ভূতের বাসর রাত
X
হঠাৎ শুনি রাত বারটায়
শঙ্খ,উলুর ধ্বনি হলো,
ঘুমের মোধ্যে ঘুমটা আমার
কেমন যেন ভেঙেই গেলো!
শুনতে পেলাম হোই হোই রবে
বসেছে বিয়ের বাসর,
কৌতূহলী মনটা নিয়ে
দেখতে গেলাম আসর।
অন্ধকারের আবছা আলোয়
বেল তলা যেই গেলাম,
আমি যেন দেখি আজব একি!
চোখ মেলে যেই চেলাম।
বেলগাছের ওই ব্রক্ষ্মদত্তি
টোপর মাথায় বর,
বৌ সেজেছে শাঁকচুন্নী,
ডুমুর গাছে ঘর।
এসেছে সব করছে রব
স্কন্ধকাটা মাম্দো ভূত,
বাদ্যি তালে পেত্নী চালে
নাচছে যত ভুতের পূত।
ড্যাং ড্যাঙিয়ে মুখ ভ্যাঙ্গিয়ে
উঁচিয়ে তুলে ঠ্যাঙ,
নাচছে আজব ভঙ্গিমা সব
একে ও মারছে ল্যাঙ।
গানের তালে নাচের হালে
নাচছে সব ভূতেরা,
স্কন্ধকাটা, মাম্দো নাটা,
সব কালো কুটকুটেরা!
নাচছে যেন,ছুঁড়ছে কেন!
হাত পা আকাশ জুড়ে,
নাচে কঙ্কাল,বেজায় বেতাল,
কান ফাটানো সুরে!
ময়দানে টানা বড় সামিয়ানা
চলে রান্না,খাওয়া,ভোজ,
আনন্দ ধারায় আত্মহারায়,
কে কার রাখে খোঁজ?
ব্রহ্মীর বাবায় ফোকলা দাঁতে চাবায়
ঢেলা মাংসের হাড়,
খাওয়ার শেষে বলেন হেসে,
কোথায় চাটনি আচার!
বলে,বদ্দি বুড়ো,ভূতের খুড়ো,
কোথায় হুক্কা,তামাক?
মুখ সুদ্ধির গোড়ার বুদ্ধির,
আনতে কাউকে ডাক!
গেছো এক ভূত,বলে ধুত,ধুত,
কিচ্ছুটি নেই খুড়ো!
লাগবে ভালো শীতে,মুখে তাড়ি দিতে
করো না তাড়াহুড়ো?
বলেই তো সে তালের গাছে
দু লাফে চড়ল আগায়,
খুড়োর দাড়িতে,জড়িয়ে তড়িতে
নেশার মেজাজ জাগায়.
শাঁকচুন্নীর মায়,এটি উতি চায়,
বলে কোথায় দোক্তা পান?
খাবার পরে নেশা না করে,
মুখ করে খুব আনচান।
এবার গলা,পড়বে মালা
এবার হবে শুভ দৃষ্টি,
একের নজর অন্যের ‘পর,
ঝরবে ফুলের বৃষ্টি।
হার জির জির করে বিড় বিড়
মন্ত্র পড়ে জোরে জোরে,
বাক্ষ্মণ চালে কঙ্কাল বলে,
বিয়ে হলো সমাপন,ওরে!
ব্রক্ষ্মদত্তি,সত্যি সত্যি
সাত পাঁকেতে বাঁধলো ,
শাঁকচুন্নী হল ধন্যি,
বাপমার জন্যে কাঁদলো।
ভূত বৌয়েরা উঠলো বলে,
পথ নেই কোনো বাঁচার,
মানতে হবে বিয়ের নিয়ম,
সমস্ত স্ত্রী আচার।
কাল রাত্রি আছে,আলাদা গাছে
রাত্রী বাস বর-বধুর,
পর দিন তার হবে আবার–
মিলন হবে মধুর।
ভয়েতে আমি,থমকে থামি–
বন্ধ আমার শ্বাস।
আবছা আলো,মেঘলা কালো,
হাড় কাঁপুনি বাতাস।
দেখি সব বেহাল,সবে সকাল
সোনালী রোদের ঝাঁক!
কোথায় গেলো ভয়ের রাজ্য,
সব যে চিচিং ফাঁক
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now