বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মধ্যবিত্ত পরিবার

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X হাবিব সোফায় বসে আছে।তার সামনের টি-টেবিলে চা দেয়া হয়েছে।টি-টেবিলের ওপাশে চেয়ার টেনে বসেছেন ফরিদা বেগম।হাবিব চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে আছে,ফরিদা দেখছেন নিজের মোবাইল ফোন।কেউ কিছু বলছেনা।অথচ দু'জন বলার জন্যেই আজ একত্রিত হয়েছে। কি বলে কথা শুরু করবে হাবিব ভেবে পাচ্ছেনা। - গত আটমাস ধরে সারাদিনের অফিস শেষে সন্ধ্যায় হাবিব একটু বাড়তি ইনকামের আশায় ফরিদা বেগমের মেয়ে কাকনকে পড়াতো।মেয়েটা এইবার এসএসসি দিবে।পড়ানো এতদিনে অসহ্য ঠেকছে হাবিবের কাছে।কারণ হলো,পড়ানোর পুরো সময়টা জুড়ে ফরিদা পাশে বসে থাকেন।তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখেন হাবিবের হাত-পাগুলো কী কী করছে।এত সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হলে পৃথিবীতে টেকা মুশকিল!পৃথিবীতে আমরা বেঁচে আছি সন্দেহের উর্দ্ধে। বেঁচে থাকায় কোন সন্দেহ নেই! আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে,মাস শেষে তিনি হাতে করে এনে হাবিবকে চারহাজার টাকা দেন।হাত বাড়িয়ে টাকাগুলো নেয়ার সময় হাবিব নিজেকে ভিক্ষুক গোত্রীয় কেউ মনে করে।সে মনে মনে বলে,চারহাজার টাকা দিতে পারছেন,চার টাকার একটা খাম কিনতে পারেন না?খামে করে টাকাগুলো দিলেই বা কী হয়? - অফিসে তার দায়িত্ব হচ্ছে,হিসাব রক্ষকের,শেষ কিছুদিন সেখানেও গণ্ডগোল চলছে।বিশ হাজার টাকার একটা হিসাব মিলছেনা।ম্যানেজার সাহেব সব ঠিকঠাক করার জন্য একসপ্তাহের সময় বেধে দিয়েছে।সেখানেও প্রায় চারদিন চলে গেছে।অথচ এখনো কোন কূল-কিনারা হয়নি। - সবমিলিয়ে অসহ্য হয়েই হাবিব গতকাল বিকেলে ফরিদাকে ফোন দিয়ে বলেছে,কাকনকে সে আর পড়াবেনা।উত্তরে ফরিদা দেখা করতে বলেছিলেন। - যাইহোক, হাবিব কাপ মুখের কাছে ধরে রেখেছে।কিছুক্ষণ পর পরই সে কাপে ফুঁ দিচ্ছে আর কাপ থেকে কিছু বাষ্প এসে তার চশমার লেন্সকে ঝাপ্সা করে দিচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পর আবার নিজে নিজেই বাষ্প কেটে যাচ্ছে।তাকে দেখে মনে হচ্ছে এই অদ্ভুত খেলায় সে খুব মঝা পাচ্ছে।ফরিদার চোখ এখনো তার মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে।এক মুহুর্তের জন্যেও তিনি চোখ তুলেন নি। - হাবিব চা মুখে দিল।ভালোই লাগছে।এ বাড়িতে যতদিন, যতবার তাকে চা দেয়া হয়েছিল,কোন বারই তার এ বাড়ির চা ভালো লাগেনি।সবসময়ই চায়ে একটা তেতো ভাব থাকত।সাধারণত ফ্লাস্কে রাখা চা'ই এরকম তেতো হয়।আজ তার ভালো লাগছে।হয়তো শেষদিন বলে!সে চুকচুক শব্দ করে চা খাচ্ছে।ভদ্র সমাজে শব্দ করে চা খাওয়া এক ধরণের অভদ্রতা এটা বোধহয় হাবিব জানেনা।ফরিদা বেগমও নির্বিকার। - শেষে হাবিবই বলল,'আন্টি কেন জানি ডেকেছিলেন?' - ডাকা, না ডাকার কিছু নেই।বিশদিন পার হয়েছে তাই টাকা নিয়ে যেতে ডেকেছিলাম। - চা শেষ করতেই ফরিদা তার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিল।আঙ্গুল ঘষে অনুমান করলেই বোঝা যাবে,এখানে কিছু টাকা আছে।শেষদিনের এই খাম তার মন জয় করল।হাবিবের ইচ্ছা করল,আরো কিছুদিন পড়ালে মন্দ হয়না।টাকার'ও তো প্রয়োজন আছে---?কিন্তু যা হবার তা হয়েই গেছে, ফরিদা বেগম অনেক জোরাজুরি করে আরো কয়েকটা দিন পড়ানোর কথা বলেছিললেন,কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।এখন আর বলা যায়না,' আমি কাকনকে পড়াব।' টাকা নিয়ে হেটে হেটেই হাবিব মেসে ফিরছে।হাটায় উপকার আছে,শরীর ভালো থাকে।মধ্যবিত্তদের বড় এক গুণ আছে এরা নিজেদের অসমর্থতাকে স্বীকার করে না,অসমর্থতা তা যত সুন্দরই হোক,তাকে অসুন্দর বানিয়ে নেয়।হাবিবের মন চাচ্ছে রিকশায় যেতে,অথচ সে হেটে যাচ্ছে আর এখানে সে শারীরিক সুস্থতার ব্যাপারটা দাঁড় করিয়েছে। মেসে ফিরেই হাবিব একটা চিঠি ফেল মেস ম্যানেজারের কাছ থেকে।তার অফিস থেকে কে নাকি এসে দিয়ে গেছে।চিঠি দেখেই তার চোখ কপালে উঠার যোগাড়! ম্যানেজার আহসান উল্লাহর স্বাক্ষর করা চিঠি।চিঠিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির কথা বলা হয়েছে।কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে উপরের নির্দেশ।হাবিব ভালো করেই জানে উপরের নির্দেশ-টিরদেশ কিছুই না।আহসান উল্লাহ সাহেব বেশ কিছুদিন ধরেই তার শালাকে অফিসের ক্যাশিয়ার পদে বসাতে চাচ্ছিলেন।সব কিছু কেমন বিদঘুটে ঠেকছে হাবিবের কাছে।দরজা-জানালা বন্ধ করে সে শুয়ে আছে।টেনশন কমানোর জন্যে ঘুমের চেয়ে বড় ওষুধ আর কিচ্ছু নেই!সমস্যা হলো এই মুহুর্তে ঘুম আসছেই না। চাকরি, টিউশনি কিছুই নেই।কি করা যায়?গ্রামের বাড়িতে কিডনি সমস্যায় ভোগা বাবা পড়ে আছে।প্রতিমাসে কয়েকবার করে তার ডায়ালাসিস করাতে হয়।প্রতি মাসেই তার প্রয়োজন পড়ে ত্রিশ হাজার টাকার।তাছাড়া ফ্যামিলির অন্যান্য খরচের জন্য মায়ের কাছেও কিছু টাকা পাঠাতে হয়।চল্লিশ হাজার টাকা স্যালারির চাকরিটা ছিল তাতে সব কোন মতে সারানো গিয়েছিল।এখন চাকরি টিউশনি কিছুই নেই।গ্রামে বাবার সাথে বিবাহযোগ্য এক বোন আর মা। গতবছর একবার এরকম হয়েছিল,তখন হাবিবের বন্ধু দিদার তাকে শকু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বলেছিল।শকু ভাইয়ের কি সব ব্যবসা আছে।সেখানে হাবিবকে শুধু ব্যবসার জিনিস এদিকওদিক নিয়ে যেতে হবে।স্যালারী প্রচুর!পরে জানা গেল ব্যবসা হচ্ছে,ইয়াবা পাচার।অনৈতিক পথে অধিক অর্থ উপার্জনের চেয়ে না খেয়ে থাকা ভালো! তাই হাবিব তা প্রত্যাখ্যান করেছে।সেখানেও বাজল ঘাপলা!দিদার হাবিবের কথা শকু ভাইকে বলেছে।তাই শকু ভাই তাকে খুঁজছে। শকু ভাই কঠিন প্রকৃতির লোক।তার নাম নিয়েও আছে ভয়ঙ্কর সব কথা।তিনি নাকি সবাইকে শকুনের দৃষ্টিতে দেখেন। তার শকুন দৃষ্টি থেকে পালানোর কোন ওয়ে নাই।আবার তিনি নাকি সব কথার শেষে যুক্ত করেন 'শকুনের বাচ্চা' যেমন,কোথায় তুমি শকুনের বাচ্চা? মেয়েকে বলেন,মামনি তুমি ভাত খেয়েছ শকুনের বাচ্চা? কাউকে হুমকি দেয়ার সময় বলেন,তোকে কাঁচা খাইয়া ফেলমু শকুনের বাচ্চা! এইসব হলো শকু ভাইয়ের শকুন তত্ত্ব।শকুন কেন তার এত প্রিয় তা কেউ জানেনা।হাবিব অনেকদিন পালিয়ে বেড়িয়েছিল শকু ভাইয়ের কাছ থেকে। হাবিবের তন্দ্রা মতো এসেছিল।তন্দ্রা কেটে গেছে কারন তার ফোনে মেসেজ এসেছে।ফোনের আলো তার চোখে এসে লাগছে। মেসেজটা সাবিনার।তার বোন।কাকনের মতো সাবিনাও এইবার এসএসসি দিবে।সে ইংরেজি অক্ষরে বাংলায় মেসেজ পাঠিয়েছে। লেখা আছে, "Vaiya kemon achis?Ekhane baba chara amra 2jon e sustho achi.khub bioode poRe tOke knock korchi.samnei amar exam er form feel up date.okhane 5hajar Taka lagbe.sathe babar obstha o kharap.goto soptahe cal kinechilo ma.tai babar Dialasis o hoyni.babar pet fule geche.nisshas felte parena.ami jani ekhono mas ses hoyni.tao tui 25tarikher age kosto kore 20hajar Taka pathiye de barite.babar obstha sotti e kharap.ma ar amake niye cinta koris na.sob cinta unake niye.ar kicchu bolbona.tui valo thak.bye" মেসেজ পড়ে হাবিবের তন্দ্রা পুরোপুরি কেটে গেল।সে উঠে বসল আর বিড়বিড় করে বলতে লাগল,"Misfortune never comes alone! Misfortune never........!" হাবিবের সব এলোমেলো লাগছে।মাথার উপর এই মহাবিশ্ব যেন ভোঁভোঁ করে ঘুরছে।চিন্তাশক্তি একেবারেই কাজ করছেনা তার।ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহর তার বিচ্ছিরি লাগছে।তার প্রয়োজন বিশুদ্ধ বাতাশ!উন্মুক্ত আকাশ!চিকচিক করা কাকচক্ষু নদীর পানি! রাত বারোটা তেত্রিশ বাজে।হাবিব মেস থেকে বেরিয়ে পড়েছে।সে হাটছে পশ্চিমের বড় রাস্তাটা ধরে।গাড়ি খুব একটা নেই।ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় তার ছায়া পড়ছে।হাবিব হেটে চলেছে নীল পাঞ্জাবীটা গায়ে পড়ে।তার মাথায় এক রাশ হতাশা,ব্যর্থতা। এরা তাকে চেপে ধরেছে।সে একবার পরিবারের কথা ভেবে আকশের দিকে চাইল।ঈশ্বর কোথায়?তঁাকে দেখা যাচ্ছেনা।উপরে জ্যোৎস্না ফুটেছে।আবার সে হাটতে শুরু করেছে।এ হাটা গন্তব্যহীন।গন্তব্যহীন যাত্রায় সুখ আছে।এর শেষে কখনো অপেক্ষা করেনা কালো কোন দেয়াল।এর পুরোটা জুড়েই প্রফুল্লতা.....! মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রত্যেকটা তরুনই যেন একেকজন হাবিব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, লেখক: ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান
→ মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলেদের জীবনে বয়ে যাওয়া কিছু কথা:- ...
→ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প
→ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে [ সবাইকে পড়ার অনুরোধ ]
→ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প
→ মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলেটা
→ মধ্যবিত্ত একটা পরিবার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now