বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
"প্রেমময়"
পর্ব-২০
.
পরীকে অরনিতা খাওয়াতে বসলো।নিজের হাতে রুটির টুকরোগুলো পরীর মুখে পুরে দিলো।পরী কিছুক্ষণ পর পর বলে 'খাবো না'।ব্যাঙরাজকুমারের গল্পের লোভ দেখিয়ে অরনিতা পরীকে নাস্তা খাইয়ে গেলো।
পরীর দিকে তাকালে পরীর প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মাতে শুরু করে।কি অদ্ভুত!পরীর জীবনটা এখন দুইদিকে ঘুরবে।মা বলবে তার কাছে যেতে আর বাবা বলবে তার কাছে থাকতে।তবে বড় ভাবী পরীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।এতে কোনো সন্দেহ নেই।অরনিতা বললো-
-পরী লক্ষীটা,তোমার কি মন খারাপ হয় এখন?
পরী অরনিতার দিকে তাকালো।আর বললো-
-না।
-ঘুম থেকে উঠে তোমার আব্বুর সাথে কথা হয়েছিলো তোমার?
পরী উত্তর দিলো-
-না
অরনিতা বললো-
-যখন খেলতে ইচ্ছে করবে তখন আমার রুমে চলে আসবে আমি আর তুমি মজা করবো।
পরী 'হ্যা' সূচক মাথা নাড়ালো।অরনিতা বললো-
-আচ্ছা পরী,তোমার খেলনা পুতুলটা যদি আমি তোমার কাছ থেকে নিতে চাই।তুমি কি আমাকে দিবে?
পরী মাথা নাড়িয়ে বললো-
-না।আমার পুতুল তোমাকে দিবো কেন?
অরনিতা বললো-
-তুমিও আমাদের ঘরের ছোট একটা পুতুল।যদি কেউ তোমাকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে চলে যেতে চায় তাহলে কি তুমি চলে যাবে আমাদের ছেড়ে?
পরী অসহায়ের মতো করে বললো-
-আমি দাদুর কাছে যাবো।
অরনিতা বললো-
-ভয় নেই তোমার।তুমি আমাদের পুতুল।আমাদের সাথেই থাকবে সবসময়।কেউ নিতে চাইলেও নিয়ে যেতে দিবো না।থাকবে না তুমি আমাদের সাথে?
পরী মাথা নাড়িয়ে বললো-
-হ্যা থাকবো।
-গুড গার্ল।
পরী রুনার রুমে চলে গেলো।অরনিতা হালিমাকে বললো-
-সায়েম ভাইয়া নাস্তা খেয়েছে?
হালিমা বললো-
-না।উনার ঘরের দরজা খোলা।দরজার সামনে দাঁড়াইয়া নাস্তা খাওনের জইন্ন ডাইকা আসছি।
-রুমের দরজা খুলেছে?
-জি।
-আমি তাহলে একবার গিয়ে বলে আসি।দেখি আমার কথার রেসপন্স করে কিনা।
হালিমা কিছু বললো না।অরনিতা সায়েমের রুমে গিয়ে দেখলো রুনা তার ছেলের সাথে বসে কথা বলছেন।রুমের চারিদিক লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে।ছবির ফ্রেমের কাচ ভেঙে নিচে পরে আছে,টেবিল ক্লথ,টেবিল,ড্রেসিং টেবিল এর সব জিনিসপত্র ছড়িয়ে পরে আছে নিচে।রুনা বসে বসে তার ছেলেকে বোঝাচ্ছেন।অরনিতা রুমের ভেতরে যেতে নিয়েও গেলো না।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনে গেলো।রুনা সায়েমকে বলছেন-
-কি করেছিস বাবা?ঘরের এই হাল কেন করেছিস?
সায়েম চেঁচিয়ে বলছে-
-ইচ্ছে হয়েছে তাই করেছি।
-তোর ছোট মেয়েটা হঠাৎ রুমে এসে রুমটাকে এইরকম আগোছালো দেখলে ভয় পেয়ে যাবে।
-আগেও ভয় পেয়েছে,মার খেয়েছে আর এইটা তো কিছুই না।আমাকে আমার মতো থাকতে দেও।আমি কারো যোগ্য কখনোই ছিলাম না।এমনকি হতেও পারবো না।
-আমি চাই না তোর জন্য পরীর জীবনটা নষ্ট হোক।তাই অনেক ভেবে চিন্তে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
-কি সিদ্ধান্ত?
-পরীর জন্য মা এনে দিবো।
সায়েম কথা না বলে সিগারেট ধরাতে লাগলো।রুনা বললেন-
-কি হলো?তুই কি আমার কথা শুনেছিস?
সায়েম মাথা নাড়িয়ে বললো-
-হুম।
-এই ব্যাপারে কি কিছু বলার নেই তোর?
সায়েম আগের মতো সিগারেট ধরাতে ধরাতে মাথা নাড়িয়ে বললো-
-হুম।
-তাহলে কিছু বলছিস না কেন?
সায়েম আবার বললো-
-হুম।
-তোর 'হুম' শব্দের মানেটা কী?
সায়েম জোর শব্দে হেসে বললো-
-ভেরি ফানি।তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছ মা।তোমার চিন্তাধারা দেখে আমি অবাক হচ্ছি।তুমি সব জেনেও আবার বিয়ের কথা উচ্চারণ করো কি করে?
এই বলে সায়েম উঠে গেলো।সায়েমকে উঠতে দেখে অরনিতা তাড়াহুড়া করে দরজার সামনে থেকে সরে গেলো।সায়েম হাটতে পারছে না।হেলে ধুলে হাটছে।হাটার সময় মাঝেমাঝে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে আবার স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে হাটছে।
সায়েম যাওয়া মাত্রই অরনিতা রুনার কাছে গিয়ে বললো-
-আন্টি,ভাইয়া কাল সারাদিনে কিছু খায় নি,আজও নাস্তা খেলো না।শুধু সিগারেট খাচ্ছে।আপনি তাকে খেতে বলুন।
রুনা উঠে গিয়ে বললো-
-ঠিকাছে।আর শোনো,হালিমাকে বলবে রুমটা পরিষ্কার করতে।পরী রুমের এই অবস্থা দেখলে ভয় পাবে।
-আমিই পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
রুনা চলে যাওয়ার পর অরনিতা রুমের চারিদিকে তাকালো।কেমন একটা বাজে গন্ধে রুম ভরে আছে।মেঝেতে জিনিসপত্র এলোপাথাড়ি পরে আছে।দেয়ালে টাঙানো ছবির ফ্রেমের কাচ ভেঙে চারিদিকে ছড়িয়ে আছে।কেউ না দেখে হাটতে নিলেই পা কেটে যাবে।এক কোণায় পরে আছে এলবাম।এলবাম থেকে কিছু ছবি পরে আছে।আর কিছু ছবি আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়েছে।অরনিতা কাচগুলো একটা একটা করে উঠালো।হঠাৎ অরনিতা লক্ষ্য করলো পরী দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে।পরীকে দেখে অরনিতা স্বাভাবিকভাবে বললো-
-ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন পরী?
পরী পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো।ভয় পাচ্ছে।ওর চোখে ভয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
অরনিতা পরীর কাছে গিয়ে বললো-
-দাদুর রুমে গিয়ে বসো।হাতের কাজ সেরে তোমার সাথে খেলতে বসবো।মজার একটা খেলা খেলবো আমরা।
.
.
.
জবা আনন্দিত স্বরে বললো-
-নিহিলা আপু,বরের বাসা থেকে কাপড় চোপড় পাঠিয়েছে।চারটি জামা দিয়েছে আমাকে আর জুই আপুকে।বাকি সবগুলো তোমার।
জুই শুয়েছিলো।উঠে বসে বললো-
-দেখি নিয়ে আয় তো আপু।
-ফুপু আর মা দেখছে।ব্রিফকেস ভরা জামাকাপড়।বিয়ের সাজের টুকটাক জিনিসপত্র পরশুদিন পাঠাবে।
নিহিলা কিছু বললো না।শুধু চুপচাপ ওদের কথা শুনে গেলো।জুই হেসে বললো-
-দেখেছিস জবা আপু,নিহিলা আপু কেমন লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।
জবা বললো-
-কথা বলে নিহিলা আপুকে আরও লজ্জা দিস না তো।আরেকটা কথা বলতে তো ভুলেই গেছি।কথাটা শুনলে নিহিলা আপু দুই সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় দিয়ে দেখতে যাবে।
জুই বললো-
-কি এমন কথা?
-দুলাভাই নিহিলা আপুর জন্য একটা স্পেশাল গিফট পাঠিয়েছে।বাক্সটি রাবিং পেপারে মুড়ানো।ওইটা শুধু নিহিলা আপুকে খোলার কথা বলা হয়েছে।বাক্সের উপরে ছোট করে লিখে দিয়েছে।
-তোর কি মনে হচ্ছে রে আপু?বাক্সটার মধ্যে কি থাকতে পারে?
-ওইটাই তো সিক্রেট রাখা হলো।জানিস,আমি বাক্সটা লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম।হঠাৎ ফুপু দেখে ফেললো আর ধমক দিলো।এরপর আমি রেখে দিলাম।
-বাক্সটা লুকিয়ে রাখতে পারলে মজা হতো রে।বাক্সটার ভেতরে কি থাকতে পারে?
-সেইটাই তো রহস্য।তাদের পার্সোনাল জিনিস নিয়ে আমাদের খুচাখুচি করাটা কি ঠিক হবে রে জুই?
এই বলে জবা আর জুই হেসে দিলো।নিহিলা ভ্রু কুঁচকে বললো-
-তোরা কি থামবি?অনেক মজা করেছিস।আর না।
জবা হেসে নিহিলাকে বললো-
-বাক্সটি দেখার জন্য কি তোমার মনও উথালপাতাল করছে নিহিলা আপু?
নিহিলা বললো-
-তোরা খুব বেশি কথা বলিস।তোরা দুইজন খুব পেকে গেছিস।আমার আগে তোদের বিয়ে ঠিক করা উচিত ছিলো।
জবা নিহিলাকে বললো-
-ফুপুর রুমে যাও।বাক্সটা তোমার জন্য আলাদা করে রাখা আছে।আমার আর জুই চোরের জন্য মা আর ফুপু এই দুইজন ইন্সপেক্টর তোমার বাক্সটিকে সুরক্ষিত জায়গায় রেখেছে।নো টেনশন।
নিহিলা রাগ দেখিয়ে বললো-
-মজা করার কি হলো এখানে?
এই বলে নিহিলা যেতে লাগলো।জবা নিহিলাকে শুনিয়ে শুনিয়ে জুইকে বললো-
-দেখেছিস।বলে ছিলাম না..গিফট এর কথা শোনা মত্রই নিহিলা আপু দুই সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় দিবে।
নিহিলা মুখ টিপে হাসলো।জবার কথা সে শুনেও না শোনার মতো ভান করে চলে গেলো।
রোকসানা আর নিহিলার মামী ব্রিফকেস থেকে জামাকাপড় বের করছেন।নিহিলার শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছে সব।নিহিলাকে দেখে রোকসানা বললেন-
-জবাকে বলেছিলাম তোকে ডেকে আনতে।এতোক্ষণ কোথায় ছিলি?আসতে এতো দেরি হলো কেন?এই দেখ..এইগুলো তোর জন্য পাঠানো হয়েছে।
মামী রসিকতা করে বললেন-
-আমার বিয়ের সময় তোর মামাও আমার জন্য এতোকিছু পাঠায় নি।বিয়ের পর মনে হয় তোকে রাজরানী করে রাখবে তারা।
রোকসানা হাসলেন।কিন্তু নিহিলা খুঁজছে গিফট।যেইটার কথা এতোক্ষণ জবা বলে যাচ্ছিল।কিন্তু গিফটের কথা মা মামী কেউই বলছেন না।নিজ থেকে বলতে গেলে তারাও জবা আর জুইয়ের মতো হাসাহাসি করবে।কথাটা সরাসরি বলাও যাচ্ছে না।নিহিলা এদিকওদিক তাকিয়ে গিফটটা খুঁজতে লাগলো।রোকসানা খেয়াল করে বললেন-
-তুই কি কিছু খুঁজছিস নিহিলা?
নিহিলা আমতা আমতা করে বললো-
-না তো..
রোকসানা বললেন-
-কখন থেকেই খেয়াল করছি এদিকওদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজছিস?
-না কিছুই খুঁজছি না আমি।
জবা এসে বাক্সটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে নিহিলাকে বললো-
-তুমি এইটা খুঁজছো না তো নিহিলা আপু?
নিহিলা চমকে গিয়ে বললো-
-এইটা তোর হাতে কি করে?তুই না বললি মা আর মামী এইটা পাহারা দিয়ে রেখেছে।যাতে তোরা এইটা না ধরতে পারিস।
জবা হেসে বললো-
-ওইটা মজা করে বলেছিলাম সিম্পল।
নিহিলা সামনে এগিয়ে বললো-
-দে বলছি।
জবা দৌড়ে বললো-
-দিবো না।এই বাক্সের ভেতর যা আছে ওইটা আমার আর জুইয়ের।বিয়ের পর এইরকম গিফট দুলাভাইয়ের কাছ থেকে হাজারটা নিতে পারবে।
নিহিলা জবাকে ধরার চেষ্টা করে বললো-
-দে জবা।মজা করিস না।
-কতোদিন পর তুমি বিয়ে করে চলেই যাবে।তখন মজা করতে পারবো না।তাই যা মজা করার এখনো করে নিচ্ছি।আর ডিসিশন এইটাই ফাইনাল।গিফটটাতে যা আছে ওইটা আমার আর জুইয়ের।
নিহিলা জবাকে ধরার চেষ্টা করতে লাগলো আর জবার পিছুপিছু ছুটতে লাগলো।কিন্তু জবাকে ধরতে পারলো না।জবা গিফটটা হাতে নিয়ে দৌড়ে চলে গেলো।
নিহিলা বললো-
-এইবার তো দিয়ে দে।
-দিবো।তবে একটা শর্ত।
-কিসের শর্ত?
-এইটার ভেতর কি আছে সেইটা আমি আর জুই দেখতে চাই।যদি দেখাতে রাজি থাকো তাহলেই দিবো।
-ওকে,ফাইন।এইবার তো দে..
জবা হিহি করে হেসে বললো-
-এই নাও।মনে থাকে যেন।যদি মনে না থাকে তাহলে আমি আর জুই মিলে অন্য একটা ফন্দি আটবো।
To Be Continued..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now