বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-
-
অনেকদিন ধরে কোনো ফাতরামী করি না। খুব ভদ্রভাবেই দিন কাটাচ্ছিলাম। কিন্তু ভদ্র থাকতে থাকতে খুব অস্থির অস্থির লাগছিল। তাই চিন্তা করলাম, কাউকে না কাউকে একটু খোঁচা দিয়ে দেখি ফিডবেক কি আসে?
..
..
এইসব ভাবতে ভাবতেই কাঁধে ব্যাগটা নিয়ে ভার্সিটির গেইট থেকে বের হলাম৷ কানে হেডফোন গুঁজে দিয়ে রাস্তার একপাশ ধরে হাঁটছি৷ প্লে লিস্টে এখন Linkin Park এর Lost in the echo গানটা চলছে৷
হঠাৎ চোখ গেল একটু সামনে৷ রাস্তার আড়ালে। দেখলাম, একজন পুলিশ আর একজন মোটর বাইকারের মধ্যে টুটটুটটুট হচ্ছে (বুঝেনই তো)।
.
.
কথা হল সেটা না, কথা হইছে-পকেট থেকে সুন্দর করে খুব সযত্নে ফোনটা বের করলাম। আমিও আড়াল থেকে আরো সযত্নে কিছু ফটো এন্ড ভিডিও শ্যুট করলাম।
..
বাহবা ছবিগুলো খুব সুন্দর হইছে। অারে ভিডিওটা তো পুরাই খাপে খাপ৷ নিজের হাতের কাজ দেখে নিজেই অবাক হচ্ছি। পুলিশ কাকুর চেহারাটা খুব সুন্দর করেই দেখা যাচ্ছে কিন্তু বাইক চালকের মাথায় হেলমেট থাকায় ওনার চেহারাটা খুব একটা বুঝা যায় নি। যাইহোক ব্যাপার না।
..
..
এখন কথা হইল কথা না, আমিও আমার মনোবাসনা পূরণের সূবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেলাম। পুলিশ কাকুকে খুব ভাল করেই খোঁচা দেয়া যাবে।
ততক্ষনে তাদের দেনা-পাওনা শেষ হয়ে গেছে। বাইকার সাহেবও চলে গেছে। আর পুলিশ কাকুর চেহারাতেও একটা উচ্ছাসের ছাপ। কিন্তু এই উচ্ছাসটাকে বিষাদে রুপান্তরিত করার প্রবল ইচ্ছা জাগলো আমার।
..
..
গেলাম কাকুর কাছে। খুব ভদ্রভাবে বললাম,
-আসসালামু-আলাইকুম আংকেল
-......(এদিক-ওদিক তাকালো)
-জ্বি কাকু, আপনাকেই বলছি (এদিক-ওদিক না। আমিই বলছি)
-কি, কি হইছে? (আমার দিকে ফিরে বলে। সালামের উত্তর তো দূরের কথা। আমাকে দেখে তার চেহারাটা একটু বিরক্তিময় হয়ে উঠলো)
-তেমন কিছু না। ভাল আছেন? (তার সাথে একটু কুশল বিনিময় করে নিচ্ছি)
-তুমি আমারে চিনো নাকি? (চেহারায় বিরক্তির ছাপ ক্রমশই বেড়ে চলছে)
-এইতো মাত্র চিনলাম। আপনি বদরুল। একজন সৎ পুলিশ। (তার শা্র্টের উপর বেজ দেখে নামটা জানলাম)
-হ্যাঁ। তো? (চোখগুলোকে বড় বড় করে বলে)
-হিহিহি কিন্তু না। আপনি একজন ঘুষখোর পুলিশ। আপনাকে ঘুষখোর কাকু বলে ডাকবো? (একটা হাসি দিয়ে বললাম)
পরক্ষনেই বেচারার চেহারায় রাগের চরম প্রকাশ ঘটল। আমাকে খুব জোরে ধমক দিয়ে বলে,
-ওই বেটা দুইটা থাপ্পড় দিয়া তোর দাঁত ফেলায়া দিমু। চিনস আমারে, গেলি এইখান থাইক্যা?
খাইছে রে!! হালায় উল্টা আমারে ধমকি দেয়। সাহস কত বড়। ফোন থেকে তার কুকর্মের ছবিটা বের করে তার সামনে ধরে বললাম,
-আস্তে কাকু আস্তে। ডোন্ট বি এংরি, আদারওয়াইজ দিজ পিক ইজ গোয়িং টু ইউর নানির বাড়ি। এই ছবির লোকটা কিন্তু আপনিই। খুব সুন্দর দেখা যাচ্ছে আপনাকে।
-কিরে বেটা, তুই আমারে ভয় দেখাস?
-আরে নাহ, সাহস দেখাই। সমস্যা নাই চেহারাতো সুন্দরই আছে, কালকে এইটা বাংলাদেদেশের সবকয়টা নিউজ পেপারের হেডলাইনে যাইবো। সো বুঝেনই তো। আমার ফোন কেড়ে নিবেন? নিলে নেন সমস্যা নাই। অলরেডি ফেবুতে আপলোড দিয়া দিছি। আরও অনেক জায়গাতেই ট্রান্সফার হইছে (একটা ডাহা মিছা কথা, এখনো জাস্ট গ্যালারিতেই আছে। এখান থেকে ডিলিট করে দিলেই মামলা খালাস)
আহ রে বেচারার মুখটা এখন শুকনো হয়ে গেছে। রাগের ছাপটা হঠাৎ করেই ভয়ে কনভার্ট হয়ে গেল। সে কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। এই ফাঁকে ছবিটা অনেক জায়গাতেই কপি করে রেখে দিলাম। তারপর একটু চিন্তা করে এবার বদরুল কাকু বলে,
-তোমার নাম কি বাবা?
-ফাউল পুলা। ভাল কোনো নাম নাই।
-বাবা ভাল নামটাই বল? (বুঝতেছি না, মতলবটা কি)
-প্রত্যয়। আর কিছু?
-নাহ। এই নাও সিগারেট খাওয়ার খরচ। বাপ এইবার ছবিগুলা ডিলিট কইরা দে। (একটা ৫০০টাকার নোট হাতে ধরিয়ে বলে)
আমিও সুন্দর করে টাকাটা পকেটে নিয়ে বলি,
-কাকু নিউটনের থার্ড ল টা জানো?
-নারে বাপ এইডা কি?
-এইটা মাথায় দেয়। সুত্রটা হইলো- “ফর এভরি একশন, দেয়ার ইজ এন ইকোয়াল এন্ড অপজিট রিএকশন।” বাংলায় হচ্ছে- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। এই সুত্র অনুযায়ী-তুমি আমার সাথে ধমকি দিয়া তুই করে কথা বলছো এখন আমারও উচিত তোমাকে ধমকি দিয়া তুই করে ডাকা। এইযে এমনে-এই বেটা বদরুল হালার পু তুই আমারে ভয় দেখাস। ঠিক এইভাবে। কিন্তু আমি সেইটা করব না। সো আরও কিছু পকেটে ট্রান্সফার কর। (তাকে সব বুঝিয়ে দিলাম)
তো সে আমার পকপকানি শুনে পকেট থেকে আর একটা একশ টাকার নোট নিয়ে আমাকে দিতে চাইল। কিন্তু একটা জোরে ধমকি দিয়া বললাম,
-ওই বেটা আমারে কি ফহিন্নী মনে হয় তোর? আজকে ইনকাম যা হইছে সব বাইর কর।
বেচারা আর কিছু না বলে তার আজকের সব কামাই একসাথে বের করে আমার হাতে দিল। গুনে দেখলাম পাঁচ হাজার সতের টাকা। আই এম সিউর যে, সতের টাকার মধ্যে ভাংতি দুই টাকা কোনো না কোনো হকারের কাছ থেকে নেয়া মাল। যাইহোক, ভাংতি সতের টাকা আর মোবাইলটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম,
-এই যে দেখো তোমার ছবি ডিলিট করে দিছি। নাও তুমি চেক করে দেখলে দেখতে পার। এখন একটা বাসে উঠিয়ে দাও। বাসায় যাব।
-কোন বাস? (বিষন্ন চেহারায় ফোনটা চেক করে পরে আবার আমার হাতে দিয়ে বলে)
-উত্তরা যাব, সো কোন বাস বুঝে নাও।
যাইহোক বাস আসতেই বেচারা সিগন্যাল দিয়ে দাঁড় করিয়ে আমাকে উঠিয়ে দিল। আমিও একটা সেই লেভেলের শয়তানি হাসি দিয়ে বাই বলে উঠে পড়লাম।
..
..
এট লাস্ট কি হইল- চোরের উপরে ডাকাতি। থুক্কু পুলিশের উপরে ডাকাতি।
..
..
হিহিহি বাস চলছে, আমিও হাসছি। এটাকে মুচকি হাসি না বলে মিচকা হাসি বলাই শ্রেয়। পাশের সিটে একটা ললনা বসছে, সেও বার বার অবাক চোখে আড়ে আড়ে আমাকে দেখছে। হয়তবা ভাবছে-পুলাডা মেন্টালি সিক।
নারে বইন পুলাডা পিউর আছে।
-
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now