বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আকাশ আর নীলিমা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X আকাশ আর নীলিমার বিয়ে হয়েছে এক বছর হল। তারা পালিয়ে বিয়ে করেছে।ওদের রিলেশন নীলিমার বাবা মেনে নেয়নি।নীলিমার বাবা তার বন্ধুর ছেলের সাথে তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিল।কিন্তু নীলিমা পালিয়ে আকাশের কাছে চলে আসে।আকাশের বাবা- মাও তাদের মেনে নিলনা।আকাশকে ত্যাজ্য করল। আকাশ নীলিমার হাত ধরে বেরিয়ে পড়ল।এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাসায় গিয়ে উঠল।পরেরদিন আকাশ একটি ছোট বাসা খুঁজে নিল। আকাশের কাছে কিছু টাকা ছিল।সেই টাকা এবং বন্ধুদের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনল।অনেক কষ্টে স্বল্প বেতনের চাকরি জোগাড় করল।এই বেতনের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে আকাশের হিমশিম খেতে হত।কিন্তু এ নিয়ে নীলিমার কোন অভিযোগ নেই।সে ভাবে আকাশের সাথে এক ছাদের নিচে থাকাটাই বড়।নীলিমার আবদার খুবই সামান্য।সে কোন দামী গহনা, কাপড়-চোপড় এগুলো চাইতনা।যাইহোক আগামীকাল পহেলা বৈশাখ।কিন্তু নীলিমার কোন আবদার নেই।আকাশ বুঝতে পারে নীলিমারও কিছু পেতে ইচ্ছে করে।কিন্তু আকাশের মুখের দিকে চেয়ে কিছু বলেনা।আকাশের খুব ইচ্ছে করছে নববর্ষ উপলক্ষে নীলিমাকে একটি শাড়ি,দুমুঠো চুড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি উপহার দিতে।কিন্তু তার কাছে অত টাকা নেই।কি করবে সে ভেবে পাচ্ছেনা।সকাল হল। নীলিমা আকাশকে ঘুম থেকে টেনে তুলল। -এই উঠো অনেক বেলা হইছে। -হুম(আবার ঘুম) -উঠো, শুভ নববর্ষ। -শুভ নববর্ষ! -হ্যাঁ।তুমি জানোনা? -জানিত। আকাশতার গতরাতের স্বপ্নের কথা ভাবছে।সে স্বপ্নে দেখেছে নীলিমার সাথে পান্ত ইলিশ খাচ্ছে। -কী ভাবছ? -কিছুনা(হকচকিয়ে) -যাও তাড়াতাড়ি গোসল করে এসো।একটু বাইরে বের হব। বাইরে যাওয়ার কথা শুনেই আকাশের মুখ চুপসে গেল।কারণ বাইরে গেলেই নীলিমার হয়ত পান্তা ইলিশ খেতে ইচ্ছে করবে।কিন্তু পকেটের অবস্হা বেশি ভালনা।এসব ভাবতে ভাবতে সে অনেকক্ষণ গোসল করল।গোসল সেরে বাথরুমের দরজা খুলে সামনের দিকে তাকাতেই সে বিস্মিত হল।তার সামনে দাড়িয়ে আছে পূর্ণিমার চাঁদ। পড়নে তার সুন্দর একটি শাড়ি,কপালে টিপ,দু'হাতে চুড়ি, ঠোটে মৃদু হাসি।সব মিলিয়ে অপরূপ সুন্দর লাগছে নীলিমাকে।আকাশতোথ হয়ে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে নীলিমার দিকে। -এই কী দেখছ ওভাবে? -তোমাকে।আমার বউ যে এত সুন্দর আগে জানতাম না। -হইছে আজাইরা পাম্প মারতে হবেনা। -পাম্প মারছিনা।আচ্ছা শাড়ি পেলে কোথায়? -কিনেছি।নাও পাঞ্জাবিটা ধর।তাড়াতাড়ি পড়ে এসো। আকাশ রীতিমত অবাক।সে স্বপ্ন দেখছে কিনা ভেবে পাচ্ছেনা। -কি হল?(নীলিমা) -ও হ্যাঁ টাকা পেলে কোথায়?? -এত প্রশ্ন করবেনাতো।যাও পাঞ্জাবিটা পরে এসো। আকাশ পাঞ্জাবি পড়ে আসল।অপূর্ব সুন্দর লাগছে দুজনকে।নীলিমা আকাশের হাত ধরে রেখেছে।সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।কেনইবা তাকাবেনা,তাদের জুটিটা যে অসাধারণ। -খুব ক্ষুধা লাগছে।চলো পান্তা ইলিশ খাই। আকাশ শুধু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল।কি বলবে সে,এই সামান্য আবদারটুকু রক্ষা করার সামর্থ্য যে তার নেই।নীলিমা আবার বলল -কি হল? -কিছুনা।টাকা নাই।নেক্ষ নববর্ষে খাব। -টাকা কোন সমস্যা না।চল খাই। তারা এক প্লেট পান্তা ইলিশ কিনল।তারপর আকাশ নীলিমাকে,নীলিমাআকাশকে খাইয়ে দিতে লাগল। দুজন খুব আনন্দ পাচ্ছিল।অনেকে তাদের পাগলামি দেখছিল। সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরল। রাতে শুয়ে তারা সারাদিন যা যা করছে সেগুলোর গল্প করতে লাগল।কথা প্রসঙ্গে আকাশ বলল, আচ্ছা তুমি সত্য করে একটা কথা বলবা? -হ্যাঁ বল। -তুমি টাকা কোথায় পাইছো? -শোন তাহলে।তুমি সারাদিন অফিসে থাক।ওই ফাঁকে আমি টিউশনি করি।ওই টিউশনির টাকা কিছু সংসারে খরচ করি,কিছু জমা করে রাখি।ওই জমানো টাকা থেকে পহেলা বৈশাখের এ আয়োজন। নীলিমা আকাশের বুকে মাথা রেখে কথাগুলো বলছে।আর আকাশ নীলিমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদছে।সে আসলেই অনেক ভাগ্যবান। কিছু ভালবাসা কখনো নিঃশেষ হয়না।কিছু ভালবাসা সকল ভালবাসার গল্পকে হার মানায়।ভালবাসার ছোট্ট পাওয়া অনেক বড়।আসুন ভালবাসার মানুষকে প্রাণভরে ভালবাসি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now