বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অভিশাপ
-নাজমুস সাকিব খান
মাগরিবের আজান শুনে যেই না শরবতের গ্লাসে মুখ দিয়েছে তখনই বেজে উঠলো আশুলিয়া থানার এসপি আকরামের মোবাইল। সারাদিন রোজা রাখার পর এই সময়টায় মেজাজ থাকে চূড়ান্ত রকমের খিটখিটে। স্ক্রীনে ভেসে উঠেছে ইপিজেড এলাকার এক এএসআইর নাম্বার। মনে মনে একটা অকথ্য গালি দিয়ে রিসিভ করলো ফোনটা। অধঃস্তন হওয়ায় কিছুটা রাগী সুরে কথা বলার চিন্তা করেও শেষ মূহুর্তে বাতিল করলো। যে বেচারা ফোন করেছে সেও রোজাদার। বড় ধরনের কিছু না হলে এই টাইমে কল করতো না।
কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কিছুটা ভয়ার্ত গলায় বলে উঠলো,
''স্যার, সর্বনাশ হয়েছে। চায়না জোনের এক বয়স্ক চাইনিজ কর্মকর্তার মৃতদেহ একটু আগে তার ফ্ল্যাটে পাওয়া গিয়েছে। গুলির শব্দ পাওয়ায় তার বাড়ীর কেয়ারটেকার আমাদের পুলিশ ফাড়িতে জানায়। দরজা ভেঙ্গে রক্তাক্ত ডেডবডি পাই। হাতে একটা পিস্তল। মাথায় গুলির চিহ্ন।''
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বললো।
'ঠিক আছে, আমি আসছি। আর ফ্ল্যাটে কেউ যেন না যায়। ভিআইপি জোনে যেহেতু বাড়ী তাই সিসিটিভি তো থাকার কথা?'
''জ্বী, তা আছে স্যার। আমরা ফ্ল্যাট সীল করে রেখেছি। প্লাস বাড়ীর অন্যান্য বাসিন্দাদের ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছি।''
''আমি মিনিট বিশেকে মাঝে আসছি।'' -বলে লাইন কেটে দিলো এসপি আকরাম।
নাকে-মুখে সামান্য ইফতারী গুজে ২৫০সিসির কাওয়াসাকি বাইক নিয়ে বের হলো। রাস্তা ফাকা তাই পিকআপের সর্বোচ্চ তুললো। দ্রুত স্পটে যাওয়া লাগবে। খবর দেওয়া লাগবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ীর সিকিউরিটি গার্ড এবং কেয়ারটেকারের নিকট থেকে জানলো ইফিতারীর মিনিট পনেরো আগে তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে প্রচন্ড শব্দ পাওয়া যায়। কি হয়েছে জানার জন্য দরজায় নক করলেও কোন সাড়া-শব্দ পাওয়া যায় নি। এদিকে সারাদিনের রোজায় ক্লান্ত-বিরক্ত মানুষ অধৈর্য হয়ে রাস্তার ওপাশে কাজ করা পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের নিকট থেকে লম্বা মই এনে তিনতলার জানালায় উকি দিয়ে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে। বাড়ীতে ফরেনার ভাড়া দেওয়াতে বাড়ীওয়ালার পূর্ব নির্দেশ ছিলো খারাপ কিছু হলে কালবিলম্ব না করে পুলিশে খবর দেয়ার।
হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টকে এতক্ষণে খবর দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মানুষের সাথে ভিড় জমিয়েছে কিছু ফাত্রা ডটকম সাংবাদিক যাদের কাজ 'ক্লিক-বেইট' জার্নালিজমের মাধ্যমে ওয়েব পোর্টালে ট্রাফিক বাড়িয়ে আয় করা। তিলকে তাল করায় এরা ওস্তাদ।
ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিলো এবং পুলিশ দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকেছে। তাই আত্মহত্যারই চান্স বেশী। ছিটকিনি ভাঙ্গার টাটকা দাগ দেখতে পাচ্ছে। বাড়ীওয়ালার সাথে কথা বলেছে। লোকটার চোখে-মুখে আতংক।
গ্লাভস পরা হাতে মৃতদেহ পরীক্ষা করলো। ড্রইং রুমে টিভি সেটের সামনে পড়ে আছে। টিভিতে লাল বাতি তখনও জ্বলছে। মানে রিমোট দিয়ে বন্ধ করা। অর্থাৎ মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও লোকটা টেলিভিশন দেখছিলো। আশে-পাশের লোকদের নিকট থেকে জানলো দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন তিনি। বড় মাপের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। অনর্গল বাংলা বলতে পারতেন। ধনী হওয়া সত্বেও অহংকারী ছিলেন না। আর চায়নাতে তার তেমন কোন রিলেটিভ নাই। ভদ্রলোক চিরকুমার ছিলেন।
লোকটার পরনে পোলো টি-শার্ট। বুকের বাম পাশে একটা ছোট পকেট। সেখান থেকে সাদা কি যেন উকি দিচ্ছে।
বের করলেন সেটা এসপি আকরাম। ছোট একখণ্ড কাগজ। ভাজ খুলতেই কিছু লেখা দেখতে পান। কিছুটা এলোমেলো ভাবে ইংরেজিতে লেখা,
''ঈশ্বরের অভিশাপ পড়ুক আমার পূর্বপুরুষদের উপর যারা নুডলস আবিষ্কার করেছিলো।''
পলিব্যাগে সুইসাইড নোটটা রেখে দিলো আলামত হিসেবে। মিস্টার আকরাম নিশ্চিত এটা একটা আত্মহত্যার কেস। তবুও অটোপসির জন্য লাশ মর্গে পাঠালো।
নজর পড়লো টিভির জ্বলে থাকা লাল ডটের দিকে। রিমোটের 'পাওয়ার' বাটন টিপে অন করলো টেলিভিশন।
ভেসে উঠলো একটি বাংলাদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল।
''চ্যানেল চোখ।'' ????
আত্মহত্যার কারণ বুঝতে বেগ পেতে হলো না এসপি আকরামের।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now