বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যকের ধন ----(প্রথম পর্ব)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " যকের ধন " হেমেন্দ্রকুমার রায় ---------------- (প্রথম পর্ব) ▪▪▪মড়ার মাথা▪▪▪ ঠাকুরদাদা মারা গেলে পর, তার লোহার সিন্দুকে অনান্য জিনিসের সঙ্গে একটি ছোট বাক্স পাওয়া গেল। সে বাক্সের ভিতরে নিশ্চয়ই কোন দামী জিনিস আছে মনে করে মা সেটি খুলে ফেললেন। কিন্তু তার মধ্যে পাওয়া গেল শুধু একখানা পুরানো পকেট-বুক, আর একখানা ময়লা-কাগজে-মোড়া কি একটা জিনিস। মা কাগজটা খুলেই জিনিসটা ফেলে দিয়ে হাউ-মাউ করে চেঁচিয়ে উঠলেন। আমি ব্যস্ত হয়ে বললুম, কি, কি হল মা? মা ভয়ে কাপতে কাঁপতে মাটির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন, ‘কুমার, শীগগীর ওটা ফেলে দে। আমি হেঁট হয়ে চেয়ে দেখলুম, একটা মড়ার মাথার খুলি মাটির উপর পড়ে রয়েছে। আশ্চর্য হয়ে বললুম, লোহার সিন্দুকে মড়ার মাথা। ঠাকুরদা কি বুড়ো-বয়সে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন? মা বললেন, ওটা ফেলে দিয়ে গঙ্গাজল স্পর্শ করবি চল। মড়ার মাথার খুলিটা জানলা গলিয়ে আমি বাড়ীর পাশের একটা খানায় ফেলে দিলুম। পকেট-বুকখানা ঘরের একটা তাকের উপর তুলে রাখলুম। মা বাক্সটা আবার সিন্দুকে পুরে রাখলেন।... দিন-কয়েক পরে পাড়ার করালী মুখুয্যে হঠাৎ আমাদের বাড়ীতে এসে হাজির৷ করালী মুখুয্যেকে আমাদের বাড়ীতে দেখে আমি ভারি অবাক হয়ে গেলুম। কারণ আমি জানতুম যে ঠাকুরদাদার সঙ্গে তার একটুকুও বনিবনাও ছিল না, তিনি বেঁচে থাকতে করালীকে কখনো আমাদের বাড়ীতে ঢুকতে দেখিনি। করালীবাবু বললেন, ‘কুমার, তোমার মাথার ওপরে এখন আর কোন অভিভাবক নেই। তুমি নাবালক। হাজার হোক তুমি তো আমাদেরই পাড়ার ছেলে। এখন আমাদের সকলেরই উচিত, তোমাকে সাহায্য করা। তাই আমি এসেছি। করালীবাবুর কথা শুনে বুঝলুম তাকে আমি যতটা খারাপ লোক বলে ভাবতুম, আসলে তিনি ততটা খারাপ লোক নন। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললুম, ‘যদি কখনো দরকার হয়, আমি আপনার কাছে আগে যাব।’ করালীবাবু বসে বসে এ-কথা সে-কথা কইতে লাগলেন। কথাপ্রসঙ্গে আমি তাকে বললুম, ঠাকুরদাদার লোহার সিন্দুকে একটা ভারি মজার জিনিস পাওয়া গেছে। করালীবাবু বললেন, কি জিনিস আমি বললুম, একটা চন্দন-কাঠের বাক্সের ভেতরে ছিল একটা মড়ার মাথার খুলি— করালীবাবুর চোখ দুটো যেন দপ করে জ্বলে উঠল। তিনি তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, মড়ার মাথার খুলি? —হ্যাঁ, আর একখানা পকেট-বই। —সে বাক্সটা এখন কোথায়? —লোহার সিন্দুকেই আছে। করালীবাবু তখনই সে কথা চাপা দিয়ে অন্ত কথা কইতে লাগলেন। কিন্তু আমি বেশ বুঝলুম, তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে উঠেছেন। খানিক পরে তিনি চলে গেলেন। সেদিন রাত্রে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। শুনলাম আমার কুকুর বাঘা ভয়ানক চীৎকার করছে। বিরক্ত হয়ে দু-চারবার ধমক দিলুম, কিন্তু আমার সাড়া পেয়ে বাঘার উৎসাহ আরো বেড়ে উঠল— সে আরো জোরে চেঁচাতে লাগল। তারপরেই, যেন কার পায়ের শব্দ পেলুম। কে যেন তুড়-দুড় করে ছাদের উপর দিয়ে চলে গেল। ব্যস্ত হয়ে তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলুম। চারিদিকে খোঁজ করলুম, কিন্তু কারুকেই দেখতে পেলুম না। ভাবলুম আমারি ভ্রম। বাঘার গলার শিকল খুলে দিয়ে, আবার ঘরে এসে শুয়ে পড়লুম।  সকালবেলায় ঘুম ভেঙেই শুনি মা ভারি চ্যাঁচামেচি লাগিয়েছেন। বাইরে এসে জিজ্ঞাসা করলুম, ব্যাপার কি মা? মা বললেন, ওরে কাল রাত্তিরে বাড়ীতে চোর এসেছিল। তাহলে কাল রাত্রে যা শুনেছিলুম তা ভুল নয়। মা বললেন, দেখবি আয়, বড় ঘরে লোহার সিন্দুক খুলে রেখে গেছে। ঘরে গিয়ে দেখি সত্যিই তাই! কিন্তু চোর বিশেষ কিছু নিয়ে যেতে পারেনি—কেবল সেই চন্দন-কাঠের বাক্সট ছাড়া। কিন্তু মনে কেমন একটা ধোকা লেগে গেল! সিন্দুকে এত জিনিস থাকতে চোর খালি সেই বাক্সটা নিয়ে গেল কেন? আরো মনে পড়ল, কাল সকালে এই বাক্সের কথা শুনেই করালীবাবু কিরকম উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন। তবে কি এই বাক্সের মধ্যে কোন রহস্য আছে? সম্ভব। নইলে, একটা মড়ার মাথার খুলি কে আর এত যত্ন করে লোহার সিন্দুকের ভিতরে রেখে দেয়? মাকে কিছু না বলেই তাড়াতাড়ি বাইরে ছুটলুম। বাড়ীর পাশের খানাটার মুখে গিয়ে দেখলুম, মড়ার মাথার খুলিট একরাশ জঞ্জালের উপরে কাৎ হয়ে পড়ে আছে। সেটাকে আর একবার পরখ করবার জন্যে তুলে নিলুম। খুলির একপিঠে গাঢ় কালো রং মাখানে ছিল—কিন্তু খানার জল লেগে মাঝে মাঝে রং উঠে গেছে! আর যেখানেই রং নেই, সেইখানেই আঁকের মতন কি কতকগুলো খোদা রয়েছে। অত্যন্ত কৌতুহলী হয়ে খুলিটাকে লুকিয়ে আবার বাড়ীতে আনলুম। সাবান-জলে সেটাকে বেশ করে ধুয়ে ফেলতেই কালে রং উঠে গেল। তখন আশ্চর্য হয়ে দেখলুম, খুলির একপিঠের সবটায় কে অনেকগুলো অঙ্ক খুদে রেখেছে। অঙ্কগুলো এই রকম: (সাইটে ছবি আপলোড দেয়ার পদ্বতি না থাকায় অঙ্কগুলো দেয়া গেল নী) (চলবে) -------- ---রিয়েন সরকার ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now