বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ ভালোবাসার_শুরু
,
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরছি। সন্ধ্যাবেলা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে ভালোই লাগে, তাই আর রিকসা বা সি. এন.জি. তে উঠলাম না। আর এমন একটা পরিবেশ, আবছা আলো, রাস্তার দুই পাশে শরিষা ক্ষেত, শরিষা ফুলে ছেয়ে আছে মাঠ, আর নির্জন রাস্তা, এমন একটা পরিবেশে হাঁটতে ভালো লাগে না এমন মানুষ খুব কমই আছে।
এবার নিজের পরিচয়টা দিয়ে নিই, আমি সৈকত,,এবার অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ি। থাকি, ফেনী জেলার সুন্দর পুর গ্রামে। নির্জন পরিবেশে হাঁটছিলাম, এমন সময় নির্জনতা ভঙ্গ করে, আমার সামনে একটা প্রাইভেট কার এসে থামলো। আর একজন গাড়ির গ্লাস নামিয়ে আমাকে জিঞেস করলো.,,
.
>> আচ্ছা বাবা,, চৌধুরী বাড়িটা কোন দিকে বলতে পারবে..?
.
উনার কথা শুনে চমকে উঠলাম। আমার বাড়িই তো চৌধুরী বাড়ি।
.
-- হ্যাঁ পারবো, কিন্তু ওখানে কার কাছে যাবেন..?
.
>> ওখানে দরকার আছে তাই যাবো, বাড়িটা কোথাই সেটা বল।
.
-- আসলে আমার বাড়িই চৌধুরী বাড়ি, তাই জিঞেস করলাম।
লোকটা বিস্ময়ের সাথে আমার দিকে তাকালো, তারপর জিঞেস করলো,,
>> তোমার বাবার নাম কী..?
.
-- জ্বী, আরিফ চৌধুরী।
.
>> কী..???? আরিফ.!!, তুমি আরিফের ছেলে.?
.
-- জ্বী,,কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না।
.
>> আরে চিনবে চিনবে,, এখন গাড়িতে ওঠো,,
আমি একপ্রকার বিস্মিত অবস্হায় গাড়িতে উঠলাম,,গাড়িতে উঠে বুঝতে পারলাম লোকটা একা নয়, উনার স্ত্রী, আর এক মেয়ে আছে। মেয়েটাকে খুব সুন্দরী বলা যায়, তবে ভালো করে এখনো দেখি নি। কিন্তু উনারা কে.? উনাদের তো আগে কখনো দেখি নি। আর আমার বাবাকেই বা চেনে কী করে.? তাই জিঞেস করেই বসলাম,,
-- আংকেল আপনাদের তো ঠিক চিনলাম না।
>> আরে চিনবে চিনবে, আগে তোমাদের বাড়ি চলো।
আমি আর কিছু বল্লাম না চুপ চাপ বাড়ি আসা পর্যন্ত গাড়িতে বসে রইলাম।
,
বাড়িতে এসেই আমি বাবার আর উনার কান্ড দেখে অবাক। আমার বাবা উনাকে দেখে যেন, হাতে ঈদের চাঁদ পেয়েছে। দুইজন ই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করতে লাগলেন, আর অন্যদিকে মা আন্টির সাথে কুশল বিনিময় করতে লাগলেন, আর আমি হতভাগা কিছুই বুঝতে না পেরে, হা করে ওনাদের কান্ড দেখছি।
.
>> হা করে দাঁড়িয়ে না থেকে, গিয়ে গাড়ি থেকে ওনাদের জিনিস পত্র গুলা নিয়ে আয়। (মা)
.
আমার কপালে এই কাজটাই জুটলো। কিন্তু ওনারা কে.? এটাই তো বুঝতে পারছি না।
অবশেষে ওনাদের জিনিস পত্র গুলো বাড়ি এনে রাখলাম। এখন নিজের রুমে শুয়ে আছি। ওনাদের সম্পর্কে বেশি কিছু জানতে পারি নি,,শুধু এইটুকুই জানি ওনারা চট্রগ্রাম থাকেন, সেখান থেকেই এখানে এসেছেন। কিন্তু সম্পর্কে আমার কী হয় সেটাই জানি না। পাশেই কারো আসার আওয়াজ পেলাম। তাকিয়ে দেখি ওই মেয়েটি রুমের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমিতো অবাক, এই মেয়ে এখানে কেন আসছে.? মেয়েটা দেখি একপলকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
.
-- আপনার কী কিছু লাগবে.?(আমি)
>>..................(নিশ্চুপ)
-- কিছু লাগবে.?
মেয়েটি ওখান থেকে চলে গেল। ব্যাপার টা কিছুই বুঝলাম না। আমি আবার শুয়ে আছি।
এর কিছুক্ষন পর দেখি আমার পুরো পরিবার আমার রুমে আসলো,
>> বাবা কী নাম তোমার..? (আন্টি):
-- জ্বী, সৈকত,,
>> বাহ, সুন্দর নাম। তুমি নিশ্চই আমাদের দেখে অবাক হচ্ছো তাই না..?(আংকেল)
-- হ্যাঁ,,,একটু অবাক হয়েছি,, আগে তো কখনো আপনাদের দেখি নি তাই।
>> আমি আর তোমার বাবা খালাতো ভাই। তুমি যখন ছোট ছিলে তখন আমরা চট্রগ্রাম চলে যাই। এখন প্রায় ১৫ বছর পর এখানে আসলাম
-- ও,,,
>> আর এই হলো আমার মেয়ে অধরা অবন্তিকা। তোমরা বসে গল্প কর। আমরা আসছি,,
এই কথা বলে আংকেল রুম থেকে চলে গেল। অধরা রয়ে গেল। অধরাকে দেখলাম আমার উপর এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে, আমি ওর দিকে তাকাতেই ও চোখ সরিয়ে নিলো। আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছি না।আমার মধ্যে এক ধরনের জড়তা কাজ করছিলো। আমাকে অবাক করে দিয়ে ও বলে উঠলো,
>>কেমন আছ.?
আমিতো অবাক,,যেখানে আমি ওর সাথে কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছি সেখানে ও বলে দিলো, আর তুমি করেই বললো।
-- ভালো তুমি.?
>> ভালোই। তোমার নাম সৈকত তাই না.?
-- হ্যাঁ, তোমাকে কে বললো.?
>> বাবার, কাছে শুনেছি।
-- ও,,,,
ওর সাথে কথা বলতে যেন একটা জড়তা কাজ করছে। জড়তা হওয়ারই কথা। স্কুল জীবন থেকে তেমন কোনো মেয়ের সাথে কথা বলি নি।
.
>> আচ্ছা কাল আমাকে তোমাদের ফেনীতে ঘুরাতে নিয়ে যাবে.?
-- আচ্ছা দেখা যাক।
>> না আমাকে কাল নিয়ে যেতেই হবে।
,
আমি মেয়েদের সাথে ঘুরতে অসস্তি বোধ করতাম।তাই বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু যেতেই হবে, নাহলে বাবা মা রাগ করবেন।
-- আচ্ছা কাল নিয়ে যাবো।
>> ধন্যবাদ,,
-- হুম,,
>> আচ্ছা এখন আসি, কাল তৈরি থাকবেন।
এই কথা বলে অধরা চলে গেল। আর আমি কিছুক্ষন বই নিয়ে ঘাটাঘাটি করে ছাদে চলে গেলাম।
ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। মনের মাঝে একটা প্রশ্ন বার বার উঁকি দিচ্ছে আমি এমন কেন..? মেয়েদের দেখলে এত অসস্তি হয় কেন.? আমার বয়সি অনেকে মেয়ের সাথে কি সুন্দর ভাবে কথা বলে আর আমি মেয়েদের সামনে গেলে ফুটা বেলুনের মত চুপসে যাই। এর অবশ্য একটা কারন ও আছে স্কুল কলেজ জীবনে মেয়েদের ধারে কাছেও ঘেঁষি নি। আবার আমি মেয়েদের কে ভয় ও পাই প্রচুর। সেদিন অভি একটা মেয়ে কে প্রপোজ করেছিলো আর মেয়েটা অভিকে এমন থাপ্পর মারলো বেচারার গাল ফুলে দাঁতও নড়ে গিয়েছিলো। সেই দৃশ্য দেখে আমি তখনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর মেয়েদের ধারে কাছেও ঘেঁষবো না। আর ওই দিকে জাফর ভাইয়ের জল্লাদ বৌ এর কান্ড দেখে তো ভেবেছি বিয়েই করবো না। কিন্তু কাল তো অধরাকে নিয়ে যেতেই হবে, না যেয়ে উপায় নাই, বাবা রাগ করবেন।
,
যাইহোক সেদিন খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম,।
ঘুমের মাঝে ধাক্কা অনুভব করলাম।
-- এই কেরে এতো রাতে আমাকে ধাক্কা মারে..? (ঘুম জড়ানো কন্ঠে বল্লাম)
>> এই ওঠো,,,,সকাল সাড়ে নয়টা বাজে আর উনি বলছেন রাত। (অধরা)
-- হুরমুরিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। আরে তুমি। এতো সকালে..? (আমি)
>> ওই আমাকে না আজকে ফেনী ঘুরাতে নিয়ে যাবেন..? এখন পরে পরে ঘুমাচ্ছেন কেন..?
-- আচ্ছা, কাল গেলে হয় না..?
>> না আজ এবং ৩০ মিনিটের মধ্যেই, না হলে আংকেল কে ডাকছি,,,,
-- না না,,,আপনি অপেক্ষা করুন আমি এখনি রেডি হচ্ছি,,,।
>> হুম,, তাড়াতাড়ি করেন।
তাড়াতাড়ি করে রেডি হলাম, হয়েই ওকে নিয়ে রওনা হলাম।
আজ একটু বেশিই মানুষের আনাগোনা দেখছি। মানুষ বললে ভূল হবে সবাই তো প্রেমিক প্রেমিকা। ওহ্ এতক্ষনে মনে পরলো আজ তো ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবস, প্রেমিক প্রেমিকারা হাত ধরে হাঁটা হাঁটি করছে, প্রেমালাপ করছে,।
>> বাহ,, তোমাদের এলাকাটা তো খুব সুন্দর।
-- হুম,,,,
>> আজ তো ভ্যালেন্টাইন ডে তাই না.?
-- হুম তাই তো দেখতে পাচ্ছি।
>> আমি তোমাকে ডিস্টার্ব করেছি তাই না..?
-- না, কেন.?
>> এই যে আজ আপনার প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা, কিন্তু আমি এসে সব ভন্ডুল করে দিলাম।
-- না, আমার কোনো প্রেমিকা নেই।
>> সত্যি বলছো..?
-- হুম,,,
মেয়েটি যেন আমার কথাটা শুনে খুব খুশি হলো।
>> চলো কিছুক্ষন হাঁটি,,,
-- চলো,,,
মেয়েটি আমার হাত ধরে হাঁটতে লাগলো। আমি এবার ব্যাপক অসস্তিতে পরলাম। এভাবে আমাদের দেখলে যে কেউই ধরে নিবে আমরা প্রেমিক প্রেমিকা। আমি যতই দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি ও ততো আমার কাছে ঘেঁষতে থাকে। মেয়েটির মতি গতি আমার কাছে ভালো লাগছে না।
>> কি হলো এরকম চুপসে যাচ্ছ কেন...?
-- না না,,,এএমনি। চলো এখন বাড়ি চলে যাই।
>> না না,,,সবে মাত্র এলাম, আরো কিছুক্ষন ঘুরে নিই।
মেয়েটা আমার বারোটা বাজাবেই। ওকে আবার কিছু বলাও যাবে না, বাবার কড়া আদেশ, ও যা চায় তাই যেন করি,, কিন্তু ও যা চায় তা করতে গিয়ে যে ওনার ছেলের সাড়ে চোদ্দটা বাজবে, সেকথা ওনাকে কে বলবে,,।
>> এই চলো ওখানে একটু বসি।
-- হু, হু, যেভাবে বলছে যেন নিজের বয়ফ্রেন্ড। (আস্তে আস্তে)
>> কিছু বললে..?
-- না না,,,চলো বসি,,,
দুজন বসে আছি, চারিদিকে প্রেমিক প্রেমিকার বাজার বসেছে। আর আমার গা জ্বলে যাচ্ছে ওদের প্রেমালাপ শুনে। আমার একদম সহ্যই হচ্ছে না।
>> কি হলো কিছু বলছো না কেন..?
-- হ্যাঁ,,,,,না,,মানে কি বলবো..??
>> তা প্রেম করো না কেন...??
--- এমনি,,,,আপনি করেন..?
>> নাহ্,,,,,তবে এবার করবো,,
-- ও,, ভালো তো,,,,অনেকতো হলো চলুন এবার বাড়ি চলুন।
>> হু,,,,চার দিকে কি সুন্দর পরিবেশ আর উনি বাড়ি চলুন বাড়ি চলুন বলে চেঁচিয়ে মরছেন,,,,চলেন,,,,
,
অবশেষে সেদিন বাড়ি ফিরলাম।
~ তা মশাই ভালোবাসা দিবসে ঘোরাঘুরি কেমন হলো..? (আমার ছোটবোন নীলা)
-- চুপ কর ফাজিল মেয়ে,,যা এখান থেকে,,,
~ বুঝি বুঝি,,সব বুঝি,,,,,
একথা বলে নীলা চলে গেল। ইদানিং ও তো দেখছি খুব ফাজিল হয়ে গেছে।
,
পরেরদিন,, কলেজে এলাম। কিন্তু ঘটনা কী সবাই এমন চুপচাপ কেন.? আগেতো আসতে না আসতেই আড্ডা মাস্তি শুরু হয়ে যেত। কিন্তু আজ সবাই আমাকে এড়িয়ে চলছে,,,,কারন কী..?
-- কিরে অভি কী খবর..?
>> ধুর হও শালা,,,,এত দিন ডুবে ডুবে জল খাচ্ছিলি, আর আমাদের কাছে এসে বলিস আমি সিঙেল,,,,যা যা তোকে চেনা হয়েগেছে,,,ব্যাটা হারামী,,,
-- কি বলছিস তোরা.? আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না।
__ এ্যঁ„„„„„ ন্যাকার অবতার,,,,কেন রে..? তুই ভালোবাসা দিবসে গালফ্রেন্ড নিয়ে পার্কে ঘুরিস,,,,আর আমাদের কাছে এসে সিঙেল বলে গলা ফাঁটাস,,,কি ভেবেছিলি আমরা কিছুই জানি না.? আমরা কিছু বুঝি না.?(অভি)
,
এতক্ষনে সব কিছু বুঝলাম। যেখানেই বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়। কাল অধরাকে নিয়ে পার্কে ঘুরায়, কলেজের সিঙেল সমাজ আমার উপর বেজায় চটেছেন। এখন এদের কিভাবে বুঝাই.?
-- দোস্ত তোরা যা ভাবছস বাস্তবে ঠিক তা না,,।
>> থাম শালা,, ডুবে ডুবে জল খাস, আবার বলছিস,,,তা না,,,,তুই পারলি..? আমাদের সকল সিঙেলদের ত্যাগ করে ওই মেয়ের সাথে প্রেম করতে.? আজ থেকে তুই আমাদের সিঙেল সমাজ হতে বহিষ্কৃত। (অভি)
-- না রে দোস্ত। ওটা আমার গালফ্রেন্ড না। ও আমার কাজিন হয়।
>> সত্যি কইতেছস..??
-- হ্যাঁ রে দোস্ত, সত্যি। তোদের ফেলে আমি কিভাবে প্রেম করবো বল...
>> তাহলে, ঠিকআছে, তবে মেয়েটা কিন্তু হেব্বি,,তোর সাথেও মানাবে, আবার আমার সাথেও মানাবে,,,,(অভি)
~ কেন রে.? আমি কি দেখতে হিরো আলম যে, আমার সাথে মানাবে না। (শুভ)
>> না তা না,,,তুই তো হিরো আলমের যমজ ভাই (অভি)~ চুপকর হারামীর বাচ্ছা। (শুভ)
-- ওই তোরা থাম। কি শুরুকরছস..? (আমি)
>> দোস্ত আমার না খুব ইচ্ছা করছে ওই মেয়ের সাথে প্রেম করতে। (অভি)
-- কেন রে দোস্ত.? সেদিনের মত আরেক টা থাপ্পর খাওয়ার শখ হইছে নাকী.? (আমি)
>> না না, দোস্ত থাক,,আমি আর প্রেম করমু না,,,,( অভি)
-- হুম মনে রাখিস,,,,(আমি)
~ কিন্তু আমিতো করতে পারি। আমার তো কোনো সমস্যা নেই। (শুভ)
-- ধুর হও শালারা, খালি প্রেম আর প্রেম। ( আমি)
ভাগ্যিস বাঁচলাম। নাহলে সবাই ধরেই নিয়েছিলো আমি মেয়েটির সাথে প্রেম করি। ধরে নেওয়ারই কথা। একেতো ভালোবাসা দিবস, তার উপর মেয়েটি আমার হাত ধরেই হাঁটাহাঁটি করেছে, এতে যে কেউই ধরে নেবে আমরা দুজন প্রেমে মগ্ন।
,
সেদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরলাম। ফিরে গিয়ে শুনি আংকেল আন্টি চট্রগ্রাম গিয়েছেন, আর অধরা এখানেই রয়ে গেল। অধরা বাড়িতে থাকায় নিজের বাড়িতে থাকতেও আমার কেমন একটা অসস্তি হচ্ছিলো। তাই সেদিন ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেলাম। তাড়াহুড়োয় আমি আমার মোবাইলটাও বাড়িতে রেখে চলে আসলাম।
,
সেইদিনের মত আড্ডা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলাম। বাড়ি ফিরে দেখি একদম থমথমে অবস্হা। ঘরে ঢুকতেই,ছোটবোন নীলা বল্ল,,
>> ঘরে যা, আজ তোর কপালে দুঃখ আছে।
এই কথা বলে চলে গেল।ওর কথার কিছুই বুঝলাম না। আরেকটু ঢুকতেই মাকে দেখলাম, আমার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকালো, আর চলে গেল। আমি এই ঘটনার কিছুই বুঝতে পারছি না। সবাই আমার সাথে এমন করছে কেন.? আরেকটু যেতেই কেউ একজন আমার কান টেনে ধরলো,, পিছে তাকাতেই দেখি বাবা,,
-- আউচ,,,,,,বাবা,, কি করছেন.? ব্যাথা লাগে তো,,
>> হারামজাদা,, ঘরে হবু বৌমা রেখে প্রেম করা হচ্ছে..?তোর প্রেমের গুষ্টি কিলাই,,,,
একি বাবা কি পাগল হয়ে গেল নাকী.? প্রেম হবু বৌমা,,কী বলছে আবোলতাবোল,,,,
-- বাবা আপনি কী আবোল তাবোল বলছেন..? আপনার কী কোনো রোগ টোগ হলো নাকী..?
>> চুপ কর হারামজাদা,,,,রোগ আমার হয় নি,,,,রোগ হয়েছে তোর,, এখন সেই রোগ তাড়াবো,,,,,
-- আব্বা গো,,,,আমার কোনো রোগ টোগ হয় নাই,,,আমি সুস্হ আছি,,,আগে আমার কান ছাড়েন,,তারপর সব খুইল্লা বলেন,,,,
>> শোন, অধরার সাথে তোর ছোট বেলাথেকেই বিয়ে ঠিক হয়ে আছে,,,তুই আর কারো সাথে প্রেম করতে পারবি না।
ওনার কথা শুনে আমি টাস্কিত,,। এটা কি বলে আমার বিয়ে ঠিক,,,,এ বয়সে বিয়ে ঠিক একথা শুনে তো আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতেছে,,তারপরও মাথা স্হির করে বল্লাম,,
-- বাবা আপনি এসব কি বলছেন.?আমার বিয়ে ঠিক তাও আবার এ বয়সে,,!!
>> ওরে হারামজাদা,, আমি তোর বিয়ে ঠিক করেছি,,এ বয়সে বিয়ে দিয়ে দিতেছি না।
-- ও, আচ্ছা,,,আর আমি প্রেম করছি, একথা আপনাকে কে বল্লো..?
>> তোর বন্ধু শুভ ফোন করেছিলো,,,অধরা ধরেছে,, অধরাকে বলেছে তুই নাকী কলেজের একটা মেয়ের সাথে প্রেম করছিস। একথা শোনার পর অধরা সকাল থেকে কিছুই খায় নি, আর কেঁদে কেঁদে, বুক ভাসিয়ে পেলছে,,,
শালা শুভ, তুই আমারে এত বড় আছোলা বাঁশ দিছস,,দেইখা নিমু তোরে, তার আগে বাপেরে দেইখা নিই,,,,
-- না না, বাবা শুভ মিথ্যা বলেছে,,,,আমি কোনো মেয়ের সাথে প্রেম ট্রেম করি না, এবং করবো ও না।
>> তাহলে তো ভালই, এখন ছাঁদে গিয়ে ওকে সব বুঝিয়ে বল।
-- জ্বী আচ্ছা।
চলে গেলাম ছাঁদে। গিয়ে দেখি চোখমুখ ফোলা,,এখনো কাঁদছে।
-- কি হয়েছে কাঁদছ কেন..?
আমাকে দেখে ও চোখের পানি মুছে, রাগি লুক নিয়ে আমার কলার চেপে ধরে।
>> ঐ আমার সাথে তোর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে,, আর তুই প্রেম করস অন্য মাইয়ার সাথে..? তোরে আমি খুন কইরা ফালামু।,
এই বলে ছাঁদ থেকে একটা লাঠি খুঁজে নিয়ে আমাকে দৌঁড়াতে লাগলো,,,
-- আরে থাম থাম আমি কারো সাথে প্রেম ট্রেম করি না,। শুভ তোমাকে মিথ্যা বলেছে,,,( দোঁড়াতে দোঁড়াতে)
>> সত্যি বলতেছ..?
--- আরে হ্যাঁ হ্যাঁ,,,,,আচ্ছা শুভ তোমাকে কি বলেছে...? ঘটনা টা একটু খুলে বলো তো,,,
>> তোমার ফোনটা বার বার বাজছিলো, তাই আমি ফোনটা ধরলাম।ফোন ধরার সাথে সাথে ও তোমাকে খুঁজতে লাগলো, আমি যখন বল্লাম তুমি বাইরে গেছ,, ও তখন জিঞেস করে আমি কে। আমি বলেছি আমি তোমার কাজিন,,, তখন ও বলা শুরু করে তুমি নাকী কলেজের একটা মেয়ের সাথে প্রেম কর।, আমি যেন ওর সাথে প্রেম করি।
,
-- কিহ্,,,,হালার এতবড় সাহস,, ও আমার হবু বৌকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়,,, দেইখা নিমু তারে,,,,
>> কে তোমার হবু বৌ..?
-- কেন ! তুমি!
>> উহু,,,আমার বয়েই গেছে তোমার বৌ হওয়ার,,
-- ও তাই না কী,,,তাহলে যাচ্ছি,,,কলেজের একটা মেয়েকে পটিয়ে নিই,,,,
>> তোমারে আমি খাইয়া ফালামু,,,যদি এখান থেকে ওঠো,,,,,আমাকে হবু বৌ বলতেছ,, বখনো প্রপোজ করেছ..?
-- ও আচ্ছা,, আগে বলবা তো,,,,
,,,,,বালিকা,,,,তোমাকে নিয়ে দিতে চাই আমি সাত সমুদ্র পাড়ি,,,,
,,,,,,,,,,,,হবে কি তুমি আমার জীবন সঙ্গিনী....?
>>> হুম,,,,হবো,,,,,
,
শুরু হলো এক নতুন ভালোবাসা।
,
লেখকঃ #দৃষ্টিহীন_নয়ন (শান্ত ছেলে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now