বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজ সন্ধায় আমার খরর আছে!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X সন্ধ্যায় মীম আমাকে দেখা করতে বলেছে । কেন বলেছে আমি ঠিক জানি না । তবে গেস করতে পারিছি । আজ সন্ধ্যায় আমার খবর আছে । নিজের উপর কি যে রাগ হচ্ছে । কেন যে স্টুপিডের মত কাজ টা করতে গেলাম । কি দরকার ছিল মীম কে ভ্যালেনটাইনের কার্ড দেওয়ার ! কেনার সময় কি মনে করে কিনেছিলাম কে জানে । দেওয়ার আগেও কিছু মনে হয় নি । ঝামেলা বাধল দেওয়ার সময় । মীমের হলের সামনে গিয়ে ওকে ফোন দিলাম । "কোথায় ?" ও বলল "এই তো রুমে ।" " একটু নিচে আসবে ?" " তুমি নিচে ? আচ্ছা আসছি ।" একটু পরই ও গেটের সামনে আসলো । মনে হয় ঘুমিয়ে ছিল । চোখ খানিকটা ফোলা ফোলা লাগছিল । " ঘুমিয়ে ছিলে ।" " হ্যা একটু শুয়ে ছিলাম ।" " সরি ঘুম ভাঙ্গালাম তোমার ।" " না ঠিক আছে । বল কি বলবে ?" (যে আবাহাওয়া মনের মধ্যে তৈরি করেছিলাম ততক্ষনে গায়েব হয়ে গেছে ।) " না মানে !" (কি বলব বুঝতে পারছিলাম না । কিভাবে যে দিবো বুঝতেই পারছিলাম না ।) " বল কি বলবে ?" কোন মতে কার্ডের খামটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম এটা তোমার জন্য । তারপর আর কোন কিছু যেন নেই । ওখান থেকে পালাতে পারলে বাঁচি । চলে এলাম বলতে গেলে পালিয়েই । আসার সময় নিজেকে ধাপড়াতে ইচ্ছা করছিল । এমন একটা কাজ কেন করলাম । ও কি না কি ভাবছে ! তারপর রাতে ফোনটা আসলো আরো ঘন্টা খানেক বাদে । " হ্যালো ।" খানিকটা ইতস্ততঃ করে বললাম "হ্যালো ।" "তুমি এ ভাবে চলে আসলে কেন ?" " আসলে ......" " ঠিক আছে তুমি সন্ধ্যার সময় আমার সাথে দেখা করবে । টিএসসিতে । ওখানে তোমার সাথে কথা হবে ।" জানি না কি কথা বলবে । আল্লাহই জানে । কেন যে দিতে গেলাম ! কোন কারন নেই কোন কারন ছিলোও না কোন কালে । বলতে গেলে স্কুল জীবন থেকে ওর সাথে আমার দা কুমড়ার সম্পর্ক ছিল । আমার খুব ভাল করে মনে আছে আমি তখন সবে ক্লাস সেভেনে পড়ি । বাবা বদলি হলেন । আমাকে বদলাতে হল স্কুল । প্রথম দিন স্কুলে গিয়ে দেখি একটা মেয়ে হল ক্লাস ক্যাপ্টেন । ক্লাসটা সেই নিয়ন্ত্রন করছে । খোজ নিয়ে জানতে পারলাম সে হল হেডস্যারের মেয়ে । এই হল মীম । কয়দিনের মধ্যেই মীমের সাথে আমার গোলমাল বেঁধে গেল । ঘটনা এরকম যে আমি বাইরে যাবো । ও ক্লাস মনিটর ছিল । বাইরে যেতে হলে ওর অনুমুতি নিতে হত । আমি অনুমুতি চাইতে গেলাম । বললাম "বাইরে যাবো ।" ও সাফ বলে দিল এখন যাওয়া যাবে না । "কেন ?" ও উত্তর দিল না । আমার কখন বেশ বেগ পেয়েছে । অনুমুতির তোয়াক্কা না করে আমি কাজ সারতে চলে গেলাম । এসে দেখি স্যার চলে এসেছে । আর আমার নামে রিপোর্ট চলে গিয়েছে । কারন বলতে স্যার কিছু বলল না । কিন্তু ওর সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল । ওর প্রত্যেকটা কাজে আমি বিরোধিতা করতাম । এতো দিন মীমের নিয়ন্ত্রনে যারা ছিল তারা যেন ওর আন্ডার থেখে বের হতে শুরু করে দিল বিশেষ করে ছেলেরা । এটা দেখে ও আমার উপর আরো খেপে গেলো । আমিও কম যাই না । ওকে রাগানোর জন্য ওকে নিয়ে মজা করে ছোট ছোট ছড়া লিখলাম । যেমন মীম মীম মীম/ রোজ পাড়ে ডিম আথবা আমাদের মীম রোজ যায় জিমে /জিমে গিয়ে ব্যাম করে আর তা দেয় ডিমে । হা হাহাহা । এতে যেন ও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠত । পড়ালেখায় ভাল ছিলাম । সেদিক দিয়েও ওর সাথে চলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই । ওর থেকে যখন কোন বিষয়ে নম্বর বেশি পেতাম মনে অনাবিল আনন্দ পেতাম । কিন্তু মীম যেদিন মেডিক্যালে চান্স পেল না আমি পেলাম সেদিন ও খুব কেঁদে ছিল । সেদিন কেন জানি আমি খুশি হতে পারি নি । কোন কারন নেই । তবুও পারি নি । তারপর ও ভার্সিটিতে ভর্তি হয় । ওর সাথে আর দেখা হত না বললেই চলে । কিন্তু গত ঈদের কথা । হঠাত্ আমাদের হেড স্যার মানে মীমের আব্বা আমাকে বাড়িতে ডেকে পাঠালেন । "স্লামুয়ালাইকুম স্যার । আসো বাবা । ভাল আছো তুমি ?' " জ্বি ভাল আছি স্যার ।" " পড়া লেখা কেমন চলছে ?" " জ্বি ভাল চলছে । তুমি কবে যাবে ঢাকায় । এইতো ঈদের ছয় সাত দিন পর" "তুমি কি আমার কি একটু কষ্ট করতে পারবে বাবা ?" " জ্বি স্যার বলেন । কোন সমস্যা নাই ।" " আমার শরীর টা ভাল যাচ্ছে না । তা না হলে আমি যেতাম । তুমি কি মীম কি তোমার সাথে ঢাকা নিতে পারবে । যত বড় হোক । মেয়ে তো । একা ছাড়তে সাহস পাই না । এই উপকার টা কর বাবা ।" " কোন সমস্যা নেই স্যার । "ভেবেছিলাম মীম হয়তো গাড়ির মধ্যে আমার সাথে কথাই বলবে না । স্কুল আর কলেজে ওর সাথে যেমন দাকুমড়া সম্পর্ক ছিল । ভয়ে ছিলাম এদিক ওদিক দিয়ে যদি ভুল করেও কোন ভাবে ওর গায়ে টাচ্ লেগে যায় ! আর যদি তখন কিছু বলে ! লজ্জায় মাথা কাটা যাবে । বাসের মধ্যে আমার আবার খুব ঘুম আসে । যদি ওর দিকে ঝুকে পড়ি । খুবই অস্বস্তির মধ্যেই যাত্রা শুরু হল । মীম প্রথমে জানালার দিকেই তাকিয়ে ছিল । মনে হল লক্ষন ভাল না । ও হয়তো কথাই বলবে না । আজ কালকার মেয়ে দের যা মুড ! কিছু জিজ্ঞেস করবো কিনা ভাবছি এমন সময় মীমই কথা বলল " সরি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছি ।" আমার বলা উচিত্ না না কষ্ট কিসের ! কিন্তু আমি বললাম "হ্যা খুব বেশি কষ্ট দিলে ! জীবন শেষ হয়ে গেল ।" মীম মনে হয় কিছু বোঝার চেষ্টা করছে । তারপর হঠাত্ হেসে ফেলল । বলল " তোমার ইয়ার্কী করার স্বভাব আর গেল না ।" আমি হাসলাম ।বললাম, "এতো ফরমাল হবার তো দরকার নাই । স্যার ফর্মালিটি দেখিয়ে গেল আবার তুমি শুরু করেছ ! আমিতো আর তোমাকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছি না । দুজন একসাথে যাচ্ছি । কথা বলতে বলতে গল্প করতে করতে যাবো । এতে কষ্টের কি আছে । আর তোমার মত একজনের পাশে বসে যাচ্ছি এটা তো আমার সৌভাগ্য ।" " সৌভাগ্য ?" মীম সরু চোখে আমার দিকে তাকাল । " সৌভাগ্য কোন দিক দিয়ে ?" " না মানে এইতো তুমি একটা ভাল মেয়ে । আজ কালতো ভাল মেয়ে পাওয়াই যায় না । তারপর ভাল যায়গায় পড়ছ ! সবচেয়ে বড় কথা তোমার মত সুন্দরীর পাশে বসাটা কি সৌভাগ্যের নয় ?" " ঢং কর, না ? তুমি আসলেই আগের মতই আছো । ধাড়িবাজ ।" " ধাড়িবাজ ?" (আমি আহত হবার ভান করি । ") "তা নয়তো কি ? মানুষকে খোচা দিতে তোমার খুব ভাল লাগে । তাই না ? স্কুলে থাকতে আমাকে নিয়ে কি সব বাজে কবিতা বানাতে মীম মীম মীম/রোজ খায় ডিম এটা কোন কবিতা হল ?" " রোজ খায় না রোজ পাড়ে ডিম ।" কথাটা বলতে চাই নি মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেল । এবার দেখলাম মীম সত্যি সত্যি রেগে উঠল । কিছু করার নেই । বলে ফেলেছি । "সরি ! সরি । কিন্তু মীম সত্যি বলছি আমি এবার তোমাকে হেয় করার মিন করে বলি নি । আই রিয়েলি মিন ইট । তুমি সত্যি অনেক সুন্দর হয়েছ দেখতো ।" এই কথাই মনে হল একটু কাজ হল । রাগ একটু মনে হল কমলো । তারপর আস্তে আস্তে ও কথা শুরু করে । তারপর পুরো রাস্তা জুড়ে ওর সাথে অনেক কথা হল । অনেক কথা বললাম । আমি নিজেই ভাবি নি ওর সাথে এতো কথা বলব । বাস থেকে নেমে ওকে নিজে হলে পৌছে দিলাম । সিএনজি তে করে । যখন ওকে রেখে চলে আসবো তখন কেন জানি আমার একটু খারাপ লাগছিল । আসার সময় ওর মোবাইল নাম্বর নিয়ে আসলাম । নিজের টাও দিয়ে এলাম । বললাম কোন দরকার হলে ফোন দিয়ো । ওকে রেখে চলে আসছি এমন সময় মনে হল পিছন ফিরে তাকাই । কিন্তু তাকিয়ে ভুল করলাম । ভেবেছিলাম ও হয়তো তাকিয়ে থাকবে । কিন্তু কোথায় কি ? ও কখন চলে গিয়েছে ভিতরে । খানিকটা হতাশই হলাম । ভেবেছিলাম ওকে ফোন দিবো না । কি দরকার ? ফোন দিলাম । আরো চার দিন পর । আর গাধার মত ফোন দিলাম রাতে । (চলবে...)☺☺ বাই আপু তানবির!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now