড? বরং বয়ফ্রেন্ড গিফট করেছে বললে উনি হয়ত আর প্রশ্ন করবেন না কারণ বয় ফ্রেন্ড মানেই তো সিক্রেট ব্যাপার স্যাপার। লাজুক লাজুক মুখ ভঙ্গি করে বললাম- --বয়ফ্রেন্ড গিফট করেছে আপু। আমার কথা শুনে মনে হলো উনি সপ্তম আকাশ থেকে ধুপ করে নিচে পড়লেন কিন্তু আহত না হয়ে উনি সরাসরি নিহত হয়ে প্রেতাত্মার দৃষ্টিতে রবির দিকে তাকালেন। আর রবিও ভুত দেখার মতই ভয়ে জড়সড়ো হয়ে দাড়িয়ে রইল। ওদের ভাই বোনের এই শাড়ী নিয়ে ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না। উনি রবিকে উদ্দেশ্য করে বললেন- --ধরা খাইছিস এবার সত্যিটা বল রবি! --কিসের ধরা খাইছি? কি করেছি আমি? --দু' সপ্তাহ আগে তোর দুলাভাই ইন্ডিয়া থেকে আমার জন্য যে শাড়ীটা এনে ছিল সেটা হারিয়ে গেছে। সেই শাড়ী হারানোর ঘটনা সারা কলনীর সবাই জানে আর তুই জানিস না? --জানব না কেনো? জানি তো। --সেই শাড়ীটা তোর গার্লফ্রেন্ড পরে আছে কি করে? -- আজিব তো! নয়ন আমার গার্লফ্রেন্ড কবে থেকে হলো? আর একই রকমের শাড়ী আরেক জন কিনতেই পারে। --কথা প্যাঁচাইস না রবি। সে তো সবার সামনেই বললো যে, শাড়ীটা তার বয়ফ্রেন্ড গিফট করেছে এখন তুই সত্যিটা বল! --সত্যিটাই তো বললাম। এই নয়ন তুই কি আমার গার্লফ্রেন্ড? নাকি আমি তোর বয়ফ্রেন্ড? আমি তো ওদের কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি, গলার ভেতরে স্বর আটকে আছে। তাই না সুচক মাথা নড়ালাম। এবার রবির বোন আমার দিকে তাকিয়ে বললো- --তোমার বয়ফ্রেন্ডের ঠিকানা দাও, সে ব্যাটা একটা পাক্কা চোর। উনার কথা শুনে এবার আমি মহাকাশ থেকে পড়লাম। আজিব মহিলা একটা! এক বার মনে হলো আমাদের পাড়ার গুন্ডা প্রিন্সের ঠিকানা দিই, দু'জন একটু মারামারি করুক শাড়ী নিয়ে। কিন্তু এই সিরিয়াস মহিলাকে ফাঁসানর চেষ্টা করলে উল্টে আমি নিজেই ফেঁসে যাবো তাই রিস্ক নেয়া অনুচিত। তাই সত্যি বলাটাই বেটার হবে। --আসলে আপু এটা আমার বয় ফ্রেন্ড দেয়নি আসলে আমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নাই। তারপর উনাকে সিক্রেট গিফট এর কথা বললাম। সব শুনে উনি বললেন- --একটা অপরিচিত মানুষ তোমাকে শাড়ী দিলো আর তুমি নাচতে নাচতে সেই শাড়ীটা পরলে? তোমার একটুও ইতস্ত লাগলো না? একটুও লজ্জা করল না? এত অপমান আমার জীবদ্দশায় কখনো হইনি। রাগে দুঃখে আমার কাঁন্না চলে আসছে। মনের দুঃখে আমি বললাম- --আসলে আপু এটা আপনারই শাড়ী, আমি কয়েক দিন আগে আপনার বাসায় এসে শাড়ীটা চুরি করে ছিলাম। আজ দেখাতে এসেছি যে শাড়ীটাতে আমাকে কেমন মানিয়েছে। মূলত আমিই চোর। আমার কথা শুনে রবির বোন স্তব্ধ হয়ে গেলো কিন্তু রবির দৃষ্টি আলাদা হয়ে গেলো। আমি রুম থেকে বেরিয়ে আসতেই রবি বললো- --দাড়া নয়ন --কেনো রবি আরো অপমান করা বাকী আছে নাকি? --সত্যিটা জেনে তারপর যা। হুট করেই রবির স্বর বদলে গেলো, এক রকম চিৎকার করেই বললো- --শাড়ীটা আমি চুরি করেছি আর ক্যাফেটেরিয়ার বয়কে দিয়ে আমিই নয়নাকে পাঠিয়েছি। নয়না নয় চোর আমি আপা। এখন তুই আমাকে শাস্তি দে তবুও তাকে আর কোনো প্রশ্ন করিস না প্লীজ! রবির কথা শুনে তার বোনসহ আমরা সবাই হা করে রবির দিকে চেয়ে রইলাম। রবির বোন বেশ শান্ত স্বরে বললেন- --আমার থেকে চেয়ে নিলে কি ক্ষতি হতো তোর? আমি এতটা কষ্ট পেতাম না। --স্যরি আপা --শুধুই সিম্পল ফ্রেন্ডের জন্য আজকাল মানুষ শাড়ী চুরি করে বুঝি? --বললাম তো স্যরি। --এত ভালোবাসা চেপে রেখেছিস কি করে রবি? --চেপে আর কই রাখতে পারলাম? তুই তো সব ফাঁস করে দিলি। এবার রবির বোন আমার সামনে এসে আমার হাত ধরে বললো- --স্যরি নয়না আমি তোমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। আসলে গত তিন দিন ধরে রাত দিন এক করে শাড়ীটা খুঁজেছি তাই মাথা ঠিক ছিল না। বিকেলে নদীর ধারে একাই বসে আছি মনের দুঃখে। একটা শাড়ী নিয়ে এত কাহিণী মেনে নিতেই পারছিলাম না। রবি পাশে এসে বসল। আমি একবার ওর দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। --স্যরি নয়ন, আপা একটু ওরকমই সব কিছুতেই বেশী রিয়্যাক্ট করে। --শাড়ী চুরি করে গিফট দেয়ার কি দরকার ছিল তোর রুবি? --শাড়ীটা এতটাই সুন্দর যে প্রথম দেখেই মনে হয়েছে শাড়ীটা আপাকে নয় তোকে পরলে ভালো লাগবে। --তাই চুরি করতে হবে? --সারা শহর ঐ শাড়ী হাতে নিয়ে ঘুরেছি সেইম শাড়ী কেনার জন্য কিন্তু পাইনি। ভেবে ছিলাম এর চেয়েও সুন্দর বাসন্তী রঙের শাড়ী তোকে গিফট করব সে জন্য আম্মুর মাটির ব্যাংকটা চুরি করে পাঁচ হাজার টাকাও জোগাড় করে ছিলাম কিন্তু এই শাড়ীটার চেয়ে সুন্দর শাড়ী আমি খুঁজে পাইনী। তাই বাধ্য হয়ে চুরি করেছি। আর নিজের বোনের শাড়ী নিলে চুরি করা হয় না। --ছিঃ ছিঃ রুবি তুই তোর মায়ের জমানো টাকাও চুরি করেছিস? --বাবা মায়ের টাকা পয়সা তো ছেলে মেয়েদের জন্যই তাই বাবা মায়ের টাকা নিলে চুরি করা হয় না জানু। --তুই চুপ করবি ছাগল! চুরি করে আবার বড় বড় লেকচার দিচ্ছে হুহ! --শোন ডাকুরানী আমার আপার শাড়ী আমি নিছি তোর আপার শাড়ী তো নিইনী। --নিছি বলতেছিস ক্যান? বল আপার শাড়ী চুরি করেছি। --এই পেত্নী ডাকুরানী খবরদার আমাকে চোর বলবি না। --নাহ চোরকে সাধু বাবা বলব তাই না? আজ তোর চুরির জন্য আমি এমন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি। --সেই পরিস্থিতি থেকে আমিই তো তোকে টারজান হয়ে উদ্ধার করেছি। --এ জন্যই কথায় বলে, চোরের মায়ের বড় গলা। --এই হারামী তুই তো আমারে প্রোফেশনাল চোর ভাইবাই নিছস দেখতাছি। --বাকী গিফট গুলো কার থেকে চুরি করেছিস বল? --বিশ্বাস কর নয়ন ঐ গিফট গুলো আমি চুরি করে দিইনী। --চোর আবার চুরি না করে কি ভাবে দেবে? --ভালো হচ্ছে না কিন্তু নয়ন। মানুষের দোষ হলো নেগেটিভ ব্যাপার গুলো তুলে ধরা, পজেটিভ তো চোখেই পড়ে না। --চুরির মধ্যেও যে পজেটিভ কিছু থাকে সেটা তোর মত হাইব্রীট ছাগলের মুখেই প্রথম শুনলাম। --কেনো চুরি করেছি বল তো? --কেনো? --তোকে দেবার জন্য চুরি করেছি। কেনোই বা তোকে দিতে চেয়েছি বল তো? --কেনো? --কারণ আমি তোকে ভালোবাসি নয়না তাই! এবার ওর কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম কিন্তু মনে মনে রাগটা কমলো না। বললাম- --তুই কি জানিস না যে নয়নার এই সব প্রেম ভালোবাসাকে ফালতু লাগে? --জানি --তাহলে কেনো ভালোবেসেছিস? --ঘৃণা করতে কারণ লাগে কিন্তু ভালোবাসতে কারণ লাগে না নয়ন। মানুষ অকারণেই ভালোবাসে। --যত্তো সব ফালতু কথা। --কিন্তু তুই আমারে দিয়া চিঠি লেখাইয়া আমারেই দিছস। তাও যদি ভদ্র চিঠি হইত, এইডা কিন্তু ডাকুরানী তুই ঠিক করস নাই। --হাহা বেশ করেছি --হারামী বজ্জাত মাইয়া! --সে তো জন্ম থেকেই --নয়না তুই আমার হবি? জবাবহীন ভাবে উঠে চলে এলাম। যে আমার জন্য ঐ রকম একটা দর্জ্জাল বোনের শাড়ী চুরি করতে পারে সে আরো অনেক কিছুই পারবে। জানি রবির ভালোবাসা নিখাঁত কিন্তু আমি তো বিরাগী। ভালোবাসা বন্ধন আমার জন্য নয়। এক সপ্তাহ পর আমরা চারজন ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা অচেনা ছেলে একটা গিফট প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আমরা সবাই রবির দিকে তাকালাম রবি আসামীর মত চেয়ে থেকে বললো- --বিশ্বাস কর নয়ন এই গিফট আমি দিইনী। আমি কিছু না বলে প্যাকেট খুলে দেখলাম এক জোড়া পায়েল আর একটা চিরকুট।পায়েল জোড়া খুব সুন্দর। চিরকুট হাতে নিলাম, রবি বা পরিচিত কারো হাতের লেখা নয়। চিরকুটে লেখা আছে- "নয়না তোমার চোখের গভীরে ডুব দিতে মন চায়, তোমার হাসির আওয়াজ আমাকে মাদকতার নেশা ধরায়। হাসির আওয়াজ বুঝি এতটাই সুন্দর হতে হয়? সবার সামনে এ ভাবে হেসো না প্রিয়তমা, ছেলেরা ঐ হাসি দেখে খুন হয়ে যাবে। আমি তো সেই কবেই তোমার হাসির মাঝে খুন হয়ে গেছি। অনুরাগ" চিরকুটটা সবাইকে পড়ে শোনানোর পর রবির মুখে আধার নামলো। রাখী আর ছোটন হা করে চেয়ে রইল। ধুর গিফটটা তো দেখছি রহস্য জনক হয়ে গেছে। গিফটের রহস্য উদঘাটন করতে পারলাম না। এখন আরো নানান চিন্তা হচ্ছে। কে আবার আমাকে গিফট পাঠাতে শুরু করল? এত দিন তো ভেবে ছিলাম রবি এখন দেখছি অন্য কেউ। ধ্যাত্তেরি অসহ্য লাগছে ভাবতে। রবি বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো- --এই অনুরাগটা কে নয়ন? হেই ব্যাডার ঠিকানা দে, তর হাসি দেইখা তার খুন হওয়া আমি বাইর করুম। --আসলেই তো এই অনুরাগটা আবার কে????? #সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now