বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিত্তির বাড়ির রহস্য—১

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রথম অভিযান " মিত্তির বাড়ির রহস্য " ষষ্ঠীপদ ভট্টাচার্য ------------------- (পর্ব ১) বাবলু, বিলু, ভোম্বল তিনটি ছেলে। বাচ্চুু-বিচ্ছু দুটি মেয়ে। এই নিয়ে ওরা পাঁচজন। আর ওদের সঙ্গে আছে কালো একটি দেশি কুকুর, নাম পঞ্চু। কুকুরটির এক চোখ কানা বলে ওকে ওরা কানা-পঞ্চু বলে। আর লোকে ওদের বলে পঞ্চপাণ্ডব। এই পাঁচটি ছেলেমেয়ে এবং ওই কালো কুকুরটি একজোটে সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। এই ক'জনে কেউ কাউকে ছাড়া থাকে না। যেমনই দস্যি, যেমনই ডানপিটে আর তেমনই লেখাপড়ায়। গ্রীষ্মের ছুটির এক দুপুরে ওরা পাঁচজনে পঞ্চুকে নিয়ে মিত্তিরদের বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ঘুরতে ঘুরতে পোড়ো ভাঙা একটা বাড়ির কাছে এসে থমকে দাঁড়াল ওরা। বাড়িটা দোতলা। একদিকের ছাদ নেই। একদিকের দেওয়াল ধসে পড়েছে। একদিকের ছাদে ছোট ছোট বটগাছ, অশ্বখগাছ ইত্যাদি গজিয়েছে। বাড়ির ভেতর আর বাইরেটায় ঘন ঘাস আগাছা ইত্যাদির বন হয়ে আছে। একটা মস্ত গুলঞ্চগাছ তার শাখা-প্রশাখা নিয়ে বুকে আছে বাড়ির ভাঙা দালানের গায়ে। ওরা পাঁচজনে সেইখানে এসে বসল। বাবলু প্যান্টের পকেট থেকে বার করল দুটাে কাচা আম। বিলুর সঙ্গে ছিল নুন আর লঙ্কা। ভোম্বলের কাছে ছিল ছোট একটা ছুরি। তাই দিয়ে আমটাকে কুচি কুচি করে নুন লঙ্কা মাখিয়ে বেশ জুতসই একটা চিজ তৈরি করে ফেলল ওরা। বাচ্চু আর বিচ্ছু মেয়েদুটি নেহাতই ছোট বলে ওরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগল। যখন ভাগ হল তখন সবার ভাগেই সম পরিমাণ পড়ল। বাচ্চু-বিচ্ছু ছোট বলে যে ওদের ভাগে কম পড়ল তা কিন্তু হল না। আমের কুচি খেয়ে বিলু আর ভোম্বল সেই আঁকা-বাঁকা গুলঞ্চগাছের ডালে উঠে ঠেস দিয়ে বসে রইল। বাচ্চু-বিচ্ছু শুয়ে গড়াগড়ি দিতে লাগল ঘাসের ওপর। আর বাবলু করল কী পঞ্চুর সামনেকার পাদুটো ধরে তাকে নিয়ে নানারকম কেরামতি করতে লাগল। পঞ্চুর সঙ্গে খেলা করতে করতেই বাবলুর মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি এল। যেই না আসা বাবলু অমনই নিজের মনেই হাতে টুসকি দিয়ে চেঁচিয়ে বলল,"দ্যাটস আইডিয়া।" বিলু-ভোম্বল টুপটাপ করে গাছের ডাল থেকে নেমে পড়ল। বাচ্চু-বিচ্ছুও শোওয়া ফেলে গায়ের ধুলো ঝেড়ে উঠে বসল ঘাসের ওপর। পঞ্চুও তাকাল বাবলুর মুখের দিকে। বাবলু চোখদুটো উজ্জ্বল করে বলল, "একটা চমৎকার প্ল্যান এসেছে মাথায়।" ভোম্বল বলল, "কীসের প্ল্যান ?" visit for more: www.shishukishor.org "অ্যাডভেঞ্চারের।" বিলু বলল, "মাথা খারাপ। এই মিত্তিরদের বাগানে বসে অ্যাডভেঞ্চার করা যায় নাকি?" "সাহস থাকলে ঠিকই যায়।" ভোম্বল বলল, "তা ছাড়া অ্যাডভেঞ্চারের একটা পরিবেশ তো চাই।" "কী করে নিবি?" "যেখানেই রহস্যের গন্ধ পাব সেখানেই ছুটে যাব আমরা।" বাচ্চু-বিচ্ছু বলল, "কাজটা কিন্তু খুব কঠিন।" বাবলু বলল, "হোক কঠিন। চেষ্টা তো করব।" বিলু বলল, "এ তা হলে এক ধরনের শখের গোয়েন্দাগিরি হবে, কী বল?" "ঠিক তাই।" ভোম্বল বলল, "মন্দ নয়। দেখাই যাক না একটু চেষ্টা করে?" বিলু একটুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ উৎসাহিত হয়ে বাবলুর পিঠ চাপড়ে বলল, "হ্যাঁ হ্যা, লেগে পড়। জয় মা কালী। তার ওপর তুই যখন আমাদের লিডার তখন আর ভাবন কী?" বাচ্চু-বিচ্ছু বলল, "ওঃ কী দারুণ মজা!" সবাই সমস্বরে বলে উঠল, "হিপ হিপ হুরর রে।" পঞ্চুও অমনই আনন্দে ডেকে উঠল, "ভৌঁ ভৌঁ ভোঁ।" বাবলু পঞ্চুকে জড়িয়ে ধরে বলল, "তুইও আমাদের দলে থেকে সাহায্য করবি। পারবি তো?" পঞ্চু ডাকল, "ভৌ ভোঁ।" বাবলু বলল, "এবার কিন্তু আমাদের এই গ্রুপটার একটা নাম দিতে হবে। এবং এই বাগানেই এই পোড়ো বাড়ির ভেতরেই ঘাঁটি হবে আমাদের।" বিলু বলল, "কী নাম দিবি দলটার?" ভোম্বল বলল, "সবাই যখন আমাদের পঞ্চপাণ্ডব বলে তখন আমাদের দলের নামও তাই হবে। পঞ্চপাণ্ডব অ্যান্ড কোং।" বাবলু বলল, "তুই একেবারে রাম বুদ্ধ। অ্যান্ড কোং আবার হয় নাকি?" বাচ্চু বলল, "তুমিই বলো বাবলুদা।" বিচ্ছু বলল, "শুধু পঞ্চপাণ্ডব নামটা কেমন?" বাবলু বলল, "না। নামটাকে আরও একটু মডার্ন করতে হবে। আমাদের দলের নাম হবে পাণ্ডব গোয়েন্দা।" বাচ্চুু-বিচ্ছু চেঁচিয়ে বলল, "ওয়ান্ডারফুল।" ভোম্বল বলল, "আমি এখনই আমাদের পাড়ার ঘ্যাঁচাদাকে দিয়ে একটা সাইনবোর্ড করিয়ে আনছি। যাতে লেখা থাকবে আমাদের দলের নাম পাণ্ডব গোয়েন্দা।" বাবলু বলল, "সেই ভাল। আজ থেকেই তা হলে আমাদের কাজ শুরু হয়ে যাক। ভোম্বল, তুই সাইনবোর্ড তৈরি করগে যা। আমরা ততক্ষণে ঘরটা পরিষ্কার করে ফেলি।" ভোম্বল চলে গেল। বিলু বলল, "ঘর তো পরিষ্কার করবি। কিন্তু একটা ঝাঁটা তো চাই। তারপর জল ছিটোবার জন্যে চাই একটা বালতি।" বাবলু বলল, "ঝাঁটা না হলেও চলবে। কালকাসুদের ঝাড় দিয়ে ঝাঁটা বানিয়ে নেব। কিন্তু বালতি কোথায় পাব?" বাচ্চু বলল, "কী করে আনবি? মা যদি দেখতে পায়?" "সে আমি ঠিক নিয়ে আসব লুকিয়ে।" এই বলে বিচ্ছু চলে গেল। ততক্ষণে বাবলু, বিলু আর বাচ্চু ঘর পরিষ্কারের কাজে লেগে গেছে। একটু পরে বিচ্ছু বালতি নিয়ে ফিরে এলে সেই বালতি করে পাশের পুকুর থেকে জল এনে ঘরময় ছেটানো হল। ভোম্বলও ফিরে এল ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে। ওর হাতে চমৎকার একটি সাইনবোর্ড। যাতে লেখা "পাণ্ডব গোয়েন্দা"। সেই বোর্ডটা ওরা ভাঙা বাড়ির দেওয়ালে পেরেক ঠুকে লাগিয়ে দিল। দেখতে দেখতে সন্ধে হয়ে এল। কাজেই ওরা আর কেউ রইল না সেখানে। পঞ্চুকে নিয়ে যে যার ঘরে ফিরে গেল। রাত্রিবেলা বাচ্চু আর বিচ্ছু পাশাপাশি শুয়েছিল। দু"জনেই ঘুমোচ্ছিল অঘোরে। এমন সময় গুমোট গরমে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল বিচ্ছুর। বিছানায় শুয়ে তাই এপাশ-ওপাশ করতে লাগল। দুপুরবেলার ঘটনাগুলোও মনে আসতে লাগল সব। হঠাৎ মনে পড়ল আরে! পলিথিনের বালতিটা তো সেই ভাঙা বাড়িটার ভেতরেই ফেলে রেখে এসেছে। সেটা তো আনা হয়নি। মনে পড়তেই বুকটা ধড়াস করে উঠল। কেন না কাল সকালে যখন বালতির খোঁজ পড়বে তখন যদি মা বালতি না পান তা হলেই সব ফাঁস হয়ে যাবে। আগে তো দুম দাম করে ঘা কতক দিয়েই দেবেন ওকে, তার পরে অন্য কথা। বিচ্ছু যে কী করবে কিছু ভেবে পেল না। পাশ ফিরে দেখল বাচ্চুু অঘোরে ঘুমোচ্ছে। রাত এখন কত তাই বা কে জানে ? বিচ্ছুর মনে হল বাচ্চুকে একবার ডাকে। কিন্তু কেন কে জানে ওর এই আরামের ঘুমটা নষ্ট করতে খুব মায়া হল বিচ্ছুর। তাই বার বার উশখুশ করতে লাগল। তারপর একবার ডাকব কি ডাকব না ভাবতে ভাবতে মৃদু একটু টিপনি দিয়ে ডেকেই ফেলল বিচ্ছু,"এই দিদি। দিদি?" "শোন।" বাচ্চুুর ঘুম ভেঙে গেল। তবুও সে তন্দ্রা জড়ানো গলায় বলল, "কী?" "শোন না ভাল করে।" বাচ্চু বিরক্ত হয়ে বলল, "বল না কী বলছিস ?" "একটা খুব ভুল হয়ে গেছে রে।" বাচ্চুু এবার চোখ মেলল, "কী হয়েছে?" "বালতিটা সেখানেই পড়ে আছে। নিয়ে আসা হয়নি।" ঘুমের ঘোর ক্ষণিকের জন্য কেটে গেল বাচ্চুুর। বলল, "কী হবে তা হলে ?" "তুই বল না কী হবে? মা সকালবেলা বালতি দেখতে না পেলে খুব বকবে। তা ছাড়া মায়ের রাগ জানিস তো? আগেই মেরে দেবে দুম দাম করে।" "মারবার আগেই তুই কেঁদে দিবি। তা হলে কিছু হবে না।" বলে পাশ ফিরে শুল বাচ্চুু। বিচ্ছু বলল, "বালতিটা যদি কেউ চুরি করে নিয়ে যায়?" "যায় যাবে। যেমন নিয়ে গেছিস তুই বুঝবি এবার ঠ্যালা।" বিচ্ছুর খুব ভয় হল এবার। সে ভয়ে ভয়ে বলল, "তুই একবার আমার সঙ্গে যাবি রে দিদি?" বাচ্চুু অবাক হয়ে বলল, "কোথায়!" "সেইখানে।" "তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে! এই রাত্তিরে সেখানে আবার কেউ যায় নাকি?" "বালতি না পেলে কাল সকালে কী কাণ্ডটা হবে বুঝতে পারছিস তো।" "যা হয় হবে। এখন চুপ চাপ শুয়ে থাক দিকি। আমার ঘুম পাচ্ছে।" এই বলে বাচ্চু পাশ ফিরে শুল। বিচ্ছু আর কী করে সেও চুপ করে শুয়ে রইল একপাশে। শুয়ে রইল কিন্তু ঘুম এল না। একটা দুশ্চিন্তা বার বার ওর মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল। সে শুয়ে শুয়ে শুধু সেই বালতিটার কথাই ভাবতে লাগল। তারপর একসময় যখন পাশে শুয়ে-থাকা বাচ্চুুর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেল তখন বুঝল বাচ্চু বেশ গভীর ঘুমেই মগ্ন হয়ে গেছে। বিচ্ছু ততক্ষণে মনস্থির করে ফেলেছে। সে আর বাচ্চুুকে কোনওরকম বিরক্ত না করে চুপি চুপি উঠে বসল। তারপর আস্তে আস্তে দরজার কাছে গিয়ে খিলটা খুলে নেমে এল রাস্তায়। রাস্তায় নেমে চারদিকে একবার তাকিয়ে দেখল বিচ্ছু। চারদিক নিস্তব্ধ। শুধু লাইট পোস্টের আলোগুলো সেই ঘন অন্ধকারের যবনিকায় ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বিচ্ছু পায়ে পায়ে বাবলুদের বাড়ির দিকে এগিয়ে চলল। বাবলুদের বাড়ির কাছে আসতেই দেখতে পেল বাবলুদের রকে বেশ খোশ-মেজাজে কুণ্ডলি পাকিয়ে শুয়ে আছে পঞ্চু। পঞ্চুু শুয়ে শুয়ে এক চোখে পিট পিট করে একবার দেখে নিল বিচ্ছুকে। তারপর বিচ্ছু ডাকবার আগেই আনন্দে লাফিয়ে লেজ নেড়ে নেড়ে ছুটে এল বিচ্ছুর কাছে। এই অসময়ে বিচ্ছুর সঙ্গটা ওর কাছে সত্যিই অপ্রত্যাশিত ছিল। পঞ্চু একবার বিচ্ছুর পায়ের কাছে গড়াগড়ি খেয়ে কুই কুই করতে লাগল। বিচ্ছু পঞ্চুর গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, "চল পঞ্চু। তোতে আমাতেই যাই। সেই ভাঙা বাড়িতে গিয়ে বালতিটা নিয়ে আসি।" পঞ্চু কী বুঝল কে জানে, এই রাতদুপুরে একটা অভিযানের গন্ধ পেয়েই বুঝি সারা গা ঝাড়া দিয়ে খাড়া হয়ে দাঁড়াল। বিচ্ছু পঞ্চুকে নিয়ে এগিয়ে চলল মিত্তিরদের বাগানের দিকে। রাতের অন্ধকারে বাগানের এক কোণে ভাঙা বাড়িটা যেন প্রেতপুরীর মতো থমথম করছিল। একে রাত্রির অন্ধকার। তার ওপর ছায়া ছায়া কালো গাছপালাগুলো দেখলে বুকের ভেতরটা যেন ছ্যাঁৎ করে ওঠে। নেহাত পঞ্চু রয়েছে তাই। না হলে এই অন্ধকারে একা আসতে বিচ্ছুর সত্যিই খুব ভয় করত। ' অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বিচ্ছু আর পঞ্চু নিঃশব্দে বাগান পার হয়ে সেই ভাঙা বাড়িতে গিয়ে জুটল। ঘরের ভেতরটা তখন ঘন অন্ধকারে ঢাকা ছিল বলে বালতিটা যে ঠিক কোনখানে আছে তা দেখতে পেল না বিচ্ছু। আর পঞ্চুও ঠিক বুঝতে পারল না বিচ্ছুর এখানে কীসের জন্য আসা। বিচ্ছু অনেকক্ষণ ধরে এদিক সেদিকে খোঁজাখুঁজি করতে লাগল বালতিটাকে। এমন সময় সিঁড়ির ওপর থেকে হঠাৎ এক জোরালো টর্চের আলো ওর মুখে এসে পড়ল। আর কে যেন একজন গম্ভীর গলায় বলে উঠল, "কে রে তুই?" সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চুও ক্রুদ্ধ গলায় চিৎকার করে উঠল, "ভৌ ভৌ। ভৌ-উ-উ।" তারপরই আলো লক্ষ্য করে তীরের মতো ছুটে গেল সে। বিচ্ছু তখন ভয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারল না রাতদুপুরে এই লোকটা কে? পঞ্চু ছুটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে ভয়ে কেঁদে উঠল। বিচ্ছুর কান্না শুনে ওর কোনও বিপদ হয়েছে মনে করেই লোকটাকে ছেড়ে পঞ্চুু আবার ছুটে এল ওর কাছে। আর ঠিক তখনই মনে হল কে বা কারা যেন ছাদের ওপর দিয়ে ছুটতে ছুটতে বাগানের দিকে লাফিয়ে পড়ল। পঞ্চুুকে পেয়ে বিচ্ছুর মনে আবার সাহস ফিরে এল। সে তখন কোনওরকমে বালতিটা খুঁজে নিয়ে পঞ্চুর সঙ্গে বাড়ির দিকে দৌড়-দৌড়-দৌড়। পরদিন সকালবেলা বাচ্চুুকে সব কথা খুলে বলল বিচ্ছু। কাল রাতে সে আর পঞ্চু কীভাবে গিয়েছিল। কী দেখেছিল সব বলল। সব শুনে বাচ্চুু চোখদুটো বড় বড় করে বলল, "বলিস কী রে! ভয় করল না তোর?" বিচ্ছু বলল, "না। ভয় আবার কী?" "উঃ। তুই সত্যিই বিচ্ছু। আমি হলে তো ভয়েই হার্টফেল করতাম। এই অন্ধকারে রাতদুপুরে একা একা, বাপ রে ; " বিচ্ছু বলল, "তবে ভয় যে করেনি তা নয়। আলোটা যখন মুখের ওপর এসে পড়ল তখন খুব ভয় হয়েছিল।" "কী মনে হয়েছিল?" "আমি ভূত মনে করেছিলাম।" বাচ্চু বলল, "না না। ভূত নয়। ভূত হলে টর্চ ব্যবহার করত না। এ নিশ্চয়ই চোর ডাকাতের ব্যাপার।" "তাই বলেই মনে হয়। এখন তা হলে কী করা যায়?" "ব্যাপারটা বাবলুদাকে জানানো উচিত। আমি একবার বাবলুদার কাছে যাই। তারপর বাবলুদা যা ডিসিশন নেবে তাই হবে।" "ঠিক। তুই তা হলে এখনই যা।" বাচ্চু চলে গেল। (পরের পর্বে সমাপ্ত) -----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now