বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্বঃ ১
গত কয়েকদিন থেকেই মনভাল নেই সাজুর । অভাব অনটনের মধ্যে বড় হয়েছে । বাবা কলিম উদ্দিন পটল তুলেছে সাজুর বয়স যখন ৩ বছর । কলিম উদ্দিনের উপার্জনের পথ ছিল তিন চাকার একটা রিকশা আর বিঘা চারেক জমি । তাও পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া । কিন্তু কপালের নির্মম পরিহাস একবার কলিম উদ্দিন মারাত্বক রোগে আক্রান্ত হয় । তখন চিকিত্সার করার জন্য দ্বারস্থ হতে হয় গ্রামের মাতবর জয়নালের । সে মাতবর জয়নালের কাছে জমি বন্ধক রাখবে । একবিঘা দুইবিঘা করে সমস্ত জমি বন্ধক রাখতে হয় চিকিত্সা করার খাতিরে। আর এ সুযোগ টাকে কাজে লাগায় মাতবর জয়নাল ।সে জমি বন্ধক নেওয়ার সময় কিছু কাগজে টিপসই নেয় কলিম উদ্দিনের কাছ থেকে ।আর ঐ টিপসই দেওযাটাই কাল হয় কলিম উদ্দিনের । চিকিত্সায় রোগের কোন কিছুই ধরা পড়ছিলনা । এখনকার মত এত আধুনিক উন্নত চিকিত্সা ব্যবস্থা না থাকায় ডাক্তাররা তার রোগ নির্নয় করতে পারছিলেন না । বহু টাকা পয়সা খরচ করেছেন কলিম উদ্দিন । কিছুতেই কিছু করতে পারছেনা ।
এর শেষ কোথায়? দিন দিন আরো অসূস্থ্য হয়ে পড়ছেন । জমি বন্ধক রাখার টাকাও শেষ হয়ে গেছে । ডাক্তার আরো কিছু দামী দামী ঔষুধ লিখে দিয়েছে গতকাল । কিন্তু এ ঔষুধ গুলো কিনতে অনেক টাকা লাগবে । কলিম উদ্দিন আবারো দ্বারস্থ হয় মাতবর জয়নালের । মাতবর সাফ জানিয়ে দেয় সে আর টাকা দিতে পারবেনা ।আর তাই কলিম উদ্দিনের চিকিত্সা মাঝপথে থমকে যায় । দীর্ঘ দিন বিনা চিকিত্সায় অর্ধাহার আর অনাহারে দিন কাটতে থাকে কলিম উদ্দিনের । হঠাত্ অসূস্থ্য অবস্থায় একদিন জানতে পারে মাতবরের কাছে নাকি সে তার সমস্ত জমি বিক্রী করে দিয়েছে । এমন সংবাদ শোনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলনা কলিম উদ্দিন । অতি আঘাতে একবার আর্ত চিত্কার করে আহ্… আহারে…. শব্দ করে হঠাত্ তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় ।
২ দুইঃ
চিত্কার শুনে দৌড়ে আসে সাজুর মা । ঘরে এসে দেখেন তার স্বামীর দেহ নিথর পড়ে আছে বিছানায় । পাশেই নির্বাক দাড়িয়ে আছে দুঃসংবাদ বাহক মমতাজ মিয়া । কি করবে ভেবে পায়না কেউই । সাজুর মা নারী স্বভাব সুলভ হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে । সাজুর মা মনে করেছে তার স্বামী আর নেই । সাজুর মা চিত্কার করে কাঁদছে আর নানা ধরনের প্রলাপ বকছে ।কিছুক্ষনের মধ্যেই আশে পাশের প্রতিবেশীরা এসে জড়ো হয়েছেন । তারা সবাই জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে কলিমের ? একজন ভীড়ের মধ্যে এগিয়ে এসে কলিমের হাত চেপে ধরে রক্তের স্পন্দন পরখ করলো । নাহ যে আশংকা করেছিলাম তা নয় ।এই কেউ একজন একটু পানি নিয়ে এসো । একজন দৌড়ে গিয়ে পানি নিয়েএলো আর কলিমের মুখে অল্প অল্প করে ছিটানো হলো । কিছুক্ষনের মধ্যেই কলিমের জ্ঞান ফিরলো । ইতিমধ্যে সাজুর মা কান্না বন্ধ করেছেন । জ্ঞান ফিরেই বলতে লাগলো এত মানুষজন কেন আমার বাড়ীতে ? আস্তে আস্তে কলিমের সব মনে পড়ে গেল ।সে সবার কাছে বলতে লাগলো আমি মাতবরের কাছে জমি বিক্রী করিনি। আমি আমার জমিগুলো শুধু বন্ধক রেখেছি মাত্র । ওরে তোরা কে কোথায় আছ শোন আমি সত্যি কথা বলছি আমি মাতবরের কাছে জমি বন্ধক রেখেকিছু টাকা নিয়েছি এইযা , এর বেশী কিছু নয় । আমাকে টাকা দেওয়ার সময় মাতবর কিছু কাগজে টিপসই নেয় । আমি বুঝতে পারিনি ঐ হারামীটার মতলব । তোমাদের কাছে এর বিচার চাই, আমি এর ন্যায্য বিচার চাই । কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললো কলিম উদ্দিন ।সবাই তার কথা শুনলো কিন্তু কেউ কিচ্ছু বলছেন না । শুধু দর্শকের মত কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে যে যার মত চলে গেল । কে বা কি বলবে ? মাতবরের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আর নিজের বিপদ ডেকে আনতে চাচ্ছিল না কেউ। মাতবর আচ্ছা খারাপ মানুষ । যার দিকে একবার এই শকুনটার নজর পড়ে, তাকে নিস্ব না করে ছাড়বেনা । পুরো এলাকায় তারই রাজত্ব চলে । এখানে কেউ কিছু বললে তার উপর নেমে আসে অত্যাচারের স্টীম রোলার । অনেককে খুনও করেছেন এই মাতবর । বিচার চাওয়ার মত শক্তি সাহস কারোই হয়না ।কারন মাতবরেরআছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী । সে ঐ বাহিনীর শক্তিতে এতসব অত্যাচার নির্যাতন চালায় ।য়াহোক, এতসব ভেবে লোকজন যে যার মত চলে গেলে কলিম উদ্দিন হতাশ হয়। দু চোখ বেয়ে কান্না চলে আসে অঝর ধারায় । বুকের উপর হাত চাঁপড়ায় আর হু হু করে কেঁদে কেঁদে নিজেকে শান্তনা দেয় । এছাড়া তো কিছুই করার নেই তার । স্ত্রীকে কাছে ডাকে কলিম উদ্দিন । সাজুর মা স্বামীর কাছে এসে বসলো । স্ত্রীর দিকে পরম মায়াভরা ভালবাসার দৃষ্টিতে অপলক চেয়ে আছে কলিম উদ্দিন । যেন এই প্রথম তাকে দেখছে অথবা শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছে যাতে ওপারে গিয়ে তার সহধর্মিনীকে খুজে নিতে পারে । এভাবে কতক্ষন কেটেছে কে জানে । অনেক্ষন পর বললো আমার ছেলেটাকে একনজর দেখতে চাই সাজুর মা । আমার সাজু কোথায় ? ওকে আমার কাছে নিয়ে এসো । সাজুর মা বারান্দার দোলনা থেকে এক দৌড়ে গিয়ে সাজুকে নিয়ে আসে । এনে বাপের কাছে রাখে। কলিম উদ্দিন অনেক ভালবাসার তীব্র অনুভূতিতে ছেলের কপালে শেষ আদরটুকু দেয় আর. . . . . . .. . . . .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now