বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রায় বারো হাজার বছর পেরিয়ে গিয়েছে।
বলছি বর্তমান জিব্রাল্টার প্রণালীর কাছ ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক অসম্ভব উন্নত, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল এক শহরের কথা। শহরটি জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারে ছিল রীতিমত ঈর্ষণীয়। পাশাপাশি সোনা, রুপা ও তামার আকরিকে ছিল ভরপুর। খুব সুখ-শান্তিতে দিন কাটতো সেই সমৃদ্ধ নগরীর বাসিন্দাদের। সবুজে-শ্যামলে সাজানো সেই শহরটির প্রধান আকর্ষণ ছিল এর রাজপ্রাসাদ। রাজপ্রাসাদটি একটি টিলার উপর অবস্থিত ছিল। সাজানো-গোছানো জলপথ ও স্থলপথ দ্বারা বেষ্টিত ছিল শহরটি। শহরের রাজা সুশাসক ছিলেন। ফলে শহরের বাসিন্দারা সবাই সুখে-শান্তিতে বাস করতেন। শহরটির পরিবেশ-প্রকৃতিও ছিল পরম বন্ধুর মতো। উজ্জ্বল আকাশ, সবুজ প্রকৃতি — সবকিছুই ছিল শিল্পীর তুলিতে আঁকা চিত্রপটের মতো সুন্দর।
কিন্তু হঠাৎ একদিন!
বিশ্বাসঘাতকতা করলো সেই পরম বন্ধু। উজ্জ্বল আকাশ রঙ পাল্টে পরিণত হল সাক্ষাৎ শয়তানে। পায়ের নিচে মাটি কাঁপতে শুরু করলো। শুরু হল আগ্নেয়গিরিতে মূহুর্মূহু বিস্ফোরণ। প্রচন্ড আক্রোশে ফুঁসতে শুরু করলো শান্ত সমুদ্র। তার চিরচেনা সুরেলা ঢেউ কালসাপের মত ফনা তুলে আঘাত হানলো শহরটিতে। মূহুর্তেই যেন মহাপ্রলয় শুরু হয়ে গেল! আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে সৃষ্ট ভূমিকম্প আর সমুদ্রের জ্বলোচ্ছাসের দানবীয় থাবার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করল সাজানো - গোছানো সুন্দর শহরটি।
হারিয়ে গেল অভাবনীয় এক সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিশাল এক ভাণ্ডার। আর জন্ম নিল বারো হাজার বছর পুরোনো এক পৌরাণিক কল্পনা বা সত্যি — আটলান্টিস! আসলেই কি বাস্তবে আটলান্টিস বলে উন্নত কোনো শহর ছিল? আসলেই কি এমন এক মহাপ্রলয়ে হারিয়ে গিয়েছিল অস্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠা এক সভ্যতা?
সর্বসমক্ষে আটলান্টিসের প্রথম ধারণা ও বর্ণনা দেন দর্শনগুরু প্লেটো। প্লেটোর বর্ণনামতে, বর্তমান জিব্রাল্টার প্রণালীর কাছেই অসম্ভব উন্নত ও সুশৃঙ্খল একটি দ্বীপ ছিল আটলান্টিস। অদ্ভুত সব আবিষ্কার, সুন্দর সমাজব্যবস্থা ও আধুনিক জীবনধারা — সবই ছিল আটলান্টিয়ানদের কাছে। প্লেটোই বর্ণনা দিয়েছেন, প্রায় বার হাজার বছর আগে, শেষ বরফ যুগের আগে ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে হারিয়ে যায় আটলান্টিস। প্লেটোর এই ঘটনা কোনো পৌরাণিক কল্পকাহিনী অনুপ্রানিত কি না, এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদরা এখনও একমত হতে পারেননি। তবে প্লেটো তার বিখ্যাত ডায়ালগ ‘তিমাউস ও ক্রিটিয়াস’-এ দাবি করেন যে তিনি এই গল্প সোলোনের কাছ থেকে শুনেছেন। সোলোন ছিলেন খৃষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের অ্যাথেন্সের বিখ্যাত একজন নীতিনির্ধারক; এবং সত্যবাদী হিসেবে তার অনেক সুনাম ছিল। প্রাচীন মিশরে প্যাপিরাসের টুকরায় (কাগজের আদি আত্মীয়) অ্যাথেন্স এবং আটলান্টিস সম্পর্কে হাইরোগ্লিফিতে কিছু নথি ছিল, যা পরবর্তীতে গ্রীকে অনুবাদ করা হয়। সোলোন তাকে বলেছিলেন যে তিনি সেখান থেকে আটলান্টিস সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। তিনি আরও জেনেছিলেন যে, আটলান্টিয়ানদের প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং ধ্যানধারণা অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতা থেকে ভিন্ন ছিল। তারা চতুর্মাত্রিক এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ের উপর পারদর্শী ছিল। সমসাময়িক অন্যান্য সভ্যতার তুলনায় প্রযুক্তিগতভাবে আটলান্টিয়ানরা অনেক উন্নত ছিল। ধারণা করা হয়, কিছু কিছু ব্যাপারে তারা এখনকার পৃথিবীর চেয়েও অগ্রগামী ছিল।
বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের। আবার কেউ বলেন আটলান্টিয়ানরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা ছিলেন না, তারা ৫০০০০ বছর পূর্বে ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তারা দেখতে এখনকার মানুষের মতোই ছিলেন। শুধু পার্থক্য ছিল তাদের দেহের দৈর্ঘ্যে। তারা প্রায় ৮ থেকে ১২ ফুট লম্বা দেহের অধিকারী ছিলেন। ‘বুক অফ জেনেসিস’-এ এদের বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে আরও জানা যায় যে তাদের জীবনকাল ছিল ৮০০ বছর।
অবাক হবার কিছুই নেই। প্রায় সব প্রাচীন সভ্যতায় দৈত্যাকৃতি মানুষ জাতির কথা বলা আছে। এসব ৮ থেকে ১২ ফুট লম্বা মানুষের উপকথাগুলোকে যখন মানুষ আর বিজ্ঞান মিথ বলে উড়িয়ে দিতে চলেছিল, ঠিক তখনই প্রায় ১২ ফুট লম্বা মানুষের কিছু কঙ্কাল প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আবিষ্কার করেন। এছাড়াও স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের লিপিবদ্ধ ইনকা অভিযানের ঘটনায় ৮ - ১২ ফুট লম্বা সোনালী চুল এবং নীল চোখের মানুষের বর্ণনা পাওয়া যায়। ‘বুক অফ জেনেসিস’-এ চ্যাপ্টার ৬, ভার্স ১৬তেও এসব বিশালাকৃতির মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now