বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুত্ব ও ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X হাসপাতালে বসে আছি অনেক্ষণ। আমার ফ্রেন্ড সাইমাকে দেখতে আসছি।তবে সে আমার কাছে শুধুই ফ্রেন্ড না তার চেয়ে বেশি কিছুই।কিন্তু সাইমার কাছে আমি শুধুই ফ্রেন্ড ছিলাম।আজ আছি কিনা সন্দেহ। আজ সকালে রিয়াদ কল করে বলল কারা জানি সাইমাকে ধর্ষণ করেছে।কলটা পেয়ে ছুটে আসছি।সকলে বলছে ওর চেহারাটা নাকি কুৎসিত লাগছে।কিন্তু কেন জানি আমার লাগছেনা।প্রথম দিন যেরকম মায়াবী দেখেছিলাম।আজ ও তেমন মায়াবী লাগছে।হয়ত আমি তাকে ভালবাসি বলে। আমাদের পরিচয় সেই চার বছর আগে।আমরা ছিলাম সংখ্যায় ৬ জন।আমি(আবির),রিয়াদ,তুহা,সাইমা, রিয়া,রুপা।বেশ ভালই চলছিল আমাদের সম্পর্ক টা। বন্ধুত্বটা তে একটু কমতি ছিল না।মাঝখানে বাদ সাধলাম আমি।আমি কখনই সাইমাকে ফ্রেন্ড এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে চাইতাম না।তারপর ও কেন জানি আমার ভাবনার মধ্যে চলে আসত।বাকিদের চেয়ে ওর সাথে আমার সম্পর্ক টা বেশ ভাল ছিল।ও ছিল প্রচন্ড মিশুক।ওর প্রতি আমি দিন দিন দূর্বল হচ্ছিলাম।আমি চাইতাম ওর থেকে দূরে থাকতে।কিন্তু পারতাম না।তবে আমি কখনোই ওকে জানাইনি। আমাদের স্ট্যাডিটা শেষ হল।আমার ইচ্ছা ছিল এমবিএ করব।তারপর জব।তারপর সাইমাকে জানাব।কিন্তু ওর ফ্যামিলি তার আগে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল।আমি তাই অনিচ্ছার সত্ত্বেও একটা জব নিলাম।ওকে যখন জানালাম আমি ওকে বিয়ে করতে চায়।ও আমাকে ডিরেক্টলি বলে দিল ও আমাকে ফ্রেন্ড এর চাইতে বেশি ভাবেনা।ফ্রেন্ড এর সাথে এইসব সম্ভব না। আমি চলে এলাম।কার দোষ দিব।ও তো আমাকে কোন স্বপ্ন দেখায় নি।আমি নিজেই দেখেছি।আমার ও তো দোষ ছিলনা।ভালবাসাটা তো দোষের ছিলনা।দোষটা ছিল আমার ভাগ্যের।আমি ওর সাথে যোগাযোগ রাখতে চাইতাম।ও কেন জানি এড়িয়ে যেত।তাই আমিও আর খুব একটা যোগাযোগ করতাম না।ও ছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। এমন একটা দিন ছিলনা যেদিন আমাদের কথা হয়নি।কিন্তু আজ।এভাবে আমাদের বন্ধুত্বটা হারিয়ে গেল। কিছুদিন পর জানতে পারলাম ও একটা রিলেশনে জড়িয়েছে।আমি কিছুই বললাম না।কেউ একজন বলেছিল ভালবাসার মানুষটা হারাতে পারে, ভালবাসা হারায় না।আমার ক্ষেত্রেও সেইম টাই হয়েছিল।সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের কাজে মন দিলাম। ১সপ্তাহের মধ্যে সাইমা সুস্থ হল।বাসায় চলে আসল। সমস্যা লাগল ওর বিয়ে নিয়ে।ওর বয়ফ্রেন্ড কিছুতেই রাজি হচ্ছেনা।মেইনলি ওর ফ্যামিলি চাচ্ছিলনা এই রকম মেয়ে বউ হিসেবে নিতে।আর আমাদের সমাজ। সে তো একধাপ এগিয়ে।ওর কপালে কলঙ্ক লেপে দিল।যার ফলে এই টাইপের মেয়ে কেউ বিয়ে করতে চাচ্ছিল না।আমি রিয়াদের থেকে সব শুনতাম। আমি সাইমার পরিবারের সাথে কথা বললাম।জানালাম আমি ওকে বিয়ে করতে চায়।কিন্তু সাইমা কিছুতেই রাজি হচ্ছেনা।ওর ফ্যামিলির চাপে ও রাজি হল।আমি আমার ফ্যামিলিকে জানাতেই তারা আমার উপর ক্ষেপে গেল।আমাকে জানিয়ে দিল ওই মেয়েকে বিয়ে করলে আমায় তাজ্য করবে।আমি ফ্যামিলির অমতে ওকে বিয়ে করলাম। বিয়ে করে একটা বাসা নিলাম।ওকে নিয়ে ওইখানে উঠলাম।ও প্রথম দিনই জানিয়ে দিল আমাদের সম্পর্ক টা কোনদিনই স্বামী স্ত্রী এর পর্যায়ে যাবেনা। আমি দ্বিমত করিনি।ওকে কাছ হতে দেখব এটাই আমার কাছে ছিল অনেক কিছু। এভাবে ৬মাস ক্রস হল।সম্পর্ক টা বন্ধুত্বেয় দাঁড়িয়ে ছিল। ও যখন সন্ধ্যায় চুল আছড়াত,খুব ইচ্ছা হত আমার চুল গুলা আছড়ে দেওয়ার।ইচ্ছা হত জোৎস্না দেখার,বিকালে ফুসকা খেতে যাওয়ার।ও আমার সাথে কোথাও যেতনা,একসাথে খেতে বসতনা।ওর মুখ থেকে হাসিটা হারিয়ে গেছিল।আমি অনেক চেষ্টা করেও তা ফিরিয়ে দিতে পারিনি। ইদানিং সাইমা দেখছি বেশ হাসি খুশি।আমার সাথে খেতে বসে ,গল্প করে।আমিতো অনেক খুশি।এর মধ্যে ও জানাল ওর বয়ফ্রেন্ড ওকে বিয়ে করতে চায়।এবং আমাকে বলল।ওকে তালাক দিতে।ওর সুখের জন্য আমি রাজি হলাম।ও সুখে থাকবে।এটা মন্দ কি।ওর হাসি মুখটার জন্য আমি সব করতে রাজি। ও চলে গেল।আমি আমার মত করেই থাকতে লাগলাম।সব হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হলাম।সাইমার সাথে যোগাযোগ করতে চাইতাম, ও সব ধরনের যোগাযোগ অফ করে দিল। এভাবে একটা বছর কেটে গেল।অফিসের কাজে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম।হঠাৎ সাইমার সাথে দেখা।চোখের নিচে কালি,শুষ্ক চেহারা।দেখে বুঝলাম কিছু একটা ঘটেছে।অনেক জোর করার পর বলল ওর ডিভোর্স হয়ে গেছে।ও এখন একটা মেসে থাকে।আমি বললাম তুমি চাইলে আমার কাছে ফিরতে পার।ঠিক ওই পরিমাণ ভালবাসি এখনো,যতটুকু প্রথম দিন বেসেছিলাম।জানি ও আর ফিরবেনা।আমায় কিছুটা হলে ও বুঝছে।আমি রওনা দিলাম নিজ গন্তব্যে। আর বিড়বিড় করে বললাম। ভালবাসার মানুষ হারাতে পারে,ভালবাসা নয়। ★★★ সমাপ্ত ★★★


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্ধুত্ব থেকে ভালবাসা
→ #বন্ধুত্ব+#ভালবাসা"
→ বন্ধুত্বে ভালবাসা?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now