বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্যারার নাম প্রেমিকা!!!

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X লেখক : সায়েমুছ সুহান (কাব্য) রাত জেগে মোবাইল টেপা, মেসেজে চ্যাটিং সবকিছু বোরিং একটা বিষয় ! রাত জেগে থাকতে থাকতে চেহারা কেমন জানি ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক, অবশেষে বাঁচতে পারলাম। মনটা অনেক হালকা পাতলা হয়ে গেল। এইতো কয়েকদিন আগে "ছারপোকা মন " কোথাও যেন উড়ে যেতে চাইলো, নিজেও চলে যেতাম যদি না সিগারেট মামা আর প্রিয় রোগটি আমাকে ফিরিয়ে না আনতো। ভুলতে পারতাম না, রুপন্তী নামক অচেনা পাখিটিকে !!! ওহ ভুলে গেছি বলতে, আমি এখনও অসুস্থ,ডাক্তার সাহেব আমার আদরের পেঠটাকে কিনা সুন্দর করে কেটে আবার সেলাই করে দিলেন। আর ফলশ্রুতিতে আজ কয়েকদিন থেকে বিছানা মহাজন আমার বডিগার্ড আর মোবাইল আপু আমার সঙ্গী... (হাসবেন না ভুলেও, মশা ডুকলে আমি দায়ী না) তারপরও অনেক থ্যাংকু দিতে মন চাইতেছে আমার রোগ ভাইয়াকে অন্তত প্রেম নামক প্যারা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সাথে সিগারেট আন্কেল কেও ভুলে যেতে সাহায্য করেছেন। এইতো কয়েকদিন আগে প্রায় পাগল ছিলাম, রুপন্তীর জন্য! সবসময় অপেক্ষা করতাম কখন রুপন্তী একটা মেসেজ দিবে, কখন একটা ফোন দিবে ! সারাক্ষণ চিন্তা আর চিন্তা ! খাওয়া দাওয়ার দিকে কোনো মনই ছিলনা। হাঁটলে রুপন্তী, বসলেও রুপন্তী, ঘুমালেও...। কিন্তু শালার কপালটাই খারাপ, দেখি রুপন্তী আমাকে নিয়ে খেলা করে.. যেমন আমি ফুটবল আর সে খেলোয়ার, সারাক্ষণ খেলে যায় কিন্তু গোল পোস্টে একটাও শর্ট বসায় না। আবার পা থেকে বলটা আউট করে বাইরে ফেলেনা। বুঝতেই তো পারছেন, বাবাজি সুহান কোন টেলায় আটকা পড়েছিলেন। কোনোভাবে বের হয়ে আসার রাস্তা খুজে পাচ্ছিনা, আবার গোল পোস্টে ডুকতে পারছিনা। তখনই আমার রোগ ভাইয়া এসে ধরা দিলেন আমাকে ! বললেন, কমাবো কি তোমার কষ্টগুলো? আমিও সায় দিলাম। পরের দিন দেখি আমি হাসপাতালে ! কখন আসলাম কবে আসলাম কিছুই জানিনা। দেখি পাশে বসে মা আমার মাথা বুলিয়ে দিচ্ছে আর কাঁদছে। একটু পর পরিক্ষা করার জন্য ডাক্তাররা কোথায় যেন নিয়ে গেলেন, সেখানে দেখি ইয়া বড় বড় মেশিন ! ভয় পেয়ে গেলাম, ডাক্তাররা সাহস দিল, তারপর পেঠের মধ্যে কি একটা লাগালো, শরীরে ঘুর্ণিঝড় মোরা শুরু হয়ে গেল। কিছুক্ষন পর আবার চলে আসলাম আমার মায়ের কাছে, ডাক্তার একটা ইনজেকশন কাকু আমার শরীরে বসাইয়া চলে গেল। তখন সন্ধ্যা ৭ টা। আব্বু গেলেন ডাক্তারের কাছে, রিপোর্ট আনতে...ডাক্তার রিপোর্ট দিয়ে বললো, ছোটোখাটো একটা অপারেশন করতে হবে ! কিডনীতে নাকি পাথর হয়ে গেছে। অপারেশন নাম শুনেই হয়ে গেলাম আমি অজ্ঞান। জেগে ওটার পর শুনি সকাল ১০টার সময় আমার অপারেশন !(মনে মনে বললাম সুহান বাবাজি চাক্কু দেখলেই ভয় পাও, এবার বুঝবে ডাক্তার তোমার পেট চাক্কু দিয়েই কাঁটবে... ওহ নো) অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে চাক্কুগুলো দেখেই কাঁপা শুরু করেদিলাম । ডাক্তাররা আমাকে শুইয়ে দিল ,,, আমার কাঁপা আরোও বেড়ে গেল... অবশেষে জল্লাদ ডাক্তার আমার হাতে একটা ইকজেকশন বসিয়ে দিলেন, তারপর থেকে কি হলো আমি নিজেও জানিনা। এরপর কয়েকদিন হাসপাতালের অস্বাভাবিক জীবন কাঁটালাম। এরপর চলে আসলাম নিজের বাসায়। কিন্তু মনে প্রাণে বলতে পারি, এই কয়েকদিন একবারো মনে পড়েনি অচেনা সেই মেয়েটিকে। যার কাছে ভরসির টোপ ফেলে সারাজীবনের জন্য আটকাতে চাইছিলাম। যার জন্য আমি প্রতিদিন কষ্ট পেতাম। যার মেসেজের অপেক্ষা করে আমার সময় কাটতো। যার জন্য আমাকে সিগারেটের মত বিষাক্ত বিষ গিলতে হতো। এখন সত্যি বলছি, একটুও ফিলিংস নেই, একটুও ভালোবাসা নেই, বলতে গেলে রুপন্তীর জন্য আমার দরজাটা একেবারেই বন্ধ ! এখন আমার চেয়ে সুখি মানুষ কেউ নেই, প্রতিদিন রুটিন মাফিক, খাওয়া,ঘুমানো, গেইম খেলা সবকিছুই হচ্ছে। প্রেম নামক প্যারা থেকে বেঁচে থাকতে পারাটাই মনে হয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট.....এই ভেবেই নতুন করেই স্বপ্ন আঁকছি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now