বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘোর নিশুতি ------- (৪র্থ ও শেষ পর্ব)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (অতিপ্রাকৃত থ্রিলার) " ঘোর নিশুতি " শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ --------------------- (৪র্থ ও শেষ পর্ব) এগাারো. মধ্যরাত। মুমিতু বসে আছে প্রফেসর ফিহির হোসাইনের ওয়েটিং রুমে। কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে, আর অপেক্ষা করছে মাশরাফির জন্য। ভেতরে মাশরাফির সাথে কথা বলছেন প্রফেসর। সেদিন প্রফেসরকে ঘুম পাড়িয়ে চলে যাওয়ার পর তিনি যোগাযোগ করেছেন মুমিতুর বাবার সাথে। বাবা একরকম জোর করে ওদের দু’জনকে আবার পাঠিয়ে দিলেন এই সুখটাকওয়ালার কাছে। আসার সময় বলে দিলেন, প্রফেসর ওদের কাউন্সেলিং করবেন। ঠিক যত সময় চান তত সময়ই দিতে হবে ওদের। সম্ভবত ওইদিন মুমিতুকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে নিজেই ঘুমিয়ে যাওয়ার ঘটনাটা সাঙ্ঘাতিক লেগেছে প্রফেসরের। এ কারণেই তাকে শাস্তি দিতে চাইছেন তিনি। কিন্তু বাবাকে ম্যানেজ করলেন কিভাবে? যেভাবেই করুক, এখন আর এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই। কোনো রকম পাগলের ডাক্তারের কাছ থেকে মুক্তি পেলেই হলো। কফির কাপে শেষ চুমুকটি দিলো সে। তারপরই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখলো মাশরাফিকে। মুখে বললো, তোকে ভেতরে যেতে বলেছেন প্রফেসর। মুমিতু উঠে দাঁড়ালো। ভেতরের দিকে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক ওই মুহূর্তে আবার ঘুরে দাঁড়ালো মাশরাফির দিকে, আচ্ছা, তোর সাথে কী কী কথা হলো রে? অনেক কথা। সব তোর ব্যপারে। তুই দিন রাত কী কী করিস, কোথায় যাস এইসব। তুই কী বললি? যা যা করিস তাই বললাম। আর কথা বাড়ালো না মুমিতু। দরজা ঠেলে কামরায় ঢুকলো সে। সেই নজরুল সঙ্গীত, মনিটরের ভিসুয়ালাইজেশন। আর তন্ময় প্রফেসর। তবে মুমিতু যে কামরায় ঢুকেছে সেটা টের পেয়েছেন তিনি। হাত ইশারায় বসতে বললেন। এই মুহূর্তে প্রফেসরকে মনে হচ্ছে আগের চেয়ে আরো সতর্ক, আরো আত্মবিশ্বাসী। মুহূর্তের মাঝে চেয়ার টেনে নিলেন কম্পিউটার টেবিলটার দিকে। মাউস নাড়াচাড়া করে সাটডাউন করলেন। তারপর ফিরে তাকালেন মুমিতুর দিকে, সেদিন তোমাকে মাপতে ভুল করেছিলাম আমি। আজ মেপে কী মনে হচ্ছে, আমি কি আহামরি কিছু? আহামরি না হলে এই মধ্যরাতে আমার সামনে বসে থাকতে হতো না তোমার। আমার ধারণাই ছিলো না, তোমার মতো পিচ্চি একটা ছেলের প্যারা সাইকোলজির ওপর এতটা দখল আছে। প্যারা সাইকোলজি কী? এই যে তুমি মেডিটেশনসহ আরো যা যা অদ্ভুত কাজ করো এসব কাজকে পর্যালোচনা করে প্যারাসাইকোলজি। প্যারাসাইকোলজি হলো সাইকোলজিরই একটি শাখা। মানুষের অতৈন্দ্রিক ক্ষমতা, অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডগুলোই এর বিষয়। এই ধরো টেলিপ্যাথি, অর্থাৎ অন্য মানুষের মনের কথা বুঝতে পারা। প্রি রিকোগনিশান, অর্থাৎ ভবিষ্যৎ বলতে পারা। টেলিকিনসিস, অর্থাৎ কোনো ধরনের শারীরিক সম্পৃক্ততা ছাড়াই কোনো জিনিস নাড়ানো। সাইকোমেট্রিক, অর্থাৎ কোন বস্তু, প্রাণী বা জায়গাকে স্পর্শ করে সেটা সম্পর্কে সব জেনে যাওয়া। মৃত্যু স্পর্শ, অর্থাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা। বাইলোকেশান, অর্থাৎ একই সময় দুই জায়গায় অবস্থান করা। আমিতো এসবের কিছুই জানি না। তবে প্যারা সাইকোলজির ওপর আমার দখল আবিষ্কার করলেন কিভাবে? এগুলোর ওপর পুঁথিগত বিদ্যা তোমার নেই। অনেক ব্যবহারিক বিদ্যা রয়েছে। তোমার আচরণকে তুমি সংজ্ঞায়িত করতে পারছো না, এই যা। প্যারাসাইকোলজির পর্যালোচনা হয় পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মতভাবে। এ বিদ্যা একটি ঘটনা কেন ঘটেছে সেটা ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে ঠিক কিভাবে কিভাবে ঘটেছে এর স্বচ্ছ কোনো ছক এখন পর্যন্ত আঁকতে পারেনি। প্যারাসাইকোলজির সবচেয়ে আলোচিত যে বিষয় সেটা হলো টেলিপ্যাথি। আমরা সবাই জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে এর প্রমাণ পেয়ে থাকি। যেমন ধর তুমি মাশরাফির কথা গভীরভাবে চিন্তা করছো। ঠিক সেই মুহূর্তে তোমার ফোনে মাশরাফির কল বেজে উঠলো। অথবা তোমার কোনো বন্ধু হুট করে এমন কোনো কথা বলে ফেললো, যা কখনো তুমি তাকে জানাওনি। কথাগুলো কিন্তু মিথ্যে নয়। এই কথাগুলো তোমার মনের ভেতর ছিলো। মনের কথা জানা বা অনুমান করার এই অদ্ভুত ক্ষমতাকেই টেলিপ্যাথি বলে। এসব বিষয়কে আমরা খুব সহজেই কাকতালীয় ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাই। অথচ স্বীকার করি না যে, এটা আমাদের মস্তিষ্কের এক অতীন্দ্রিয় সংবেদনশীলতা। যেখানে আমাদের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। শুনেছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে নাকি সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা এবং ব্রিটেন সাই এজেন্ট নিয়োগ করেছিলো? হ্যাঁ, ঠিক শুনেছো। এই সাই এজেন্টদের কাজ ছিলো টেলিপ্যাথি বিদ্যা ব্যবহার করে গোয়েন্দাগিরি করা, মানুষের মনোজগতে প্রবেশ করা। তারা নিজেদের মন ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং বস্তু সম্পর্কে তথ্য দিতেন। মেডিটেশন, টেলিপ্যাথি নিয়ে যতক্ষণ কথা হলো, ঘড়ি ধরলে কমপক্ষে ঘণ্টাখানেক তো হবেই। তবুও মুমিতুকে নিস্তার দিচ্ছেন না প্রফেসর ফিহির হোসাইন। ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু হয়ে এসেছে ওর। একটি আরামদায়ক বিছানার জন্য আকুপাকু করছে মন। প্রফেসরও বুঝতে পারছেন ওর অবস্থা। কিন্তু বুঝেও না বোঝার ভান করছেন। কথায় ব্যস্ত রাখতে চাইছেন মুমিতুকে। কিন্তু কী কারণে! বাথরুম থেকে ফিরে এসে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেলো মুমিতু। তারপর শান্ত হয়ে আবার বসলো চেয়ারে। চরম বিস্ময় নিয়ে তাকালো প্রফেসরের দিকে। যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে চোখ দুটো। আচ্ছা, হরর বই পড়তে তোমার ভালো লাগে, তাই না? মাথা নাড়লো মুমিতু। অতিপ্রাকৃত কিছুতে বিশ্বাস করো? মোটেই না। বইগুলোতে ভয়ঙ্কর কোনো বর্ণনা পড়লে ভয় লাগে? জ্বি না প্রফেসর। তাহলে কেন পড়? থ্রিলের জন্য। তাছাড়া … ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলো নিয়ে কল্পনা করতে ভালো লাগে। কল্পনায় তুমি ভয়ঙ্করকে আরো বেশি ভয়ঙ্কর করে তোলো। একা একা থাকলে, নিজেই নিজের মন মতো একটা কুৎসিত চরিত্র বানাতে ভালোবাসো। তারপর এই চরিত্রকে দিয়ে একেকটি হরর কাহিনী তৈরি করো। বাস্তবে যা অসম্ভব, তেমন অনেক কাজ তাকে দিয়ে করিয়ে নাও। কিন্তু … আমি জানি এগুলো আমার অলীক কল্পনা। হ্যাঁ, সেটা তুমি জানো। আর জানো বলেই কল্পনায় অনেক কুৎসিত ও ভয়ঙ্কর কাজ করতে বিবেক বাধা দেয় না। তোমার কল্পিত চরিত্র কি কখনো কখনো বীভৎস রক্তপাত ঘটায়? প্রয়োজন হলে। রক্তপাত কি ভালো লাগে তোমার? আমার কেন ভালো লাগবে? চরিত্রের প্রয়োজনে এসে যায়। হাত তুলে মুমিতুকে থামিয়ে দিলেন প্রফেসর, কল্পিত চরিত্রের জায়গায় মাঝে মাঝে নিজেকে বসাতে ভালো লাগে না? সেটা তো হতেই পারে। বাস্তবে কল্পিত চরিত্রের মতো অসম্ভব ক্ষমতাবান হওয়ার ইচ্ছে হয়? বাস্তবে যা অসম্ভব এমন ক্ষমতা পাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা সবারই থাকে। সবার থাকে। তবে তোমার ইচ্ছাশক্তিটা প্রবল। আচ্ছা বেশ। এবার কল্পনা থেকে বাস্তবে আসা যাক। তুমি কী কখনো মানুষ খুন হতে দেখেছো? বড় ধরনের কোনো রক্তারক্তি? কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করলো মুমিতু। তারপর বললো, রক্তারক্তি বলতে একটা বড় ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট দেখেছি। নরসিংদীর শিবপুরে। বাস অ্যাক্সিডেন্ট। চেয়ার থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠলেন প্রফেসর ফিহির হোসাইন। তারপর কী মনে করে আবার স্বাভাবিক হয়ে এলেন। স্থির বসে জানতে চাইলেন ঘটনার বিবরণ। মুমিতু বলতে শুরু করলো, বেশ কয়েকবছর আগের কথা। বাসে করে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলাম। শিবপুর পার হওয়ার পর হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে কানে তালা লেগে গেলো। থেমে গেলো আমাদের বাস। ঘটনা কী বোঝার জন্য সামনে তাকালাম। চোখের সামনেই একটি মিনিবাসকে উল্টে খাদে পড়ে যেতে দেখলাম। আর সামনের দিকটা ভোতা করে কোনোরকম রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম বড় বাসটিকে। চোখ গেলো সড়কের দিকে। পিচঢালা পথে তাজা রক্তের স্রোত গড়াচ্ছে। এক-দুইজনের নয়, অসংখ্য মানুষের রক্ত। রক্তের মাঝখানেই পড়ে আছে চুলসহ মানুষের মাথা। একেকজনের মগজ কয়েক ভাগ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাকিয়ে থাকতে পারছিলাম না আমি। চোখ বন্ধ করে বসেছিলাম কিছুক্ষণ। যখন চোখ খুললাম, দেখলাম চারদিক থেকে মানুষের ঢল এসে ঘিরে ধরেছে দুর্ঘটনাস্থল। রক্তমাখা আহতদের তোলা হচ্ছে আমাদের বাসে। তারপর আবার চোখ বন্ধ। আর কোনো অ্যাক্সিডেন্ট? জিজ্ঞেস করলেন ফিহির হোসাইন না প্রফেসর। আর কোনো অ্যাক্সিডেন্ট দেখিনি। এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন প্রফেসর, আজকের মতো আলোচনা এ পর্যন্তই। আমি কি এখন ঘুমুতে যেতে পারি? অনুমতি চাইলো মুমিতু। উহু, সকালের সূর্য উঠবে, তারপর তোমার ঘুম। তাহলে এখন কী করবো? চলো ছাদে গিয়ে জোসনা দেখি। বারো. রাত দুইটা বেজে সতের মিনিট। বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন প্রফেসর, তোমরা তাহলে আজই ঢাকায় এসেছো? জ্বী স্যার, আজই এলাম। জবাব দিলেন জাফর হায়দার। জাফর হায়দার ছাড়াও প্রফেসর ফিহির হোসাইনের সামনে বসে আছেন ওসি, আউয়াল মিয়া ও বেদন সাহা। আপনার কথা অনেক শুনেছি স্যার, দেখা করার সৌভাগ্যও যে হয়ে যাবে ভাবিনি। বিনয়ের সাথে বললেন ওসি সাহেব। নিজের চেয়ারটা একটু সামনে টেনে টেবিলের ওপর উবু হলেন, স্যার, চাকরি জীবনে এমন কেস একটাও পাইনি। তাই এর সমাধান শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি। তাহলে তো এখনি আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। পিশাচ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে ঘরের আলো নিভিয়ে দিতে হবে। ভয়ে কুঁকরে উঠলো সবাই, আলো নেভাতে হবে কেন? কারণ এটা উজ্জ্বল আলো। আর আমরা যা নিয়ে আলোচনা করবো, সেটা কালো রঙের আলো। প্রফেসরের কথার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝলো না কেউ। কিন্তু প্রফেসর যেহেতু বলেছেন, আলো নেভাতেই হবে। তবে মৃদু আপত্তি জানালো বেদন সাহা। ভয়ের কিছু নেই, তোমার কিচ্ছু হবে না। ঐ পিশাচটা এখন জাফরের পিছু নিয়েছে। বললেন প্রফেসর। তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন জাফর হায়দার। সাথে সাথেই নিভে গেলো কামরার আলো। অন্ধকারে জাফর হায়দারের চেহারার অবস্থা কী হলো, তা কেউ দেখতে না পেলেও অনুমান করতে পারলো। গাঁইগুই শুরু করলেন তিনি। তাকে অভয় দিলেন প্রফেসর, এতো ভয় পাচ্ছো কেন? তাহলে বললেন যে, পিশাচটা আমাকে টার্গেট করেছে? তুমি কী ভুলে গেছো যে, তোমার কাছে অদ্ভুত এক লাইটার রয়েছে? জ্বী না স্যার, ভুলব কেন? তুমি এই লাইটার জ্বালিয়ে বেশ কয়েকবার পিশাচের হাত থেকে বেঁচে এসেছো। জ্বী স্যার। পিশাচটারে অন্য গেরামে খেদায়া দেওনের কোনো ব্যবস্থা আছে স্যার? আগ্রহ নিয়ে প্রফেসরের কাছে জানতে চাইলো আউয়াল মিয়া। ওটাকে কোথাও না তাড়িয়ে ধ্বংস করলে কেমন হয়? অবশ্যই ভালা অয় স্যার। পিশাচটার ধ্বংস চাই, মরণ চাই। আইজ এইখানে আপনের সামনে ওইটার মরণ দেইখা হের পর বাড়িত যাইতে চাই। আচ্ছা জাফর, প্যারা সাইকোলজির বিষয়গুলো কী তোমার মনে আছে? জ্বী স্যার আছে? ‘বাইলোকেশান’ কী বলতে পারবে? ‘বাইলোকেশান’ হলো একই সময়ে দুই জায়গায় অবস্থান করা। অর্থাৎ যাকে বলে ডুয়েল অ্যাক্সিসটেন্স বা দ্বৈত সত্তা। মানুষের গভীর চিন্তা থেকে তার ভেতরে আরো একটি সত্তার জন্ম নেয়। কেমন সেই সত্তা? কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করলেন ওসি সাহেব। সেটা হতে পারে কেবল চিন্তার জগতেই সীমাবদ্ধ, আবার চিন্তাটা গভীর থেকে গভীরতর হলে নতুন একটি শরীরি অস্তিত্বেরও জন্ম দিতে পারে। তাই নাকি! হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইলেন ওসি সাহেব। তারপর জাফর হায়দারের কথা সত্যি কি না জানতে চাইলেন প্রফেসরের কাছে। প্রফেসর মাথা দোলালেন এবং জাফর হায়দারকে ইঙ্গিত করলেন চালিয়ে যেতে, একটি উদাহরণ দিলে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে বিষয়টা। আউয়াল মিয়া আর বেদন সাহা এ আলোচনার মাথা মাণ্ডু ধরতে না পারলেও এতটুকু বুঝতে পারছে যে, এটা এক চমকপ্রদ বিষয়। তাই হা হয়ে তাকিয়ে আছে জাফর হায়দারের মুখের দিকে। আপনার প্রচণ্ড একটি ইচ্ছার কথা বলুন। ওসি সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বললেন জাফর হায়দার। এইতো ফেলে দিলেন ফ্যাসাদে। একটু ভাবলেন। তারপর বললেন আবার, আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আগামী মাসে কক্সবাজার যেতে চাই। আচ্ছা। এবার ধরুন আগামী মাসে আপনার ছুটি মিললো না। তখন কী করবেন? খুবই খারাপ লাগবে। পরিকল্পনা করবো এর পরের মাসে যাওয়ার। পরের মাসেও ছুটি পেলেন না। তখন চাকরি ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করবে। চাকরি ছেড়ে দেয়া আপনার সম্ভব নয়। তাই ছুটি নেয়ার জন্য আবার চেষ্টা করবেন, তাই না? হ্যাঁ। একসময় বহু চেষ্টা-তদবিরের পর ছুটি পেলেন। তবে আপনাকে বলে দেয়া হলো এলাকার বাইরে কোথাও যাওয়া যাবে না। যে কোনো জরুরি মুহূর্তে আপনার ডাক পড়তে পারে। তখন আর কী করব, হাল ছেড়ে দেবো। বাসায় বসে বসে কক্সবাজারের কথা কল্পনা করবো। হ্যাঁ, এইতো লাইনে আসছেন। বাইরে অফিসের কোনো ডিউটি নেই। বাসায় বসে শুধু খাওয়া দাওয়া আর কক্সবাজারের কল্পনা করা, এমনটা যদি হয়ে ওঠে আপনার রুটিন? হতেও পারে। যেহেতু আমার অন্য কোনো কাজ নেই, কক্সবাজারও যেতে পারছি না। কল্পনাই তখন অবলম্বন। সেই কল্পনাটা গভীর থেকে আরো গভীরতর হলো। কল্পনা করলেন সৈকতের সামনে হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসে আপনি উঠেছেন। সকালে নাশতা করে সমুদ্র অবগাহনে যাচ্ছেন। বিকালে হিমছড়ি, ইনানি ইত্যাদি ইত্যাদি। হ্যাঁ দেখতেই পারি। দেখতে পারেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যাটা হবে তখন, কিছুদিন পর যখন হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইস থেকে একটি ফোন পাবেন। কেন, ওরা আমাকে ফোন করবে কেন? আমিতো বাস্তবে নয়, কল্পনায় গিয়েছি সেখানে। কল্পনাটা এতটাই গভীর ছিলো যে, সেটা আপনার আরো একটি অস্তিত্ব তৈরি করে ফেলেছে। সেই দ্বিতীয় আপনি রীতিমত আপনার ঠিকানা, ফোন নম্বর, স্বাক্ষর দিয়ে প্রাসাদ প্যারাডাইসে বুকিং মানি দিয়ে উঠেছেন। তারপর চার রাত থেকে দুই রাতের বিল না দিয়েই নিখোঁজ হয়েছেন। তাই হোটেল কর্তৃপক্ষ খোঁজ নেয়ার জন্য আপনাকে ফোন করলো। অথচ আপনার প্রথম সত্তা, অর্থাৎ আপনি এসবের কিছুই জানেন না। এর কারণ, ঘুম ভাঙার পর গভীর কল্পনার বা দ্বিতীয় সত্তার সবকিছুই ভুলে যান আপনি। আশ্চর্য ব্যাপার তো, এমন হতে পারে নাকি! প্যারা সাইকোলজি তো তাই বলে। এবার কথা বললেন প্রফেসর, প্যারা সাইকোলজির ‘বাইলোকেশন’ পরিষ্কার হলো তো আপনার? জ্বী, পানির মতো পরিষ্কার। জানালেন ওসি সাহেব। প্রফেসর এবার দৃষ্টি দিলেন বেদন সাহার দিকে, তুমি তোমার ‘দেবতা কাহিনী’টা শুনাওতো এদের। ধীরে-সুস্থে কাহিনী বলতে আরম্ভ করলো বেদন সাহা, আমি মাইক্রোবাসের ডেরাইভার। একবার এক ক্ষ্যাপ লইয়া পড়ছিলাম মহা বিপদে। ওই বিপদ থেইক্কা আমারে উদ্ধার করছিলো আমার দেবতা। রাস্তার মইধ্যে হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার মাইক্রোবাস স্থির অইয়া গেছে। চাক্কা ঘুরতাছে, কিন্তু গাড়ি আগায় না। আমি স্পিড বাড়াই, জোরে চাক্কা ঘোড়ে। ঘুরতে ঘুরতে গাড়িটা গেলো উইল্টা। আমার তেমন কিছু অয় নাই, দুই এক জায়গায় ছিঁড়ে গেছিলো। (সমাপ্ত) -------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now