বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
” রং টার্ন ” কালেক্টেড
১। সিগারেট টা ধরিয়ে বেশ আয়েশ করে বসল নীল। দশ মিনিটের বিরতিতে আছে এখন সে। তাছাড়া দুর্বা ও আশে পাশে নেই। দুর্বার যন্ত্রনায় তার সিগারেট টাও খাওয়া হয় না ঠিকমত। আগে বারান্দায় বসে রকিং চেয়ারে গা মেলে দিয়ে গান শুনতে শুনতে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ত! দুর্বা এসে তার পুরা জীবন টাই এলোমেলো করে দিয়েছে। মেয়ে তো না যেন ঝড় একটা। এক মাস হয়েছে দুর্বার সাথে নীল এর বিয়ে হয়েছে। দেড় মাসের পরিচয়। প্রথম দেখাতেই প্রেম। দ্বিতীয় দেখাতেই সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব। এবং তৃতীয় দেখার দিন বিয়ে। কোন জাঁকজমক ছাড়াই দু তিনটা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কাজি ডাকিয়ে বিয়ে। নীলের মা মারা গেছেন জন্মের সময়। বাবা ও কিছুদিন আগে। একটা বোন আছে , স্বামী নিয়ে বিদেশে। আর খুব কাছের তেমন কোন আত্মীয় নেই তার।
দুর্বার অবস্থা তো আরও খারাপ। এতিমখানায় বড় হয়েছে। নিজের যোগ্যতায় পড়াশোনা করেছে এতদূর। এত মিষ্টি একটা মেয়ে। দুর্বা যেন তার একাকী জীবনে এসেছে আশির্বাদ হয়ে। একটা মানুষ এতটা কিভাবে ভালবাসতে পারে নীল বুঝেনা। দুর্বার সম্পুর্ণ জগত জুড়েই নীল। মাস্টার্স পাশ করা একটা মেয়ে। অথচ কোন চাকরি করতে চায়না। সারাদিন ঘরে বসে থাকে , খুটুর খুটুর করে এইটা ওইটা করবে। নীলের পছন্দের খাবার বানাবে … ঘর সাজাবে। কই একটু বাইরে ঘুরবে , বন্ধুদের সাথে দেখা করবে … না , তার কোন বালাই নেই , সারাদিন নীল কে নিয়েই পড়ে থাকবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে তার দিকে। কোনই ক্লান্তি নেই তার।
নাহ , এরকম ভালবাসা পাবার জন্য এক দুইটা জীবন খুব সহজেই বিসর্জন দেয়া যায়। নীলের জীবনের রাইট টার্ন ছিল দুর্বা। মধ্য বয়সে এসে দুর্বাকে পাওয়া! নিঃসঙ্গ ভালবাসাহীন জীবনটা দুর্বা ভরিয়ে দিয়ে গেছে।
এখন নীল ভীষণ ব্যস্ত। গত দেড় মাসে ঠিক মত চেম্বারে আসা হয়নি। কোন পেসেন্ট ও এটেণ্ড করা হয়নি। ঘর থেকে বের হলে দুই তিন ঘণ্টা পার হয় না , দুর্বা ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। একলা তার ভাল লাগে না। কাজকর্ম তার শিকেয় তুলে বসে থাকতে হয় দুর্বার সাথে। গত এক সপ্তাহ ধরে সে নিয়মিত চেম্বারে আসছে। এই মুহূর্তে অনেক রাশ। মোবাইলের রিংটোনের শব্দে নীলের ধ্যানভঙ্গ হল। কাজের সময় ফোন সাধারণত তার এই হাসপাতালের এসিস্টেন্ট এর কাছেই থাকে। আজকে সে নিয়ে যায়নি। এমন ভুল সাধারণত সে করে না। পেসেন্ট দেখার সময় কেউ ফোন করলে সে খুব বিরক্ত হয়। ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে নীল বিশেষ মানবীর ফোন।
দুর্বা … তার মন টা ভাল হয়ে গেল হুট করেই।
‘কি কর , সোনা …’
‘ক্রিকেট খেলছিলাম … তোমার ফোন পেয়ে চলে এলাম …
উফফ , সবসময় ঠাট্টা। আজ কখন আসবে?
উমম , ৯টার মাঝে। প্রমিস।
আজ একটু আগে আসলে কেমন হয়?
খুব খারাপ হয়।
কেন?
পেশেণ্ট রা আমাকে ধরে পিটাবে।
কেন? ডাক্তার কে নিজেদের কোন লাইফ নেই নাকি?
আরে তা না। এপয়েণ্টমেণ্ট নেয়া না?
তো কি? জরুরি কিছু হতে পারেনা? তুমি অসুস্থ হতে পারনা? আমি অসুস্থ হতে পারিনা ?
কি ব্যপার তুমি অসুস্থ নাকি?
নাহ। তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিব , তাড়াতাড়ি আসো প্লিজ।
কি করি বলতো? রাগ করে না। ভাল না বউ আমার। ৯ টার মাঝে ঠিক আসব।
লাগবে না যাও। কাজ ই কর। তোমার বাসায় ই আসার দরকার নেই।
ফোনটা কেটে গেলো। এক চিলতে হাসল নীল। দুর্বার এই রাগ ভাঙ্গানোর উপায় তেমন কঠিন কিছু না। কয়টা বেলি ফুলের মালা কিংবা বকুল ফুলের মালা হলেই হবে। আবার কাজে মন লাগাল নীল।
২।
কলিংবেলে হাত ছোঁয়াবার সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল। দুর্বা সম্ভবত লুকিং গ্লাস দিয়ে তাকিয়ে ছিল। নীল ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার সাথে সাথেই জড়িয়ে ধরল তাকে। হাতের ব্যগ টা মাটিতে ফেলে দিল নীল। দুহাতে সেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল দুর্বা কে। ভালবাসার এই অনুভূতির জন্য এমন হাজার টা জীবন পেতে ইচ্ছা করে নীলের। কয়েক মিনিট পেরিয়ে যায় , তবু দুজন এমনিই দাঁড়িয়ে থাকে।
আমার সারপ্রাইজ টা কি??
বলব না। আমার গিফট কই?
এনেছি তো সোনা ।
কই? দাও নাই তো?
আস তোমাকে পরায় দেই আমি।
কয়েকটা বকুল ফুলের মালা পেঁচিয়ে দিল নীল দুর্বার খোপায়। আদুরে বিড়ালের মত নীলের বুকের কাছে ঘেঁষে মুখ লুকালো দূর্বা।
কেউ আসছে ..
. কে ?? কেন ?
আরে বুদ্ধু কেউ আসতে চাইছে আমাদের মাঝে …
বলেই লজ্জা পেয়ে গেল দুর্বা। এবং তখন ই পুরা ব্যপার টা বুঝতে পারল নীল। সাথে সাথে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সে দুর্বা কে। এক মুহুর্তে পৃথিবীটা কেমন সুন্দর হয়ে যায়!
আবছা আলোয় দুর্বা কে দেখে সে।
ফিসফিস করে বলে সে, আসুক না… আসতে দাও তাকে ……
৩।
অনেক কষ্টে চোখ খুলল নীল। মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কালকের কথা কিছু মনে পড়ছে না তার। দুর্বার সাথে কথা বলছিল … এর মাঝে ঘুমিয়ে গেল কখন সে? মাথা নাড়াতে পারছে না। একদম ভারি লাগছে নিজেকে। চোখে প্রথমে খুব ঝাপসা দেখছিল নীল। তারপর স্পষ্ট দেখল তার শোবার ঘরের সোফায় শুয়ে আছে সে। প্রায় শেষ রাত তখন। এবং তার ই বিছানায় এক জোড়া নারী – পুরুষের অবয়ব। জড়াজড়ি করে শুয়ে আছে। আবার চোখ বন্ধ করে খুলল সে। তাকিয়ে হঠাৎ করে মনে হল তার এইটা কোন দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু হতেই পারেনা। তার শোবার ঘরে , তারই বিছানায় তারই স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষ? এইটা কিভাবে সম্ভব?
কিছু বলতে যায় নীল। পারেনা। চিৎকার করার চেষ্টা করে কিন্তু পারেনা। গলা দিয়ে একটা শব্দ বের হয়না তার। উঠে বসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে। দুর্বার সঙ্গীর ততক্ষনে ঘুম ভাঙ্গে। মৃদু হাসি দুচোখে তার। লোকটাকে তার খুব চেনা চেনা লাগে। কোথায় যেন দেখেছে সে।
আমি খুবই দুঃখিত ডাক্তার সাহেব। আপনাকে সামান্য ক্লোরোফর্ম ছোঁয়ানো হয়েছিল। কিন্তু আপনি এতই নাজুক যে রাত কাটিয়ে দিলেন। আর আমরাও অপেক্ষা করতে করতে একটু আরকি …… অনেক দিন পর দুর্বা কে পেলাম তো! নাহলে আপনার শোবার ঘর ব্যবহার করতাম না আর যাই হোক!
ওকি , উঠতে চাচ্ছেন নাকি? তা বোধ হয় আর হচ্ছে না। আপনার এখন সম্পূর্ণ সেন্স আছে যদিও , নড়াচড়া বা কথা বলার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই ভাই।
আমার কিছু কথা শুনুন। আপনাকে না বললেও চলত। তবু বলি। আমি আবার গোপনে কোন কাজ করি না। করাটা পছন্দও করিনা । যাই হোক , দুর্বাকে খুব ভালবাসেন নাকি আপনি? তাই তো মনে হয়।
বেশি আবেগে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। ঠিক ভুলের হিসাব টাও মনে হয় বুঝেনা , তাই না? দুর্বা যা বলল আপনাকে তাই ধ্রুব সত্য? একটা খোঁজ ও নিলেন না? ভাগ্য আমাদের ভালই ছিল … নাহলে আপনি কেন দুর্বার প্রেমে এমন পাগলের মত পড়বেন? আবার বলেন দুর্বাকে খুঁজে পাওয়া আপনার জীবনের রাইট টার্ন???
আপনার রং টার্ন কিংবা দুর্ভাগ্য !! হাহাহাহা …
নীল অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। যেনো কোন গল্প শুনছে … প্রচণ্ড হাসির শব্দে দুর্বার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। সে আলতো হাসি মুখে উঠে বসলো। তার ভাঁজ ভাঙা চুলে এখনও কিছু বকুল ফুল ছিটিয়ে পড়ে আছে।
আপনি ভয় পাবেন না। আপনাকে খুব বেশি একটা কষ্ট পেতে হবে না। আমার অবশ্য ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দুর্বার অনুরোধ আবার আমি ফেলতে পারিনা। কি করব বলেন??
লোকটা নীলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ঠিক তখনি নীল চিনতে পারে লোক টাকে। তার ছবি বেশ কয়েকদিন আগে পেপারে দেখেছিল।
অনীশ আরাফাত। একজন সিরিয়াল কিলার।
গত ১৫ মাসে সে ৫ টার মত খুন করেছে … প্রত্যেক টা খুনই বীভৎস উপায়ে করে সে …… প্রথম মাসে সে শিকার খুঁজে বের করে … তারপরের মাসে সে শিকার কে টোপ ফেলে জালে এনে ভরে … তৃতীয় মাসে সে শিকার কে বিভিন্ন উপায়ে খুন করে এবং পরের মাসে নতুন শিকারকে খুঁজে …
৫টা খুন ই হয়েছে বীভৎসতম উপায়ে … পুরো লাশ টাও খুঁজে পায়নি পুলিশ। লাশের শরীরের কিছু অঙ্গ শুধু উদ্ধার করতে পেরেছিল। ৫টা কেসে একই কাহিনী।লাশের শুধু মাথা টা পড়ে থাকে। চোখ দুটা উপড়ে নেয়া … জিহবা কাটা … কোথাও দু একটা আঙ্গুল … আর চাপ রক্ত সারা ঘর জুড়ে … ব্যস , এতটুকই। লাশটা কি করে , কোথায় ফেলে , কাটাকাটি কেন করে তার বিন্দুমাত্র ধারণাও করতে পারে নাই পুলিশ।
নীলের মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়। ঢোক গিলে সে। অবাক হয়ে তাকায় দুর্বার দিকে। দুর্বা সেই আগের মতই আদুরে চোখে তাকিয়ে আছে। চোখে চঞ্চল হাসি।
আই এম স্যরি ডক্টর নীল। তবে আপনাকে এতটুক সম্মান করছি আমরা, আপনার মৃত্যুটা হবে ব্যথা হীন। ৫০০ মিলি. ক্লোরোফর্ম ঢালা একটা রুমাল শুধু আপনার মুখের উপর রাখব … বাকি কিছু হবে আপনার মরে যাওয়ার পর। বেশি সময় লাগবে না। আপনাকে আরও একটু সম্মান করছি, আপনার মাথাটা অবিকৃত রেখে দেব একদম। ধারালো ছুরিটা একদমই ছোয়াব না। প্রমিস। যদিও চোখটা আমার বেশ পছন্দ! আপনি বেগুন ভাজি যতটা পছন্দ করেন চোখ আমার তার থেকেও বেশি প্রিয়। তবু আপনার ক্ষেত্রে ছাড় দিলাম। আফটার অল , আমাদের হবু সন্তানের জন্মদাতা তো আপনিই।
নীলের গা গুলিয়ে উঠল। লাশ গুলো খুঁজে পাওয়া যায় না তার কারণ … তার কারণ অনীশ আরাফাত এইগুলা ..????? পিশাচ !!!! তার চোখ মুখ কুঁচকে উঠল …
আবেদনময়ীর ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে দুর্বা। হাতে একটা সাদা রুমাল? এই কি সেই ক্লোরোফর্ম দেয়া রুমাল? কিছু ভাবার আগেই নীলের ঠোঁটে গভীর ভাবে চুমু খায় সে … বাধা দেবার শক্তিটাও নেই নীলের … বাধা দিতে ইচ্ছাও করছে না আর। সব কেমন লাগছে … এলোমেলো … দুর্বা কে রং টার্ন ভাবতে ইচ্ছা করেনা তার … চোখ বন্ধ করে সে … তারপর শূন্যতা … প্রবল শূন্যতা ।
৪।
কাজ শেষ?
হুমম।
সব প্যাক করে নিয়েছ তো?
হুমম।
তাহলে চলো। দেরী করছ কেন?
ঘরটা গুছিয়ে দিয়ে যাই?
কী পাগলের মত বলছ দুর্বা? হাতে সময় কম। সকাল হবার আগেই বেরোতে হবে।
চলো …
এঈ দুর্বা , ঠিক আছ তো?
হূম আছি। চলো বের হই।
আমি ভাবছিলাম তুমি আমার সত্যি নীলের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলে নাকি!
আরেহ না … কি যে বল না তুমি!
ভোরের অন্ধকারে দুজন মানব-মানবী (!) বের হয়ে আসে হাত ধরে … পেছনে পড়ে থাকে নির্জন একটা ঘর … আর সারা ঘরে চাপ চাপ রক্ত …
৫ স্টার দিন
Back
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now