বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপ্রত্যাশিত অতিথি

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X কাল হঠাৎ মামা ফোন দিয়েছিলো। আম্মু নাকি খুব অসুস্থ। বাড়ি যেতে হবে কোন উপায় নাই। অফিসে জুন ক্লোজিং চলছে। এক গাদা কাজ পরে আছে। আর এই সালার বেসরকারি ব্যাংক জবের নিকুচি করি। দুবছরের জব লাইফই আমার ১২ টা বাজিয়ে দিয়েছে। বেতন দেয় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু এক এক টাকা উসুল করে নেয়। সকাল ৯:৩০ থেকে রাত সাতটা প্রর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। তারপর জ্যাম আর লোকাল বাসের সাথে যুদ্ধ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত নয়টা বেজে যায়। . ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করতেই রাত ১১ টা বাজে। ইচ্ছা করে ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দেই বিছানায়, আর নিরুদ্দেশ হয়ে যাই ঘুমের দেশে। কিন্তু তারো কোন উপায় নাই। লেপটপ নিয়ে বসতে হয়, পরের দিনের জন্য এসাইনমেন্ট করতে । . এত সব ব্যস্ততার মধ্যে জীবন টা পার হয় যে, মাঝে মাঝে চিন্তা করি, বিয়ে করলে আমার কি অবস্থা হবে। বউকে কি সময় দিতে পারবো। নাকি এই ব্যস্ততায় ভরা জরা জীর্ন জীবনের সাথে জরিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে একটা মেয়ের জীবন। . হয়ত বা চলার মত টাকা ইনকাম করতে পারবো। খুব বেশি বিলাশিতা না করলেও হয়ত মধ্য বিত্তের মত চলতে পারবো বউ বাচ্চারে নিয়ে। কিন্তু আমার বউ কি কখনো সুখি হতে পারবে, আমার এই কর্পোরেট জীবন নিয়ে। এসব ভেবে বিয়ের কথা আমি মুখে আনি না। আম্মু অবশ্য ফোন দিলেই একই টাইপের কথা বলে। "বিয়ে কর, আমি কি নাতি নাতিনির মুখ দেখবো না,,,,, ব্লা, ব্লা, ব্লা। " . কিন্তু আম্মুকে এটা ওটা বুঝিয়ে আমি পার পাওয়ার চেষ্টা করি। ভদ্র ছেলের মত আম্মুর সব কথাই আমি শুনেছি,,,,, আম্মু বলতো, " আব্বু ভালো করে পরো, আব্বু ভালো রেজাল্ট করো, আব্বু ভালো ভার্সিটিতে পড়ো, আব্বু প্রেম করিও না, আব্বু বেকার থাকা ঠিক না চাকুরী করো, আব্বু কাজ ফাকিয়ে দিও না।" . কখনো কোন অভিযোগ না করেই আম্মুর সব কথা মেনে নিয়েছি। কারণ আম্মু ছাড়া যে আমার আর কেউ নাই। এখন আম্মুর পছন্দ মত একটা বিয়ে করলেই আম্মুর সব ইচ্ছাই পুরন হয়ে যাবে। আম্মুর এই শেষ ইচ্ছাটা পুরন করতে না পেরে আমার যে খারাপ লাগেনা, তা নয়। আমিও বেশ অশান্তিতে আছি। . সে যাই হোক রাতেই বসের কাছে মেইল করলাম ছুটির জন্য। আমার অবশ্য ১০ দিনের ছুটি পাওনা আছে। সেই ছুটিটা কাল বাড়ি যাওয়া উপলক্ষে কাজে লাগাবো। আর বস অনুমতি না দিলেও আমায় যেতেই হবে কারণ, চাকুরীর চেয়ে আম্মু বড়। . কাল সকাল ১১ টার বাসের টিকিট বুকিং দিলাম। কাল যাব গাইবন্ধি সেখানে একটা ছোট কাজ আছে দাদু বাড়িতে। কাজ শেষ করে পরের দিন সকালে বালিশঘাট থেকে টলারে সোজা রাজিবপুর, তারপর রৌমারী(আমার নানুবাড়ি)। আম্মু রৌমারীতেই আছে। দীর্ঘ আট মাস থেকে কাজের চাপে আম্মুর সাথে দেখা করতে পারি নাই। . সকাল ১০ টায় আমার ছুটির কনফার্মেশন মেল আসলো। রাতেই লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলাম। লেপটপ টা হ্যান্ড ব্যেগে ভরিয়ে গাবতলীর দিকে রওনা হলাম।..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপ্রত্যাশিত অতিথি
→ অপ্রত্যাশিত অতিথি
→ অপ্রত্যাশিত অতিথি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now