বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিন কচু পাগলীর গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X বিরিয়ানির প্লেটে হাত দিতেই ফোনটা বেজে উঠলো। আমি ফোন বের করেই দেখি ঝিমলির ফোন।এই রে সেরেছে।এইবার কি হবে।ধরবো কি ধরবোনা ভাবতে ভাবতেই ফোনটা কেটে গেলো। " জুম্মার নামাজ শেষ করে ভুলেও বাসার দিকে গেলাম না।এখন যদি বাসায় যাই তাহলে আমি একদম শেষ।এদিকে ক্ষুধায় একদম শেষ হয়ে গেলাম। এখন খাওয়া খুব দরকার।তাই আর কিছু না ভেবে হোটেলের দিকে রওনা দিলাম।আর এখানে এসে আমার পছন্দের বিরিয়ানিও পেয়ে গেলাম। " ফোনটা আবার বেজে উঠলো।নাহ এবার মনে হচ্ছে ধরতেই হবে।আমি ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ঝিমলির রাগি কন্ঠ ভেসে এলো। -এই তুমি কোই? -এইতো নামাজ পড়ে একটু মর্নিং ওয়াক করতেছি। -কি! এই দুপুর বেলা মর্নিং ওয়াক। এই রে। কি বলতে কি বলে ফেলেছি।আমি বললাম, -এই এমনি হাটতেছি একটু। -হুম হেটে হেটে এখন লক্ষি ছেলের মত বাসায় চলে এসো।তোমার জন্যে সবাই অপেক্ষা করছে।একসাথে খাবে। আজ আমি শেষ।মনে হচ্ছে এখনি ট্রাকের উপরে ঝাপ দেই।নিচে দিলে তো মারা যাবো।আমি বললাম, -হেটে হেটে তো অনেক দূর চলে এসেছি।তোমরা খেয়ে নাও।আমি এখানে কিছু খেয়ে নেবোনে। -না।তুমি তাহলে রিক্সা নিয়ে চলে আসো।এই নাও নুসরাত কথা বলবে। " এই কচুর দোকানদার আবার কি বলবে।ভাবছিলাম শালিটা অন্তত আমাকে বুঝবে কিন্তু এটাও বড় দুইটার মত কচু পাগলী হইছে। -দুলাভাই আপনি কোথায়।তাড়াতাড়ি বাসায় আসেন। আহ কি সুন্দর করে দুলাভাই বললো। এই দুলাভাই শোনার জন্যে সারাজীবন আমি কচু খেতে রাজি।আমি বললাম, -এইতো আসতেছি।তোমরা খাওয়া শেষ করলেই আমি চলে আসবো। -না না।আপনাকে ছাড়া আমরা খাবো না।আপনি তাড়াতাড়ি চলে আসেন।কথাগুলা বলেই কচুর শালি ফোনটা রেখে দিল। আমাকে ছাড়া খাবে না।আরে এত দরদ কেন।এতদিন তো আমাকে ছাড়াই সব সাবাড় করে দিছ আর আজ আমাকে ছাড়া খাবে না। " ভাবছিলাম আজ একদম পেট ভরে বিরিয়ানি খাব।পছন্দের তো তাই।কিন্তু তা আর হয়ে উঠলো না।না খেয়েই বাসার দিকে রওনা দিলাম। "" কলিং বেল বাজাতেই ঝিমলি দরজা খুলে দিল।তবে বিরিয়ানি আনতে আমি ভুল করিনি।বিরিয়ানির প্যাকেট ঝিমলির হাতে দিয়ে বললাম, -চলো আজ সবাই একসাথে বিরিয়ানি খাবো। আমার কথায় ঝিমলি কি যেন ভেবে বললো, -হুম চলো। "" বাহ তিন বোন একেবারে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।আমাকে ছাড়া নাকি খাবে না।আর এখন আমাকে ছাড়াই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। ' আমি যখনি চেয়ারে বসতে যাব তখনি বড় আপু মানে সুমি আপু বললো, -এই ঝিমলি কচুর তরকারিটা দে তো।বিরিয়ানির সাথে খেতে বেশ ভালই লাগছে। বলে কি!বিরিয়ানির সাথে কচুর তরকারি।সেটাও আবার শুটকি মাছ দিয়ে কচুর তরকারি। উফ এরা কি কচু ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। ' আমি যদি এখন এখানে বসি তাহলে আমাকেও এই কচুর তরকারি দিয়ে বিরিয়ানি খেতে হবে।চাবছিলাম বিরিয়ানি আনলে হয়তো এই কচু থেকে মুক্তি পাবো।কিন্তু সেটাও হলো না। আমি বসবো কি বসবো না এটা ভাবতে ভাবতে কখন যে বসে পড়েছি সে খেয়ালই নেই। "" এই আপু, ভাইয়াকে একটু কচুর তরকারী দাও তো। ' বেশ ভালভাবেই বিরিয়ানি খাচ্ছিলাম।তখনি নুসরাত কথাটি বলে উঠলো।আর এদিকে আমার গলায় বিরিয়ানি আটকে গেল। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই ঝিমলি কচুর তরকারি দিয়ে আমার প্লেট ভরিয়ে দিল।কি করবো এখন কিছুই বুঝতে পারতেছি না। এদিকে তিন বোন কচুর তরকারি দিয়ে বিরিয়ানি গোগ্রাসে গিলছে।মনে হচ্ছে প্লেট শুদ্ধ খেয়ে ফেলবে।এরা পারে কিভাবে এসব খেতে।খাইতে খাইতে একেকটার গায়ের রঙ ও কচুর মত হয়ে গেছে। "" আর না।এখানে আর বসে থাকা যাবে না।থাকলে আমাকে কচু না খায়িয়ে ছাড়বে না। আমি কিছু না বলে উঠে গেলাম।রুমে এসে বসতেই কেমন যেন ভাল লাগা কাজ করলো।মনে হচ্ছে এভারেস্ট জয় করে আসলাম।যাক এখন একটু ঘুমানো দরকার। "" চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুমটা ভেঙে গেল।আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় পাচটা বেজে গেছে। ফ্রেশ হয়ে ড্রইং রুমে যেতেই দেখি তিন বোন যেন খুশিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।আরে এত খুশি কেন।আমি নিশ্চিত এরা মনে হয় কোথাও কচুর সন্ধান পাইছে।আমি কাছে গিয়ে বললাম, -কি হইছে এত খুশি কেন? ঝিমলি বললো, -জানো কি হইছে? -না বললে জানবো কিভাবে।বলো। ঝিমলি এবার হাসতে হাসতে বললো, -সুমি আপু আর নুসরাত এক বাটি কচু শাক মাত্র পাচ মিনিটে খেয়ে শেষ করে ফেলছে। ঝিমলির কথা শুনে আমি একদম বোকা বোনে গেলাম।আরে এতে হাসার কি হলো।এদের এক বাটি কেন,এক গামলা দিলেও এরা সব সাবার করে দেবে।আমি চেয়ারে বসতেই নুসরাত চা আর কি যেন নিয়ে এলো। আমি চায়ে চুমুক দিয়ে বললাম, -এটা কি? -এটা হলো বড় আপুর রেসিপি। কচুর বড়া। কচুর বরা!কচুর বরাও হয়।আমি কিছু না বলে চা নিয়ে রুমে চলে আসলাম।আবার কখন জোর করে এই কচুর বরা খায়িয়ে দেয় আল্লাহই জানে। "" এই শোনো, আমি ওদের সাথে যাই? ' রুমেই বসে ছিলাম। তখনি ঝিমলি কথাটি বলে উঠলো।ওদের সাথে যাই মানে কি।আমি ঝিমলিকে বললাম, -কোথায় যাবা? -বড় আপুর বাসায়।ওরা তো এখন চলে যাবে তাই ওদের সাথে আমিও যেতে চাচ্ছি।অনেক দিন যাওয়া হয় না। ঝিমলির কথায় আমি বেশ খুশিই হলাম। অন্তত কচুর হাত থেকে তো রক্ষা পাবো।আমি বললাম, -অবশ্যই।তোমার যতদিন খুশি তুমি গিয়ে থাকতে পারো। ঝিমলি খুশিতে এবার আমাকে শক্ত করেই জরিয়ে ধরলো।বেশ শক্ত করেই। "" কিন্তু বিপত্তি বাধলো কচুর ছোট শালিকে নিয়ে।উনি নাকি আমাকে ছাড়া যাবে না।আরে আমি জেনেশুনে কি কচু খেতে পা দেবো নাকি। অনেক বুঝনোর পর নুসরাত রাজি হলো।তবে সেটা দুইদিন পর আমাকে যেতে হবে এই শর্তে। আমিও কম না।জীবনেও যাব না।এই ফোন বন্ধ করলাম। "" ওরা বের হতেই আমি দরজা লাগিয়ে দিতেই আমার কলিং বেল বেজে উঠলো।উফ আবার কে!দরজা খুলে দেখি ঝিমলি দাঁড়িয়ে।আমি কিছু বলার আগেই ঝিমলি বললো, -ফ্রিজে কচু দিয়ে মাংস রান্না করা আছে। গরম করে খেয়ে নিও।কথাটি বলেই ঝিমলি চলে গেলো। আর এদিকে খুশিতে আমার দু চোখ ভিজে উঠলো। মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে গেল, শালা আমি কচু ছাড়লেও কচু আমাকে ছাড়লো না।কোন ভাবেই না।কোন মতেই না। -------------------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now