বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
-চলো আজকে বাইরে থেকে ডিনার সেরে আসি সাথে কিছু মার্কেটিংও করে আসি।
-সত্যি! তুমি না খুব ভালো।
-তুমি আমার লক্ষি বউ , তোমাকে নিয়ে যাব না তো কাকে নিয়ে যাব? আগে হলে সায়মা যেতে চাইতো না, কিন্তু ইদানিং সে পাল্টে গেছে। এসব খুব এনজয় করে সে।
রাতুল তার স্ত্রী সায়মাকে নিয়ে বের হলো। গাড়ি এসে আটকে গেলো কলাবাগান মোড়ে জ্যাম এ। কোথা থেকে ছুটে এল ৭-৮ বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে। গাড়ির জানালা দিয়ে হাত পাতলো
-স্যার দুইটা ট্যাকা দেন।
-যা, ভাগ...
- দ্যান না স্যার! মা'র অসুখ। মা'র লাইজ্ঞা একটা পাউরুটি কিন্যা নিমু।
-দিব একটা থাপ্পর! যেতে বলছি তোকে।
মেয়েটি চলে যাচ্ছিলো, গাড়ির পেছনের দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো সায়মা
-এই শোন...
-জ্বে আপা
-এদিকে আয়
-তোর মা'র কী হয়েছে?
-দুইদিন থাইক্যা জ্বর
-ঠিক আছে , আয় , তোর মাকে ঔষধ পথ্য কিনে দিচ্ছি।
রাতুল বলে উঠলো
-কাজটা কি তুমি ঠিক করছো , সায়মা?
-ঠিকই করছি। গরীব দুঃখীর পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ খুব খুশি হন। আমাকে কিছু কিনে দেয়া লাগবে না। তুমি ওকে আর ওর মাকে শপিং করে দাও।
রাতুলের মেজাজ খারাপ হচ্ছে। কোথাকার কোন বস্তির মানুষদের শপিং সে করে দেবে? কিন্তু কিছু বললেই সায়মা মন খারাপ করবে।
এদিকে খুশিতে মেয়েটির চোখে পানি চলে এসেছে। আহ! সব মানুষ যদি এই আপাটার মতো হতো!
.
সায়মা বিয়ের আগে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো । তার দাদি তাকে ইসলামের সব কিছু সুন্দর ভাবে শিখিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পরই পাল্টে যেতে থাকে সে। মাঝে মাঝেই নামাজ মিস হয়ে যায়। রাতুলকে অনেক ঠেলেঠুলে নামাজ পড়াতে হয়। হাই সোসাইটির পার্টি আর ফাংশানে নামাজ রোজা বেমানান। কেমন করে যেনো পাল্টে গেলো সায়মা। তবুও আর সবার থেকে এখনোও একটু আলাদা আছে। মাঝে মাঝেই রাস্তায় গরীব দেখলে এটা সেটা দান করে।
.
আলমারি ভর্তি বাহারি সব কাপড়-চোপড়। শাড়ি-গয়না কোনটারই কমতি নেই। অধিক বিত্ত বৈভবে সায়মা ধীরে ধীরে ইসলামের পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
"...তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।" [সূরা তাওবা ৯: ৩৮]
"যারা পরকালের চাইতে পার্থিব জীবনকে পছন্দ করে; আল্লাহর পথে বাধা দান করে এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করে, তারা পথ ভুলে দূরে পড়ে আছে।" [সূরা ইবরাহীম ১৪: ৩]
এজন্যই বিয়ের জন্য বিত্তবান স্বামীর থেকে একজন দ্বীনদার স্বামী উত্তম। সায়মা চেয়েছিলো একজন দ্বীনদার স্বামী কিন্তু তার পিতা আজগর চৌধুরী তার বন্ধুর ছেলে রাতুলের সাথেই বিয়ে দিলেন। অনেক চেষ্টা করেও সায়মা বিয়েটা ফেরাতে পারলো না। আজকে যদি সায়মা একজন দ্বীনদার স্বামী পেতো সে নিশ্চই নামাজ রোজা ঠিকঠাক মতো করতো। দুনিয়ার মোহে আকৃষ্ট না হয়ে পরকালের চিন্তা করতো। বিয়ের পর থেকেই পার্টিতে যেতে হয় সায়মাকে না করলেও রাতুল শোনে না। তার সুন্দরী বউ বন্ধু বান্ধবদের দেখাতে হবে না! পার্টিতে গেলে নামাজের সময় কখন চলে যায় সায়মা টেরই পায় না। ধীরে সেও ইসলামের পথ থেকে দূরে যেতে থাকে। আগে বাইরে বের হলে বোরখা ছাড়া হতো না। এখন রাতুলের জন্য পারেনা । বোরখা পড়লেই রাতুল বলবে
-তোমার রুচি কি নোংরা! এতো বড় একটা আয়োজনে এমন আনস্মার্ট , ক্ষ্যাত হয়ে যাওয়ার মানে কি?
- মানে?
-এই বোরকাটা সরাও
- বোরকা পড়লে আনস্মার্ট ?
-না তো কি! রুলিয়া, তাজিম ওদেরকে দেখো নাই ? কেমন জিন্স-টপস্- টি-শার্ট পরে চলছে?
এসব হাই সোসাইটিতে বোরখা বেমানান।
তবুও জোর করেই একদিন বোরকা পড়ে গিয়েছিলো সায়মা। সেখানে গিয়ে খুবই অপমানিত হয়েছিলো সে।
সব মেয়েরা হাসতে হাসতে বললো
-কি রে রাতুল, এটা কি এনেছিস? ভুত না তো!
রাগে সেদিন রাতুলের মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিলো। বাসায় এসে ইচ্ছেমতো বকেছে সায়মাকে। সঙ্গদোষে লোহাও ভাসে। আজকে একজন ঈমানদার স্বামী পেলে , আখিরাতের জীবনটা তার কতই না সুন্দর হতো!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now