বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চাইনিজে সবাই ফিসফিস করে কথা বলে। বাবুন, স্যার আর রুস্তম ও নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। মেয়ে পক্ষে কয় জন আসবে, কে কে আসবে, কি কথা তারা জানতে চাইতে পারে এইসব হাবিজাবি। এমন সময় সুন্দরী এক মহিলা এবং তার সাথে আরও দু'জন লোক কে চাইনিজে ঢুকতে দেখে তারা তিন জন ই নড়েচড়ে বসলো। কিন্তু দেখা গেল সেই তিন জন তাদের দিকে ফিরেও তাকাল না বরং কোনার এক টেবিলের দিকে চলে গেল। এভাবে বেশ কয়েকজন সুন্দরী মেয়েকে চাইনিজে ঢুকতে দেখল তারা কিন্তু এদের মধ্যে কেউ ই তাদের দিকে এলো না। এভাবে প্রায় ১ ঘণ্টা কেটে গেলো। কোন মেয়ে ঢুকলেই তিনজন তাকিয়ে থাকে কোন টেবিলে যায় দেখার জন্য। বাবুন, স্যার আর রুস্তম যখন এভাবে মানুষকে দেখায় ব্যস্ত তখন আচমকা তাদের টেবিলে টুকটুক করে কে যেন বাড়ি দিল। বাবুন তাকিয়ে দেখে সালোয়ার কামিজ পড়া একজন লম্বা চিকনা টাইপের মেয়ে তাদের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে। চোখে ইয়া মোটা ফ্রেমের এক চশমা, চুলে শক্ত করে দুই বেণী বাঁধা। কাঁধে কবি সাহিত্যিকদের মত ব্যাগ আর গলায় ঝুলানো আইডি কার্ডে নাম লেখা "মোসাম্মাৎ পায়রা বিনতে তোতা"।
আপনি ই তো সে তাই না, যিনি আমাকে দেখতে এসেছেন? মেয়েটির প্রশ্নে বাবুনদের চমক ভাঙল। মেয়েটি স্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার মামু জান আপনার ছবি দিয়েছিলেন আমাকে তাই দেখেই চিনতে পেরেছি। ছবিতে আপনাকে যতটা অসহায় আর দুস্থ লাগছিলো বাস্তবে দেখি আপনার অবস্থা তার থেকেও করুন। ছেড়া সার্ট পড়ে মেয়ে দেখতে চলে এলেন! সার্টের কথা উঠতেই স্যার উসখুস শুরু করলেন। আশেপাশে দেখে বললেন আপনার সাথে আর কে এসেছেন? মোসাম্মাৎ পায়রা বিনতে তোতা চেয়ারে বসতে বসতে বললেন, আরে আজব সাথে আবার কে থাকবে! স্যার কি বলবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। যে মেয়ে একা একা ছেলে দেখতে চলে আসে তাকে কি জিজ্ঞাস করবেন এই নিয়ে আমতা আমতা শুরু করলেন। বাবুন জিজ্ঞাস করে বসলো, আপনার নাম কি সত্যি সত্যি "মোসাম্মাৎ পায়রা বিনতে তোতা"। মেয়েটি ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাস করলো, কেন কোন সমস্যা। বাবুন বলল, শুধু "মোসাম্মাৎ পায়রা" হলে তো সমস্যা নাই কিন্তু "বিনতে তোতা" শুনতে কেমন লাগে। তুমি নামের অর্থ জানো না দেখে তোমার আজব লাগছে। এই ধরো ওসামা বিন লাদেন এর অর্থ কি জানো? লাদেন এর ছেলে ওসামা। আমার আব্বার নাম তোতা মিয়া আর আমার নামের সাথে তা জুড়ে দেয়ার জন্য বিনতে। মানে নাম হল মোসাম্মাৎ পায়রা বিনতে তোতা। স্যরের দিকে তাকিয়ে উনি বললেন আপনার একটা ছেলে ও আছে তা আমাকে মামু জান বলে নাই। স্যারকে উত্তর দেয়ার সুযোগ না দিয়েই উনি রুস্তমকে দেখিয়ে বললেন, এ কে? এমনিতেই ঘটনার আকস্মিকতায় রুস্তম কাঁচুমাচু। সে ঝটপট উত্তর দিলো, জি আমি ড্রাইভার। এই শুনে মোসাম্মাৎ পায়রার চোখ গোল হয়ে গেলো। বললেন আমার ধারনা তাহলে ভুল, আপনার গাড়ি ও আছে!
খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারলেন না স্যার। কিন্তু এটুকু বললেন যে উনার আগে বিয়ে হয় নি আর আমি ও স্যারের ছেলে না এবং ওনার কোন গাড়ি টারি কিচ্ছু নাই। বাবুন স্যারের ছেলে না এটা শুনে মনে হয় একটু দুঃখ ও পেলেন পায়রা। বাবুন উনাকে পায়রা আন্টি ডাকতেই বিরক্ত হয়ে বললেন। ধুর এই সব আন্টি উন্টি শুনতে ভাল লাগে না তুমি আমাকে পায়রা খালাম্মা ডাকবে। এই ডাকের মধ্যে আপন আপন গন্ধ আছে। স্যার নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে না পারলেও পায়রা খালাম্মা নন স্টপ কথা বলে চললেন। উনার কথা থেকে জানা গেলো উনি একজন সাংবাদিক ক্রাইম রিপোর্টার। এক কিডন্যাপিং এর নিউজ কভার করতে গিয়েছিলেন। আসার পথে জ্যামে আটকালেন। চাইনিজে পৌঁছানর পর সি এন জি ওয়ালা শুরু করলো ক্যাচাল,৩০/৪০ টাকা বাড়ায় দ্যন। পায়রা খালাম্মা ড্রাইভারকে বোঝানর চেষ্টা করলেন এভাবে বাড়তি টাকা নেয়া ঠিক না। কিন্তু ড্রাইভার তা মানতে নারাজ শেষে খালাম্মা তাকে এক রাম ঘুষি মেরে তারপর বাড়তি ৫টা টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে তবে এলেন। কাহিনী বলা শেষ করে পায়রা খালাম্মা এত জোরে হাসতে শুরু করলেন যে আশেপাশের টেবিলের লোক ঘাড় বাঁকিয়ে বাবুনদের দেখার চেষ্টা করতে লাগলো।
বাবুন জিজ্ঞাস করল, খালাম্মা কে কিডন্যপ হয়েছে বলেন না? নিশ্চয় ছেলেধরা কোন বাচ্চাকে তুলে নিয়ে গেছে। পায়রা হাত দিয়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করে বললেন ধুর ধুর, এটা তো কমন কেস তবে আজকের ঘটনা ভিন্ন। এক অফিসের দারোয়ান কে কিডন্যাপ করেছে কিছু বদমাইশ এর দল। তারপর ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বসে আছে। ৫ হাজার টাকা বেতন পাওয়া কাওকে তুলে নিয়ে তার মুক্তিপণ ৫০ লাখ কেন চাওয়া হল? এই নিয়ে রিপোর্ট করতে হবে তাই দৌড় ঝাপের মধ্যে আছি। কিছুক্ষণের মধ্যে বাবুন আবিষ্কার করলো এই পটর পটর করে কথা বলা পায়রা খালাম্মাকে তার খুব পছন্দ হয়ে গেছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now