বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বদ নসিব
নাজমুস সাকিব
| |১| |
কাদের কসাই হিসেব করে দেখলো গরু-ছাগলের চেয়ে মানুষ নিয়ে কারবার করলে লাভ বেশী। এই দূর্মূল্যের বাজারের একমাত্র মানুষের জীবনই সবচেয়ে সস্তা। প্লাস মাংসের দাম গাণিতিক হারে বাড়ছে আর ক্রেতা জ্যামিতিক হারে কমছে। নিম্নবিত্তের নাগাল বহু বছর আগেই ছাড়িয়েছে। মাংস খাওয়া এখন মধ্যবিত্তের জন্যও বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গিয়েছে। মরা গরু বা কুকুর মিশিয়েও লাভ তেমন করা যায় না। তাছাড়া জানাজানি হলে ব্যবসা লাটে উঠবে। তাই ভাড়াটে খুনির কাজ করছে গত এক বছর যাবত। আগ্নেয়াস্ত্র অত সস্তা না আর এই জিনিস সে চালাতেও পারে না। তাই ছুরি ও চাপাতিই ভরসা।
।।২।।
আজ সে দাঁড়িয়ে আছে সাব্বিরের অপেক্ষায়। বাপ-মা হারা সাব্বির একাই থাকে এই বাড়ীতে। একজন কাজের লোক আছে। কিন্তু সে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনদিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ী গিয়েছে। খাওয়া দাওয়া তাই হোটেলে। বিয়ে শাদী করে নি। ছোট বেলায় টাইফয়েডে একটি পা নষ্ট হয়ে যায়। ক্র্যাচ ও হুইলচেয়ারে চলতে হয়। দুনিয়ায় পঙ্গু যোদ্ধা, বিজ্ঞানী বা মোটিভেটরের কদর আছে কিন্তু জীবনসঙ্গীর বেলায় নেই। ইনকাম বলতে বাবার রেখে যাওয়া কিছু শেয়ার আর নিজের অনলাইনে লেখালেখি, ট্রান্সলেটিং ও দুইটা জনপ্রিয় কমার্শিয়াল ওয়েবসাইট বিজনেস। চারটা ভাষায় পারদর্শী সাব্বির। এখন তার বিষয়-সম্পত্তির উপর চোখ পড়েছে তার চাচাদের। জাল দলিল বের করে একবার সবকিছু হাত করার চেষ্টা চালিয়েছিলো। লাভ হয়নি শেষতক। এবার তাই ডাইরেক্ট অ্যাকশন।
।।৩।।
টার্গেটকে আসতে দেখলো কাদের। ক্র্যাচে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে আসছে সাব্বির। ঈদের দাওয়াত ছিলো শাওনের বাসায়। ছুরি নিয়ে রেডী হলো কাদের। নির্দেশ দেওয়া আছে কাজ করার পর যেন ওর মোবাইল আর মানিব্যাগ নিয়ে যায়। নিরীহ ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে খুনের হুকুমদাতারা সন্দেহের উর্ধ্বে থাকতে চাইছে।
গলিটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়াতে হাটার গতি শ্লথ করলো সাব্বির। হাল্কা শীষ দিলো তার পোষা কুকুর বাঘার উদ্দেশ্যে। কুকুরের শ্রবন ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশী তাই প্রায় এক’শো গজ দূর থেকে সরাইলের বাঘা রওনা দিলো। মনটা আজ ফুরফুরে সাব্বিরের। বন্ধুদের সাথে জম্পেশ আড্ডা দিলো অনেকদিন পর। আসার সময় কলেজ লাইফের ফ্রেন্ড অনিক বললো যে রাত্রে সাব্বিরের বাসায় থাকবে। সারা রাত মুভি দেখবে দু’জনে। দোকানে সিগারেট কিনতে যাওয়ায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে অনিক। এমন সময় সামনে একটি ছায়ামূর্তি দেখে থমকে দাড়ালো সাব্বির। ক্র্যাচটা সামনে এনে পকেট থেকে মোবাইল বের করার জন্য হাত বাড়ালো। আর তখনই তীক্ষ্ণধার ছুরি তার হাতের পেশীতে গেঁথে গেলো। আর্তনাদ বেরিয়ে এলো সাব্বিরের গলা দিয়ে। এদিকে কাদেরও বুঝেছে সমস্যা হয়েছে। তাই ছুরি টেনে বের করে আবার পেটে স্ট্যাব করতে যাবে এমন সময় বিকট গর্জন করে বাঘা ঝাঁপিয়ে পড়লো কাদেরের উপর। ফলে দ্বিতীয় আঘাতটাও যুঁতসই হলো না। পেটে অগভীর ক্ষত সৃষ্টি করলো ছুরি। এদিকে কাদের বাঘাকে সামলাতে ব্যাস্ত। আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিস্তার পেতে। এলোপাতারি ছুরি চালালো ভাড়টে খুনি। আহত বাঘা পিছিয়ে যেতেই কাদের উঠে দৌড় দিলো। হাত ও কাঁধ কামড়ে ফালাফালা করেছে কুকুরটা। এর থেকে রেহাই না পেলে মরতে হবে। দিগবিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে ছুটছে কাদের। এমন সময় ঝড়ের গতিতে ছুটে আসা এক রডবোঝাই ট্রাকের সামনে পড়লো সে। ????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now