বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাবু-সাব এত লেট করলেন আপনে! সেই কখন থিকা মাস্টার-সাব বইয়া রইছেন থুড়ি বইসা আছেন। চুপচাপ জুতা খোলায় মন দিলো বাবুন। এখন জরির মা'র সাথে কথা বলা মানে বড় নদীর সাথে নিজস্ব খাল-বিলের সংযোগ পথ বানিয়ে তারপর কুমির কে ডেকে আনা। অরেঞ্জ ললি খাওয়ায় জিব কমলা রঙ হয়ে আছে। জরির মা দেখে ফেললে জায়গা মত খবর পৌঁছুতে দেরি হবে না। ঝটপট মুখ হাত ধুয়ে খেতে বসে বাবুন। লাল শাক আর মাংস দিয়ে ভাত। ছোট বেলায় মা লাল শাক দেখিয়ে বলেছিলেন এটা খেলে শরীরে পাওয়ার হয়। চোখ বড় বড় করে দুষ্টু লোকের দিকে তাকালে চোখ দিয়ে লাল আলো বের হবে আর দুষ্টরা ভয়ে পালিয়ে যাবে। কথাটা একদম মনে গেঁথে গেছে বাবুনের। খুব পছন্দ করেই সে লাল শাক খায় কিন্তু অন্য সবুজ শাক খেতে তার একদম ভাল্লাগেনা। মনে হয় গাছের পাতা সিদ্ধ করে খাচ্ছে। বাবু-সাব তাড়াতাড়ি খান মাস্টার-সাব ডাকপারে। জরির মা'র এই বাবু-সাব ডাকটা খুব বিরক্তিকর। বাবুনের মা'কে সে ডাকবে বিবি-সাব, বাবা কে ভাইসাব আর বাবুনকে বাবু-সাব।
ঘড়িটা সবথেকে আস্তে তখন ই চলবে যখন বাবুন স্যারের কাছে পড়তে বসবে। তবে আজকে মনে হয় বিশেষ কোন দিন। স্যারের মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি নেই, পরনে ইস্ত্রি করা শার্ট আর মোজার ফুটো দিয়ে আঙ্গুল ও বের হয়ে নেই। বই খাতা নিয়ে বসেই বাবুন স্যারকে "শুভ জন্মদিন" বলল। যেহেতু উনি আজ এত পরিপাটি হয়ে এসেছেন তাই আজকে উনার জন্মদিন না হয়েই যায় না। স্যার হেসে বললেন, আজ আমার জন্মদিন কে বলল তোমাকে? সে কি জন্মদিন না হলে সুন্দর শার্ট আর নতুন মোজা কি জন্যে! নিশ্চয় কোন দাওয়াত আছে তাহলে। স্যার কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন সাথে কেমন একটা লজ্জা লজ্জা ভাব। কিছুক্ষণ ইতস্থ করে বলেই ফেললেন যে আজ উনাকে দেখতে আসবে। বাবুনের মাথায় ঢুকল না স্যার কি বলতে চেয়েছেন। কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে আসা যায়। স্যার কি তবে ভেতরে ভেতরে অসুস্থ। মনটা খারাপ হয়ে গেল বাবুনের। স্যারকে জিজ্ঞাস করতেই হো হো করে হেসে উঠলেন তিনি।
মেয়ে পক্ষ আজ স্যারকে দেখতে আসবে। বাবুনকে পড়িয়ে বিকেলে তিনি যাবেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সেখানেই আসবে পাত্রী পক্ষ। তাই উনি রেডি হয়েই বাবুনকে পড়াতে এসেছেন। এই কথা শুনে বাবুনের ও ইচ্ছে হল স্যারের সাথে যায়। ভাবতে দেরি কিন্তু বলতে দেরি নেই। স্যার কি বলবেন বুঝতে পারছেন না। বাবুনের মা আর বাবা দু'জন ই চাকরি করেন। একদম ই সময় দিতে পারেন না । তাই স্যারের অনুমতি আছে মাঝে সাঝে তাকে বিকেলে বাইরে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু মেয়ে দেখতে ছাত্র নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কি না কে জানে।
স্যর আর রুস্তম দু'জন ই ইস্ত্রি করা শার্ট পড়েছে। আর তাই কেউ ই বাবুন কে কোলে নিয়ে বসতে চাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত স্যারকে রিক্সার হুডে তুলে দিয়ে বাবুন আর রুস্তম সিটে বসলো। বাবুনকে সাথে নিতে রাজি হয়ে স্যার নিজেই বললেন, রুস্তমকে ও সাথে নিয়ে যাই। এই পক্ষে আমরা তিন জন হলাম আর ওইদিকে হয়তো দুই তিন জন হবে। বাবুন খেয়াল করলো আজকে স্যার কথা বড্ড বেশি বলছেন। মেয়েকে কি কি জিজ্ঞাস করবেন তাই নিয়ে বক বক করতে করতে রিক্সা ব্যং চ্যং ম্যং চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থামল। ঝটপট রিক্সা থেকে নেমে গেল রুস্তম আর বাবুন। যেই না স্যার হুড থেকে নামতে গেলেন একটা তারকাটায় আটকে শার্টের খানিকটা ফড়ফড় করে ছিরে গেলো। স্যার, রুস্তম আর বাবুন চাইনিজে অপেক্ষা করছে। ভেতরে আবছা আলো থাকায় বেশ হয়েছে শার্টের ছেড়া অংশটা কারো চোখে পড়ার সম্ভাবনা নেই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now