বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসার নীলিমা- ২য় এবং (অন্তিম পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X (যারা পথম পর্ব পড়েন নি তাড়া পড়বেন তাহলে ২য় পর্ব টি বুঝতে পারবেন. . চাঁদনী প্রতিদিন. আকাশ কে দেখতে হাসপাতে যায়.. কিন্তু. সামনে যেতো না. যদি আকাশ আরো অসুস্থ. হয়ে যায় সেই কথা ভেবে. প্রতিদন লুকিয়ে দেখতো আকাশ কাগজে নীলিমার নাম লিখছে. কখনো বা আকাশের পানে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে.মনে হয় কি যেনো খুজছে. হয়তো তার নীলিমা কে খুজছে. ঐ নীল আকাশের মাঝে.. এই ভাবে প্রায় ১৫ দিন পার হয়ে গেলো. হঠাৎ আকাশের অবস্থার. খারাপ হয়ে গেলো. সে আগের থেকে বেশি উত্তেজিত হয়ে যায়. কেউ সামনে আসলে সহ্য করতে পারেনা. ডাক্তার রা বলে. ওর মানুষিক অবস্থা এতো খারাপ ওকে এই খানে চিকিৎসা করা যাবেনা.. ওকে মানুষিক হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে. ডাক্তার দের এমন কথা শুনে. আকাশের মা-বাব দুজনে. ভেঙে পড়ে. আকাশের বন্ধু রাও. কেদে দেই. সেই দিন দুপুরে কলেজ শেষ করে. চাঁদনী আসে. হাসপাতালে. হাসপাতালে এসে আকাশের বন্ধুর কাছ থেকে. সব জানতে পারে. চাঁদনী মনে মনে ভাবে মানুষিক হাসপাতালে গেলে আকাশ হয়তো কখনো ভালো হবেনা. কি করা যায়. অনেক ভেবে.. চাঁদনী ঠিক করলো আর আড়ালে নয়. এইবার আকাশের সামনে দাঁড়াতে হবে. চাঁদনী হয়ে নয়. নীলিমা হয়ে. চাঁদনী আকাশের বাবা- মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বললো. আপনার ছেলেকে ভালো করার দায়িত্ব এখন থেকে আমার. আমাকে কি আপনারা দায়িত্ব টি দিবেন? আমি আপনাদের কাছে আকাশ কে ভালো করার দায়িত্ব টুকু ভিক্কা চাইছি. আকাশের মা-বাবা আকাশের বন্ধুদের কাছ থেকে চাঁদনী সম্পর্কে সব জানলো. তখন তার বললো. হয়তো তুমি পারবে আমার ছেলে টাকে. আবার ভালো করতে. এটা বলে চাঁদনী কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো আকাশের মা. চাঁদনী ও চোখের পানি আটকাতে পারেনি. সেদিন বিকালেই আকাশ কে. হাসপাতাল থেকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে. বাড়ি নিয়ে আসা হলো. চাঁদনী আকাশ কে বাড়ি পৌছে দিয়ে নিজের বাড়িতে চলে গেলো. পরের দিন সকাল সকাল চাঁদনী হাজির হয়ে গেলো আকাশের বাড়ি. এক কাপ চা নিয়ে আকাশের রুমে ডুকে. আকাশ কে ডাক দিলো. আকাশ ঘুম থেকে উঠে. চাঁদনী কে দেখে. বলে নীলিমা. তুমি এখানে? চাঁদনী বলে তোমকে ছেড়ে থাকতে পারলাম না তাই চলে এলাম. আকাশ কথাটি শুনে কেমন উত্তেজিত হয়ে গেলো. আর জোরে জোরে বলতে লাগলো. তুমি মিথ্যা বলছো তুমি নীলিমা নও. তুমি অন্য কেউ. আমার নীলিমা তো অনেক দূরে চলে গেছে. অনেক দূরে. ঐ আকাশের টার উপরে চলে গেছে আমার নীলিমা. কথাটি বলা শেষ করে বিকট শব্দ করে হাসতে লাগলো. আকাশ. চাঁদনী আকাশের এমন অবস্থা দেখে. চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরিয়ে কাঁদতে লাগলো. কিছুক্ষণ পরে. আকাশ শান্ত হয়ে. শুয়ে পড়লো বাচ্চা ছেলের মত. আর মুখে একটাই নাম নীলিমা নীলমা. চাঁদনী. আকাশ কে আবার ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে. কলেজের চলে গেলো. কলেজে গিয়ে সারাদিন আকাশের কথা ভাবলো. সে চিন্তা করে দেখলো. আকাশ যদি সব সময় ঘরের ভেতর থাকে তাহলে ওকে ভালো করা সম্ভব না. ওকে বাইরে নিয়ে যেতে হবে.. তাহলে হয়তো কিছুটা লাভ হতে পারে. কলেজ থেকে ফেরার পথেই. আকাশের সব বন্ধুকে ফোন করে. আকাশের বাড়িতে আসতে বললো. চাঁদনী. চাঁদনীর কথা মত সবাই আকাশের বাড়ি চলে এলো. চাঁদনী বললো. আচ্ছা আকাশ সবচেয়ে কোন জাইগাটা বেশি ভালোবাসে. আর কি করতে বেশি ভালোবাসে? বন্ধুরা বললো. ক্যাফেতে, ক্যাম্পাসে আড্ডা.. নদীর পাড়ে বসে গান করা. গিটার দিয়ে. এই গুলো ওর সবচেয়ে পছন্দের কাজ. চাঁদনী বললো. ওকে আমারা আজ আকাশ কে ক্যাফেতে নিয়ে যাবো. যেই কথা সেই কাজ. সবাই মিলে ক্যাফেতে নিয়ে গেলো আকাশ কে. ক্যাফেতে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে. আর আকাশ চুপ করে মাথা নিচু করে বসে আছে. এমন সময় কাচের দরজার ভেতর দিয়ে আকাশ রাস্তায় অপলক তাকিয়ে আছে. আর জোরে ডেকে ওঠে. ঐ তো আমার নীলমা. এই বলে ক্যাফের ভেতর থেকে দৌড় দেই আকাশ. দৌড়ে রাস্তায় এসে. দেখে. কিছু নেই আকাশ রাস্তায় বসে পড়ে আর হাসতে হাসতে বলে নীলমা কোথা থেকে আসবে সে তো অনেক দূরে অনেক দূরে. কথাটি শেষ করেই. আবার হাসতে লাগলো. সবাই আকাশ কে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো. আকাশের এমন অবস্থা দেখে. চাঁদনী ভেবে নিলো. তাকে নীলিমা হতে হবে নীলিমার মত চলতে হবে. নিজেকে আকাশের সামনে. নীলিমা করে উপস্থাপন করতে হবে.(আবাক করা কথা তাই না ১ মাস আগে চাঁদনী আকাশ কে চিনতো না. আর এখন চাঁদনী আকাশের জন্য সব পারে. হয়তো এটার নাম ভালোবাসা.) . চাঁদনী আকাশ কে বাড়ি পৌছে দিয়ে নিজের বাড়ি চলে গেলো.. বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো. চাঁদনীরর বাবা চাঁদনী কে জিজ্ঞাস করে. অনেক দিন ধরে দেখছি. তুমি বাড়ির বাইরে বেশি থাকো. দেরি করে বাড়ি ফেরো. কোথাই যাও কি করো? তোমার কলেজ তো দুপুর হলে ছুটি হয়ে যায়. এতো সময় কোথাই যাও? চাঁদনী কখনো তার বাবাকে মিথ্যা বলেনি কিন্তু আজ বলছে. বাবা আমি এক্সট্রা ক্লাস করি আর ক্লাস শেষে. কোচিং যাই তাই দেরি হয়. এই বলে ঘরে চলে যাই চাঁদনী.. চাদনীর বাবা সন্দেহ ঠিক ই করে কিন্তু. কিছু বলেনা. আর এই ভাবে লুকোচুরি চলতে থাকে. চাঁদনী প্রতিদিন আকাশ কে নিয়ে ঘুরতে বের হয়. একদিন আকাশ কে নিয়ে. ঘুরতে বের হয় চাঁদনী. আজ সে প্রথম বার আকাশের সাথে একা ঘুরতে বের হয়েছে. আর আসার সময় আকাশের গিটার টা সাথে করে. নিয়ে এসেছে চাঁদনী দুজনে নদীর পাড়ে যেয়ে বসলো. আকাশ এই কয়দিনে একটু সাভাবিক হয়েছে. কিন্তু কথা কম বলে. আর মাঝে মাঝে কি জেনো ভেবে হেসে ওঠে. চাঁদনী আকাশ কে বললো. আচ্ছা আকাশ. আমি জানি তুমি খুব ভালো গান গাও. তো তোমার নীলিমার জন্য একটা গান গেয়ে আমাকে শুনাবে? আকাশ বললো. নীলিমা নেই তাই গিটারের ছয়টি তারে আর কোনো সুর নেই. চাঁদনী একটু ধমক দিয়ে বলে. আজ থেকে আমি তোমার নীলিমা. আকাশ. চাঁদনী র মুখের দিকে তাকিয়ে বলে.তুমি আমার নীলিমা. কখনো হতে পারবেনা. এই বলে হেসে দেই আকাশ. চাঁদনী বুঝতে পারে. এই টাই বুঝি সত্যি ভালোবাসা. মানুষিক ভাবে বিদ্ধস্থ হওয়ার পরেও আকাশ নীলিমা কে ভোলেনি. হয়তো ভুলবেও না. চাঁদিনী আকাশের দিকে তাকিয়ে কেদে দেই. আকাশ.চাঁদনীর চোখে পানি দেখে. নীলিমার কথা মনে পড়ে যায়. আর চাঁদনী র চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে. বলে নীলিমা কেদোনা এই তো আমি আছি. তোমার চোখে আর পানি আসতে দেবোনা . হয়তো চাঁদনীর চোখে পানি দেখে. আকাশ ওকে নীলিমা ভেবে নেই. আকাশ চাঁদনী কে নীলিমা ভেবে বলে. তুমি না গান শুনতে চেয়েছিলে.আমি তোমাকে গান শোনাবো. প্লিজ কেদোনা.. অনেক মাস পরে. গিটার হাতে নিয়ে আকাশ নদী আর আকাশের দিকে তাকিয়ে গান গাইছে.. " চোখের মাঝে কিসের ব্যথা? এই তো আছি আমি পাশে আমার কাধে তোমার মাথা রেখে দেখো দুঃখ যাবে ভেসে দেবোনা জল আসতে চোখে কথা দিলাম আজ ছিলাম তোমার থাকবো তোমার নীলিমার আকাশ" . গানটি শেষ করে হাসতে থাকে আকাশ. গিটার টি জড়িয়ে ধরে আকাশ. আকাশের কন্ঠে গান শুনে চাঁদনীর মন খুশিতে ভরে যায়. সেদিন কার মত. আকাশ কে বাড়ি পৌছে দিয়ে. টাইম মত ওষুধ খায়িয়ে. আকাশের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করে বাড়ি চলে আসে চাঁদনী. চাঁদনী সেবা যত্ন দেখে আকাশের মা বলে আকাশ যদি সুস্থ থাকতো এই মেয়েটির সাথে আমার আকাশ কে বিয়ে দিতাম. এই পারে আমার আকাশ কে আগলে রাখতে. কিন্তু, ভাগ্য টাই এমন যে সেটা আর হবেনা. এই ভেবে চোখের পানি ছেড়ে কাদতে থাকে. এই ভাবে অনেক দিন কেটে গেলো. চাঁদনী আকাশ কে নিয়ে প্রতিদিন ঘুরতে বের হয় অনেক জাইগাই নিয়ে যাই আর ভালো দেখাশুনা করার জন্য. আকাশ আস্তে আস্তে সাভাবিক হতে থাকে. কিন্তু, হঠাৎ হেসে ওঠা চুপ চাপ থাকাটা কমেনি. চাঁদনী আকাশের বন্ধুদের কাছ জানতে চাই. আকাশ কে আমি কখনো কাঁদতে দেখিনি. ওকি কখনো কাঁদেনি? বন্ধুরা বললো. নীলিমার মৃত্যুর সংবাদ শুনেও আকাশ কাঁদেনি. চাঁদনী বুঝতে পারে. কষ্ট গুলো আকাশের মনে বসে গেছে. যদি আকাশ সেদিন কাঁদতো. তাহলে হয়তো আজ ওর এই অবস্থা হতো না. যেহেতু সেদিন ও কাদেনি তাই ও এমন হয়ে গেছে. চাঁদনী ভাবে কিভাবে আকাশ কে কাঁদানো যাই? যাতে ওর ভেতরের জমানো কষ্ট গুলো বের করা যায়. চাঁদনী একটা উপাই বের করলো. আকাশ কে নীলিমার কবরের কাছে নিয়ে যেতে হবে. নীলিমার কবর দেখে আকাশ হয়তো কাঁদবে. পরের দিন. আকাশ কে নিয়ে নীলিমার কবরের কাছে গেলো চাঁদনী. চাঁদনী আকাশ কে বলে জানো এইটা কার কবর? আকাশ হাসতে হাসতে বলে. না. চাঁদনী বলে এইটা তোমার নীলিমার কবর. ও এই খানে. ঘুমিয়ে আছে আকাশের হাসি বন্ধ হয়ে গেলো. হাটু গেড়ে কবরের পাশে বসে পড়লো. আকাশ আস্তে আস্তে ডাকে নীলমা? নীলিমা? ও নীলিমা? তুমি কি শুনয়ে পাচ্ছ তোমার আকাশ তোমাকে ডাকছে? জানো আমি না তোমাকে অনেক মিস করেছি. তুমিও নিশ্চয় আমাকে মিস করেছো? আমাকে ক্ষমা করে দাও অনেক দেরি করে ফেলেছি আসতে,, কিন্তু, আর যাবোনা তোমাকে ছেড়ে. এই আকাশ এখন থেকে সব সময় নীলমার পাশে থাকবে. আচ্ছা নীলিমা আমি এতো কথা বলছি তুমি কিছু বলছোনা কেনো? I love U বলবানা? মাটির সাথে কান পেতে শুয়ে পড়ে আকাশ. আকাশ বলে কই বলো?? নীলিমা. প্লিজ একবার বলো. কিন্তু, কোনো সাড়া না পেয়ে আকাশ চুপ করে কবরের পাশে বসে,পড়ে. চাঁদনী আকাশের কাজ দেখে কেদেই চলেছে আর ভাবছে এতোদিন তোমার পাশে আছি নীলিমা হওয়ার কত চেষ্টাই না করেছি কিন্তু, তোমার সত্যি ভালোবাসার সামনে. আমার সব কিছু হেরে গেছে. তুমি ঠিক বলেছিলে আমি কখনো তোমার নীলিমা হতে পারবো না.. আকাশ হঠাৎ কবরের বেড়া ধরে নীলিমা বলে চিৎকার দিয়ে কেদে ওঠে এই প্রথম বার চোখের পানি. আকাশ কাদছে. কবরের বেড়া ধরে চিৎকার করে কাদছে আর বলছে নীলিমা প্লিজ একবার বলো I love U এই নীরব যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না আমার. কেনো শর্ত দিয়েছিলে আমাকে? বেচে থেকেও যে আমি মৃত লাশ হয়ে গেছি. আমি না পারি বাচতে না পারি মরতে. এই কথা গুলো বলে ল মাটির বুকে কয়েকবার থাবা দিয়ে আকশের পানে মুখ তুলে চিৎকার দিয়ে বলে নীলিমা ফিরে আসো. প্লিজ ফিরে আসো. ও বিধাতা. তুমি আমার নীলিমাকে একবার আমার কাছে ফিরিয়ে দাও. এই দিকে চাঁদনী ও কাদতে শুরু করে কিন্তু সে. আকাশের কান্না থামানোর জন্য.. এগিয়ে যায় না. কারণ, আজ আকাশের কাদতে হবে. মনের জমানো কষ্ট গুলো. সব বের করে দিতে হবে. চাঁদনী মনে মনে বলে. কাদো আকাশ জোরে জোরে কাদো. আকাশ কাদতে কাঁদতে এক সময় বেহুশ হয়ে যায়. চাঁদনী সাথে সাথে ওকে হাসপাতালে নিয়ে সবাই কে হাসপাতালে. আসার জন্য বলে. ডাক্তার আকাশের ব্রেনের স্কান করে.. আকাশের মামা- বাবা চিন্তায় পড়ে যায় জটিল কিছু হলো কিনা?? কিন্তু, ডাক্তার হেসে দিয়ে বলে এইটা তো পুরো মিরাক্কেল. আকাশের মাথার যে ইনজুরি টা হয়েছিলো. সেটা এখন আর নেই বললেই চলে. ও ১০-১২ দিনের মধ্যে পুরো সুস্থ হয়ে যাবে. চিন্তার কোনো কারণ নেই. কথাটা শুনে বাইরে এসে চাঁদনী কে জড়িয়ে ধরে. কেঁদে দেই আকাশের মা. আর বলে চাঁদনী মা. তোমার. জন্য আমার ছেলেটা নতুন জীবন পেলো তুমি না থাকলে হয়তো ও কোনো দিন ভালো হতো না. তোমার ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবোনা. চাঁদনী বলে আমি আমার কথা রেখেছি. এই বলে হেসে দিলো চাঁদনী. সারাদিন আকাশের পাশে বসে ছিলো চাঁদনী. ডাক্তার আকাশ কে গুমের ইনজেকশন দিয়েছে. সেদিন অনেক দেরি করে. বাড়ি ফিরলো চাঁদনী. চাঁদনীর বাবা বললো. চাঁদনী কে ডেকে বললো তুমি মিথ্যা বলেছো আমাকে. তোমার ক্লাস দুপুরে শেষ হয় আর তোমার কোনো এক্সট্রা ক্লাস হয়না. আর কোনো কোচিং তুমি করোনা. তাহলে. এতো টা সময় তুমি কোথাই থাকো? চাঁদনী চুপ করে আছে. চাঁদনী বাবা ধমক দিয়ে বলে উত্তর দাও. চাঁদনী বলে. আমার পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না. আপনি যে শাস্তি দিবেন আমি মেনে নিবো. চাঁদনীরর বাবা বলে. কাল থেকে তোমার কলেজ যাওয়া বন্ধ. আর তোমার বিয়ের কথা বার্তা চলছে খুব তাড়াতাড়ি তোমার বিয়ে দিয়ে দিবো. ছেলে খুব ভালো. ছেলের পরিবার ঘরোয়া ভাবে বিয়ে করবে. কোনো আনুষ্ঠানিকতা তার করবে না। আশা করি আমার মতের বিরুদ্ধে তুমি কিছু বলবেনা.৫ দিন পর ছেলে পক্ষ তোমাকে দেখতে আসবে. আর সেদিন বিয়স হবে. ছেলে তোমাকে ছবিতে দেখে পছন্দ করেছে. আর এই নাও ছেলের ছবি. চাঁদনী ছবিটা নিয়ে মাথা নিচু করে. চলে যায়. ছবিটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে. বালিশে মুখ লুকিয়ে চিৎকার করে কান্না গুলোকে. নিরবতাই পরিণত করছে. চাঁদনী. তার যে কিছুই বলার নেই.. আর এইভাবে ঘরে বসে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আকাশের কথা ভাবে নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে কান্ন করে. চাঁদনী. আকাশের বন্ধুদের যে ফোন দিয়ে বলবে তার এই অবস্থা. ফোন টাও চাঁদনীর বাবা নিয়ে গেছে. কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না. চাঁদনী. এই দিকে. ২ দিন পরে আকাশ অনেক টা সুস্থ হয়ে গেছে. আকাশের মা আকাশের বন্ধুদের বাড়ি ডাকে. তার সবাই বাড়ি আসে. আকাশের মা. রিফাত কে ডেকে বলে বাবা রিফাত চাঁদনী যে সেই গেলো আর তো এলোনা বাবা তুমি কিছু জানো? ও কোথাই আর কেমন আছে? মেয়েটা অনেক কষ্ট করেছে আকাশের জন্য. ওকে একটু আসতে বলো. আর নয়তো ওর বাড়ির ঠিকানা দাও আমি নিজে যেয়ে নিয়ে আসবো. আকাশ যেহেতু. এখন সুস্থ তাই ভেবেছি ওর সাথে আকাশের বিয়ে দিবো. রিফাত বলে হুম ভালো তো. চাঁদনী আকাশ কে অনেক ভালোবাসে আর সেই জন্য ওর এতো সেবা যত্ন করেছে. আর আমিও জানিনা ও কোথাই আছে ফোন দিলে ফোন বন্ধ বলে. কোনো খোজ নাই. তারপরেও আন্টি আমি দেখছি. কি করা যায়. আচ্ছা বাবা একটু দেখো আর যাও আকাশের রুমে. দেখো আকাশ. ঘুম থেকে উঠছে. সব বন্ধুরা মিলে আকাশের রুমে যেয়ে দেখলো আকাশ রুমে বসে আছে. বন্ধুদের সবাই কে. ঘরে ডুকতে দেখে. আকাশ. উঠে সবাইকে জড়িয়ে ধরলো. বন্ধুরা বললো. এই তো আমাদের রিয়েল আকাশ. চল বের হই ক্যাফেতে আড্ডা হবে. আকাশ বললো ঠিক আছে চল. সবাই ক্যাফেতে যেয়ে বসে আড্ড দিচ্ছে আর আকাশ. কাচের দরজা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে নীলিমাকে ভাবছে. "সেই চেনা পথ সেই জাইগা আছি আমি নেই শুধু তুমি. শুধু হাহাকার ধূ ধূ প্রান্তর চাই এক ফোটা বৃষ্টির পানি নীলিমার মন থেকে আকাশের মন জমিতে কোথাই তুমি নীলিমা??" কথা গুলো ভেবে চোখ ছল ছল করে উঠলো আকাশের. এমন সময় চাঁদনীর কথা মনে,পড়লো তার. বন্ধুদের বললো. আচ্ছা চাঁদনী কই?? ও আমাকে অনেক হেল্প করেছে. ওর কাছে আমি কৃতজ্ঞ. কথাটি শুনে রিফাত চাঁদনীর মনের কথা আকাশ কে বলে. সে কতটা ভালোবাসে. আর বলে আকাশের মায়ের কথা. সে চাঁদনী কে বৌমা বানাতে চাই. আকাশ কথা গুলো শুনে বলে সেটা সম্ভব নয়. এই মনে এই শরীর জুড়ে. শুধু নীলমার অস্থিত্ব যার ভাগ কাওকে দিতে পারবো না. কখনো না. এই বলে ক্যাফে থেকে বের হয়ে যায়. আকাশ. ক্যাফে থেকে বের হয়ে সোজা নীলিমার কবরের সামনে যেয়ে বসে চোখের পানি ঝরাতে থাকে. আর বলে. তোমাকে ছাড়া থাকা যায় না. তোমাকে ছাড়া নিশ্বাস গুলো অর্থহীন. নীলিমা ছাড়া এই আকাশের কোনো মূল্য নেই. তাই তো তুমি ছাড়া আর কাওকে জাইগা দিতে পারবোনা. এই বলে কাদছে আকাশ. আর বলছে.. তুমি কি শুনছো নীলিমা. তুমি ছাড়া আর কাওকে জাইগা দেওয়া সম্ভব নয়. এই বলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায়. আকাশ. এই ভাবে পুরো একটা দিন কাঁদতে থাকে আকাশ. এই দিকে. চাঁদনী ও আকাশের কথা ভেবে কাদছে না পারছে বলতে না পারছে সইতে. রিফাত আর বাকিরা চাঁদনীর খোজ নেওয়ার চেষ্টাই তার এক বান্ধবিকে চাঁদনীর বাসাই পাঠালো. চাঁদনীর বাসাই গিয়ে চাঁদনীর সাথে দেখা করে সব জানলো. যে কাল সন্ধ্যায় তার বিয়ে. আকাশ যেমন নীলমাকে না পেয়ে জীবন্ত লাশ হয়ে গেছে. তেমনি. আমিও আকাশ কে না পেলে জীবন্ত লাশ হয়ে বেচে থাকবো. চাঁদনীর বান্ধবী কথা গুলো রিফাত কে বললো. রিফাত কথা গুলো আকাশ কে জানালো. আকাশ বললো. তার কিছু করার নেই. নীলমা ছাড়া সে আর কাওকে ভালোবাসতে আপন করতে পারবেনা. আকাশ কে অনেক বোঝালো তার বন্ধুরা কিন্তু লাভ হলো না. আকাশ সারাদিন নীলমার কথা ভাবছে. আর ভুল খেয়ালে চাঁদনীর কথা ভাবছে সেই মেয়েটি যে তার সব কিছু সহ্য করে তার নতুন জীবনে ফিরেয়ে দিলো. আজ সে কষ্ট পাচ্ছে. আমার জন্য. কিন্তু আমি কিছু করছিনা. কি বা করবো ওকে আমি বিয়ে করলে. ও কখনো সুখী হতে পারবেনা এই ভেবে আকাশ নিজেকে শান্তনা দেই. সেই দিন রাতে আকাশ যখন ঘুমিয়ে গেছে. সপ্ন মাঝে নীলমা আসে. আর আকাশ কে বলে আকাশ. তুমি চাঁদনী কে কষ্ট দিও না ওকে আপন করে নাও. ও তোমার অনেক খেয়াল রাখবে. যে গুলো আমি করতে পারিনি ওর মধ্যে থেকে আমাকে করতে দাও আকাশ. চাঁদনী র মাঝে তোমার নীলমাকে খুজে নিও. আর আমি না হয় চাঁদনীরর মাঝে থেকে তোমার হয়ে রয়ে যাবো. আকাশ চাঁদনী আমার মত পারিবারিক চাপে বিয়ে করছে তুমি ওকে হারাতে দিও না আকড়ে ধরো আকাশ.. আকাশ ঘুমের ঘরে ছটফট করে নীলমা নীলমা বলে ডাকতে থাকে.. এক সময় নীলিমা বলে চিৎকার দিয়ে ডাক দেই. সাথে সাথে আকাশের মা রুম থেকে চলে আসে বলে কি হইছে আকাশ?? এমন করছিস কেনো?? বল কি হইছে? আকাশ বলে চাঁদনী মা চাঁদনী. হ্যা চাঁদনী কি হইছে চাঁদনীর? মা ওর আজকে বিয়ে. ওর বাড়ি থেকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে. আমি তো আমার নীলমাকে বাচাতে পারলানা. আমি চাঁদনী কে মরতে দিতে পারবোনা. র তখন ই বন্ধুদের ফোন দিয়ে বলে তাড়াতাড়ি বের হ চাঁদনী দের বাসাই যাবো. সবাই রিতিমত হাজির. আকাশের বাবা- মা ও আকাশের সাথে গেলো. তাড়াতাড়ি. চাঁদনীরর বাসাই পৌছে চাঁদনী দের বাড়ি ডুকে গেলো আকাশ. বাসাই ডুকে নীলিমা নীলমা বলে ডাকতে লাগলো. ভেতর থেকে চাঁদনীর বাবা বের হয়ে আসলো. এসে বললো কে তুমি কি চাও? আকাশ বললো আমি নীলমাকে নিতে এসেছি. কিন্তু নীলিমা নামে এই বাড়ি কেউ থাকেনা. হুম জানি চাঁদনী তো থাকে তাই না? হ্যা থাকে কিন্তু কি হয়েছে? ওকে আমি নিতে এসেছি.. আমার নীলিমাকে আমি আবার মরতে দিবোনা. চাঁদনীর বাবা বলে কি নীলমা কি সব বলছো কিছুই বুঝতে পারছিনা. এই দিকে আকাশের গলার আওয়াজ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আসে চাঁদনী.আকাশ চাঁদনী কে দেখে বলে এই তো আমার নীলিমা. নীলমা আমি তোমাকে নিতে এসেছি তুমি চলো. চাঁদনীরর বাবা বলে কি ব্যাপার কিছুই বুঝতেছিনা. প্লিজ কেউ কিছু বলুন. তখন আকাশের বাবা-মা বন্ধুরা সব কিছু খুলে বলো আকাশের ব্যাপারে. নীলমার ব্যাপারে. চাঁদনীরর ব্যাপারে. কথা গুলো শুনে চাঁদনীর বাবা. ও দুঃখ পেলো. তিনি চাঁদনী কে ডেকে বললো মা তোর যে পছন্দ ছিলো তুই বলিস নি কেনো.? চাঁদনী বলে তোমাকে কষ্ট দিতে চাই কি বাবা আর তুই কষ্ট পেলে বুঝি আমি ভালো থাকতাম. এই বলে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কেদে দিলো. এর পর বলে আকাশ তুমি তোমার চাঁদনী দুঃখীত তোমার নীলমাকে নিয়ে যাও. কিন্তু ওকে কখনো কষ্ট দিবা না কথা দাও. আকাশ বসে পড়ে কেদে দিয়ে বলে যতদিন বাচবো আপনার মেয়েকে ভালোরাখার সুখী করার শেষ চেষ্টা করবো. আর এই ভাবে দুই পরীবারের হ্যা সূচক বাক্য দিয়ে চাঁদনী সরি আকাশ নীলমার বিয়ে হয়ে গেলো. আকাশ নীলমার কবর জিয়ারত করে বাড়ি ফিরে এল সেদিন রাতে আকাশ চাঁদনী কে বললো ছাদে যাই. আকাশ চাঁদনীকে নিয়ে ছাদে গেলো ছাদের কিনারে দুজন পা ঝুলিয়ে বসে আছে. আকাশ চুপ করে বসে চাঁদনী বলে কি নীলিমার কথা মনে পড়ছে?? আকাশ বলে হ্যা. এই ভাবে শেষ বার বসে কথা বলেছিলাম নীলিমার সাথে. চাঁদনী বলে যদি আমার ও শেষ বার হয় তাহলে আকাশ চাঁদনীর মুখ চেপে ধরে বললো. কখনো না আমি আমার নীলিমাকে আর হারাতে দেবোনা. সারাজীবন আগলে রাখবো কথা দিলাম. এই ভাবে চাঁদনী সরি নীলমা আকাশ সুখে তাদের জীবন পার করতে লাগলো. আকাশ এখন চাঁদনীর মাঝে নীলমাকে খুজে নেওয়ার চেষ্টা করছে. ভালো থাকুক আকাশ নীলিমা অমর হোক তাদের ভালোবাসা.. . ( প্রথম ভালোবাসা চাইলেও ভোলা যায় না.আকাশ ও ভুলতে পারবেনা. চাঁদনীর মাঝে হয়তো সে নীলামাকে খুজছে আর চাঁদনী নীলমার মত আকাশ কে আগলে রাখার চেষ্টা করছে. তারা অবশ্যই সফল হবে. গল্পের শেষ অংশ টা এতো বড় হওয়াই আমি ক্ষমা চাচ্ছি. কোনো প্রকার ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন. আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষাই রইলাম. ভালো থাকবেন সবাই. ধন্যবাদ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now