বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক দিন আগে এক চাষি ছিল। বুড়ো
পিতামাতা, বউ আর যমজ ছেলে-মেয়ে
নিয়ে ছিল তার সংসার। তবে বড়ই অভাবের
সংসার। কিছুতেই অভাব মিটে না। অবশেষে
একদিন চাষিটি বলল, আমি বিদেশে চললাম, কিছু
টাকা কড়ি রোজগার না করলেই নয়। হয় তো
অনেক বছর লাগবে, কারণ বেশ কিছু টাকা কড়ি
হতে নিয়ে তবেই ফিরব। এখন আমার যা কিছু
আছে তোমাদের দিয়ে যাচ্ছি, তাই দিয়ে
যেমন করে পার সংসার চালাবে। এই বলে
চাষিটি রওনা হয়ে গেল। সেই দিনই সন্ধ্যা
বেলা ঠিক চাষিটির মতো চেহারা করে এক
ভূত এসে ওদের বাড়িতে হাজির হলো। বাড়ির
সবাই তাকে চাষিটি মনে করে বলল, সে কি!
এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলে যে? বলে
গেলে ফিরতে অনেক বছর লাগবে। মত
বদলে গেল কেন? ভূতটি বলল, আজ দিনটা
বড়ই মন্দ তাই ফিরে এলাম। তাছাড়া কিছু টাকা কড়ি
পেয়েছি। কারো মনে কোনো সন্দেহ
হলো না। ভূত ওই বাড়িতে থেকে গেল।
সেই চাষি আর এই ভূতটা একই রকম
দেখতে। তবে তারা অবাক হলো যখন ভূতটা
নিজেই রোজ রোজ ভাত-তরকারি বেশি
বেশি করে খেতে লাগল। যে কাজটি চাষি
কখনও করতো না, বরং সে-ই কম খেত।
অন্যদের যে কম খেয়ে ক্ষুধার জ্বালা
নিয়ে দিনরাত কাটাতে হচ্ছে সেদিকে ভূতটির
কোনোই খেয়াল নেই।
কয়েক বছর কেটে গেল, চাষি ফিরে এল।
বাড়িতে হুবহু নিজের মতো দেখতে আর
একজনকে দেখে সে তো তাজ্জব
হয়ে গেল। ভূতটা চাষিকে দেখে বলল,
তুমি কে? আমার বাড়িতে তোমার কি দরকার?
চাষি রেগে গিয়ে বলল, আমি কে? আমিই
তো জিজ্ঞেস করব তুমি কে? এটা আমার
বাড়ি, এরা আমার মা-বাবা, বউ, ছেলে মেয়ে।
ভূত বলল, এ তো অদ্ভুত কথা! সবাই জানে এ
আমার বাড়ি, আমার মা-বাবা, আমার বউ, আমার
ছেলে মেয়ে। আরে, আমি কত বছর
ধরে এখানে আছি। এই বলে ভূত চাষিকে বাড়ি
থেকে বের করে দিল।
চাষি এখন রাজার কাছে গিয়ে নালিশ করল, বিচার
চাইলো। রাজা দুজনকে ডেকে পাঠালেন।
দেখলেন দুজনের একইরকম চেহারা। রাজা
কী রায় দিবেন ভেবে পেলেন না।
চাষিকে বললেন, আগামীকাল এস। তারপর
দিনের পর দিন চাষি রাজার সভায় হাজির হতো।
রাজার কাছে কাকুতি-মিনতি করত, মহারাজ, আমার
বাড়ি, আমার বাবা-মা, আমার বউ, আমার ছেলে
মেয়ে ফিরিয়ে দিন। আর রোজই রাজা মন
ঠিক করতে না পেরে চাষিকে বলতেন
অগামীকাল এস।
একদিন রাজার সভা থেকে বেরিয়ে চাষি
চোখের জল ফেলতে ফেলতে গ্রাম
ছেড়ে জঙ্গলের ভেতরে গিয়ে একটা
পাকুড় গাছের তলায় বসল। সে জঙ্গলে বাস
করত একজন রাখাল-রাজা। কাঁদতে দেখে চাষির
ওপর তার মায়া হলো। নিজে থেকে
জিজ্ঞেস করে চাষির দুঃখের কথা জানল।
পরদিন রাখাল-রাজা চাষির পিছু পিছু রাজসভায়
পৌঁছল। রাজা রোজকার মতো চাষি আর
ভূত দুজনের তর্কবিতর্ক শুনতে লাগলেন।
হঠাৎ রাখাল-রাজা বলল, মহারাজ! আপনি যথেষ্ট
এক-বিতর্ক শুনছেন। এই যে সরুমুখ
বোতলটা আমার হাতে দেখছেন, যে এই
বোতলের মধ্যে ঢুকতে পারে তার
পক্ষে আপনি রায় দিন।
চাষি বলল, তুমি একজন রাখাল রাজা। তোমার বুদ্ধি
দেখছি নেই। কোনো মানুষ কি এইটুকু
বোতলে ঢুকতে পারে? রাখাল রাজা বলল,
সেটা জানি না। তুমি যদি বোতলে ঢুকতে না
পারো তবে বিচারে তোমার হার হবে। এই
বলে সে ভূতের দিকে তাকালো। ভূত
বলল, নিশ্চয়ই আমি ঢুকতে পারি। এই বলে
সে একটা পড়িং-এর মত ছোট্ট হয়ে
বোতলে ঢুকে গেল। রাখাল রাজাও সঙ্গে
সঙ্গে বোতলের ছিপি এঁটে দিল। ভূতটা
আর বের হতে পারল না। রাখাল রাজা তখন
বোতলটা চাষির হাতে দিয়ে বলল, যাও,
বোতলটাকে নদীতে ফেলে দিয়ে
বাড়িতে ফিরে যাও এবং তোমার অধিকার
পুনঃপ্রতিষ্ঠা কর।
আমাদের সমাজে ভূতটি হচ্ছে গরিবি। এই
ভূতটিকে বোতলে পুরে ছিপি আঁটার সংগ্রাম-
আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন কমরেড
মেহেদী- অন্যএক রাখাল রাজা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now