বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঝরে যাওয়ার প্রান্ত লগ্নে দুটি প্রিয় মুখ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ঝরে যাওয়ার প্রান্ত লগ্নে দুটি প্রিয় মুখ ___ হৃদয় মাহমুদ । : : গভীর রাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই মুহুর্তে মেয়েটি স্বামীর পাশ থেকে পা টিপে টিপে উঠে গেলো। হাতের ঈশারায় এমনভাবে টেবিলের ড্রয়ারটা খুললো যেনো টেবিল তার কথামত কাজ করে। ডায়রিটা বের করে মোবাইলের নিভু নিভু আলোয় লিখে ফেললো "আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি স্বেচ্ছায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছি এতে কারো হাত নেই। খোদা হাফেজ "। তারিখ ও সময়টা লিখে ডায়রিটা টেবিলের উপর রেখেই চুপেচুপে দরজাটা ফাঁক করে বেরিয়ে গেলো। বেশি দূরে নয় ঘরের সাথেই পিছনে অনেক পুরোনো বড় একটা আম গাছ আছে। গাছটা নিচ থেকে পাঁচ ফুট উপরে উঠেই দুইটা ডাল দুইদিকে মেলেছে। মেয়েটি সেই দুই ডালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরনের বার হাত লম্বা কাপড়টি খুলে নিলো। কাপড়ের এক মাথা গাছের একটা ডালের সাথে প্যাঁচ দিয়ে বাঁধলো। আরেক মাথা নিজের গলার সাথে শক্ত করে প্যাঁচালো। তখন অনবরত চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। পৃথিবী থেকে বিদায়ের আগ মুহুর্ত। আর বুঝি কখনো কারো সাথে দেখা হবেনা। কিছুক্ষণ পর সে গাছের সাথে ঝুলে থাকবে ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিছু করার নাই নিয়তি মেনে নিতে হবে। চোখ বন্ধ করে কি যেনো পাঠ করলো। এবার কাপড় ধরে ঝুলে পড়বে, কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাণটা উড়ে যাবে। ঠিক সেই মুহুর্তে আনুমানিক দশ সেকেন্ড পূর্বে ছোট বাচ্চাটা কেঁদে উঠলো। হয়তো বা ঘুম থেকে জেগে পাশে মাকে না' পেয়ে কাঁদছে। সন্তানের কাঁন্নার আওয়াজ মেয়েটির কানে আসতে দেরি কাপড়টা খুলে নিতে দেরি হলো না। কাপড়টাকে কোন মতে প্যাঁচিয়ে নিয়ে দৌঁড়ে ঘরে প্রবেশ করেই বাচ্চাকে বুকে নিয়ে আদর করতে থাকলো। সেদিন বাচ্চাটার জন্য আত্মহত্যাটা করা হলো না। ভোর সকালে ডায়রিতে লেখা পাতাটা ছিঁড়ে ফেলে দিলো। . প্রথমবার বাচ্চার জন্য মিস হয়ে গেলেও কিছুদিন পর আবার প্রস্তুতি নিলো। তবে এবার ভিন্ন পথে করবে। বাচ্চার মায়ায় দূরে সরে যেতে পারেনা। পৃথিবীতে এসেছে মাত্র ছয় মাস। এটার টানে যেখানেই থাকুক চলে আসতে হয়। তাই আর দূরে কোথাও নয় এবার পাশে থেকেই সুইসাইড করবে কেউ বুঝতেই পারবে না। উপকরণ হিসেবে ঘুমের ঔষধ নিলো অনেকগুলো একেবারে মাত্রাতিরিক্ত, খেলেই ঘুমের ভিতর চিরনিদ্রা। সেই আগের মতই ডায়রির পাতায় লিখে দিলো " ঘুমের ঔষধ খেয়ে চলে যাচ্ছি অচিন দেশে। জানি আর ফিরবো না। আমার সোনামনিদের দেখে রেখো। এই মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী "। এক মগ পানিসহ খাটের পাশে রেখে লাইটটা অফ করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লো। অন্ধকারেই বড় ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে কাঁদতে কাঁতদে ঘুম পাড়াচ্ছিলো। মেয়েটির বড় ছেলের বয়স আট বছর। মা কাঁদছে কেনো জিজ্ঞেস করে ছেলেটিও কাঁদতে শুরু করে দিলো। মায়ের হাত চেপে ধরে "দেখবে আমি বড় হলে তোমার সব দুঃখ আমি দূর করে দেবো। তখন আর আমাদের অভাব হবে না "। ছেলের কথা শুনে কোনো কথা বললো না, কেঁদেই যাচ্ছে। "জানো আম্মু, রাজুর আব্বু আরেকটা মা এনেছে, সেই মা টা খুব খারাপ শুধু তাকে মারে, আদর করে না। সারাদিন কাজ করায় তার আব্বুও এখন আর দেখতে পারে না। রাজুর আগের মা টা খুব ভালো ছিলো ঠিক না আম্মু "? ছেলের এমন কথায় মেয়েটি ঘাবড়ে গেলো। সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেললো। মনে মনে ভাবলো "ঠিকই তো, আমিও যদি চলে যাই আমার সন্তানদের ওতো এমন অবস্থা হবে "। আবার ডায়রির সেই পাতাটা ছিড়ে ফেললো। . কিন্তু বেঁচে থাকাটা তার জন্য যেনো অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মরে যাওয়টাই বেটার। প্রতিটা মুহুর্ত বিষের মত মনে হয় কোনো কিছুই সহ্য হচ্ছে না। একদিকে ছেলেদের মায়া, অন্যদিকে অশান্তি। ছেলেদের কারনে বারবার সুইসাইডের কোল থেকে ফিরে আসছে। না আর সম্ভব নয়। এবার মনটাকে শক্ত করে সকল মায়া ত্যাগ করে দূরে কোথাও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলো যেনো ছেলেদের ছায়াও চোখে না পড়ে। হুমম বহুত চিন্তা করে আবিষ্কার করলো রেল লাইন যেটা বাড়ি থেকে বহু দূরে কেউ দেখবেনা। এটাই একমাত্র সহজ উপায়, দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ। ছেলেদের খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুম পাড়িয়ে ঠিক দুপুরের পরে সেজে গুজে নিলো। সেই আগের মতই ডায়রিতে কিছু কথা লিখে বেরিয়ে গেলো। বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে রেল পথ। হাঁটতে হাঁটতে একেবারে নির্জনে চলে গেলো যেখানে কোনো মানুষ থাকে না। রেলের ডাবল লাইন দুই লাইনে ট্রেন চলে। এক লাইনে ট্রেন আসছে দেখেই চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। আনুমানিক পাঁচ মিনিটের ব্যবধান হঠাৎ চোখ পড়লো এক ভদ্র লোকের, সরে যাওয়ার জন্য চিৎকার দিতে দিতে দৌঁড়ে আসছে কিন্তু ভদ্রলোক এতটাই দূরে চিৎকারের আওয়াজ কানে আসলো না। হঠাৎ করেই মেয়েটির মনে পড়ে গেলো ছেলেদের কথা আর সাথে সাথেই লাইন থেকে সরে গেলো। ট্রেন চলে গেলো। ভদ্রলোকটার হাত পা কাঁপছে ভয়ে, এগুতে পারলো না জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইলো। অন্য লাইনে আবার ট্রেন আসতে দেখে মেয়েটি আবার শুয়ে গেলো। ভদ্রলোক দৃশ্যটা দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো। আগের বার নিজেই সরে গেলো এখন আবার শুয়ে গেলো। লোকটি চিৎকার করা ভুলে গেলেও মেয়েটির দিকে দৌঁড়ে আসতে লাগলো। কিন্তু না মেয়েটি আবারো নিজে নিজে সরে গেলো। ছেলেদের চেহারা চোখের সামনে আসতেই আত্মহত্যার কথা ভুলে গেলো। . ট্রেন চলে গেলে মেয়েটি বসে বসে কাঁদতে লাগলো । ভদ্রলোকটি দৌঁড়ে এসে পাশে বসে হাপাতে লাগলো। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর কি হয়েছে অনুরোধে জানতে পারলো "নিজের জন্মটাও গরীব পরিবারে, প্রেম করে অল্প বয়সে বিয়েটাও করলো গরীব বেকারকে। বিয়ের দশ বছরেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ঠিকমত দুই ছেলের খাবার যোগাড় করতে পারে না। ঋণ করতে করতে গলা সমান হয়ে গেছে। প্রতিদিন বিধির কাছে দোয়া করতো যেন রাতটা শেষ না হয়। রাত পোহালেই শুরু হয় পাওনাদারদের মানসিক নির্যাতন, অসদাচারণ, বাজে ঈঙ্গিত। এনজিও থেকে নেওয়া টাকা শোধ করতে না'পারায় একমাত্র থাকার ঘরটা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। এই অপমান রাখে কোথায়? সব মিলিয়ে জীবনটা নরক হয়ে গেছে বেঁচে থাকার মত অবশিষ্ট কিছু নাই। তাই আত্মহত্যার চেষ্টা কিন্তু বারবারই ব্যর্থ শুধু ছেলেদের মায়ায় "। ভদ্রলোকটি সব কথা শোনার পর একটাই উপদেশ দিলো যে আত্মহত্যার চেয়ে আত্মগোপন ভালো। মরে গেলে সবকিছু শেষ আর বেঁচে থাকলে একদিন না একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই চুপিসারে ছেলেদের নিয়ে দূরে কোথাও চলে যেতে বললো। তারপর যখন ছেলেরা বড় হবে টাকা হবে মানুষের টাকা শোধ করা যাবে। সেদিন ভদ্রলোকের উপদেশের পর মেয়েটির পরিবার আর দেখা গেলো না। চলে গেলো স্বামী সন্তান নিয়ে দূরে, অনেক দূরে, একেবারে অচেনা কোন জায়গায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now