বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
রাহাত বাসর ঘরে যাবে এই মুহূর্তে কারেন্ট চলে গেলো।
এই কারেন্ট যাওয়ার আর সময় পেলো না। আজকে রাতটা
থাকলে কি হত। এমন একটা রাত জীবনে একবারই আসে
আর সেটা আজকে রাহাতের আসছে কিন্তু দুঃখের বিষয়
কারেন্ট নাই। অন্ধকার বাসর রাত। দরজায় নক করলো
কিন্তু খুলছে না দুই তিনবার নক করার পর যখন দরজা খুলছে
না। আর ঐদিকে তার বিয়ে করা বউ রাহাতের দরজায় নক
করার শব্দ শুনে বিছানা থেকে নামলো। অন্ধকারে
বেচারি কোথায় দরজা কোথায় কি বুঝবে কি করে,
আবার এই বাড়ি তো তার কাছে নতুন। রাহাতের নতুন বিয়ে
করা বউ কি বলে ডাক দিবে এই ভেবে রাহাত আর নক করে
দরজায় হালকা ধাক্কা দিলো। দরজা আপনাআপনি খুলে
যাওয়াতে রাহাত কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। কেমন জানি
একটা ভূতুরে বিষয়। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এই
আসে আবার চলে যায় কিন্তু তাতে কি আর মানুষের মুখ
দেখা যায়।
.
রাহাতের বউ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো কে….?
.
রাতুলও ভয়ে ভয়ে নিম্নস্বরে বললো আ আমি। তুমি ঠিক
আছো তো?
.
- আমি কে..?
- আমি রাহাত। এতক্ষণ বসিয়ে রাখার জন্য আমি সরি,সরি
সরি,
(কথা বলার মধ্য দিয়ে রাহাত মোমবাতি খোঁজতে
লাগলো। অনেক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একটা মোমবাটি
পেলো।)
- আচ্ছা এত সরি বলার কি আছে স্ত্রীর কাছে স্বামীর
সাত খুনই মাফ। আর আপনি কেমন মানুষ এইভাবে চোরের
মত কেউ বাসর ঘরে ঢুকে?
.
- আসলে প্রথম বিয়ে তো তাই আর কারেন্ট নাই
সবমিলিয়ে এই অবস্থা।
- কি বললেন প্রথম বিয়ে !! আরো বিয়ে করবেন?
রাহাত এই কথার সুযোগে চিন্তা করলো তার বউয়ের
সাথে একটু মজা করা যাক।
.
- হুম আরেকটা বিয়ে করলে করতেও পারি। ১ টা না যদি
ভালো না লাগে তাহলে বিয়ে করতেই থাকবো।
- আপনি যে এমন আগে জানলে এ বিয়েতে রাজি হইতাম
না। ছেলেরা এমন কেন? একটা মেয়ে কত আশা নিয়ে শশুড়
বাড়ি আসে কিন্তু সেই আশা আপনার মত ছেলেরা
আশাকে ভেঙে চুরমার করে দেন। (কাঁদোকাঁদো স্বরে)
.
রাহাত মনে মনে চিন্তা করলো আর বেশি ফাইজলামো
করা যাবে না। অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে।
- এইযে ম্যাডাম এদিকে তাকান।
- চুপ আপনি আমার সাথে কথা বলবেন না।
- আমি এতক্ষণ যা করছি সব ফাইজলামো বুঝেছো। প্রথম
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। আর
একটার বেশি বিয়ে প্রশ্নই আসে না।
কোনো উত্তর আসছে না রাহাতের বউয়ের মুখ থেকে।
রাহাতের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন এক্ষুণি
সাপের মত ছোবল মারবে।
- আপনাকে আমার কি করতে মন চাইতেছে জানেন?
- কি আবার জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করতেছে।
- জ্বী না, গলা টিপে ধরতে ইচ্ছে করতেছে। তখন বুঝতে
পারবেন মানুষের গলা টিপে ধরলে যেমন লাগে আমার
ঠিক তেমনই লাগছিল।
- আমারে মাফ করে দেওয়া যায় না?
- না দেওয়া যায় না।
- ও বুচ্ছি গলা টিপ দিয়ে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করতেছে
এইতো। তাহলে আর দেরি না করে এক্ষুণি আসো আর
আমারে মেরে ফেলো।
এই কথা বলার পর রাহাতের বউ রাহাতের উপর আরো
ক্ষেপে গেছে। রাহাত খিলখিল করে হাসতেছে।
.
আচ্ছা এসব কথা বাদ দাও তো। চলো এই কারেন্ট আসার
ফাঁকে দুইজনে মিলে একটা আড্ডা দেই।
.
-দুইজনে আবার কি নিয়ে আড্ডা দিবো তাও আবার এই
অন্ধকারে।
- আচ্ছা চলো আমরা পালিয়ে যাই।
- পালিয়ে যাই মানে। বোকার মত কি বলছেন এসব?
- আরে এই পালানো আর ঐ পালানোর মধ্যে পার্থক্য
আছে।
- কি পার্থক্য?
- ওরা তো প্রেমিক প্রেমিকারা পালিয়ে যায়। আমরা
নাহয় স্বামী স্ত্রী পালিয়ে যাবো।
- আপনি আসলেই বোকা। আর এটাই হয়তো আমি
চেয়েছিলাম। কারণ বোকা মানুষ কাউকে ঠকাতে পারে
না কথাটা জানি কে বলেছিলো।
- মেয়েদের সামনে গেলে ছেলেরা বোকা হয়ে যায় এটাই
স্বাভাবিক।
- তার মানে আপনি অনেক মেয়ের সামনে গিয়েছিলেন?
আচ্ছা আপনি কয়টা প্রেম করছিলেন?
- মেয়েদের সামনে গিয়েছি অনেকবার যাওয়ার সাথে
সাথে কেমন জানি চেঞ্জ হয়ে গেছি কথাবার্তা বলতে
পারি না হাত পা কাঁপাকাঁপি করে। আর প্রেম একটাই
করছিলাম আজোও সেই মেয়েটির কথা মনে পড়ে। প্রথম
প্রেম বলে কথা। আর তুমি কয়টা প্রেম করছিলা? তুমি
নিশ্চয় ৪ থেকে ৫ টা তাই না?
.
- জ্বী না মোটেও না, এইটা আপনাদের ভুল ধারনা।
মেয়েরা একটাই প্রেম করে আর যাকে একবার মন দেয়
তাকে মরার আগ পর্যন্ত ভুলতে পারে না। আর আপনারা
ছেলেরা মনে করেন ৪ থেকে ৫ টা। হ্যা আমি মানি
কিছুকিছু মেয়ে আছে এরকম একটার পর একটা প্রেম করেই
চলেছে কিন্তু সবাই না।
,
এইভাবে কথা বলতে বলতে হঠাৎ শুনতে পেলো ফজরের
আযান দিতেছে দুজনেই ঠিক করলো ওজু করে নামাজ
পড়বে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now